| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এস. এম. রায়হান
আমি লেখক নই, নই কোন কবি-সাহিত্যিক কিংবা সাংবাদিক। অবসরে কিছু লেখালেখির চেষ্টা করি মাত্র।
মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব কোনো কালেই কেউ ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করতে সক্ষম হবে না। কেউ এরকম কোনো প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করে থাকলে তিনি নিঃসন্দেহে বোকার স্বর্গে বাস করছেন! আর এ জন্যই আগের প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: এই মহাবিশ্বের স্রষ্টায় বিশ্বাস একটি অন্ধ বিশ্বাস কি-না। জোরালো কিছু যুক্তির সাহায্যে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে যে, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টায় বিশ্বাসকে কোনো ভাবেই অন্ধ বিশ্বাস বলা যেতে পারে না। পাশাপাশি এও দেখিয়ে দেয়া হয়েছে যে, স্রষ্টার অনস্তিত্বে বিশ্বাসই প্রকৃতপক্ষে একটি অযৌক্তিক, অমানবিক, ও অন্ধ বিশ্বাস। এই লেখাতে নাস্তিকতার স্বপক্ষের বহুল প্রচলিত যুক্তিগুলোকে খণ্ডন করা হবে।
যুক্তি-১: স্রষ্টার পিতা – (ক) ঘড়ি বানায় ঘড়ির কারিগর। ঘড়ির কারিগরের পিতা আছে। (খ) মহাবিশ্ব বানিয়েছে মহাবিশ্বের কারিগর। মহাবিশ্বের কারিগরেও পিতা থাকতে হবে। (গ) অতএব, ঘড়ির যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় এবং সেই কারণে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলেও কিছু থাকতে পারে না।
যুক্তি খণ্ডন: প্রথমত, এই মহাবিশ্বের কারিগরের পিতা থাকলে সেই পিতাই হবেন এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা। ফলে সমস্যাটা কোথায় তা তো বোঝা গেল না! দ্বিতীয়ত, সবকিছুরই যে পিতা-মাতা বা স্রষ্টা থাকতেই হবে – এই ধরণের উদ্ভট ও অবৈজ্ঞানিক কথা কে বলেছে? সংজ্ঞা অনুযায়ী স্রষ্টার কোনো পিতা-মাতা বা স্রষ্টা থাকতে পারে না। এই ধরণের যুক্তি নিতান্তই শিশুসুলভ ও হাস্যকর শুনায়। যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি অসম্ভাব্যতা। কারণ সবকিছুরই পিতা-মাতা বা স্রষ্টা খুঁজতে গেলে অসীম পর্যন্ত যেতে হবে, যেটি বাস্তবে অসম্ভব। তৃতীয়ত, সবকিছুরই স্রষ্টা থাকতে হলে এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত্বই থাকতো না। কেনোনা সেক্ষেত্রে পরের স্রষ্টা তার আগের স্রষ্টার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তো। যার ফলে কখনোই কিছু সৃষ্টি হতো না। চতুর্থত, বিবর্তনবাদ বা যে কোনো ধর্মের আলোকে যদি পিতা-মাতা খুঁজতে খুঁজতে পেছন দিকে যাওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে যে প্রথম জীবের কোনো পিতা-মাতা নেই। প্রথম জীব যদি কোনো ভাবে একটি ঘড়ি বানাতে সক্ষম হতো তাহলে সেই ঘড়ির কারিগরের কোনো পিতা-মাতা থাকতো না। অতএব, নাস্তিকদের এই যুক্তি একদমই ভুল। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তো বটেই এমনকি বিবর্তনবাদ দৃষ্টিকোণ থেকেও নাস্তিকদের ‘স্রষ্টার পিতা’ যুক্তি কিন্তু সহজেই ধরাশায়ী হচ্ছে। পঞ্চমত, নাস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষই যদি স্বয়ম্ভু (?) হতে পারে তাহলে স্রষ্টার স্বয়ম্ভু হতে সমস্যা কোথায়! অতএব দেখা যাচ্ছে যে, তারা নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে। তাদের যুক্তি দিয়েই তাদেরকে খণ্ডন করা যাচ্ছে – যাকে বলে সেল্ফ্-রেফিউটেড।
যুক্তি-২: একাধিক স্রষ্টা – পৃথিবীতে বিভিন্ন জিনিসের যেহেতু আলাদা-আলাদা কারিগর আছে সেহেতু এই মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক বস্তুগুলোরও আলাদা-আলাদা স্রষ্টা বা কারিগর থাকতে হবে। অতএব, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে কিছু থাকতে পারে না।
যুক্তি খণ্ডন: প্রথমত, এই যুক্তিও নিতান্তই শিশুসুলভ ও হাস্যকর। এই পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষই আছে যারা একই সাথে একাধিক জিনিসের কারিগর; একই সাথে একাধিক খেলায় পারদর্শী; একই সাথে একাধিক ভাষায় পারদর্শী; একই সাথে বিজ্ঞান, সাহিত্য, ও দর্শনে পারদর্শী। আর তা-ই যদি হয়, তাহলে সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের একজন মহান-কারিগরকে মেনে নিতে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। একজন কারিগর সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের জন্য যথেষ্ট হলে একাধিক কারিগর কেনো দরকার সেটা নাস্তিকদেরকেই ব্যাখ্যা করতে হবে। এমনকি অক্কামের রেজর ফর্মুলা দিয়েও নাস্তিকদের ‘একাধিক স্রষ্টা’ যুক্তিকে খণ্ডন করা যায়। সুতরাং এক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে যে, দর্শন শাস্ত্রের একটি ফর্মুলা নাস্তিকদের এই যুক্তিকে সহজেই খণ্ডন করলো। দ্বিতীয়ত, ‘কারিগর’ আর ‘স্রষ্টা’ আসলে এক জিনিস নয়। ‘কারিগর’ বলতে সাধারণত ‘কোনো কিছু’ থেকে ‘অন্য কিছু’ তৈরীকারীকে বুঝানো হয়। যেমন কাঠ থেকে টেবিল-চেয়ার তৈরী। অন্যদিকে ‘স্রষ্টা’ বলতে মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু সৃষ্টিকারীকে বুঝানো হয়। যেমন: শূন্য থেকে প্রাকৃতিক মহাবিশ্ব সৃষ্টি; জড় বস্তু থেকে প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগত সৃষ্টি; ইত্যাদি। তৃতীয়ত, একাধিক স্রষ্টার সম্ভাবনা থাকা মানে তো আর স্রষ্টা নাই হয়ে যাচ্ছে না! নাকি যাচ্ছে? তাহলে বারংবার কেনো এই কু-যুক্তিকে টেনে নিয়ে আসা হয় তা মোটেও বোধগোম্য নহে। চতুর্থত, যারা একাধিক স্রষ্টার সম্ভাবনার কথা বলেন তাদের প্রথমে স্রষ্টার প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করেই তবে বিতর্কে নামা উচিত। কারণ এক্ষেত্রে স্রষ্টার প্রকৃত সংখ্যা এবং তারা একে-অপর থেকে স্বতন্ত্র কি-না – এরকম অনেক জটিল প্রশ্ন চলে আসবে। তাছাড়া কোন স্রষ্টা কী সৃষ্টি করেছেন – সেটাই বা কীভাবে জানা যাবে! এমনকি একাধিক স্রষ্টার ক্ষেত্রে কিন্তু ‘দুর্বল স্রষ্টা’ প্রশ্নও কিন্তু চলে আসবে! পঞ্চমত, ধরা যাক এই মহাবিশ্বের এক হাজার স্রষ্টা ধরে নিয়ে কেউ যুক্তি দিয়ে সবাইকে ‘নাই’ করে দিলেন। তারপর তিনি কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে আর কোনো স্রষ্টা নাই? একাধিক স্রষ্টার ক্ষেত্রে নাস্তিকরাই কিন্তু মহা বিপদে পড়ে যাবেন। কারণ তারা কতগুলো স্রষ্টাকে যুক্তি দিয়ে ‘নাই’ করে দেবেন – সেটা তারা নিজেরাই জানেন না! অতএব ‘একাধিক স্রষ্টা’ একটি অখণ্ডনযোগ্য এবং সেই সাথে অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাস। সর্বোপরি, স্রষ্টার সংখ্যা এখানে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। বরঞ্চ স্রষ্টা আছে কি নেই – সেটাই প্রাথমিক ও মূল বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। কু-তর্কের খ্যাতিরে যদি ধরেও নেয়া হয় যে, এই মহাবিশ্বের সত্যি সত্যি একাধিক স্রষ্টা আছে – সেক্ষেত্রে কি নাস্তিকরা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে রাজি আছেন? উত্তর যদি ‘না’ হয় তাহলে একাধিক স্রষ্টার প্রসঙ্গ নিয়ে আসাটা অযৌক্তিক এবং সেই সাথে বোকামীও বটে!
যুক্তি-৩: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা – বিজ্ঞানীরা যেহেতু এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে বৈজ্ঞানিভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন সেহেতু এই মহাবিশ্বের কোনো স্রষ্টা নাই বা থাকার দরকার নাই।
যুক্তি খণ্ডন: এই ধরণের ‘যুক্তি’ খণ্ডন করতে কারো মাথা ঘামানোর দরকার আছে বলে মনে হয় না। বিজ্ঞানীরা এই মহাবিশ্বকে বৈজ্ঞানিভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছেন কি-না – এই বিষয়টাকে একপাশে রেখেও যেটা বলা যায় সেটা হচ্ছে কোনো একটি মেশিনের কার্যপ্রণালী বৈজ্ঞানিভাবে ব্যাখ্যা করতে পারা মানে এই নয় যে, সেই মেশিনের কোনো নির্মাণকারী নেই! বরঞ্চ একটি মেশিনের কার্যপ্রণালী বৈজ্ঞানিভাবে ব্যাখ্যা করতে পারা মানে প্রমাণ হয় যে সেই মেশিনকে পরিকল্পিতভাবে তৈরী করা হয়েছে। কারণ উদ্দেশ্যহীনভাবে এমনি এমনি তৈরী হয়ে থাকলে সেই মেশিনকে গাণিতিক সূত্র ও বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেত না। এক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের কাছে ধরা!
যুক্তি-৪: The Argument from Evil – (1) Is God willing to prevent evil, but not able? Then he is not omnipotent. (2) Is he able, but not willing? Then he is malevolent. (3) Is he both able and willing? Then whence cometh evil? (4) Is he neither able nor willing? Then why call him God? (Epicurus)
যুক্তি খণ্ডন: প্রথমত, নাস্তিকরা স্রষ্টার বিশেষণগুলো কোথা থেকে পেয়েছেন এবং ‘মন্দ’ বলতে তারা আসলে কী বোঝেন সেটা তাদেরকে আগে ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায় এভাবে ধরে নিয়ে কোনো কিছু প্রমাণ করাকে দর্শন শাস্ত্রে বৃত্তাকার যুক্তি বলে। এমনও তো হতে পারে যে, ভাল ও মন্দ উভয়ই স্রষ্টার সৃষ্টি। সেক্ষেত্রে কিন্তু এই যুক্তির কোনোই মূল্য থাকছে না। অনেকে ভাল ও মন্দ শব্দ দুটিকে আপেক্ষিকও বলে থাকেন। অর্থাৎ ভাল’র অনুপস্থিতিই হচ্ছে মন্দের উপস্থিতি এবং বিপরীতটাও সত্য। উদাহরণস্বরূপ, একটি চাকু যখন সার্জনের হাতে থাকে তখন সেটা ‘ভাল’, অথচ একই চাকু যখন খুনির হাতে থাকে তখন সেটা হয়ে যায় ‘মন্দ।’ ভাল ও মন্দকে যথাক্রমে আলো ও আঁধারের সাথেও তুলনা করা হয়। দ্বিতীয়ত, মন্দের উপস্থিতি যে কীভাবে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অনস্তিত্ব প্রমাণ করে সেটাও তাদেরকেই ব্যাখ্যা করতে হবে। কারণ হরিণের কাছে বাঘ-সিংহ চরম মন্দ হিসেবে বিবেচিত হলেও বাঘ-সিংহের অনস্তিত্ব কিন্তু প্রমাণ হয় না! বরঞ্চ হরিণের কাছেই বাঘ-সিংহের অস্তিত্ব সবচেয়ে বেশী অনুভূত হয়! তৃতীয়ত, “The Argument from Evil” যুক্তির একটি পাল্টা যুক্তিও আছে। যেমন: (1) God does exist; (2) Gratuitous evils are incompatible with God; (3) Therefore, there are no gratuitous evils.
