নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Passion spills Into my sea. Enter in And come with me.

সাজিদসামহয়ার

০০০০০০

সাজিদসামহয়ার › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশের সংসদের উচিত দিল্লিচুক্তিটা প্রথমেই নাকচ করা

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:০৫

ত্রিদেশীয় চুক্তি বা দিল্লি চুক্তি আমাদের জাতীয় জীবনে বিরাট বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। কেন এই সমালচনা ?১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কে ছেরে দেওয়া ও ৭৪ এর ত্রি দেশীয় চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রথম আলোর সাংবাদিক মিজানুর রহমান ২ কিস্তিতে প্রথম আলো পত্রিকাতে তার বক্তব্য প্রকাশ করেন এর অংশ বিশেষ তুলে দিলাম



মাসকারেনহাস লিখেছেন, ‘২৫ মার্চের পর দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত গণহত্যার ক্যাম্পেইন চলে। এর লক্ষ্য ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বাঙালি বুদ্ধিজীবী।’

আর এই গণহত্যা সম্পর্কে বিশ্বকে সজাগ করতে দুটি বাধা আগে দূর করা দরকার। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও জামায়াতকে দিয়ে এর দায় স্বীকার করানো।

১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীকে ছেড়ে দিতে ১৯৭৪ সালে দিল্লিতে যে চুক্তি হয়েছিল, তার টিকে থাকা একটি বাধা। জামায়াতের কাছে দিল্লিচুক্তি একটি বর্ম। দিল্লিচুক্তির ১৩ ধারায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আজিজ আহমেদ নিতান্ত দায়সারা একটি উক্তি করেন। তিনি বলেন, ‘যদি অপরাধ ঘটে থাকে, তার জন্য পাকিস্তান সরকার নিন্দা ও গভীর অনুশোচনা করে।’ এর জবাবে বাংলাদেশ ১৫ ধারায় বলেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা ও ভুলে যাওয়ার আবেদন জানানোর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ১৯৫ জনের বিচার না করার সিদ্ধান্ত নিল। কোনো রাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিশ্বমানবতার প্রতি এটি একটি নিষ্ঠুর রসিকতা।

দিল্লিচুক্তি দায়মুক্তি গণ্য হলে সেসব ধারা বাতিল করতে হবে। এ চুক্তির সামনে ছিলেন মিসরের আনোয়ার সাদত, পেছনে কিসিঞ্জার। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে সাদত কিসিঞ্জারের জানি দোস্ত হয়ে উঠেছিলেন। এমনকি আমার অনুসন্ধানলব্ধ প্রাথমিক অনুমান হলো, বঙ্গবন্ধুকে ওআইসি সম্মেলনে নেওয়ার পেছনে কিসিঞ্জারের হাত উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে ওআইসি সম্মেলন ও তার দুই মাস পরেই দিল্লিতে চুক্তি হলো। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার যাতে না হয়, সে জন্য কিসিঞ্জার-মাও সেতুং পণ করেছিলেন। এই তথ্য অনালোচিত যে দিল্লিচুক্তিটা কায়রোতে সারতে সাদত ইন্দিরা গান্ধীকে মিসরে আমন্ত্রণ জানান। বিস্মিত ইন্দিরা তা নাকচ করেন। তখন ভুট্টোসহ মুসলিম দেশগুলোর স্বীকৃতি আদায় পেয়েছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই ১৯৭৩ সালের আইনে বিচার না করতে বঙ্গবন্ধু আপস করেন। তবে এটি ভয়েড অ্যাবিনিশিও বা জন্ম থেকে বাতিল চুক্তি। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে বাংলাদেশকে আগে তা বাতিল করতে হবে। তবে ভারতের নাগরিক সমাজের প্রতি আবেদন, তারা যেন ওই চুক্তির মানবতাবিরোধী অংশ বাতিলে সোচ্চার হয়। উপমহাদেশে শান্তির নামে গণহত্যার দায়মুক্তি-সংবলিত চুক্তি থাকতে পারে না। ড. কামাল হোসেন, শরণ সিং ও আজিজ আহমেদ নিজ নিজ দেশের সংবিধান পরিপন্থী ও এখতিয়ারবহির্ভূত চুক্তি করেছিলেন। এ বিষয়ে গলা ফাটিয়ে বিশ্বকে বলার আগে বাংলাদেশের সংসদের উচিত দিল্লিচুক্তিটা প্রথমেই নাকচ করা।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:৩৬

পাঠক১৯৭১ বলেছেন: দিল্লি চুক্তিতে কি আছে?

