| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শিক্ষিত হকার
আমার সম্পদ সীমিত, কিন্তু কল্পনা অসীম। সুযোগ মেলেনা সবখানে। পথে পথে আর প্রতি পদে পদে মানুষেক সদুপদেশ দিই, একটু হকার গিরি এই আর কি। মাঝে মাঝে হকারি করার কিছু সুবিধা পাই, গ্রহণ করি, দেরি করি না।।তাই নিজেকে একজন শিক্ষিত হকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার আশায়।
কী সহজে হয়ে গেল বলা,
কাঁপলোনা গলা এতটুকু; বুক চিরে বেরুলো না দীর্ঘশ্বাস।
নিজের কণ্ঠস্বর শুনে নিজেই চমকে উঠি,
কী নিস্পৃহ, কেমন শীতল।
শামসুর রাহমানের একটি বিখ্যাত এবং কালজয়ী ছোট্ট কবিতা একটি ফটোগ্রাফ। আজ থেকে সাত বছর আগে পড়েছিলাম। যখন সবে এস.এস.সির গণ্ডি পাড়ি দিয়ে এইচ.এস. সি এর গণ্ডিতে পা রেখেছিলাম। কবিতাটির সারমর্ম ছিল এই যে পুত্রের মৃত্যু সংবাদে যে পিতা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল, হয়ে গিয়েছিল বাকরুদ্ধ, শোকে হয়েছিল কাতর। - সেই পিতা তিন বছর পর তার এক অতিথি বন্ধুর কাছে সাদা দেয়ালে মৃত পুত্রের ছবিটা দেখিয়ে অবলীলায় বলে ফেলল " এ আমার ছোট ছেলে যে নেই এখন, পাথরের টুকরের মতন ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে; বছর তিনেক আগে, কাক ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে।" যে শোক আজ আমাকে ঘিরে ধরে, আমাকে কান্নায় ভাসিয়ে দেয়, আগামীকাল নতুন সর্যোদয়ের আগমনে আমি সে শোক ভুলে যায়। কবিতাটি আজ প্রচণ্ডভাবে আমাকে নাড়া দিচ্ছে, তাই লিখছি। সার্টিফিকেটে আমার জন্মসাল দেওয়া ১৯৯০ কিন্তু আমার আসল জন্মসাল ১৯৮৮। এমনটা যে কেন হয় তা অনেকেই জানেন। ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টেন অর্থাৎ এস.এস.সি. (২০০৫) পর্যন্ত আমি আমার জন্ম স্থান ''চুয়াডাঙ্গা'' জেলার ''জয়রামপুর'' গ্রামের ''স্টেশন পাড়াতেই'' কাটিয়েছি। অর্থাৎ দীর্ঘ ১৭ বৎসর। আমরা পাঁচ ভাই, দুই বোন। আমি সবার ছোট। ভাই বোনের বয়স খুব কাছিাকাছি। বন্ধুত্বের মতন সম্পর্ক ছিল আমাদের ভাই বোনদের মধ্যে। কখনো ঝগড়া, কখনো ভালবাসা। এ রকমই ছিল আমাদের সংসার। আত্মীয় - স্বজন নামে যে শব্দটি বাংলা ভাষায় ব্যবহার হয় আমরা ভাই বোনেরা তা খুবই কম ব্যবহার করেছি। মা-বাবা-ভাই-বোন এই ছিল আমাদের আত্মীয় স্বজন। এই পরিবারের নয় জন সদস্যের মাঝেই ছিল সব সুখ, দুঃখের ভাগাভাগি। খেলাধুলা শেষ করে সন্ধ্যার পর যখন বাড়িতে ঢুকতাম তখন ''মা'' বলে একটা চিৎকার না দিলে দিলে শান্তি আসতো না। অনেক সময় মা বাড়িতে থাকতো না। হয়তো পাশের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে। খুব রাগ হতো তখন। একবার একে জিজ্ঞসে করি ''মা কই?'' আর একবার ওকে জিজ্ঞেস করি ''মা কই''। প্রায়ই রাত ৯ টা অথবা ১০ টা যখন গ্রামের মানুষ গুলো ঘুমের ঘোরে নাক ডাকছে। তখন আমরা সবাই এক জায়গায় বসে নানা রকম গল্প গুজবে মেতে উঠতাম। বাবা মাঝে মাঝে অনেক মজার মজার কথা বলতেন। আমরা তো হেসেই গড়াগড়ি। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা আর বাবা মনে হয় আমিই পেয়েছি। আমার ভাই বোন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাই বোন। তাদের জন্যেই আমার এতদূরে আসা। ভবিষ্যতের পথ চলা। হাইস্কুলের খেলার মাঠে খেলেছি অসংখ্য ক্রিকেট ম্যাচ। খেলেছি ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ডাংগুলি, কানামাছি, দাঁড়িয়াবান্ধাও। তখন মনে হতো মা, বাবা, ভাই, বোন, ছাড়া একদিন চলা দায়। খেলার সাথি ছাড়া থাকা যায় না-কি? ২০০৫ সাল। এস. এস.