যুক্তি-৫: বুদ্ধিমত্তাশূন্য প্রকৃতি – প্রাকৃতিক বস্তুগুলোর উপর কারো হস্তক্ষেপ বা বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নেই। যেমন মানুষের চোখে যে সাদা স্পট আছে সেটি বুদ্ধিমত্তার চিহ্ণ বহন করে না। এমনকি মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স এরও কোনো কাজ নেই। অতএব, এই মহাবিশ্বের বুদ্ধিমান স্রষ্টা বলেও কিছু থাকতে পারে না।
যুক্তি খণ্ডন: এই ‘যুক্তি’ একই সাথে অবৈজ্ঞানিক ও হাস্যকরও বটে। প্রথমত, বুদ্ধিমত্তার অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য সম্পূর্ণ মহাবিশ্বে বুদ্ধিমত্তার অস্তিত্ব দেখানোর দরকার নেই। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু প্রমাণই যথেষ্ট। তাছাড়া ‘বুদ্ধিমান নকশা’ বললেই যে ‘শতভাগ বিশুদ্ধ নকশা’ হতে হবে, তারও কোনো ধরা-বাধা নিয়ম নেই। এমনকি ‘বিশুদ্ধ’ শব্দের সার্বজনীন কোনো সংজ্ঞাও নেই। দ্বিতীয়ত, ধরা যাক একদল জাপানিজ বিজ্ঞানী নাসা’র একটি ল্যাব ভিজিট করে সেই ল্যাবের মেশিনগুলোর গায়ে বা ভেতরে কিছু সূক্ষ্ম দোষত্রুটি বা স্পট বের করলেন। তার মানে কি প্রমাণ হবে যে, সেই মেশিনগুলোর কোনো নির্মাণকারী নেই? এইটা আবার কেমন যুক্তি হলো!
যুক্তি-৬: অলস স্রষ্টা – বিগ-ব্যাং এর অনেক পর যেহেতু জীব সৃষ্টি হয়েছে সেহেতু স্রষ্টা থেকে থাকলেও সেই স্রষ্টাকে ‘অলস’ বলেই মনে হয়। আর ‘অলস স্রষ্টা’র কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না।
যুক্তি খণ্ডন: প্রথমত, স্রষ্টা প্রকৃতপক্ষে ‘অলস’ কি-না – তাতে আদৌ কিছু আসে যায় না। কারণ ‘অলস’ মানে কোনো কিছুর ‘অনস্তিত্ব’ বুঝায় না! তাদের যুক্তিটা এরকম: (ক) রহিম একজন অলস ছেলে; (খ) সে প্রতিদিন অনেক দেরীতে ক্লাশে যায়; (গ) অতএব, রহিমের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নাই! অথবা: (ক) মিসেস জেনী অলসতার কারণে সত্তর বছর বয়সে প্রথম সন্তান প্রসব করেছেন; (খ) অতএব, মিসেস জেনীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না! দ্বিতীয়ত, স্রষ্টা যদি টাইম-স্পেস থেকে স্বাধীন হয় সেক্ষেত্রে ‘টাইম ইস্যু’ কিন্তু অবান্তর শুনায়।
যুক্তি-৭: স্রষ্টা একটি অতিরিক্ত শব্দ – ফিজিক্যাল ল্য দিয়েই যেখানে সবকিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব সেখানে স্রষ্টা একটি অতিরিক্ত শব্দ। (অক্কামের রেজর ফর্মুলা)
যুক্তি খণ্ডন: জ্বী না! শুধু ফিজিক্যাল ল্য দিয়ে এই মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করা যায় না। এক্ষেত্রে জিলিয়ন জিলিয়ন চান্স ও দৈব ঘটনাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। দিল্লী বহু দূর! তাছাড়া এটিকে বিজ্ঞানের ওজর দিয়ে প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়ারও প্রবণতা বলা হয়। প্রথমত, মানুষের তৈরী সসীম কিছু দিয়ে কোনো ভাবেই অসীমকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, এই যুক্তি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য নয়। তৃতীয়ত, ফিজিক্যাল ল্য-ই বা কোথা থেকে ও কীভাবে এলো সে প্রশ্নে যেতেও তারা ইচ্ছুক নহে। তারা হয়ত মনে করেন সবকিছু আগে থেকেই রান্না-বান্না করা ছিল! তাছাড়া বিজ্ঞানের কোনো সূত্রকে লঙ্ঘন না করে এই মহাবিশ্বকে কোনো ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারলেই স্রষ্টা ‘নাই’ হয়ে যায় না! এটি বরং স্রষ্টা থাকারই সুস্পষ্ট একটি আলামত, যার ব্যাখ্যা উপরে দেয়া হয়েছে। কেনোনা ফিজিক্যাল ল্য দিয়ে দৈব ঘটনা ও উদ্দেশ্যহীন প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। স্রষ্টা থেকে থাকলে তিনিই তো ফিজিক্যাল ল্য থেকে শুরু করে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। ফলে তার সৃষ্ট ল্য দিয়ে তারই সৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করতে পারার মধ্যে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। ব্যাপারটা বরং উল্টো হলেই নাস্তিকদের একটি ‘পয়েন্ট’ থাকতে পারতো। সুতরাং অক্কামের রেজর ফর্মুলা এক্ষেত্রে খাটছে না। অধিকন্তু, ফিজিক্যাল ল্য’র মধ্যে যেহেতু কোনো সচেতনতা নেই সেহেতু ফিজিক্যাল ল্য নিজে কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। অচেতন বস্তু থেকে এমনি এমনি সচেতন কিছু সৃষ্টিও হয় না। অচেতন কোনো বস্তুকে অসীম সময় ধরে ফেলে রাখলেও একমাত্র পাগল ছাড়া সেখানে থেকে রক্ত-হাড়-মাংসের দেহ বিশিষ্ট একটি সিংহ কেউ আশা করবে না! বোবা-কালা-অন্ধ-অচেতন ‘প্রকৃতি’র খোলসে নাস্তিকদের মাথা গোঁজার কারণটা বড়ই রহস্যপূর্ণ। তাছাড়া কেউ যদি বলেন নেচার-ই একটি অতিরিক্ত শব্দ, সেক্ষেত্রেই বা তারা কী জবাব দেবেন। প্রকৃতপক্ষে, অক্কামের রেজর ফর্মুলা অনুযায়ী, এই মহাবিশ্বের একক স্রষ্টাই সবচেয়ে সরল তত্ত্ব। কারণ এক্ষেত্রে জিলিয়ন জিলিয়ন দৈব ঘটনা এবং সেই সাথে বোবা-কালা-অন্ধ-অচেতন ও উদ্দেশ্যহীন প্রক্রিয়াকে বিবেচনায় নিতে হবে না।
যুক্তি-৮: The Argument from Multiverse – বিজ্ঞানীদের অনুমান অনুযায়ী এই মহাবিশ্বের মতো আরো অসংখ্য মহাবিশ্ব থাকতে পারে। অতএব, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা নেই বা থাকার কোনো দরকার নেই।
যুক্তি খণ্ডন: বাহ্! দারুণ যুক্তি তো! মহাবিশ্বের সংখ্যা বেড়ে গেলে স্রষ্টা থাকার দরকার নাই! নাকি বিপরীতটাই সত্য হওয়ার কথা! তাদের যুক্তিটা এরকম: কোনো ল্যাবে একটি মেশিন থাকলে সেটির নির্মাণকারী থাকার দরকার আছে কিন্তু অনেক মেশিন থাকলে সেই মেশিনগুলোর কোনো নির্মাণকারী থাকার দরকার নাই! নাস্তিকদের এই ধরণের ‘জ্ঞানগর্ভ যুক্তি’ শুনে মাদ্রাসার ছাত্ররাও হেসে দেবে।
যুক্তি-৯: বিজ্ঞান ধীরে ধীরে একদিন সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করবেই (Science is working on it… – Richard Dawkins)!
যুক্তি খণ্ডন: সত্যি? যদিও অসম্ভব তথাপি কু-তর্কের খ্যাতিরে ধরেই নেয়া যাক যে কথাটি সত্য। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, যারা এমন আবেগী যুক্তি দেন তারা তো আর সেই সময় বেঁচে থাকবেন না! নাস্তিকদের ‘প্রকৃতি’ বড়ই বেরসিক! ফলে তারা কীভাবে জানবেন যে বিজ্ঞান একদিন সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করেছে? বিজ্ঞান যদি ব্যর্থ হয় তাহলে কী হবে! এমনও তো হতে পারে যে, বিজ্ঞানই একদিন স্রষ্টাকে আবিষ্কার করে ফেলেছে! তাহলে? আর বিজ্ঞান না থাকলে নাস্তিকরা কী বলতেন! অতএব, নাস্তিকরা কিন্তু অযৌক্তিক ও অন্ধ বিশ্বাস নিয়েই পৃথিবীর বুক থেকে ‘চিরতরে’ বিদায় নিচ্ছেন!
স্রষ্টার প্রসঙ্গ এলে প্রফেসর ডকিন্স প্রায়ই বলেন, “Science is working on it!” কিন্তু বিজ্ঞানীরা কোথায় স্রষ্টার অনস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য কাজ করছেন সেটা কখনোই বলেন না! বিজ্ঞানের নামে অসচেতন লোকজনের মস্তক ধোলাই করার কৌশল আরকি। প্রফেসর ডকিন্স কি বলতে চান যে, বিজ্ঞানীরা একদিন ল্যাব থেকে হঠাৎ করে বের হয়ে এসে ইউরেকা ইউরেকা করে বলবেন, “এই দেখো! বলেছিলাম না! এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে কিছু নাই!” তাই কি? যাহোক, নাস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী বিজ্ঞান একদিন সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করবেই, যদিও বিজ্ঞান যে কবে ও কীভাবে স্রষ্টার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করবে সেটা তারা জানেন না! তার মানে এটি তাদের একটি অন্ধ বিশ্বাস।
যুক্তি-১০: এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা থেকে থাকলে সুনামি ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে কেনো?
জবাব: প্রথমত, নাস্তিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করার কে! তারাই বা মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা করতে পারছেন না কেনো! তাদেরই বা নিশ্চয়তা কোথায়! যে কোনো মুহূর্তে তারাও তো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতে পারেন! দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য তো নাস্তিকদের ‘প্রকৃতি গড’ দায়ী হওয়ার কথা! তারা তাদের গডকে দায়ী না করে অন্যান্য গডের উপর দোষ চাপিয়ে দেয় কেন? এ আবার কেমন ভণ্ডামী! তৃতীয়ত, পার্থিব জগৎ থেকে এই প্রশ্নের উত্তর জানা সম্ভব নয়। জগৎ পরিবর্তন করে একবার চেষ্টা করেই দেখুন না! সে সাহস আছে কি? চতুর্থত, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ মারা যাওয়া মানে কোনো ভাবেই প্রমাণ হয় না যে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা নাই। বরঞ্চ বিপরীতটাই সত্য হওয়ার কথা।
যুক্তি-১১: আমরা হোরাস, ওসিরিস, যেউস, থর, মিথরা, ভূত, ঘোড়ার ডিম, হাতির ডিম, পঙ্খিরার ঘোড়া, রামগরুদের ছানা, হাতুড়ী দেবতা, বাটালী দেবতা, জেহোভা, জিসাস, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, রাম, কৃষ্ণ, গনেশ, রাবণ, কালী, দূর্গা, মন্থরা, ঈশ্বর, ভগবান, আল্লাহ, ইউনিকর্ন, ইত্যাদি গডের মধ্যে কোনোই পার্থক্য করি না। আমাদের কাছে এগুলো সবই মিথ। আমরা এগুলোর কোনোটারই অনস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবো না! আস্তিকরাও এদের মধ্যে কারো অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবে না! অতএব, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা বলে কিছু নাই বা থাকতে পারে না। (This has been an oft-repeated ‘Argument’ of Richard Dawkins!)
জবাব: পাঠকদের বিনোদনের জন্য আপাতত এই ঘর খালি রাখা হলো! তবে এই সুযোগে আপনারা গুগল সার্চ দিয়ে হোরাস, ওসিরিস, যেউস, মিথরা, ভূত, জিসাস, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, রাম, কৃষ্ণ, গনেশ, রাবণ, কালী, দূর্গা, ইউনিকর্ন, ইত্যাদি গডের অস্তিত্ব স্বচক্ষে দেখে নিতে পারেন। নাস্তিকদের দাবি অনুযায়ী এই সকল গডের স্বপক্ষে নাকি কোনোই প্রমাণ নাই! সারারাত ধরে রামায়ণ পড়ে সকালবেলা জিগায় সীতা কার দাদা!
যুক্তি-১২: এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বপক্ষে সামান্যতমও কোনো প্রমাণ নাই! আর প্রমাণ ছাড়া এই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে কোনো কিছুতে কি বিশ্বাস করা যায়?