হাওয়া ভবন, গ্রেনেড হামলা, উলফার সাথে অস্ত্র ব্যবসা, জিয়া অরপেনেজ, রাজারকাদের মন্ত্র বানানো: সবই কি দিল্লি চুক্তির অংশ?

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১:০৮

সাজিদসামহয়ার বলেছেন: দিল্লি চুক্তির মধ্যেয় আছে জাতির সাথে বেয়মানী বিশ্বাসঘাতকতা আর অশান্তির বীজ। পিছনে ফেলে আসা একটি দুর্ভাগ্যজনক কলুষিত আধ্যায় যাকে ঘেঁটে ঘেঁটে এখন অশান্তির আগুন বানিয়ে দেশ বাসিকে ফাসান হচ্ছে। জীবন জীবিকা আয় উন্নতির ব্যবস্থা না করে দুনীতি লুটপাট থুক্কু মাছের ব্যবসা করে নিজেদের আঙ্গুল কে ফুলিয়ে কলা গাছে পরিনিত করে মিছে মিছি জনগন কে চেতনার ট্যবলেট গেলাচ্ছে

২| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১:৪৩

েফরারী এই মনটা আমার বলেছেন: ১৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ১৯৭২সালের ২ জুলাই'র শিমলা চুক্তি এবং ১৯৭৩ সালের ২৮ আগস্টের দিল্লী চুত্তির ধারাবাহিকতায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালের ৫ থেকে ৯ এপ্রিল ভারতের রাজধানী দিল্লীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর কামাল হোসেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রী স্মরণ সিং ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমেদ বেশ কয়েকবার বৈঠক করে একটি সমঝোতায় উপনীত হয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বা বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান চুক্তি নামে পরিচিত। ৯ এপ্রিল ১৯৭৪ সালে দিল্লীতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ওই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির প্রধান প্রধান বিষয়গুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীগণ ১৯৭২ সালের ২ জুলাই শিমলা চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের বিরাজমান সমস্যা সমাধানে ঐক্যমত হয়েছেন। যা বাস্তবায়ন করার জন্য উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যে সমাধানে পৌঁছানোর জন্য এখনো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
২. বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শিমলা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে শান্তি ও আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ শিমলা চুক্তিকে সমর্থণ করে।
৩. ১৯৭১ সালে এই উপমহাদেশে যে দুঃখজনক মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল তা এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা যার রাজনৈতিক, মানবিক ও পনুর্বাসন করাটা শান্তিপূর্ণ ভাবেই করা উচিত। সকল পক্ষকে স্বাধীন ও সার্বভৌম সম অধিকারের ভিত্তিতে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সকল পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
৪. ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল ভারত ও বাংলাদেশ এই রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে একধাপ অগ্রসর হয়েছে যা মানবিক বিপর্যয়কে অনেকটা সমাধানে সহায়তা করেছে। ভারত ও বাংলাদেশ ওই তারিখে ঐক্যমত হয়েছে যে, উপমহাদেশে রাজনৈতিক সমস্যা ও শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের জন্য সকল পক্ষকে একসঙ্গে বসেশান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে এবং সে অনুযায়ী এই সমস্যার সমাধানে ভূমিকা পালন করবে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভারত ও বাংলাদেশ ঐক্যমত হয়েছে যে, উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতি রক্ষার জন্য এবং পরাস্পরিক বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এবং উক্তজনা প্রশোমনের জন্য আলোচনার মাধ্যমেই রাজনৈতিকভাবেই এই মানবিক সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। বাংলাদেশ সরকার যেসব পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্থ করেছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাবার ইচ্ছে পোষণ করে উভয় দেশ।
৫. ওই ঘোষণা অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশ এবং ভারত ও পাকিস্তান কয়েকটি সিরিজ বৈঠকের পর ১৯৭৩ সালের ২৮ আগস্ট দিল্লীতে ভারত ও পাকিস্তান যে চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং যাকে বাংলাদেশ সমর্থণ করেছে, সে অনুযায়ী সকল পক্ষ মানবিক সমস্যা সমাধানে একটি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাতে চায়।
৬. এই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তত তিন লাখ মানুষকে এখন জরুরী ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন করতে হবে। আর উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিকভাবেই এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।
৭. ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের পূর্ণ স্বীকৃতি বিবেচনায় সম্পৃক্ত করা হয়। যাতে বাংলাদেশ দিল্লী চুক্তিকে সমর্থণ দিয়ে বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর কামাল হোসেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রী স্মরণ সিং ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমেদ দিল্লীতে ১৯৭৪ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল দিল্লী চুক্তি'র খুটিনাটি বিষয় ও সমাধানের উপায় নিয়েবৈঠক করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানবতা বিরোধী যুদ্দাপরাধী ট্রাইব্যুনালে যে ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিচার প্রকিয়া কিভাবে শেষ হবে এবং ভারতের জেলে পাকিস্তানের যেসব সেনা আটক আছে তাদের কিভাবে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে একটি সমাধানের উপায় খোঁজা হয়।
