| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মানবতার মুক্তিদূত হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর মহান আন্দোলন এক অনন্য বিপ্লব সংগঠিত করার মাধ্যমে যে, সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, তার বৈশিষ্ট ছিল এই যে, তার মূল কলেমার চেতনা ও প্রেরনার জিবনের প্রতিটি বিভাগে ও প্রতিটা ক্ষেত্রে একই ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিলো। গোটা সমাজ ব্যবস্থায় পরিপূর্ন ও একত্মতা ও সমন্বয় বিরাজ করতো। সকল প্রতিষ্ঠান ছিল একই রঙ্গে রঞ্জিত ও একই ভাবধারায় উজ্জীবিত।
মসজিদের চার দেওয়ালের মাঝে যে, আল্লাহ সুবঃ এর ঈবাদত করা হতো, সেই আল্লাহ সুবঃ এর আনুগত্য করা হতো বাজারে ও ক্ষেতখামারে।
যে কোরআন নামাজে পড়া হতো, সেই কোরআনেরই আইন অনুসারে মামলা মোকাদ্দমার ফয়সালা হতো আদালতে।
যে সত্য ঘোষিত হতো মসজিদের মিম্বর থেকে, সেই একই সত্য অনুসরে চলতো সরকারি প্রশাসন।
যে নৈতিক নীতিমালা সীমিত পারিবারিক পরিবেশে কার্যকর ছিলো, আন্তর্জাতিক কর্ম কান্ডেও অনুসৃত হতো সেই একই নীতিমালা ।
যে আকিদা বিশ্বাস প্রতিটা ব্যক্তির অন্তরে বদ্ধমূল করানো হতো, সেই আকিদা বিশ্বাসই কার্য কর থাকতো সামগ্রীক অবকাটামোতে।
যে চিন্তাধারা শিক্ষা ব্যবস্থায় সক্রিয় থাকতো, সেই অনুসারেই রূপায়িত হতো সমগ্র সাংস্কৃতিক কর্ম কান্ড। আল্লাহ সুবঃ এর সন্তুষ্টি যেমন নামাজ, রোজায় কাম্য থাকতো, তেমনি রনাঙ্গনে অসি চালনা ও তীর বিদ্ধ হওয়ার সময়ে সক্রিয় থাকতো সেই একই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।
এ ছিলো এমন এক সমন্বিত বিধান, যার আওতায় সমগ্র মানব জীবন একই খোদায়ী নির্দেশ দ্বারা পরিচালিত হতো। জীবনের এক এক বিভাগে এক এক রকম মূল্যবোধ ও নির্দেশ চলতোনা। এ বিধানে কোন স্ববিরোধিতা ছিলোনা। এর একাংশ অপর অংশের সাথে কোন জটিলতা, অস্পষ্টতা, জোড়াতালি বা জগাখিচুড়ী ছিলোনা।
এ জন্যই এর আওতায় মানব জাতি যে রূপ দ্রুত গতিতে উন্নতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল ইতিহাসে তা নজীরবিহীন।
©somewhere in net ltd.