যুক্তি খণ্ডন: আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে এই পৃথিবীর সবাই এক-বাক্যে স্বীকার করবেন যে, কোনো কিছুকে স্বচক্ষে দেখার চেয়ে বড় প্রমাণ আর দ্বিতীয়টি নেই। আর তা-ই যদি হয় তাহলে নাস্তিকদের একদম চোখের সামনে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও তার বিস্তারিত ঠিকানা সহ হাজির করা হচ্ছে। এখানে আর এইখানে থেকে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টাকে স্বচক্ষে দেখুন। খুব ভাল করে দেখুন। এই মহাবিশ্বের স্রষ্টাকে নাস্তিকদের চোখের সামনে হাজির করেই তবে বিশ্বাস করার কথা বলা হচ্ছে। একদম চাক্ষুস প্রমাণ। অথচ নাস্তিকরা নাকি সারা দুনিয়া খুঁজে সামান্যতমও কোনো প্রমাণ পায়নি! ব্যাপারটাকে বেশ রহস্যপূর্ণ বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে স্বচক্ষে দেখেও তারা এই গডে বিশ্বাস করে না কেনো? একদম স্বচক্ষে দেখে ও বিস্তারিত জেনেও যদি তারা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে না পারে তাহলে তারা আবার নতুন করে কী প্রমাণ চায়! তারা প্রতিনিয়ত ‘প্রমাণ নাই’ ‘প্রমাণ নাই’ বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করে নিজেদেরকে যুক্তিবাদী, সংশয়বাদী, বিজ্ঞানমনষ্ক, ইত্যাদি হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন কেনো? তারা কি আদৌ স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে ইচ্ছুক? চাক্ষুস প্রমাণ দেয়া সত্ত্বেও মেনে না নেয়া মানে তো স্রেফ গোঁয়ারগোবিন্দপনা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। এই প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক জবাব তারা দিতে পারবেন কি-না?
বিজ্ঞান প্রকৃতপক্ষে নাস্তিকতা নাকি আস্তিকতার পক্ষে থাকবে?
আস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী একজন মহান স্রষ্টা যেহেতু এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বের সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন – সেহেতু বিজ্ঞান যা কিছুই আবিষ্কার করুক না কেনো সেটা কোনো ভাবেই আস্তিকতার বিরুদ্ধে যাবে না। বরঞ্চ যত বেশি নতুন নতুন আবিষ্কার হবে, আস্তিকরা ততই খুশী হবে। তার কারণ হচ্ছে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার যত বেশি হবে সেটা তত বেশি স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রতিই দিক নির্দেশ করবে, অনস্তিত্বের দিকে নয়। ফলে প্রত্যেকটি বিস্ময়কর আবিষ্কার স্রষ্টার অস্তিত্বের সাগরে একেকটি মূল্যবান বিন্দু। কেনোনা এই মহাবিশ্বে তথ্যের পরিমাণ যত বেশি হবে, সেটা তত বেশি একজন স্বজ্ঞাত সত্তার প্রতিই দিক নির্দেশ করবে, অকস্মিক ঘটনার দিকে নয়!
অপরদিকে বিজ্ঞানের ভয়ে নাস্তিকদেরকেই সব সময় চাপের মুখে থাকতে হবে। কারণ আজ যেটা তারা বিশ্বাস করে আগামীকাল সেটা ভুল প্রমাণও হতে পারে। যেমন বিগ-ব্যাং তত্ত্ব ইতোমধ্যে তাদের ‘চিরস্থায়ী মহাবিশ্ব’র বিশ্বাসকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বিবর্তন তত্ত্ব কোনো ভাবেই স্রষ্টার অনস্তিত্ব প্রমাণ করে না তথাপি বিজ্ঞান কিন্তু এই তত্ত্বকেও ধীরে ধীরে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। সুতরাং বিজ্ঞান বারংবার নাস্তিকদের বিশ্বাসের ছিদ্রই পূরণ করবে, আস্তিকদের বিশ্বাসের ছিদ্র নয়। আস্তিকদের বিশ্বাসের মধ্যে যেহেতু কোনো ছিদ্রই নেই সেহেতু ছিদ্র পূরণ করার প্রশ্নই তো অবান্তর! ছিদ্র থাকলেই না কেবল ছিদ্র পূরণ করার প্রশ্ন আসবে! ফলে আস্তিকদের উদ্দেশ্যে নাস্তিকদের সমালোচনামূলক বা হাস্যকর ‘God in gaps’ ফ্রেজটা একদমই অর্থহীন। বরঞ্চ নাস্তিকদের উদ্দেশ্যে আস্তিকরা নতুন করে ‘Chance and accident in gaps’ ফ্রেজ চালু করতে পারে।
নাস্তিকতার ভিত্তি বা রেফারেন্স বলে কিছু নেই এবং থাকার কথাও নয় – যেটি আসলে অবৈজ্ঞানিক। আস্তিকদের সামনে যেখানে পুরো মহাবিশ্ব আছে সেখানে নাস্তিকদের সামনে একটিই ‘যুক্তি’ আছে, আর সেটি হচ্ছে ‘মানি না’ বা ‘বিশ্বাস করি না।’ প্রাণীজগত ও উদ্ভিদজগত সহ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা থাকাটাই অত্যন্ত স্বাভাবিক। যারা ‘নাই’ বলেন তারাই আসলে অন্ধ বিশ্বাসী। নাস্তিকদের চিন্তাভাবনার পরিসীমাও অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাদের জগৎ মোটামুটি পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ঘুরপাক খায়। এই ‘পঞ্চাশ বছর’ পরিসীমার বাইরে তারা কিছু ভাবতেই পারে না!
পড়ুন: স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বপক্ষে তিনটি স্বতন্ত্র প্রমাণ
২|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৭
এ.জে. মিন্টু বলেছেন: সবকিছুরই যে পিতা-মাতা বা সৃষ্টিকর্তা থাকতেই হবে এই ধরণের উদ্ভট কথা কে বলেছে!
সেটাই। বিশ্বজগত বা মানুষের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশ্বজগত বা মানবজাতির সৃস্টিকর্তা বলে কিছু থাকতেই হবে এমন কোন কথা নেই। আবারো গভীর সহমত।
৩|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪৪
প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আল্লায় আপনেরে বেহেস্তে একটা বাগান দেউক আর সেই বাগানের কাঠাল পাতা খাওনের মত একটা খাসি দেউক।
৪|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৪
আলমগীর কুমকুম বলেছেন: প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আল্লায় আপনেরে বেহেস্তে একটা বাগান দেউক আর সেই বাগানের কাঠাল পাতা খাওনের মত একটা খাসি দেউক।
৫|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৯
নতুন বলেছেন: আস্তিক নাস্তিক প্যাচালের লাইগা মাইনাস.........
৬|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৮
ভাবুক ০৯ বলেছেন: আস্তিকতা ও নাস্তিকতার সমাধানই মূল কথা নয়। এরপরেও থাকে পৃথিবীতে প্রচলিত অসংখ্য ধর্মের কথা। আপনি মুলসমান। আপনার কাছে ইসলামই সেরা। কিন্তু যিনি অন্য ধর্মাবলম্বী তার কাছে তার ধর্মই সেরা। তাহলেতো শুধু আস্তিক হওয়াই শেষ সমাধান নয়। ধরুন যে লোক কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয়, আবার কোন পাপ কাজও করে না। তার ব্যাপারে পরকালে কী ফয়সালা নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫২
এস. এম. রায়হান বলেছেন: হ্যাঁ, আপনি যে ধর্মে বিশ্বাস করেন সেই ধর্মকে সেরা মনে না করলে তো সেই ধর্মে বিশ্বাসই রাখতে পারবেন না! তাই নয় কি? কিন্তু তাতে কোন সমস্যা নেই। আপনি নিদেনপক্ষে কোন একটি ধর্মে বিশ্বাস করেন কি-না সেটা আগে ভেবে দেখুন।
ধর্মে বিশ্বাসী নয়, আবার কোন পাপ কাজও করে না, এরকম একজন লোকের নাম বলুন। আর সেরকম লোকের ব্যাপারে পরকালে কী ফয়সালা নির্ধারিত হওয়া উচিত সেটা না হয় এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার উপরই ছেড়ে দেয়া যাক। এর চেয়ে যৌক্তিক কোন সমাধান আপনার হাতে আছে বলে কি মনে করেন?
৭|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৩
বৃত্তবন্দী বলেছেন: আলমগীর কুমকুম বলেছেন: প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আল্লায় আপনেরে বেহেস্তে একটা বাগান দেউক আর সেই বাগানের কাঠাল পাতা খাওনের মত একটা খাসি দেউক।
৮|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২৮
অরণ্যদেব বলেছেন: বৃত্তবন্দী বলেছেন: আলমগীর কুমকুম বলেছেন: প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আল্লায় আপনেরে বেহেস্তে একটা বাগান দেউক আর সেই বাগানের কাঠাল পাতা খাওনের মত একটা খাসি দেউক।
৯|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩২
বক্ররেখা বলেছেন: অরণ্যদেব বলেছেন: বৃত্তবন্দী বলেছেন: আলমগীর কুমকুম বলেছেন: প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আল্লায় আপনেরে বেহেস্তে একটা বাগান দেউক আর সেই বাগানের কাঠাল পাতা খাওনের মত একটা খাসি দেউক।
এবং আপনার ইহকাল ও পরকাল হউক কাঠাল পাতাময়। আমিন।
১০|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩৭
কানা বাবা বলেছেন:
কপি-পেস্ট হৈলে টিকাচে... মাগার তা না হৈলে আপ্নেল্লিগা করুণা হৈতেচে...
মাইনাস্...
১১|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৬
কুচ্ছিত হাঁসের ছানা বলেছেন: ধরুন যে লোক কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয়, আবার কোন পাপ কাজও করে না। তার ব্যাপারে পরকালে কী ফয়সালা নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
*****************
একান্ত ব্যক্তিগত অভিমতঃ
পাপ কাজ বলতে কি বোঝানো হচ্ছে সেটা দেখতে হবে। ইসলাম ধর্মানুসারে নামায না পড়াও কিন্তু পাপ। সুতরাং , কেউ ধর্মে বিশ্বাসী না হলে সে নামায ও পড়বে না, সুতরাং সে পাপ করছে। এই জন্য পরকালে তার কর্মানুসারে নামায না পড়ার জন্য শাস্তি পেতে হবে।
আলেমরা ভাল বলতে পারবেন।
১২|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৮
লুথা বলেছেন:
নাস্তিক দের জন্য শুধুমাত্র করূনা রইলো...
১৩|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০০
অরণ্যচারী বলেছেন: আমি তো মনে করছিলাম সামনে রমজানের ঈদ, এখন তো মনে হইতেছে কুরাবানীর ঈদ।
১৪|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০১
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: ভাইরে..........এত কষ্ট কইরা পোস্ট দিয়া লাভ নাই..............
সামুর মহা পন্ডিতেরা আপনারে মাইনাস ই দিব...........
ইহাই হাল জমানার ফ্যাশন......
সামু ইহার লগে তাল মিলাইবনা তা কেমনে হয়।
১৫|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০২
অরণ্যচারী বলেছেন: বক্ররেখা বলেছেন: অরণ্যদেব বলেছেন: বৃত্তবন্দী বলেছেন: আলমগীর কুমকুম বলেছেন: প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আল্লায় আপনেরে বেহেস্তে একটা বাগান দেউক আর সেই বাগানের কাঠাল পাতা খাওনের মত একটা খাসি দেউক।
এবং আপনার ইহকাল ও পরকাল হউক কাঠাল পাতাময়। আমিন।
১৬|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৫
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: ধরুন যে লোক কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয়, আবার কোন পাপ কাজও করে না। তার ব্যাপারে পরকালে কী ফয়সালা নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন
এইরকম মহাপুরুষের সন্ধান পাইলে কইয়েন....................একজন.....মাত্র একজন
১৭|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৪
এস. এম. রায়হান বলেছেন: লুথা বলেছেন: নাস্তিক দের জন্য শুধুমাত্র করূনা রইলো...
ওদেরকে কাঁঠালপাতা আর তালগাছ অনেক আগেই দিয়া দিছি! এখন কাঁঠালপাতা চিবাতে চিবাতে মাইনাস দিতে থাক... কাঁঠালপাতা চিবানো ছাড়া তারা তো আর কিছু বোঝে না!
১৮|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২০
ফুয়াদ০দিনহীন বলেছেন: মুক্তমনায়, একজন কোন কথা নাই , বার্তা নাই । সবার কথায় সহমত দিয়ে বেড়াইতছে । আবার, একজনের কথা আরেক জনের কথা থেকে ভিন্ন । তবুও সহমত দিতাছে । বুঝতে বাকি নাই , এই ধরনের পাগল আপনার লেখায় - দিতাছে । এরা কঠিন তত্ত বুঝে দাবী করে, কিন্তু কি বুঝে কিছুই জানে না ।
এসব মানবতা বিরোধী , ন্যায় বিচার বিরোধী, সত্য বিরোধী ব্যক্তি দের, আবার ক্লাস অয়ানে ভর্তি করানো উচিৎ ।
যাইহোক, নুতুন সুন্দর লেখার জন্য আবারো ধন্যবাদ । +++++++++++++++++++++++++
১৯|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:০৭
উদ্ভ্রান্ত পথিক বলেছেন: ভাই আমি মূর্খ মানুষ বুঝি কম!
নিচের লেখাটা একটা লিঙ্কে পাইছিলাম। আপনের উত্তর জানতে পারলে খুশি হতাম।
http://www.sachalayatan.com/avijit/15356
২০|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩১
ভাবুক ০৯ বলেছেন: ভাইজান, পোস্ট দিয়ে হাওয়া হয়ে গেলেন। আমাদের জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব দিন!
২১|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৮
সাদী বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট।++++++++++++++++++++++++++++
যারা বলদ মার্কা প্রশ্ন করে তাদের প্রশ্নের উত্তর না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ...