৮. ১৯৭৩ সালের ২৮ আগস্টের দিল্লী চুক্তি রিভিউ করে তারা এই তিন দেশের বিশাল মানবিক সমস্যার একটি প্রত্যাবাসনের উপায় বের করেন।
৯. এই তিন মন্ত্রী তিন দেশের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারগুলো কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ধাপে ধাপে সমাধান করা যাবে সে বিষয়ে একমত হন।
১০. ভারত ব্যখ্যা করে যে, সেই সমাধানে উপায় হিসেবে ভারত থেকে ট্রেনে ৬,৫০০ জন করে যুদ্ধবন্দীকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে। তবে কুম্ভ মেলার কারণে ভারত থেকে এই যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন ১০ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিরত থাকবে। ১৯ শে এপ্রিলের পর তা আবার শুরু হবে। আর আশা করা যায় যে, এপ্রিলের মধ্যেই ভারতের জেলে থাকা পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে।
১১. পাকিস্তান ব্যাখ্যা করে যে, পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন প্রায় শেষের দিকে। আশা করা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট বাঙালিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে। আর তা কোনো ধরনের অন্তরায় বাধা বা প্রতিরোধ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবেই করা যাবে।
১২. বাংলাদেশে বসবাসরত অবাঙালিদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে পাকিস্তান দাবী করে যে, ইতোমধ্যে পাকিস্তান সরকার একটি ছাড়পত্র তৈরি করেছে, যারা পাকিস্তানের নাগরিক কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে আটকা পড়েছে, কিংম্বা যারা পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারে চাকরির কারণে যারা সেখানেআটকা পেড়েছে তারা এবং তাদের পরিবাবর্গ, আর যারা দেশ ভাগের কারণে আত্মীয় হিসেবে সেখানে আটকা পড়েছে,তাদের একটা তালিকা পাকিস্তান সরকার চূড়ান্ত বরেছে। কিন্তু যারা নির্বাসিত অবাঙালি কিন্তু পাকিস্তানে আটকা পড়েছে তাদের ব্যাপরে পাকিস্তান সরকার একটি মানবিক বিবেচনা নিয়ে তাদেরও পাকিস্তানে প্রত্যাবাসন করার জন্য আগ্রহী। আর এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজারের একটি তালিকা পূড়ান্ত হয়েছে যারা সবাই পাকিস্তানের নাগরিত কিন্তু বাংলাদেশে আটকা পড়েছে।
পাকিস্তান আরো ব্যাখ্যা করে যে, প্রথম তিন ক্যাটাগরিতে যেসব অবাঙালি পড়বে পাকিস্তান বিনা শর্তেই তাদের ফিরিয়ে নেবে, আর সেই সংখ্যা যতোই হোক না কেন। কিন্তু যাদের আবেদনপত্র বাতিল হয়েছে পাকিস্তান তাদের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে যে, কোন কারণে কিসের ভিত্তিতে পাকিস্তান সরকার তাদের আবেদন বাতিল করল। যদি তারা কোনো কারণে ওই তিন ক্যাটাগরিতে না পড়ে তাহলে তাদের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কোনো দায় নেই। তবু তাদের আবেদন পাকিস্তান পুনঃবিবেচনা করে দেখবে কেন তারা বাদ পড়ছে। আর এজন্য কোনো সসময় সীমার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এমনকি তারা কোন ক্যাটাগরিতে পাকিস্তানে প্রত্যাবাসন চায় সেই আবেদন নতুন করেও করতে পারবে। তাছাড়া পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার একটি সম্মানজনক সমাধানেরও চেষ্টা করবে।
১৩. ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী যুদ্ধবন্দীর ব্যাপারে তিনমন্ত্রী একটি গঠনমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সহজ উপায় বের করার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, এই ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধ করেছে, জোনোসাইডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের আইন করেছে, তার আওতায় তারা পড়ে। যে কারণে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী হিসেবেই বিচার করতে হবে। জবাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, পাকিস্তান সরকার মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধের মত কোনো সন্ত্রাসীকে একদম সমর্থণ করে না। যদি তারা এর আওতায় পড়ে তাহলে পাকিস্তান সরকার তাদের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের নিয়ম কানুন অনুসরণ করেই তাদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করবে।
১৪. তিনমন্ত্রী ঐক্যমত হন যে, তিন দেশে বিরাজমান মানবিক এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে। তিনমন্ত্রী আরো জানান যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে আমন্ত্রণ দিয়েছেন তাতে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে যাবেন। আর বাংলাদেশের মানুষের কাছে অতীতের ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবেন। আর এই তিন দেশের মানবিক প্রত্যাবাসন যাতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সে জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরে সহযোগিতা চাইবেন। আর অতীতের ভুলকে ক্ষমা করে নতুন করে দুই দেশের বন্ধুত্ব শুরু করার জন্য আহবান জানাবেন। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের কৃতকর্মের জন্য ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থণাকে সম্মান দেখিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুনভাবে একটি দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের উপর জোড় দেবেন। আর বলবেন যে, বাঙালি জাতি জানে কি করে ক্ষমা করে দিতে হয়।
