নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

shorbonam

vagabond only

ুুসর্ব্নাম

vagabond only

ুুসর্ব্নাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

নুরুন নবীরে নিয়া (ছোটগল্প)

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৪:৪৩

তো, এই গল্প নুরুন নবীরে নিয়া।



রামপুরা ব্রীজের তলের খুপরী খুপরী কইরা যে বস্তি গইড়া উঠে ছিয়ানব্বইয়ের দিকে, সেইখানে বসবাস করতে থাকে নুরুন নবী, তার বউ সালমা আর মা কাঞ্চি বুড়ি। মাথার উপরে পলিথিন নাইলে জংধরা পুরান টিন আর চারপাশে বাশের বেড়া দিয়া বানানো খুপড়ি ঘর। ঝড় বৃষ্টিতে ছাদ উইড়া গেলে মাথার উপরে উপরওয়ালা ছাড়া আর কিছুর হদিশ পাওয়া যায় না। তার ভিতরে বাশের মাচা, কেরোসিনের স্টোভ, একটা টিফিনকারী, কিছু বাসন কোসন, দুই একটা প্লাস্টিকের মগ আর কাঞ্চি বুড়ির বিলাই ধলারে নিয়া তাদের সংসার।







বস্তির লোকজনদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়া দুইটা আধপাকা পায়খানা বানায়া দিছে এনজিওঅলারা, সেইখানে সকাল থেকাই লাইন ধরা লাগে। সন্ধ্যা হইলেই সেইখানে লোহার খাচার ভিতরে ৬০ পাওয়ারের বালব জ্বলজ্বল করতে থাকে, দূর থেকা আবছা আলো দেখা যায়। ব্রিজের উপরে খাড়ায়া নুরুন নবী সেই আবছা আলোর দিকে তর্জনী তাক কইরা বলে- অইখানে গিয়া কাউরে জিগাইবেন, নুন্নবী থাহে কই? তারা দেখায়া দিবে।







কামালুদ্দি তাতে সন্তুষ্ট হয়, কামালুদ্দিরে সে ডাকে ওস্তাদ। ফলে, রামপুরা ব্রিজ টু মাদারটেক লেইখা রাখা সাথী পরিবহনে হেল্পারের চাকরী হয় তার। তিন চাকার হলুদের মধ্যে কালো রঙের টেম্পু, তার আগে পিছে হাইটা হাইটা সে চিল্লাইতে থাকে, অই, মাদারটেক! মাদারটেক! গাড়ি চলতে শুরু করলে পাদানীতে খাড়ায় টেম্পুর ভিতরে ঘাড় গুইজা ভাড়া কালেকশন তার অন্যতম দ্বায়িত্ব, মাঝে মাঝে ঘাড় বাইর কইরা বেয়াদপ রিকশাওলাদের উদ্দেশ্যে সে সতর্কবানী দেয়- আ এ এ চাইপা!







মাইনষের বাসায় ঠিকা বুয়ার কাম করে সালমা, দুপুরের একটু পরেই টিফিনকারীতে ভইরা খাওন নিয়া আসে সে, কেরোসিনের স্টোভে দিয়া গরম করে, তারপর একটু জিরায়। বিকালের আগে আগেই আর পাড়া বেড়ানো শেষে ফিরত আইসা তার বিলাইটা মাচার এককোনে ছুঁইড়া ফেলে কাঞ্চি বুড়ি, তারপর সালমার অলসতার গুষ্টি উদ্ধার করতে বসে সে, বাজা মাগী, রাইতে ঘুম দিবার পারোস না? মাচার কোনা থেকা বিলাই ম্যাও ম্যাও করতে করতে সালমার কোলের পাশে মুখ বুজে আহ্লাদ খাইতে থাকে।







ডিউটি শেষ কইরা বাংলা মদের আসর বসে মাউড়াবাজারে, সেইখানে ওস্তাদের লগে গিয়া হাজির হয় নুরুন নবী। কামালুদ্দি বলে, অয় আমার নতুন হেল্পার, নুন্নবী। তারপর বাংলামদে এক ঢোক দিয়াই সে চোখমুখ কুচকাইয়া ফেলে- উররে তিতা! যম তিতা! মাইনষে খায়? নুরুন নবী মাথা দোলায়, যেন ওস্তাদের কথায় সায় দেয়, তারপরে শাদা রঙের বোতলটা থেকা লাল রঙের মুখখা দূরে ছুইড়া মারে সে। দুই ঢোক পেটে পড়লে তখন নুরুন নবী আক্ষেপ করে বলে, ওস্তাদ, আমি তো ভাড়া কাটি। হেল্পারি করি নাকি আমি? আমি কন্টাকদার তো, কন্টাকদার না? কামালুদ্দি তখন সবার কাছে আবার পরিচয় করায় দিয়া বলে, অর নাম নুন্নবি কন্টাকদার। অরে কেউ হেল্পার কইলে তারে আমি খাইছি। তারপর মেসিয়ার মেরাজরে ডাক পারে সে- আরেকটা হাব বোতল দেও দিখি তারে? তো, সেই মেরাজ করে কি, দাতের ভিতর গুল ঘষতে ঘষতে নুন্নবীর জন্য হাব বোতল আনতে গিয়া খ্যাঁক খ্যাঁক কইরা হাসতে থাকে।