২২|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭
এস. এম. রায়হান বলেছেন: সাদী বলেছেন: যারা বলদ মার্কা প্রশ্ন করে তাদের প্রশ্নের উত্তর না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ...
২৩|
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৫২
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন............
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৭
এস. এম. রায়হান বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
২৪|
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০৮
নরাধম বলেছেন:
আপনার ধৈর্য্য দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। অসংখ্য পিলাস। আপনার অনেক পোস্টের ছোট ছোট কিছু পয়েন্টের সাথে কিছুটা দ্বিমত থাকলেও ওভারল পোস্টগুলো ভাল লেগেছে, তাছাড়া যেখানে উজবুকরা নাস্তিকতাকে স্মার্টনস মনে করে সেখানে আপনার ক্রমাগত প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। উজবুকরা মাইনাস দিলেও মাথা ঘামবেননা, চালিয়ে যান।
"When it is said to them: "Believe as the others believe" they say: "Shall we believe as the fools believe?" Nay, of a surety they are the fools, buy they do not know."
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:২০
এস. এম. রায়হান বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। নাস্তিকতা আসলে স্মার্টনেস নয়, ফুলিশনেস। আমি আমার লেখা নিয়মিত আপডেট বা এডিট করি। খুবই ভাল হতো যদি যে পয়েন্টগুলোতে দ্বিমত করেন সেগুলোকে সংক্ষেপে জানাতেন।
২৫|
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩১
ভাবুক ০৯ বলেছেন: আপনি শুধু তাদের মন্তব্যেরই উত্তর দেন যারা আপনার প্রশংসা করে। সুতরাং যে পয়েন্টগুলোতে দ্বিমত থাকে সেগুলো বলে আর লাভ কী?
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এস. এম. রায়হান বলেছেন: অজানা কারণে আপনার প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়নি। উপরে দেখুন।
২৬|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৫
ভাবুক ০৯ বলেছেন: ধর্মে বিশ্বাস করে, আবার পাপ কাজও করে, এমন লোকের সংখ্যাই বেশী। ধর্মে বিশ্বাস করে না, আবার পাপ কাজও করে না, এমন লোক বলতে আমি তাদের বুঝিয়েছি, যারা ধর্মে বিশ্বাস করে না, আবার উল্লেখযোগ্য কোন পাপ কাজও করে না, অন্ততঃ ধর্ম বিশ্বাস করেও যারা পাপ কাজ করে, তাদের থেকে কম পাপ করে, তারা কি পরকালে মুক্তি পাবে?
অথবা, যারা মুসলিম নয়, কিন্তু ভাল কাজ করে, যেমন ধরুন মাদার তেরেসা এমন লোকদের ব্যাপারে ইসলাম ধর্মের বিধানতো এই যে, তারা চির জাহান্নামী। কিন্তু এদেরকে চিরকাল জাহান্নামী করার কারণ কী? সৃষ্টিকর্তা থাকা স্বত্ত্বেও কারো কারো কাছে তাঁর অস্তিত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হলে এ জন্য তাকে শাস্তি না দিয়ে সে যে সকল কাজ করে তার ভিত্তিতে শাস্তি বা পুরস্কার নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত, নাকি্ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস না করলেই তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে, সেটা যুক্তিযুক্ত?
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৬
এস. এম. রায়হান বলেছেন: প্রথমত, আপনি কি 'পাপ' এর সংজ্ঞা দিতে পারবেন। কোন্ ধরণের কাজ পাপ আর কোন্ ধরণের কাজ পাপ নয় সেটা আপনি কীভাবে জানবেন যদি কোন ধর্মে বিশ্বাস না করেন? আপনার কাছে যেটা পাপ সেটা অন্য কারো কাছে পাপ নাও হতে পারে, তাই নয় কি?
দ্বিতীয়ত, মুসলিমরা এই মহাবিশ্বের এমন একজন মহান স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে যিনি কারো প্রতি সামান্যতমও অবিচার করবেন না। কোরানে এ বিষয়ে অনেক আয়াত আছে। ফলে মৃত্যুর পর কার কী হবে সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোটা বোকামি নয় কি?
তৃতীয়ত, ইসলামে সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। ফলে ইসলামে মাদার তেরেসার স্পেশাল কোন স্থান নেই। তাছাড়া মাদার তেরেসা যে কোন পাপ করেননি সেটা আপনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন? আপনি নিজেকে নিয়ে না ভেবে মাদার তেরেসাকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন কেন। নিজের কী হতে পারে সেটা আগে ভেবে দেখেছেন কি?
চতুর্থত, ইসলাম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান শোনা কথার উপর ভিত্তি করে। কোরানে একই সাথে বিশ্বাস ও ভাল কাজকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই দুটির কোন একটি ছাড়া কেউ সরাসরি জান্নাতে যেতে পারবে না। ফলে মুসলিম হয়েও কেউ পাপ কাজ করলে সেই পাপের জন্য তার আগে শাস্তি হবে। তারপর হয়ত জান্নাতে যেতে পারে। অনুরূপভাবে, অমুসলিম যারা সত্যি সত্যি ভাল কাজ করেছে এবং তেমন কোন পাপ করেনি তারাও একসময় জান্নাতে যেতে পারে। তবে জেনে-শুনে ইসলামে অবিশ্বাসী হলে অবিশ্বাসের জন্য আগে শাস্তি পেতে হতে পারে। তবে যাহাই হোক না কেন, এ বিষয়ে আমাদেরকে মোটেও মাথা ঘামাতে হবে না। কারণ এটি স্রষ্টার ব্যাপার।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৪১
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আচ্ছা বলুন তো, জুদাইজম, হিন্দুইজম, ও বুদ্ধিজম অনুযায়ী মাদার তেরেসার কী হবে? কারণ মাদার তেরেসা তো এই সকল ধর্মেও বিশ্বাস করতেন না। অনুরূপভাবে, আপনি যে সকল ধর্মে বিশ্বাস করেন না সেই সকল ধর্ম অনুযায়ী আপনার কী হবে? জুদাইজম ও খ্রিস্টানিটি অনুযায়ী মহাত্মা গান্ধির কী হবে? আর আমারই বা কী হবে!
২৭|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪১
ভাবুক ০৯ বলেছেন: ইসলাম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান শোনা কথার উপর ভিত্তি করে - আপনি এটা কীভাবে নিশ্চিত হলেন? এ ধরণের মন্তব্য করা কি ঠিক। আপনি কি মনে করেন, ইসলামের ওপর আপনার ব্যাপক পড়া-শোনা আছে, আর আমি কিছুই স্টাডি করি না?
অমুসলিম যারা সত্যি সত্যি ভাল কাজ করেছে এবং তেমন কোন পাপ করেনি তারাও একসময় জান্নাতে যেতে পারে - এ কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? কোন রেফারেন্স দিতে পারবেন? নাকি শুধুই আপনার ধারণা? ধারণা দিয়ে কি এ ধরণের কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসা উচিত?
ইসলাম ধর্মের সিদ্ধান্ত এটাই যে, কোরান অবতীর্ণের পরও যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করবে না, তারা যত ভাল কাজই করা হোক, তারা কখনোই বেহেস্তে যেতে পারবে না। তাহলে ইসলাম ধর্ম শুধু আস্তিক হওয়াই যথেষ্ট মনে করে না। পৃথিবীর অসংখ্য ধর্মাবলম্বীরাই আস্তিক। কিন্তু ইসলাম তাদেরকে মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস দেয় না। আবার এমন ধর্মও আছে, যারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। যেমন, বৌদ্ধরা। কিন্তু তারাও ভাল কাজ করে এবং ভাল কাজ করার কথা বলে। পাপ কাজ থেকে দুরে থাকার কথা বলে।
আপনি বলেছেন, পাপ বলতে আমি কি বুঝি? প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর সকল ধর্মই কমন কিছু খারাপ কাজকে পাপ বলে সংজ্ঞায়িত করে। তাছাড়া ধর্মে বিশ্বাস না থাকলেও মানুষ জেনেটিকেলি কিছু কাজকে মন্দ বলে জানে। যেমন, চুরি করা, মিথ্যা কথা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা বা অন্যকে কষ্ট দেয়া ইত্যাদি। কিন্তু ধর্মীয় সংজ্ঞা মতে পাপের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত। যেমন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী নামায না পড়াও পাপ। কিন্তু অন্য ধর্ম সে কথা বলে না। সকল ধর্ম অথবা বিবেক যেগুলোকে পাপ বলে, সে পাপগুলো থেকে বিরত থাকার পরও শুধু বিশ্বাসগত কারণে অনন্তকাল ধরে শাস্তি পেতে হবে কেন? বিশ্বাসতো কেউ করতে পারে, কেউ না করতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। অথবা বিশ্বাসে ভিন্নতা/ভুল থাকতে পারে। সুতরাং বিশ্বাস যাই হোক তার কর্মের ওপর ভিত্তি করে তাকে শাস্তি বা পুরস্কার দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত নয়?
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪১
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আপনি কিন্তু আমার কোন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন না। যেমন আপনি কোন্ ধর্মে বিশ্বাস করেন। আপনার ধর্ম অনুযায়ী নাস্তিক ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কী হবে। মাদার তেরেসা ও গান্ধির কী হবে। আমারই বা কী হবে! ইত্যাদি।
ইসলাম সম্পর্কে আমি নিজে থেকে বা অনুমানের উপর কিছু বলি না। আগেই বলেছি, কোরানে একই সাথে বিশ্বাস ও ভাল কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দুটির কোন একটি ছাড়া কেউ সরাসরি জান্নাতে যেতে পারবে না। দেখুন : ১০৩:১-৩, ৪:১২২, ৮৫:১১, ১৮:১০৭, ১৯:৬১, ৩২:১৯, ২৯:৯, ২:১১২, ২:১৭৭, ইত্যাদি।
>>ইসলাম ধর্মের সিদ্ধান্ত এটাই যে, কোরান অবতীর্ণের পরও যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করবে না, তারা যত ভাল কাজই করা হোক, তারা কখনোই বেহেস্তে যেতে পারবে না।
আপনি এই কথা কোথা থেকে পেলেন। কোরান থেকে প্রমাণ দেখাতে পারবেন?
>>তাহলে ইসলাম ধর্ম শুধু আস্তিক হওয়াই যথেষ্ট মনে করে না। পৃথিবীর অসংখ্য ধর্মাবলম্বীরাই আস্তিক। কিন্তু ইসলাম তাদেরকে মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস দেয় না।
হ্যাঁ, ইসলাম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান মূলতঃ শোনা কথার উপর ভিত্তি করে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে কোরান কী বলে দেখুন : ২:৬২, ৫:৬৯, ২২:১৭।
>>আবার এমন ধর্মও আছে, যারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। যেমন, বৌদ্ধরা। কিন্তু তারাও ভাল কাজ করে এবং ভাল কাজ করার কথা বলে। পাপ কাজ থেকে দুরে থাকার কথা বলে।
যদিও আমি জানতাম তথাপি আপনি নিজেই বলেছেন যে, বৌদ্ধরা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। তা-ই যদি হয় তাহলে নিম্নের প্রশ্নগুলোর জবাব দেন :
বুদ্ধিজমে গৌতম বুদ্ধ ও হিটলারের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি-না। যদি থেকে থাকে তাহলে কে ও কীভাবে তাদের মধ্যে পার্থক্য করবে! খুনি, ধর্ষক, চোর-ডাকাত, যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসী, ও অন্যান্য অপরাধী যারা ইতোমধ্যে মারা গেছে তাদের বিচার ও তদনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা কে ও কীভাবে করবে! আর তাদের হাতে যারা বলি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরই বা কী হবে! তারা কি কখনোই ন্যায়বিচার পাবে না! কে এবং কীভাবে তাদের ন্যায়বিচার করবে? বুদ্ধিজমে সবকিছুকে বোবা-কালা-অন্ধ প্রকৃতির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বোবা-কালা-অন্ধ প্রকৃতি তো ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম! ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম! সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম! নৈতিকতা ও অনৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম! বোবা-কালা-অন্ধ প্রকৃতি কীভাবে গৌতম বুদ্ধ ও হিটলারের মধ্যে পার্থক্য করবে!
>>আপনি বলেছেন, পাপ বলতে আমি কি বুঝি? প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর সকল ধর্মই কমন কিছু খারাপ কাজকে পাপ বলে সংজ্ঞায়িত করে।
আপনার ধর্ম থেকে যদি কিছু উদাহরণ দিতেন।
>>তাছাড়া ধর্মে বিশ্বাস না থাকলেও মানুষ জেনেটিকেলি কিছু কাজকে মন্দ বলে জানে। যেমন, চুরি করা, মিথ্যা কথা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা বা অন্যকে কষ্ট দেয়া ইত্যাদি।
এটি অপ্রমাণিত একটি বক্তব্য। কারণ স্রষ্টা না থাকলে জেনেটিকেলি ভাল বা মন্দ বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকার কথা না। আফ্রিক্যান কিছু ট্রাইবদের কাছে মানুষের মাংস খাওয়া অন্যায় নয়। এটিও কি তাহলে জেনেটিক্যাল ব্যাপার?