সির রেজাল্ট হলো। ঢাকাতে আসতে হবে। কলেজে ভর্তি হতে হবে। আসলাম অনেক আনন্দ নিয়ে। কিন্তু দু দিন না যেতেই বুঝতে পারলাম আমি আমার সব কিছু হারিয়ে ফেলেছি। হারিয়ে ফেলেছি আমার ''মা'' কে যাকে প্রতিদিন আমি চিৎকার পেড়ে ডাকতাম। হারিয়ে ফেলেছি আমার বাবাকে যিনি আমাকে এখনও ''বাবু'' বলে ডাকে। হারিয়ে ফেলেছি আমার শান্ত ও দুষ্টু ভাই বোনদেরকে। হারিয়ে ফেলেছি আমার সেই খেলার মাঠ আর চির চেনা খেলা ও খেলার সাথিদেরকে। আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। কিন্তু আমাকে আর ফিরে যাওয়া যাবে না সেই কৈশরে । আমাকে ঢাকাতেই পড়তে হবে। নটরডেম কলেজে পড়াশোনা করি আর মন পড়ে থাকে আমার গ্রামের বাড়ি। ২০০৭ এ এইচ.এস.সি পাশ করে ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ ২০১২ সাল। আমি কবি জসিম উদ্দীন হলের ছাত্র। হলেই থাকি। আজ সাত বছর আমি আমার সেই শৈশবের স্মৃতি গুলো যখন মনে করি তখন কিছু সময়ের জন্যে আমার চোখ পানিতে ছল ছল করে। কষ্ট লাগে। কিন্তু যে কষ্ট ২০০৫ এ পেয়েছিলাম, যে কান্না তখন কেঁদেছিলাম আজ তা পাইনা, কাঁদিনা। চোখ শুধু ছল ছল করে মাত্র। হটাৎ করেই আমি আবার ফিরে আসি আমার বর্তমান জগতে। অতীততের কথা ভুলে যায়। ভুলে যায় সেই খেলার মাঠ, খেলা আর খেলার সাথি, ভুলে যায় শান্ত-দুষ্টু ভাই বোনদের, ভুলে যায় বাবার সেই ''বাবু'' ডাক এমন কী ভুলে যায় মাকে চিৎকার করে ডাকার কথা। আমরা সাত ভাই বোনের সবাই আজ আলাদা আলাদা জায়গাতে থাকে। বাবা- মা থাকে সেই গ্রামের বাড়িতে। আমি জানি এতগুলো সন্তানের জন্য তাদের মনটা হয়তো সব সময় ছটফট করে। এটা বুঝতে পারি তখন যখন গ্রামের বাড়িতে যায় আর দেখি ''মা'' বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে আছে। ছেলেকে দেখবে, বুকে জড়িয়ে ধরবে বলে। বুঝতে পারি তখন আরও বেশি যখন আবার আমি ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিই আর মা তাকিয়ে থাকে আমার চলে যাওয়ার দিকে যতক্ষণ না আমি অদৃশ্য হয়। কিন্তু আমি ভুলে যায় সব। ভাবি সময়ে স্রোতে, যান্ত্রিকতার এ যুগে আমিও কতটা নিষ্ঠুর হয়ে যায়।
১৯ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:৩৫
শিক্ষিত হকার বলেছেন: ধন্যবাদ!
২|
২৫ শে নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫০
শৌখিন ছেলে বলেছেন: লেখার ধাঁচ অসাধারণ।
আপনার ভাগ্য যে এরকম একটি মা পেয়েছেন।আমিও অবশ্য পেয়েছি।পৃথিবীর সব মা সুখে থাকুন।
২৫ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:১৭
শিক্ষিত হকার বলেছেন: ধন্যবাদ! পৃথিবীর সব মা সুখে থাকুন।
৩|
২৫ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:২২
সন্দীপ হালদার বলেছেন: ভাল লাগল পড়ে।
২৫ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৪৭
শিক্ষিত হকার বলেছেন: ধন্যবাদ!
৪|
২৫ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৪৪
*কুনোব্যাঙ* বলেছেন: সন্দীপ হালদার বলেছেন: ভাল লাগল পড়ে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৬
গাজী আলআমিন বলেছেন: ভালো লিখছেন