নুরুন নবী রাইত কইরা বাড়ি ফিরে, কাঞ্চি বুড়ি জেগে নাকি তখনো? গভীর রাতে যখন সালমা যখন তার শরীরের উপর উইঠা আসে, প্রবল ঘোরে আচ্ছন্ন নুন্নবী তখন বিড়বিড় করতে থাকে- এহ, আরো মদ খাইতাম! আরো নেশা করতাম? বাশের মাচার নাড়াচড়ায় ঘুম ছুটে যায় কাঞ্চি বুড়িরও, কিছুক্ষন সে মুখ বুজে শুয়ে থাকে। তারপর, একসময় সেও তার উষ্মা প্রকাশ করে- বাজা মাগী, রাইতে ঘুম দিবার পারে না! ঘুম ভেঙ্গে যায় বুড়ির বিলাই ধলারও। সালমার পিঠ বেয়ে ধলা কাঞ্চিবুড়ির পাশে গুটিশুটি দিয়া শুয়ে থাকে।







ভোড়ে, সাড়ে ছয়টার পর পর সালমা যখন মোমেন আলীর বাড়ির দরজায় নক করতে থাকে, বাসার সবাই তখনো ঘুমে। দরজা খুলতে আসে মোমেন আলীর কমবয়সী শালা রাকিব, ইন্টার পরীক্ষা শেষ তার। ফলে, রাইতে ঘুমায় না নাকি সে? সকাল সকাল নাস্তা বানানো শেষে সবাই ঘুম থেকা উঠলে কাপড় ধুইতে বসে ঠিকা বুয়া সালমা। সেই সময়ে মাঝে মধ্যে দোকান থেকা গুড়া সাবান কিনা আনতে যায় রাকিব, সাথে কইরা এক খিলি পান নিয়া আসে সে, বলে- ছালমা, এইটা তোমার। সালমারও তারে বেশ পছন্দ, সে ভাবে, বেকুব ছেমড়া মনে হয়। ফলে, পান চিবাইতে চিবাইতে লজ্জা পাওয়া ভাব নিয়া সে বলে, ভাইয়া, লাল হইছে? সালমার এই কপট লজ্জা মোমেন আলীর বুইড়া বউয়ের ছানি পড়া চোখের আড়াল থাকে কি না রাকিব সেইটা টের পায় না।







তবুও, এই গল্প নুরুন নবীরেই নিয়া।







হরতালের দিন দুপুরের পর পর ঘুম থেকা উঠে সে, সালমা যখন কেরোসিনের স্টোভ জ্বালায়া টিফিনকারীতে ভইরা আনা খাওন গরম করতে থাকে, খাওনের প্লেট হাতে নিয়া অলস ভঙ্গিতে বউরে সে জিগায়, ঘরে ঝাল আছে নিকি? কাঁচা ঝাল? খাওনের মাঝে মাঝে ধলার দিকে লক্ষ্য করে দু একটা কাটাকুটা ছুইড়া দিতে দিতে সালমার উদ্দেশ্যে সে আরও বলে, ভাত খাওনের আগে পান খাইতে নাই। পেটে পাত্থর হইবো। কিন্তু পাথর না, পেটের ভেতর অন্য কোন কিছুর অস্তিত্ব যেন টের পায় সালমা। ফলে, সে জানায়, হ পাত্থরই হইবো, পাত্থরই তো; তারপর এমন রহস্য কইরা ঠোট বাকায়া হাসতে থাকে, যেন এই পান খাইতে খাইতে সত্যি সত্যিই সে পেটে পাত্থর বাধায়া ফেলছে। আড়াল থেকে কাঞ্চিবুড়ির গলা শোনা যায়, মাগীর যে পেট হইছে, খালি চুকা খায়। নুরুন নবী হয়তো তখনও কিছু না বুঝেই বলে ওঠে, বুড়ি কয় কি?