>>কিন্তু ধর্মীয় সংজ্ঞা মতে পাপের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত। যেমন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী নামায না পড়াও পাপ। কিন্তু অন্য ধর্ম সে কথা বলে না।
অন্যান্য ধর্ম যে সে কথা বলে না সেটা আপনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন?
>>সকল ধর্ম অথবা বিবেক যেগুলোকে পাপ বলে, সে পাপগুলো থেকে বিরত থাকার পরও শুধু বিশ্বাসগত কারণে অনন্তকাল ধরে শাস্তি পেতে হবে কেন?
উপরের জবাব দ্রষ্টব্য।
>>বিশ্বাসতো কেউ করতে পারে, কেউ না করতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। অথবা বিশ্বাসে ভিন্নতা/ভুল থাকতে পারে। সুতরাং বিশ্বাস যাই হোক তার কর্মের ওপর ভিত্তি করে তাকে শাস্তি বা পুরস্কার দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত নয়?
আপনি প্রমাণ সহ অন্ততঃ একটি ধর্মের নাম বলুন যে ধর্মে আস্তিক-নাস্তিক ও বিধর্মী নির্বিশেষে শুধুই কর্মের উপর ভিত্তি করে শাস্তি বা পুরস্কার দেওয়া হবে। তারপর আমার কিছু বলার থাকলে বলতে পারি।
২৮|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৫
ভাবুক ০৯ বলেছেন: অনেক লম্বা বক্তব্য হয়ে গেছে। পয়েন্ট ধরে জবাব দেয়ার সময় নাই। কোরানে বলা হয়েছে, ইন্নাদ্দিনা ইনদাল্লাহিল ইসলাম। ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্ম এ আয়াত দ্বারা বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং যিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করবেন না, ইসলামের পরিভাষায় তিনি কাফির। আর কাফির চির জাহান্নামী। আপনি যদি বলেন, কাফিররাও বেহেস্তে যাবে, তাহলে কে যাবে, কেন যাবে, কোন দলীলের দ্বারা যাবে বলে প্রমাণিত হয় এ সব তথ্য দিন। আর যদি আপনিও স্বীকার করেন যে, কোন কাফির কখনো বেহেস্তে যাবে না, তাহলে,
(>>ইসলাম ধর্মের সিদ্ধান্ত এটাই যে, কোরান অবতীর্ণের পরও যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করবে না, তারা যত ভাল কাজই করুক, তারা কখনোই বেহেস্তে যেতে পারবে না।
আপনি এই কথা কোথা থেকে পেলেন। কোরান থেকে প্রমাণ দেখাতে পারবেন?) - আপনি এ কথা কেন বললেন?
কোরানে বলা হয়েছে, নিশ্চয় যারা অস্বীকার করে এবং আমার আয়াতসমূহকে (তথা কোরানকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
ইসলামী পন্ডিতগণ বলেন, মুসলমান না হয়ে হাজারো ভাল কাজ করলে, সেটা হবে এমন একটি সংখ্যার মত যার সবগুলো অংকই শুণ্য। সুতরাং এর ফলাফলও শূণ্য্। সেমতে হিটলার ও মাদার তেরেসার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আর যদি আপনি মনে করেন পার্থক্য আছে, তাহলে কী পার্থক্য আছে এবং তার দলীল কী স্পষ্টভাবে বলুন।
আপনি বলেছেন, (খুনি, ধর্ষক, চোর-ডাকাত, যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসী, ও অন্যান্য অপরাধী যারা ইতোমধ্যে মারা গেছে তাদের বিচার ও তদনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা কে ও কীভাবে করবে! আর তাদের হাতে যারা বলি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরই বা কী হবে! তারা কি কখনোই ন্যায়বিচার পাবে না!) - আমি বলি, তাহলে যারা পৃথিবীতে অনেক ভাল কাজ করে গেছেন, কিন্তু কাফির ছিলেন, তাদের সেসব ভাল কাজের শাস্তি কে দেবে?
যদি বলেন, তাদেরকেও পরকালে তাদের ভাল কাজের পুরস্কার দেয়া হবে, তাহলে বলুন, কী সে পুরস্কার এবং তার দলীল কী?
ভাল থাকবেন।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫১
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আপনি কিন্তু আবারো আমার প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন। আপনি নিজের বিশ্বাসকে লুকিয়ে রেখে ইসলামকে অযৌক্তিক বা অমানবিক প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যেটি আসলে কখনোই সম্ভব নয়। অন্যদিকে আপনি হয়ত বুঝে গেছেন যে আপনার বিশ্বাসই আসলে অযৌক্তিক ও অমানবিক।
যাহোক, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কোনভাবেই বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন না যে, মুসলিমরা এই মহাবিশ্বের এমন একজন মহান স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে যিনি কারো প্রতি সামান্যতমও অবিচার করবেন না। কোরানে এ বিষয়ে অনেক আয়াত আছে। ফলে মৃত্যুর পর কার কী হবে সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোটা বোকামি নয় কি? আপনি কি স্রষ্টার বিচারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন?
>>কোরানে বলা হয়েছে, ইন্নাদ্দিনা ইনদাল্লাহিল ইসলাম। ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্ম এ আয়াত দ্বারা বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং যিনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করবেন না, ইসলামের পরিভাষায় তিনি কাফির। আর কাফির চির জাহান্নামী।
প্রথমত, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে অমুসলিম মানেই কাফের নয়। কাফের শব্দের অর্থ জানার চেষ্টা করুন। দ্বিতীয়ত, আপনি হয়ত ইসলাম শব্দের অর্থই জানেন না। ইসলাম শব্দের অর্থ হচ্ছে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণ। ইহুদী ও খ্রিস্টান সহ অনেকেই এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণ করে। আর এ জন্যই কোরানে বলা হয়েছে : ২:৬২, ৫:৬৯, ২২:১৭। তৃতীয়ত, আপনি কি কোন ধর্মগ্রন্থ থেকে প্রমাণ দেখাতে পারবেন যে, ইসলাম ছাড়াও আরো ধর্ম আছে? যদি প্রমাণ দেখাতে না পারেন তাহলে ইসলামই যে একমাত্র ধর্ম সেটা মেনে নিতে আপত্তি থাকবে কেন? আর ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী ইসলামই যদি একমাত্র ধর্ম হয় তাহলে আবার কোন্ ধর্মেই বা বিশ্বাস করবেন!
>>আপনি এ কথা কেন বললেন? কোরানে বলা হয়েছে, নিশ্চয় যারা অস্বীকার করে এবং আমার আয়াতসমূহকে (তথা কোরানকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
আপনি কোরান থেকে রেফারেন্স না দিয়ে নিজের মত করে বলে যাচ্ছেন। অমুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা আর কোরানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা কি এক হলো?
>>ইসলামী পন্ডিতগণ বলেন, মুসলমান না হয়ে হাজারো ভাল কাজ করলে, সেটা হবে এমন একটি সংখ্যার মত যার সবগুলো অংকই শুণ্য। সুতরাং এর ফলাফলও শূণ্য্।
আপনি কোরান ছাড়া ইসলামী পন্ডিতগণের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে কি বিতর্ক করা যায়?
>>সেমতে হিটলার ও মাদার তেরেসার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আর যদি আপনি মনে করেন পার্থক্য আছে, তাহলে কী পার্থক্য আছে এবং তার দলীল কী স্পষ্টভাবে বলুন।
প্রথমত, হিটলার ও মাদার তেরেসার মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি নেই সেটা এই মহাবিশ্বের স্রষ্টাই সবচেয়ে ভাল বলতে পারবেন। তাই নয় কি? দ্বিতীয়ত, কোরানে বলা আছে প্রত্যেকেই তার ভাল ও মন্দ কর্মের প্রতিফল পাবে। ফলে মাদার তেরেসা ভাল কর্ম করে থাকলে তার প্রতিফল পাওয়ার কথা। তৃতীয়ত, সাদা চোখে কাউকে ভাল মনে হলেও সে প্রকৃতপক্ষেই ভাল কি-না সেটা কিন্তু বলা মুশকিল। এটি কিছুটা আপেক্ষিক ব্যাপারও বটে। যেমন হিন্দুদের মধ্যে কেউ কেউ কিন্তু মাদার তেরেসাকে ভণ্ড ও অসত্ বলে। তাদের অভিযোগ হচ্ছে, মাদার তেরেসার নাকি উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন বর্ণের হিন্দুদেরকে খ্রিস্টানিটিতে ধর্মান্তরিত করা। ইন্টারনেট সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে একই মানুষ সম্পর্কে দু'রকম ধারণা থাকতে পারে।
>>আমি বলি, তাহলে যারা পৃথিবীতে অনেক ভাল কাজ করে গেছেন, কিন্তু কাফির ছিলেন, তাদের সেসব ভাল কাজের পুরস্কার কে দেবে?
এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা।
>>যদি বলেন, তাদেরকেও পরকালে তাদের ভাল কাজের পুরস্কার দেয়া হবে, তাহলে বলুন, কী সে পুরস্কার এবং তার দলীল কী?
ইতোমধ্যে উপরের মন্তব্যে কোরান থেকে কিছু আয়াত দেয়া হয়েছে। আয়াতগুলো আগে পড়ে দেখুন। সর্বোপরি, এই প্রশ্নের আলটিমেট উত্তর জানতে হলে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। পারবেন কি?
২৯|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
ভাবুক ০৯ বলেছেন: দুঃখিত, আমি বলেছি, (আমি বলি, তাহলে যারা পৃথিবীতে অনেক ভাল কাজ করে গেছেন, কিন্তু কাফির ছিলেন, তাদের সেসব ভাল কাজের শাস্তি কে দেবে?)
