| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

হৃদয়ের প্রেম দিয়ে তোমাকে ত ভালোবাসি, হে দেশ আমার।
দেহের সামর্থ্য দিয়ে লাঙল চালাই আমি মাঠে মাঠে, আর
মুঠো মুঠো ধান বুনি; প্রাণের প্রেমের রঙে ফসল তোমার-
সবুজ সুষমা পেয়ে বাতাসেতে দোল খায় শিষগুলি তার।
চিন্তার ঐশ্বর্য দিয়ে ফসলের কাব্য রচি অনেক আশার।
আমার শিরায় নাচে তপ্ত রক্ত-ছন্দে পাই অনুভূতি তার।
সেই ছন্দে কী আকুল সাড়া জাগে! উদ্বেলিত আমার হৃদয়
শুনেছে আশ্চর্য হয়ে তোমার সে আকাশের চাঁদ কথা কয়!
হে আমার দেশ শোন, শোন দেশ, জনতার শ্রমে গড়া দেশ।
বাঙলার মাটি চষে আশাবাদী এ জীবন করেছি ত শেষ।
যৌবনের দিনগুলি চলে যায় কর্ম-ক্লান্ত ঘুমের পাখায়
যদিও বসন্ত আসে পথ পাশে কোনো শিরীষ শাখায়
ঘুম ভাঙানোর গান গেয়ে যায় রাত শেষে পাখিদের সুর,
আমার আঁধার ঘরে ঝিঁঝিঁরা বাজায় তবু ঘুমের নূপুর!
এবার জাগাও মোরে, হে আমার শ্রমে গড়া জনতার দেশ!
আমাকে উদ্ধত করো-এ রাত্রির জড়তার ঘুম হোক শেষ
আমাকে কঠিন করো আশাদীপ্ত মানুষের চাবুকের ঘায়,
আমাকে জাগ্রত করো নতুন সূর্যের কোন রশ্মির আভায়
ওষ্ঠে মোর তুলে দাও কৃষাণের বাঁশি আর মেঠো গান আজ,
কণ্ঠে মোর দাও দাও অগণিত মিছিলের উদাত্ত আওয়াজ।
**(কবি আবদুল হাই মাশরেকীর রচিত ‘হে আমার দেশ’ কাব্যগ্রন্থ
হতে নেয়া হয়েছে। কবি আবদুল কাদির সম্পাদিত ‘কাব্যবীথি’তে প্রকাশিত ১৯৫৪।
কিন্তু কবিতাটি ১৯৪২ সালে লিখিত, কলকাতায়। ১৯৫১ সালে
‘মোহাম্মদী’তে বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল।
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর ৯৫ তম জন্মবার্ষিকীতে (১ এপ্রিল ২০১৪)
প্রকাশিত ‘এবার জাগাও মোরে’ অডিও আবৃত্তি সিডিতে উক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন
বিশিষ্ট আবৃত্তিকার, অভিনেতা শংকর সাওজাল।)**
*** আবদুল হাই মাশরেকী (কবি ও সাংবািদক, জন্ম-১৯০৯, ১ এপ্রিল- মৃত্যু- ১৯৮৮, ৪ ডিসেম্বর।
বিদ্রোহী ভৃণ্ড ভাইয়ের অনুরোধে ‘হে আমার দেশ’ কবিতাটির শংকর সাঁওজালের কণ্ঠে আবৃত্তি রেকর্ড
টি আপলোড করলাম।
https://www.youtube.com/watch?v=Cz-UQi1yGaY
৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৪
মাশরেকী বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
২|
২৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:৪০
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মাটির কবিতা প্রাণের কবিতা
জাগরণের গহন গভীরে কৃষানের বাশী আর মেঠো সুরের মৌলিকতাকে ধারন করা।
অনেক অনেক ধণ্যবাদ কবিতাটি শেয়ারে।
আবৃত্তির লিংক যদি এড করে দেন অনেকে শুনতে পাবে।
ব্লগে স্বাগতম
৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৫
মাশরেকী বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
৩|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১৮ ভোর ৬:৪৯
পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বাহ ! অসাধারণ এক জন ব্যক্তিকে পরিচয় করালেন সুন্দর গানটির মাধ্যমে । শুভ ব্লগিং ।
প্রিয় মাশরেকী ভাই,
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আপনার নিকের প্রথম কমেন্ট আমি পেয়েছি । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত 404 পেজ টি আমি ওপেন করতে পারছি না । যে কারণে আপনার সঙ্গে শ্রদ্ধেয় বিদ্রোহী ভৃগু ভাই ও কাউসার ভাইয়ের কমেন্টের প্রতি মন্তব্য করতে ব্যর্থ হচ্ছি বারে বারে । যদিও অন্য পেজ গুলো খুলছে শুধু মরীচিকার পর্ব সিক্স এর 404 পেজ খুলছে না । সমস্যাটি কবে মিটবে জানিনা ।
শুভকামনা জানবেন
৪|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১৮ ভোর ৬:৫০
পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রতি মন্তব্য করতে ডানদিকে কমেন্ট বক্সের উপরে সবুজ বাটনে ক্লিক করলে নতুন একটি স্পেস আসবে । তার মধ্যে উত্তর লিখে জমা করলে তবেই আমাদের নোটিফিকেশনে দেখাবে ।
অনিঃশেষ শুভেচ্ছা রইল ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ৮:২১
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেছেন:
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত :
গ্রামবাংলার জনপ্রিয় পালাগান রাখাল বন্ধু, জরিনা সুন্দরী, আল্লা মেঘ দে ছায়া দে তুই আল্ল মেঘ দে গান, মাঠের গান, ঝিঙের ফুলের লতা, দুখু মিয়ার জারী, হযরত আবু বকর (রাঃ) পুঁথি সাহিত্য রচয়িতা আবদুল হাই মাশরেকী তিরিশ দশকের কবি। তাঁর অনেক পাণ্ডুলিপি অপ্রকাশিত এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য কবিতা, গল্প, গান ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম। কলকাতায় থাকাকালীন এবং ১৯৪৬ সালে হিন্দু- মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিগুলো এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের দেয়া উপহার হারমোনিয়াম সেখানে রেখে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে চলে আসেন। আবদুল হাই মাশরেকী মূলত এদেশের সাধারণ মানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষার রূপকার ও কৃষক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী কবি।
জন্মেছিলেন ১ এপ্রিল ১৯১৯ সালে (সার্টিফিকেট অনুযায়ী) ময়মনসিংহ জেলায় ঈশ্বরগঞ্জ থানার দত্তপাড়া গ্রামে। তবে এলাকার মুরুব্বিরা ও তাঁর মামা (মরহুম আবদুল আজিজ, পরবর্তী সময় কবির শ্বশুর) বলেছেন-আবদুল হাই মাশরেকী ১৯০৯ সালে ১ এপ্রিল মাতুতালয়ে ঈশ্বরগঞ্জের কাঁকনহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
মৃত্যুবরণ করেন- ৪ ডিসেম্বর ১৯৮৮ সালে নিজবাড়িতে। পিতা ছিলেন- ওসমান গনি সরকার। তিনি জমিদার বিরোধী আন্দোলনের তেজোদীপ্ত নায়ক ছিলেন। মাতা ছিলেন রহিমা খাতুন।