ফলে, সন্ধ্যার পর পরই সে বাতাসা কিনে নিয়ে ফেরে নুন্নবী, ছোট ছোট টুকরা কইরা বউয়ের মুখে তুলে খাওয়াইয়া দিতে থাকে নাকি সে? তখন ধলা ফাল দিয়া সালমার কোলে এসে মুখ ঘসতে থাকলে দুই আঙ্গুল দিয়া ঘেটিতে ধইরা জানলা দিয়া দূরের কাদায় বিলাইটারে ছুইড়া ফেলে নুরুন নবী। দূরে জ্বলতে থাকা ষাইট পাওয়ারের হলুদ বাল্বের আবছা আলোয় কাদার মধ্যে ধলা তো ধলা, কোন কিছুই সেইখানে দেখা যায় না।







তারপর, আর কিছু বাতাসা নিয়ে সে মাউড়াবাজারের দিকে যায়। কামালুদ্দি সন্ধ্যা থেকাই বইসা আছে সেইখানে। নুরুন নবীকে আসতে দেইখা সে বলে, কন্টাকদার, রাইতে দুইটা টিপ দিবা নিকি? হরতালে রাইতের ট্রিপ চলে ভালো। নুরুন নবী রাইতের ট্রিপ মারার প্রস্তুতি নেয়ার আগেই হাব বোতলের লাল মুখখা খুলতে থাকে, তখন তার পাশে এসে বসে মেসিয়ার মেরাজ। কথায় কথায় মেরাজ খামাখাই তারে খেপায় দিতে চায়, রসিকতা করে, বলে, হুহ,কন্টাকদার। তুমি তো হালায় হেল্পার। তাতেও তেমন কাজ হয় না দেখে সে জানায়, তুমার বউরে তো হালায় মাইনষে লাগায়। মাইনষের বাড়িতে কাম করতে যায় না, সেইখানে। ফলে, নুরুন নবী এইবার সত্যিই যেন খেপে যায়, রাগের বশে মেসিয়ারের গলা টিপে ধরে সে। পূর্নিমার ফকফকা আলোতে মেরাজের এনামেলবিহীন দাঁতগুলা যেন চকচক করতে থাকে।







পরিস্থিতি শান্ত করতে কামালুদ্দি এগিয়ে আসে, নুন্নবীরে বলে, মাতাল হইছিস নিকি? রাইতের টিপ দিবি না? নুরুন নবী গা ঝাড়া দিয়ে উঠে এসে বলে, ওস্তান, লন টিপ দেই গা। হাব বোতল মারলেই নুন্নবী মাতাল হয় না। ফলে, রামপুরা ব্রিজের গোড়ায় গিয়া সে চেঁচাইতে থাকে, অই মাদারটেক, দশ টেকা। সিটিং ভাড়া, দশ টেকা। গাড়িতে যাত্রী ভরলে চোখে মুখে পানির ছিটা মাইরা হেডলাইট জ্বালায়া টেম্পু ষ্টার্ট দেয় কামালুদ্দি। ফাকা রাস্তায় তীব্র গতিতে কোন ট্রাক ছুইটা যাইতে দেখলেই তো নুন্নবী সাবধানী গলায় চিল্লায়া উঠে - এ ও ও চাপায়া!







গাড়ি চলতে শুরু করলে পাদানীতে খাড়ায় টেম্পুর ভিতরে ঘাড় গুইজা ভাড়া কালেকশন করতে থাকবে নুরুন নবী, তেমন সময় সমগ্র বাংলাদেশ পাঁচ টন লেখা একটা ট্রাক তীব্র গতীতে পিছন থেকা মাইরা দেয় কামালুদ্দির টেম্পুতে। পাদানী থেকা ছিটাকায়া রাস্তার পাশে গড়ায়া পড়ে নুন্নবী, ঘাসে। টাল সামলাইতে না পাইরা তার তিন চাকার টেম্পু টিভি সেন্টারের লাল রঙের দেয়ালে গিয়া আছাড়াইয়া পরে। রক্তাক্ত শরীর নিয়া চিত হইয়া পইড়া থাকা নুরুন নবী তখনও বিড়বিড় করতে থাকে, এহহ, আরও মদ খাইতাম! আরো নেশা করতাম!



মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৪:৫৫

খেয়া ঘাট বলেছেন: নুরুদীনরা এভাবেই ফুত করে নিভে যায়।
গল্প ভালো লেগেছে।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৯

ুুসর্ব্নাম বলেছেন: নুরুদীনদের নিয়া এইরকম আপত্তিকর ভাবনা না ভাবাই উত্তম

২| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:৪৭

মেম সাহেব বলেছেন: keep it up nice

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫১

ুুসর্ব্নাম বলেছেন: আপনেরে ওয়েলকাম

৩| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:৪৩

পাতি রাইটার বলেছেন: ভাল লাগল পড়ে।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৪৯

ুুসর্ব্নাম বলেছেন: ধন্যবাদ

৪| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:১৭

মরণের আগে বলেছেন: হুমম ,আপ্নেরে পেলাস

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫০

ুুসর্ব্নাম বলেছেন: সেইটাতে কি হয়?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.