এখানে 'ভাল কাজের শাস্তি' না হয়ে 'ভাল কাজের পুরস্কার' হবে।
৩০|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৭
ভাবুক ০৯ বলেছেন: আপনি যে জিনিসটার উত্তর জানেন না, সেটা সরাসরি স্রষ্টার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন। স্রষ্টাতো কোরানকে 'তিবইয়ানান লি কুল্লি সাইয়িন' বলেছেন। তাহলে কী হবে না হবে তা স্রষ্টা জানেন এ কথা না বলে বলুন, আমার জানা নেই এবং জানার চেষ্টা করুন। আপনি যা জানেন না তা স্রষ্টা জানেন এ কথা ঠিক। কিন্তু সেটার সমাধানতো আপনার চেয়ে বিজ্ঞ অন্য কেউ জানতে পারেন। নিশ্চয় ইসলামে এগুলোর সমাধান আছে। কারণ ইসলামকে বলা হয় Complete Code of Life. আপনিও আমার প্রশ্নের কিছু উত্তর সরাসরি না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। আমি সরাসরি জানতে চেয়েছি, ইসলাম কি এটা সমর্থন করে যে, যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অনুসরণ করে তারা পরকালে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, যদি তারা প্রকৃত পক্ষে ভাল কাজ করে থাকে। যদি তাই হয়, তাহলে ইসলামের নবী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য এত কষ্ট করলেন কেন? তিনিতো এটা বললেও পারতেন, যে যে ধর্মে বিশ্বাস করো কোন অসুবিধা নেই, শুধু ভাল কাজ কর আর পাপ কাজ করো না। আমি মাদার তেরেসার কথা বলেছি শুধু উদাহরণ হিসেবে। আমি বলছি না যে, তিনি কোন পাপ করেন নি। সাধারণত তিনি মাবন সেবায় ব্রত ছিলেন, যা একটি ভাল কাজ। যদি এমন হয় যে, তিনি কোন পাপ কাজ করেননি, তাহলেও শুধু ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস না করার কারণে তাঁর পরকালে মুক্তি পাওয়ার কথা নয়। আপনি বলেছেন, আল্লাহ তাদের ভাল কাজের পুরস্কার দিবেন, কিন্তু কী দিবেন সেটা আল্লাহই ভাল জানেন। আপনিও জানার চেষ্টা করুন। নিশ্চয় সঠিক কোন উত্তর আছে।
আপনি বলেছেন, (মৃত্যুর পর কার কী হবে সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোটা বোকামি নয় কি?) - আমি বলি মাথা না ঘামানোই বোকামী। বরং এটাই গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট যে, মৃত্যুর পর কী হবে।
আপনি বলেছেন, (মুসলিমরা এই মহাবিশ্বের এমন একজন মহান স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে যিনি কারো প্রতি সামান্যতমও অবিচার করবেন না।) ইসলামের বিধান অনুযায়ী কেউ যদি এক ওয়াক্ত নামায ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়ে, তাহলে তাকে ৮০ হোকবা তথা প্রায় ৬ হাজার ৪০০ বছর জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। একজন মানুষ সৃষ্টিকর্তার এক বেলা বন্দনা না করার কারণে তাকে এত দীর্ঘ সময় আগুনে পোড়ানো হলে, যিনি এই কাজটা করবেন তাঁকেতো নিষ্ঠুর বলা যায়। এখানে ন্যায় বিচার কোথায়?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩১
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আমি প্রথমেই বলেছি, ইসলাম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান শোনা কথার উপর ভিত্তি করে। আপনি কোরান থেকে রেফারেন্স না দিয়ে নিজের মত করে বলে যাচ্ছেন। ইসলামী পন্ডিতগণের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে তো যৌক্তিক বিতর্ক হয় না। যেমন আপনি বললেন,
"ইসলামের বিধান অনুযায়ী কেউ যদি এক ওয়াক্ত নামায ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়ে, তাহলে তাকে ৮০ হোকবা তথা প্রায় ৬ হাজার ৪০০ বছর জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।"
এই তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন? আপনি নিজে কোরান পড়লে এমন কথা বলতেন না এবং আমারো সময় নষ্ট করতে হতো না।
>>আপনি যে জিনিসটার উত্তর জানেন না, সেটা সরাসরি স্রষ্টার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন।
আমি সবকিছুকে স্রষ্টার উপর ছেড়ে দিচ্ছি না। বোঝার চেষ্টা করুন। যে প্রশ্নের সঠিক উত্তর আপনি-আমি-সবায় মিলে সারা জীবন ধরে চেষ্টা করলেও পাওয়া যাবে না সেরকম বিষয়কেই কেবল আমি স্রষ্টার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। যেমন মৃত্যুপরবর্তী জীবন ও তদনুযায়ী ন্যায়বিচার।
>>আপনি যা জানেন না তা স্রষ্টা জানেন এ কথা ঠিক। কিন্তু সেটার সমাধানতো আপনার চেয়ে বিজ্ঞ অন্য কেউ জানতে পারেন।
উপরের উত্তর দেখুন। এই ধরণের প্রশ্নের সুস্পষ্ট জবাব কেউই দিতে পারবে না।
>>আপনিও আমার প্রশ্নের কিছু উত্তর সরাসরি না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। আমি সরাসরি জানতে চেয়েছি, ইসলাম কি এটা সমর্থন করে যে, যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অনুসরণ করে তারা পরকালে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, যদি তারা প্রকৃত পক্ষে ভাল কাজ করে থাকে।
আপনার মত আমি তো এড়িয়ে যাইনি। আমি জবাব দিয়েছি। তবে কিছু কিছু প্রশ্নের জবাব চাইলেই ডিজিটাল '১' অথবা '০' এর মত পেতে পারেন না যেভাবে আপনি শুনতে চাইছেন। এ বিষয়ে ইসলামে ডিজিটাল '১' অথবা '০' উত্তর নেই, যেমন খ্রিস্টানিটিতে 'সেভড' অথবা 'আনসেভড' আছে। ইসলামে সবকিছু সার্বিকভাবে বিবেচনা করা হবে। এমনকি তিল পরিমাণ ভাল কাজেরও মূল্য দেয়া হবে। আমি কোরান থেকে বেশ কিছু আয়াত দিয়ে জবাব দিয়েছি। আপনি আয়াতগুলো মনে হয় পড়েননি।
>>যদি তাই হয়, তাহলে ইসলামের নবী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য এত কষ্ট করলেন কেন? তিনিতো এটা বললেও পারতেন, যে যে ধর্মে বিশ্বাস করো কোন অসুবিধা নেই, শুধু ভাল কাজ কর আর পাপ কাজ করো না।
এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এর উত্তর স্বল্প পরিসরে দেয়া সম্ভব নয়। তথাপি সংক্ষেপে চেষ্টা করছি:
- ১ম শর্ত হচ্ছে ইসলাম তথা এই মহাবিশ্বের একক স্রষ্টার প্রতি আত্মসমর্পণে বিশ্বাস করতে হবে যেটি প্রফেট মুহাম্মদের পূর্বের সকল নবী-রসূল বলে গেছেন। এটি কোরান ছাড়াও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে আছে।
- কোরানকে বলতে পারেন সর্বশেষ সংস্করণ। ফলে কেউ যদি কোরান সম্পর্কে অবগত না থাকে সেক্ষেত্রে কোরানে অবিশ্বাস করার জন্য তার কোন শাস্তি হবে না (২:৬২, ৫:৬৯)। তবে অন্যান্য অপরাধের জন্য তার শাস্তি হবে বা হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি সর্বশেষ সংস্করণ তথা কোরান সম্পর্কে জেনে-শুনেও কোরানকে অস্বীকার বা মিথ্যে হিসেবে বিশ্বাস করে তবেই কেবল তার শাস্তি হতে পারে। এটি হচ্ছে অতি সংক্ষেপে উত্তর।
>>আমি মাদার তেরেসার কথা বলেছি শুধু উদাহরণ হিসেবে। আমি বলছি না যে, তিনি কোন পাপ করেন নি। সাধারণত তিনি মাবন সেবায় ব্রত ছিলেন, যা একটি ভাল কাজ।
হ্যাঁ, এটি একটি ভাল কাজ এবং কোরান অনুযায়ী তার পুরস্কার পাবেন। কিন্তু উনি যদি যীশুখ্রিস্টকে স্রষ্টা হিসেবে ওয়ার্শিপ করেন সেক্ষেত্রে তো বাইবেল অনুযায়ীই উনার অবস্থান হয়ত নরকে হবে! এবার কী বলবেন?
>>আপনি বলেছেন, আল্লাহ তাদের ভাল কাজের পুরস্কার দিবেন, কিন্তু কী দিবেন সেটা আল্লাহই ভাল জানেন। আপনিও জানার চেষ্টা করুন। নিশ্চয় সঠিক কোন উত্তর আছে।
ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করুন। এটি এমন একটি বিষয় যেটি চেষ্টা করলেই জনাতে পারবেন না।
৩১|
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৭
ভাবুক ০৯ বলেছেন: আপনার (আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা: একটি বিশ্লেষণ ) পোস্টটি অনেক ধৈর্য নিয়ে পড়লাম। আপনি আসলে যুক্তি দিয়ে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, যা কোন কালেই সম্ভব নয়। সেজন্যেই ইসলামে প্রথমেই 'ঈমান' তথা বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। যদি বিশ্বাসই করেন, তাহলে যুক্তি-তর্কের প্রয়োজন পড়ে না। যুক্তি-তর্কে গেলে কী হবে, শুধু কথা বাড়বে আর সাধারণ একটা শক্তি এমনি এমনিতে সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব হলে, অসীম শক্তির আধার সৃষ্টিকর্তা এমনি এমনি কীভাবে থাকবেন সে প্রশ্ন এসে যাবে। তারপর শুরু হবে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি। কিন্তু এর শেষ হবে না।
আপনি বলেছেন, ডারউইনের তত্ত্ব মেনে নিলেও প্রথম প্রাণীর সৃষ্টিকর্তা নিয়ে প্রশ্ন আসে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী ডারউইনের বিবর্তনবাদ মেনে নেয়ার কোন সুযোগই থাকে না। আপনি যদি বলেন, মেনে নিলাম, ডারউইনের তত্ত্ব ঠিক, তবুও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ থাকে না, তাহলে হয়ত আপনার কথা ঠিক হবে, কিন্তু প্রকারান্তরে আপনি ইসলামের কথাকে অস্বীকার করলেন।
আপনার ঐ পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, যদি পরকাল বলে কিছু না থাকে তা হলে আমি আস্তিকের যেমন কোন ক্ষতি নাই, তেমনি নাস্তিকেরও কোন ক্ষতি নাই। কিন্তু পরকাল বলে কিছু থাকলে, আমি আস্তিক বেঁচে যাব, কিন্তু নাস্তিকের রক্ষা নাই। আপনি সে মন্তব্যকে স্বাগতম জানিয়েছেন। কিন্তু ইসলামে এমন সুবিধাবাদী বিশ্বাসের কোন স্থান নেই। আপনি যদি এ উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্ম মেনে চলেন যে, সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ না থাকলেও পরকালে আমার কোন ক্ষতি হবে না, আর সৃষ্টিকর্তা থাকলেতো আমি মুক্তি পেয়ে যাব, তাহলে আমি বলব, আপনি মুসলমানই না। কারণ এখানে আপনি ইসলামের প্রথম স্তম্ভ 'ঈমান' কেই অস্বীকার করলেন। এ রকম বিশ্বাসকে কিছুতেই ঈমান বলা যায় না। আর যে এ রকম বিশ্বাস নিয়ে ধর্ম-কর্ম করে সে আসলে মুসলমান নয়, সংশয়বাদী। সুতরাং এ ধরণের মতবাদকে সমর্থন করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।
আপনি হয়ত আমার ওপর রেগে যাচ্ছেন এ কারণে যে, আমি আপনার সাথে তর্ক করছি। আমি বিনয়ের সাথে ক্ষমা চাচ্ছি। আসলে আমি মনে করি যারা প্রকৃত বিশ্বাসী তারা যুক্তির চেয়ে বিশ্বাসকেই বেশী প্রাধান্য দিবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ যুক্তি ও বিশ্বাস পাশাপাশি চলতে পারে না। আপনি নিজেই বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা আছে কি নেই বৈজ্ঞানিকভাবে তা কোনদিনই সমাধান করা সম্ভব হবে না। সুতরাং বিশ্বাসই সমাধান। ভাল থাকবেন।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫২
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আপনি আমার সম্পর্কে অনেক কিছু ধরে নিয়ে আমাকে মুরতাদ বলে ফতোয়া দিয়েছেন!
যাহোক, বিশ্বাস দু'ধরণের : যৌক্তিক বিশ্বাস ও অন্ধ বিশ্বাস। অথবা বলতে পারেন বিশ্বাসযোগ্য বিশ্বাস ও অবিশ্বাসযোগ্য বিশ্বাস। কিন্তু যৌক্তিক বিশ্বাস মানে এই নয় যে সেই বিশ্বাসের স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকতেই হবে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ভিন্ন জিনিস যেটি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
>>যুক্তি-তর্কে গেলে কী হবে, শুধু কথা বাড়বে আর সাধারণ একটা শক্তি এমনি এমনিতে সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব হলে, অসীম শক্তির আধার সৃষ্টিকর্তা এমনি এমনি কীভাবে থাকবেন সে প্রশ্ন এসে যাবে।
এর জবাব তো দেয়াই হয়েছে।
>>আপনি বলেছেন, ডারউইনের তত্ত্ব মেনে নিলেও প্রথম প্রাণীর সৃষ্টিকর্তা নিয়ে প্রশ্ন আসে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী ডারউইনের বিবর্তনবাদ মেনে নেয়ার কোন সুযোগই থাকে না। আপনি যদি বলেন, মেনে নিলাম, ডারউইনের তত্ত্ব ঠিক, তবুও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ থাকে না, তাহলে হয়ত আপনার কথা ঠিক হবে, কিন্তু প্রকারান্তরে আপনি ইসলামের কথাকে অস্বীকার করলেন।
ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বের উদাহরণ দেয়া হয়েছে নাস্তিকদের যুক্তিকে খন্ডনের জন্য যেটি আপনি ধরতে পারেননি। অর্থাৎ তাদের বিশ্বাস দিয়েই তাদের যুক্তিকে খন্ডন করা হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি ইতোমধ্যে বিবর্তনবাদ তত্ত্বে বিশ্বাস করি। সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।
>>আপনার ঐ পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, যদি পরকাল বলে কিছু না থাকে তা হলে আমি আস্তিকের যেমন কোন ক্ষতি নাই, তেমনি নাস্তিকেরও কোন ক্ষতি নাই। কিন্তু পরকাল বলে কিছু থাকলে, আমি আস্তিক বেঁচে যাব, কিন্তু নাস্তিকের রক্ষা নাই। আপনি সে মন্তব্যকে স্বাগতম জানিয়েছেন। কিন্তু ইসলামে এমন সুবিধাবাদী বিশ্বাসের কোন স্থান নেই। আপনি যদি এ উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্ম মেনে চলেন যে, সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ না থাকলেও পরকালে আমার কোন ক্ষতি হবে না, আর সৃষ্টিকর্তা থাকলেতো আমি মুক্তি পেয়ে যাব, তাহলে আমি বলব, আপনি মুসলমানই না। কারণ এখানে আপনি ইসলামের প্রথম স্তম্ভ 'ঈমান' কেই অস্বীকার করলেন। এ রকম বিশ্বাসকে কিছুতেই ঈমান বলা যায় না। আর যে এ রকম বিশ্বাস নিয়ে ধর্ম-কর্ম করে সে আসলে মুসলমান নয়, সংশয়বাদী। সুতরাং এ ধরণের মতবাদকে সমর্থন করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।
নাস্তিকরা যে বোকা এবং সাধারণ যুক্তিও বোঝে না সেটি বুঝানোর জন্য আসলে এই বাজির উদাহরণ দেয়া হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি সেই বাজির উপর ভিত্তি করে ইসলামে বিশ্বাস করি!
>>আপনি হয়ত আমার ওপর রেগে যাচ্ছেন এ কারণে যে, আমি আপনার সাথে তর্ক করছি।
যুক্তি দিয়ে সভ্য ভাষায় বিতর্ক করলে রেগে যাওয়ার কিছু নাই। ধন্যবাদ।
৩২|
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১১
ভাবুক ০৯ বলেছেন: আপনি বলেছেন, (আপনি আমার সম্পর্কে অনেক কিছু ধরে নিয়ে আমাকে মুরতাদ বলে ফতোয়া দিয়েছেন! )
আমি আপনাকে মুরতাদ ফতোয়া কখন দিলাম! আর এটা আমি কেন করবো!!