১৫. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থণা ও অতীতের ভুলকে ভুলে যাবার যে আবেদন করা হবে, তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, পাকিস্তানের অতীতের ভুল স্বীকার ও ক্ষমাপ্রার্থণাকে বাংলাদেশ অবশ্যই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে বিবেচনা করবে। আর পাকিস্তানের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি, ক্ষমাপ্রার্থনা, আর ভুল স্বীকারের কারণে বাংলাদেশ অন্যান্য যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে আলোচিত ১৯৫ জন মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনাকে পাকিস্তানের ফেরত পাঠাতে রাজী আছে। তবে এই ১৯৫ জন মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরী সেনার বিচার পাকিস্তান যথাযথভাবেই করবে এমন প্রতিশ্রুতি পাবার পরেই সেটা কার্যকর হবে যা দিল্লী চুক্তিকে কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
১৬. তিন মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, উপরের বিষয়গুলো বিবেচিত হলে তিন দেশে ১৯৭১ এ সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়কে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা সম্ভব হবে। তিন দেশে অন্তত ৭০০ মিলিয়ন মানুষের জীবনে যে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে তার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পাশাপাশি এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি তিন দেশের ভবিষ্যতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তারা সম্মত হয়েছেন। আর এটা বাস্তবায়ন করা গেলে উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতি ফিরে আসার পাশাপাশি মানবিক সমস্যাটির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান ছাড়াও তিন দেশের মধ্যে নতুন করে একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।
১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল ভারতের রাজধানী দিল্লীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর কামাল হোসেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রী স্মরণ সিং ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমেদ এই ত্রিপক্ষীয় শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই ত্রিপক্ষীয় শান্তিচুক্তির পর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনাসহ অন্তত ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৯ জনকে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রত্যাবাসন করা হয়। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, যার অন্তত ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন বাংলাদেশীকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। আর অন্তত ১ লাথ ৮ হাজার ৭৪৪ জন পাকিস্তানীকে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে প্রত্যাবাসন করা হয়। ১৯৭৪ সালের ১ জুলাই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ হয়। আর জেনারেল এএকে নিয়াজি কে সর্বশেষ পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দী হিসেবে ভারত থেকে ওয়াগাহ সীমান্ত পথে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।
কিন্তু পাকিস্তানী সর্বশেষ যুদ্ধবন্দী ও মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর পর ত্রিপক্ষীয় এই শান্তি চুক্তির পাঁচটি প্রধান ইস্যুর অন্তত চারটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও দুইটি অন্যতম বিষয় ভবিষ্যতের জন্য অমিমাংসীত থেকে যায়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এই দুইটি সমস্য আজও সমাধান হয়নি। সেই দুইটি ইস্যু কি? একটি হল ১৯৫ জন যে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী পাক সেনা যারা ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছিল, পাকিস্তান তাদের ফিরিয়ে নিলেও তাদের বিচার করেনি। অপরটি হল, বাংলাদেশে আটকে পরা প্রায় চার লাখ বিহারী অবাঙালি পাকিস্তানীদের পাকিস্তান আর ফিরিয়ে নেয়নি।
সংগৃহীতঃ রেজা ঘটক ব্লগ
Click This Link

৩| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ৯:৫৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধপরাধি আর পাকিস্তানে আটক ৪ লাখ বাঙ্গালি জিম্মি।
Click This Link

৪| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:০৯

সাজিদসামহয়ার বলেছেন: @েফরারী এই মনটা আমার কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সে জন্যই একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞের মতামতের অংশ তুলে দিয়েছি। আপনার টা একপেশে তথ্য বিভ্রান্তিকর

৫| ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:২৫

লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: এসব নিয়ে ভাবলে মাথাটাই আউলা ঝাউলা হয়ে যায় ----

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.