আমি বলতে চেয়েছি, বি্শ্বাসেরও রকম-ফের আছে এবং বিভিন্ন স্তর আছে। তবে দৃঢ় বিশ্বাসকারীরা যুক্তি ছাড়াই বিশ্বাস করে। মুসলমানরা কোন কিছুর প্রমাণে দলীল খুঁজে, যুক্তি নয়। কারণ, যুক্তি দিয়ে ধর্মের সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায় না। দলীল হচ্ছে, প্রমাণ করার জন্য স্বপক্ষে আল্লাহ অথবা নবীর বাণী/কর্ম থাকা। যারা যুক্তি খুঁজেন, তাদেরকে দলীল দেয়ার কোন মানে হয় না। কারণ যিনি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না, তিনিতো নবীকেও মিথ্যাবাদী মনে করেন, কোরানকেও আল্লাহর বাণী বলে মানেন না। তার সাথে আপনি যুক্তি-তর্কে অবতী্র্ণ হতে পারেন। কিন্তু হাজারো যুক্তির পরেও একজন নাস্তিককে আস্তিক অথবা ধর্ম বিশ্বাসী করতে হলে, বিশ্বাসের কোন বিকল্প থাকবে না। আর বিশ্বাস সব সময় যুক্তির সাথে বিরোধীতা করে। সুতরাং এ বিতর্কের কোন শেষ নেই। স্টিফেন হকিংস বলেছিলেন, তিনি হয়ত সৃষ্টিকর্তার যৌক্তিক অস্তিত্ব অথবা অনস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও সংশয়বাদী হয়ে রইলেন। আর শুধু আস্তিকতাই সব সমস্যার সমাধান করে না। স্টিফেন হকিংস এর The Brief History of Time এ দেখা যায়, অনেক কিছুর সঠিক ব্যাখ্যা না দিতে পেরে তিনি বলেছেন, এটা সম্ভবত এ কারণে হয় যে, সৃষ্টিকর্তা নামে কোন এক মহা নিয়ন্ত্রক আছেন। আবার সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের বিরুদ্ধেও তিনি কথা বলেছেন। এমনকি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব মেনে নিলেও, মুতাযিলাগণ যে সকল যুক্তি-তর্কের অবতারণা করেছিলেন, তিনিও প্রায় সে রকম যুক্তি-তর্কের অবতারণা করেছেন। যেমন, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সব কিছু যদি সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে মানুষের মন্দ কাছের জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হবে কেন? তিনি এও প্রশ্ন করেছেন, মানুষ যদি তার কাজে স্বাধীন হয়, তাহলে সৃষ্টিকর্তার জানার কথা নয় যে, মানুষ কখন কী ইচ্ছাটা প্রয়োগ করবে। আর যদি সেটা সৃষ্টিকর্তা জানেনই, তাহলে মানুষের কর্মের স্বাধীনতা আছে, এ কথা বাল যায় না। আমি জানি, এ সবের উত্তরে হয়ত আপনার অনেক কিছু বলার আছে, যা অন্যেরাও আগে বলেছেন, কিন্তু চুড়ান্ত কোন সমাধান করতে পারেননি। সুতরাং এ বিতর্ক চলছে, চলবেই। তবে, বিতর্কের অবসান হওয়ার কোন পথ থাকলে ভাল হতো। অবসান হবে না জেনেও আমরা বিতর্ক করছি, এই আশায় যে, যদি কোন ভাবে একটা স্থায়ী এবং বিতর্কের অবসান হয় এমন সমাধান পাওয়া যায়। যতদিন এমন সমাধান হবে না ততদিন বিতর্ক চলবেই। আর যদি কোন দিন সমাধান না হয়, তাহলে এ বিতর্কেরও কোন দিন অবসান হবে না। যেমন আপনার সাথেও আমার বিতর্কের শেষ হচ্ছে না। তবে মানুষের প্রবণতা এই যে, তারা প্রমাণিত সত্য জানতে চায়। সে জন্যে চরম ধার্মিকরাও কোন কোন মূহুর্তে সংশয়ের সম্মুখীন হয়ে যান। আমি চাই সম্পূর্ণ সংশয়মুক্ত একটি ধারণা। হয়ত এটা অসম্ভব, তবুও সন্ধান অব্যাহত থাকবেই। ভাল থাকুন।
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৫০
এস. এম. রায়হান বলেছেন: হাহাহা! একটু কৌতুক করেছি। আপনি যেভাবে বলেছেন তাতে মনে হয়েছে আমি আর ইসলামে বিশ্বাসী নাই! আর ইসলামে অবিশ্বাসী মানে মুরতাদ।
যাহোক, আপনাকে কিছু কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই তবে এগোতে হবে। আপনি যেমন শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না তেমনি আবার একদম শতভাগ ফ্রী হয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেলেই তবে বিশ্বাস করবেন - এটি একটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক স্ট্যান্ড। যেমন প্রথমেই আপনাকে চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করবেন কি-না। উত্তর 'না' হলে আপনি একজন নাস্তিক এবং তারপর এগোনোর আর কোন পথ খোলা থাকে না। আর নাস্তিকতা যে একটি অযৌক্তিক ও অমানবিক বিশ্বাস সেটি আমার লেখাতে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবেই দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। উত্তর 'হাঁ' হলে সামনে এগোনোর অসীম পথ খোলা থাকে।
আপনি যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন সেগুলোর যৌক্তিক জবাব কিন্তু আমার বিভিন্ন লেখাতে দেয়া হয়েছে।
আর হ্যাঁ, আপনি কোন্ ধর্মের ব্যাকগ্রাউন্ডের জানি না তবে ইসলামকে দয়া করে অন্যান্য ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। আমি মোটামুটি সবগুলো ধর্ম নিয়ে স্টাডি করেছি এবং ইসলামের সাথে অন্যান্য ধর্মের পার্থক্য খুব ভালভাবেই অবগত। ইসলামে অন্ধ বা অযৌক্তিক বা অমানবিক বিশ্বাস বলে কিছু নাই। ধন্যবাদ।
৩৩|
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৭
ভাবুক ০৯ বলেছেন: আমি বলেছিলাম - ইসলাম ধর্মের সিদ্ধান্ত এটাই যে, কোরান অবতীর্ণের পরও যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করবে না, তারা যত ভাল কাজই করুক, তারা কখনোই বেহেস্তে যেতে পারবে না।
আপনি বলেছিলেন - আপনি এই কথা কোথা থেকে পেলেন। কোরান থেকে প্রমাণ দেখাতে পারবেন?
নীচের লিংকটি দেখুন:
Click This Link
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩
এস. এম. রায়হান বলেছেন: মুসলিম স্কলারদের মধ্যে এ বিষয়ে কিছুটা মতপার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে জেনে-শুনে ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করা আর ইসলাম সম্পর্কে না জানা কিন্তু এক বিষয় নয়। তবে আপনি কিন্তু আপনার দাবির স্বপক্ষে কোরান থেকে সরাসরি কোন আয়াত দেখাতে পারেননি যেটা আমি চেয়েছিলাম। তাছাড়া এ বিষয়ে উপরের জবাবে মোটামুটি ব্যাখ্যা দিয়েছি বলেই বিশ্বাস।
৩৪|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:১৪
হুক্কা হুয়া বলেছেন: পুষ্টে ব্যপক পরিমান পিলাস...++++++++++++++++++++++++
আর ভাই, হুদাই কষ্ট কইরেন না...ছাগলরে যদি বুঝান ঘাস খাইস না, লাভ হইব?? ভাবুক ০৯ রে কেলাস ১ এ আবার ভর্তি করায়া দেন। টেকা যা লাগে, সামু দিব ![]()
![]()
![]()
![]()
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:৪২
এস. এম. রায়হান বলেছেন: ভাবুক০৯ অন্ততঃ সভ্য ভাষায় বিতর্ক করেছেন। এ জন্য উনি বরং ধন্যবাদই পেতে পারেন।
৩৫|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৯
মহি আহমেদ বলেছেন: ভাবুক ০৯ এর সমস্যা হচ্ছে কোরানের আয়াতের শাব্দিক অর্থের বাহিরে মুল ভাবার্ত তথা আসল বার্তা বা মেসেইজ কি তা অনুধাবন করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন । তা না হলে তিনি বিশ্বাসের উপর প্রাধান্য দিতে গিয়ে অন্ধ বিশ্বাসের দিকে ঝুকতেন না। তার কাছে কোরানে মানুষের বিবেক ও চিন্তাশক্তি ব্যবহারের জন্য যে আফালা ইয়ানজুরুনা এবং আফালা তাতাব্বারুনা ইত্যাদি শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে সে সবের কোন মর্ম আছে বলে মনে হয়না ।
৩৬|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩০
নগর সংগীত বলেছেন: হ্যালো ডিজিটাল মিস্টার বিন! প্রথম পয়েন্ট পড়ে আমারতো হার্টফেল করার অবস্থা
""""সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা থাকতে হলে সৃষ্টিকর্তা সহ এই মহাবিশ্বের কোন অস্তিত্বই থাকতো না"""
আরে এ জন্যইতো আমরা স্রষ্টায় বিশ্বাস করিনা। আপনিইতো বলতেসেন সবকিছু্র স্রষ্টা থাকা দরকার নাই, তাহলে মহাবিশ্বের স্রষ্টার কি দরকার?
৩৭|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩২
নগর সংগীত বলেছেন: ২ নম্বর যুক্তি ও হার্টফেল করার মত। একটা স্রষ্টায়ই বিশ্বাস করিনা, একাধকি আসলো কোথা থেকে? বাকি লেখা পড়ব নাকি ভাবছি !
৩৮|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩৫
নগর সংগীত বলেছেন: আর্গুমন্টে অফ Evil এর এরকম পিসলানো রিফ্উটসেন দেখে হাসব না কাদব বুজতেসিনা
৩৯|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪২
নগর সংগীত বলেছেন: অরণ্যচারী বলেছেন: বক্ররেখা বলেছেন: অরণ্যদেব বলেছেন: বৃত্তবন্দী বলেছেন: আলমগীর কুমকুম বলেছেন: প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আল্লায় আপনেরে বেহেস্তে একটা বাগান দেউক আর সেই বাগানের কাঠাল পাতা খাওনের মত একটা খাসি দেউক।
এবং আপনার ইহকাল ও পরকাল হউক কাঠাল পাতাময়। আমিন।
৪০|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৭
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: অনেক বড় পোষ্ট। আস্তে আস্তে পড়তে হবে।
৪১|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৯
দিনমজুর বলেছেন:
////যুক্তি-৮: দৈব ঘটনা ও উদ্দেশ্যহীন প্রক্রিয়া/////
নাস্তিকরা সম্ভবত প্রাকৃতিক ঘটনাসমূহকে উদ্দেশ্যহীন বললেও দৈব বা দৈবাত বলেন না! দৈব এসেছে দেব থেকে- দেবরেই তো নাস্তিকরা বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না!
=========
একটা পরামর্শ দেই, যুক্তি খন্ডন টাইপের লেখা তথা তর্ক-বিতর্কের সময়ে সব সময়ই খেয়াল রাখবেন যে- লেখাটায় বিপরীত মতকে কত শক্ত, জোরালো এবং সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন। মনে রাখবেন- শক্ত প্রতিপক্ষকে আপনি কিভাবে মোকাবেলা করতে পারছেন- সেটার উপরেই আপনার যুক্তির ধার প্রমান হতে পারে। বিপরীত মতকে ভুল ও খণ্ডিতভাবে উপস্থিত করে- তারপরে সেটাকে আচ্ছামত ধোলাই করার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই, কেবল অন্যের বিরক্তি ও বেশীরভাগের হাস্যরসেরই এতে উদ্রেক করে .....
============
কিছু মনে করবেন না, আপনি অনেক পরিশ্রম বিধায় আপনাকে এই পরামর্শটুকু দেয়াটা দরকার মনে করলাম .....
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৬
এস. এম. রায়হান বলেছেন: কিছু মনে করি নাই। তবে আপনি তো মনে হচ্ছে লেখা না বুঝেই উপদেশ বিলি করলেন। আমার লেখাতে 'দৈব ঘটনা'কে দেব-দেবীর সাথে যুক্ত করা হয়নি! আপনি একটি ই-টু-বি অভিধানে accident বা chance এর বাংলা দেখে নিতে পারেন। সেখানে accident বা chance এর বাংলা দৈব বা আকস্মিক ঘটনা পেয়ে যাবেন।
৪২|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৭
নগর সংগীত বলেছেন: দিনমজুর কাকে কি উপদেশ দেন? উনি মিস্টার বিনের ডিজিটাল ভার্সন, উনার কাজই হাসানো
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৫
এস. এম. রায়হান বলেছেন: এই ব্লগ ফাজিলদের জন্য নয়। তবে ডারুইনের প্রাইমেটসদের বিনোদনের জন্য আমার লেখাতে সব সময়ই কিছু 'উপকরণ' রাখা হয়।
৪৩|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৪
ইসানুর বলেছেন: পড়তে আরম্ভ করলাম...
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১২
এস. এম. রায়হান বলেছেন: পড়তে থাকুন। ধন্যবাদ।
৪৪|
২২ শে এপ্রিল, ২০১০ ভোর ৪:৪১
ব কলম বলেছেন:
৪৫|
০৩ রা অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:০১
ভদ্র বলেছেন: নাস্তিকতার স্বপক্ষের প্রচলিত যুক্তি খণ্ডন এর
যুক্তি-৫ বাতিল করেন।
যুক্তি-১২ এর যুক্তি খণ্ডনে অন্য উত্তর দেন। এ ধরণের মশকারি করবেন না।
আস্তিকতার স্বপক্ষে যুক্তি এর যুক্তি-৯ বাতিল করেন। এটা কোন যুক্তি না।
@ ভাবুক
সুরা আসর দেখেন।
০৩ রা অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:১৮
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আচ্ছা, আস্তিকতার স্বপক্ষে যুক্তি এর যুক্তি-৯ মুছে দিলাম। নাস্তিকতার স্বপক্ষের প্রচলিত যুক্তি খণ্ডন এর যুক্তি-৫ নিয়ে একটু ভেবে দেখতে হবে। তবে যুক্তি-১২ এর যুক্তি খণ্ডনে মশকরা কোথায় করা হলো তা তো বুঝা গেল না! বলতে পারেন, যেমন যুক্তি তেমন জবাব! এমনকি ডঃ রিচার্ড ডকিন্সও এই যুক্তি দেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৪৬|
২৩ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১২:০৪
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: আপনি কি ডারুইন মানেন নাকি? নাকি কেবল প্রাইমেট মানেন?
২৩ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১:১৭
এস. এম. রায়হান বলেছেন: ডারুইন মানি নাকি প্রাইমেট মানি - প্রশ্নটা বুঝি নাই।
৪৭|
২৩ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১:২২
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আস্তিকতার স্বপক্ষের যুক্তিগুলো মুছে দিয়ে লেখাটিকে ছোট করলাম এবং সেই সাথে শিরোনামও পরিবর্তন করলাম। পরে সময় পেলে আস্তিকতার স্বপক্ষের যুক্তি দিয়ে আলাদা পোস্ট দেয়া যাবে।
৪৮|
১৯ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১১:১৫
রিফাত হোসেন বলেছেন: আমি আস্তিক তবে পোষ্টের যুক্তি আর কাল্পনিক খন্ডন মনমত হয় নাই ।
আল্লাহ একজন বা একাধিক কিছু বা কিছু একটা হতে পারে যা সম্বন্ধে আমরা জানি না । জানার কারনও দেখছি না, আমরা তারঁ ক্ষমতার সামন্যই বন্টন কৃত থেকে পেয়েছি ।
হতে পারে তারও সৃষ্টি আছে কিন্তু তা আমাদের মাথা ব্যথার বিষয় নয় ।
সে চায় আমরা তার আরধনা করি পুতুলের মত । আমরাও পুতুলের সাথে নিজ মত ব্যবহার করি । সেও করে । কারণ তার কাছে আমরা কিছুই না ।
সে এলিয়েন হলেও অবাক হওয়ার কিচ্ছু নাই ।
মূল কথা সৃষ্টি কর্তা আছে ।
সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সৃষ্টি অসম্ভব ।
১৯ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১১:২৮
এস. এম. রায়হান বলেছেন: কাল্পনিক খণ্ডন? সেটা আবার কেমন! প্রমাণ দেন।
আপনি আস্তিক তবে ইসলামে অবিশ্বাসী - এই তো? তার মানে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা কে - তা আপনি জানেন না, মানে অজ্ঞেয়বাদী। পরিষ্কার করে বললেই তো হয়ে যায়।
৪৯|
১৯ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১১:৫৩
রিফাত হোসেন বলেছেন: বুঝলাম ,, তবে আগে আপনি আগে প্রমাণ দেন আপনার কথা কিভাবে বাস্তব খন্ডন ? যেহেতু আপনি প্রশ্নটা আগে করেছেন । ![]()
আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন ? দেখে থাকলে দেখতে কি রকম বা রকমফের হয় নাকি ? না দেখে থাকলে বিশ্বাস স্থাপন কেমনে করেন ? , কোন ঘটনা ঘটলে চুরি বা ডাকাতি যাই হোক না কেন, প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ছাড়া বিচার কার্য স্থীর হয়ে যায়, তো আপনি প্রত্যক্ষ না দেখে বিশ্বাসের কেন্দ্র বিন্দুতে কিভাবে পৌছিয়েছেন ?
বাস্তব জীবনে যেমন নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে এক দল পক্ষ অবলম্বনকারীদের বন্টন করে ,, সেখানে নিরপেক্ষ দল কি আদও নিরপেক্ষ থাকি ?? নাকি সেও একটি পক্ষ অবলম্বন করে ?
তো বলা হয় আল্লাহ নিরাকার । ............ তো আমার কথা হল নিরাকারও একটা আকার বহন করে । ![]()
আমি অজ্ঞেয়বাদী বা ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসী না এক ইশ্বরবাদী এটা গুরুত্বপূর্ণ না । তবুও বলছি আমি আস্তিক এবং ইসলামী ধারায় বড় হওয়া তাই একেই কেন্দ্র করে চিন্তা করি ।
তন্মাধ্যে বিশ্বের তাবত ধর্ম ও জীবন ধারার মধ্যে ইসলামকেই আদর্শ মনে হয় । যদিও তার মধ্যে খুত আছে মনে হয় । আল্লাহ ভাল জানেন ।
আল্লাহকে গড বলতেও আমার আপত্তি নাই । তবে প্রচুর মুসলিম এর আপত্তি আছে ।
আমি আসলে ইসলামের সব ধারাকে মানি না ।
যেমন ব্যক্তি পূজা, মাজার নিয়ে ভন্ডামী, বর্তমান কথিত পীর ইত্যাদি ইত্যাদি ।
আপনি যেমন পরিষ্কার জানতে চেয়েছেন জানিয়েছি, এখন আমার প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর চাই ।
১৯ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৪৯
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আমি আসলে ইসলামের সব ধারাকে মানি না। যেমন ব্যক্তি পূজা, মাজার নিয়ে ভন্ডামী, বর্তমান কথিত পীর ইত্যাদি ইত্যাদি।
এগুলো আসলে ইসলামের অংশও নয় - বরঞ্চ ইসলাম পরিপন্থী।
১৯ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৫৫
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আল্লাহকে গড বলতেও আমার আপত্তি নাই। তবে প্রচুর মুসলিম এর আপত্তি আছে।
আল্লাহকে গড বলতে মুসলিমদের কেন আপত্তি আছে তার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। গড বলে কোন শব্দই আসলে কোন ধর্মগ্রন্থে নাই।
১৯ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৫৬
এস. এম. রায়হান বলেছেন: তো বলা হয় আল্লাহ নিরাকার।
কোথায় বলা হয়েছে আল্লাহ নিরাকার?
৫০|
১৯ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১০:৩৩
রিফাত হোসেন বলেছেন: ১৯ শে মার্চ, ২০১২ দুপুর ১২:৫৬
লেখক বলেছেন: তো বলা হয় আল্লাহ নিরাকার।
কোথায় বলা হয়েছে আল্লাহ নিরাকার?
স্কুলে কখনো পড়েছিন কি ? আশা করি পড়েছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের স্কুলে একটু কষ্ট করে বাচ্চাদের থেকে ইসলাম শিক্ষার বই ধার করবেন ।
.. যদিও কোরআন ও হাদীসে নিরাকার ব্যাপারটা কখনো খুজে পাই নাই । তবে মুখ দিয়ে বলতে গেলে সবাই বলে এই কথা ।
-----------
লেখক বলেছেন: আল্লাহকে গড বলতে মুসলিমদের কেন আপত্তি আছে তার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। গড বলে কোন শব্দই আসলে কোন ধর্মগ্রন্থে নাই।
আমি তো বললামই সব হাদীসের আমি কেয়ার করি না ।
আমার ইচ্ছা আমি আল্লাহকে ভগবান গড ইত্যাদি নিদের্শ করব । কারণ তিনি জানেন ভাল করেই আমি তাকেই নির্দেশ করছি । আল্লাহর ভাল ভাল নাম আরবী তে কেন !! ? আমার নিজের মাতৃভাষা আছে, আমি মন করি আল্লাহ বা সুপ্রিম পাওয়ার যখন সব ভাষা সৃষ্টি করেছেন তিনি যে কোন ভাষা ও ইঙ্গিত বুঝতে পারেন ।
তবে আল্লাহ নামটা মধুর আমার কাছে লাগে । কেন লাগে জানি না, মনস্তাত্বিক টান বোধহয় আছে ।
তাই বলে বাকি শব্দকে বাদ দিতে পারি না । পরকালে যেতে হলে তো আরবী জানতে হবে এই কথা তো আল্লাহ বা রাসূল সা: বলে নাই
তাই না ?
এই হল আমার সোজা সাপ্টা যুক্তি ।
------------------
লেখক বলেছেন: এগুলো আসলে ইসলামের অংশও নয় - বরঞ্চ ইসলাম পরিপন্থী।
পরিপন্থী হোক আর যাই হোক , মাইটি ক্রিয়েটর বা আল্লাহর সাথে সাধারণ তার তৈরীকৃত পুতুলের তুলনাতে আমার আপত্তি আছে । আপনি আমি,, খোদ শয়তান সহ আল্লাহর পুতুল । শয়তান আল্লাহরই অংশ এবং শয়তানী সহ । পবিত্রতা অপবিত্রতা সবই আল্লাহর তৈরী এবং তার ইচ্ছায় ,, শয়তানের কোন প্রকার অস্তিত্ব সত্যিকারের অর্থে নাই । সে অথার্ত শয়তান আল্লাহর মুখাপেক্ষী ।
তবে আল্লাহ চায় যে এই শয়তানের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করি এবং পবিত্রতায় অংশগ্রহন করি ।
-------------- আমি কিন্তু আমার প্রশ্নগুলির উত্তর পাই নাই,
১৯ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১১:৫৩
রিফাত হোসেন বলেছেন: বুঝলাম ,, তবে আগে আপনি আগে প্রমাণ দেন আপনার কথা কিভাবে বাস্তব খন্ডন ? যেহেতু আপনি প্রশ্নটা আগে করেছেন । ![]()
আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন ? দেখে থাকলে দেখতে কি রকম বা রকমফের হয় নাকি ? না দেখে থাকলে বিশ্বাস স্থাপন কেমনে করেন ? , কোন ঘটনা ঘটলে চুরি বা ডাকাতি যাই হোক না কেন, প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ছাড়া বিচার কার্য স্থীর হয়ে যায়, তো আপনি প্রত্যক্ষ না দেখে বিশ্বাসের কেন্দ্র বিন্দুতে কিভাবে পৌছিয়েছেন ?
১৯ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১১:৩৯
এস. এম. রায়হান বলেছেন: [আমি আস্তিক তবে পোষ্টের যুক্তি আর কাল্পনিক খন্ডন মনমত হয় নাই।]
আপনি আমার যুক্তি খণ্ডনকে 'কাল্পনিক' বলেছেন। আপনাকেই ব্যাখ্যা করতে হবে আমার কোন্ যুক্তি খণ্ডন কাল্পনিক মনে হয়েছে এবং কেন।
২০ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১০:৪০
এস. এম. রায়হান বলেছেন: আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন ?
না।
দেখে থাকলে দেখতে কি রকম বা রকমফের হয় নাকি ?
যেহেতু দেখিই নাই সেহেতু রকমফের হওয়ার প্রশ্ন আসে না।
না দেখে থাকলে বিশ্বাস স্থাপন কেমনে করেন ?
ইসলামে না দেখে বিশ্বাস স্থাপনকেই ঈমান বলা হয়। দেখে বিশ্বাস তো সবাই করতে পারে! কিন্তু না দেখে বিশ্বাস করতে হলে যুক্তি ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হয়। দেখুন-
Click This Link
২০ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ১০:৪৮
এস. এম. রায়হান বলেছেন: কোন ঘটনা ঘটলে চুরি বা ডাকাতি যাই হোক না কেন, প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ছাড়া বিচার কার্য স্থীর হয়ে যায়, তো আপনি প্রত্যক্ষ না দেখে বিশ্বাসের কেন্দ্র বিন্দুতে কিভাবে পৌছিয়েছেন?
প্রথমত, প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছাড়া বিচার কার্য স্থীর হয়ে যায় - এই কথা কে বলেছে? পৃথিবীতে এ পর্যন্ত কতগুলো ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আছে?
দ্বিতীয়ত, বিচারক কিন্তু চুরি বা ডাকাতির প্রত্যক্ষ সাক্ষী না! বিচারককে কারো না কারো কথার উপর নির্ভর করতে হয়। তার মানে বিচারক কোন ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী না হয়েও স্রেফ অন্যের মুখে শুনে সেই ঘটনার উপর রায় দেন। এ কেমন বিচার!
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৯
মদনঠাকুর বলেছেন: পোস্টে লালসেলাম কমড়েড ।