নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি বাংলাদেশী, আমি মুসলিম হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি, আমি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী।

এস.এম.সাগর

এস.এম.সাগর › বিস্তারিত পোস্টঃ

মোল্লা বনাম মুক্তমনা

২০ শে জানুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:১৩


 পাবলিক বাসে মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত আসনে চল্লিশোর্দ্ধ ব্যক্তি বসে আছেন। মার্জিত, পরিপাটি পোশাকে বেশ অভিজাত মনে হচ্ছে। তার হাতে ৫ টাকা দামের এক চটি পত্রিকা........., ভদ্রলোক পত্রিকার শিরোনাম জোরে জোরে পড়ছেন..........।
 মুক্তমানাঃ “এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা ”
মোল্লা মুন্সিরা মেয়েদেরকে ঘরে আটকে রেখেছিল, দেশ জাতিকে পিছিয়ে রেখেছিল। .... আমাদের মেয়েদের ঘরের কোন থেকে বের করে আনতে হবে।
 পাশেই রড ধরে দাঁড়িয়ে আছে ২৫ বছরের এক তরুন, মাথায় টুপি, মুখে হালকা দাড়ি।
মোল্লাঃ ভাই মোল্লা মুনশিরা যদি মেয়েদেরকে ঘর আটকেই রাখতো, তাহলেতো নারী আন্দোলন মুসলিমদের সমাজেই প্রথম শুরু হতো।
 ঘুরে তাকালেন মুক্তমনা, চোখের দৃষ্টিতে মোল্লাকে কিছুক্ষন মেপে নিলেন, তার পরে বললেন.........
 মুক্তমনাঃ আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারিনি।
 মোল্লাঃ (মৃদু হেসে).. যেমন ধরুন, আরবের স্বৈরাচারী শাসকরা মানুষের উপর চরম নির্জাতন চালিয়েছে, তাই এই স্বৈরাচারদের বিরুদ্ধে আরবের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো। মধ্যযুগে ইউরোপের দেশ গুলিতে ধর্মের দোহায় দিয়ে অত্যাচার করা হতো। তাই সেখানে ধর্ম নিরপেক্ষ আদর্শের জন্ম হয়েছে। তেমনি বর্জুয়া সমাজে সাম্যবাদীদের জন্ম হয়েছে। পাকিস্তানি শাসকেরা উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলো বলে বাঙ্গালীরা রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছিলো। সেই হিসেবে নারী আন্দোলনের সূত্রপাত মোল্লা মুন্সিদের সমাজে হওয়া উচিৎ ছিলো। কিন্তু তা না হয়ে হয়েছে আমেরিকায়। মুসলমানদের সমাজে নারী আন্দোলন শুরু হয়নি, হয়েছে আমেরিকার নিউইয়র্কে। ১৮৫৭ সালের ৮ই মার্চ...... মুজুরি বৈশ্বম্য, কর্মঘন্টা নির্ধারন এবং কর্মক্ষেত্রে বৈরি পরিবেশের প্রতিবাদে নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে এসেছিলো সুতা কারখানার কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার নারী শ্রমিক। তাদের উপর সরকারী বাহিনীর দমন নিপীড়ন চলতে থাকে। এই থেকে শুরু হয় নারী আন্দোলণ....... তার পর নারী দিবস, তো এখানে মোল্লা মুন্সীরা আবার কি করলো?
[ এ কথা শুনে মুক্তমনা একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল; কিন্তু দ্রুত সামলিয়ে নিয়ে বলল..........]
 মুক্তমনাঃ মহিলাদেরকে তো ঘরেই আটকে রাখেন, আন্দোলন করবে কি ভাবে?
 মোল্লাঃ ও হো ! ঘর থেকে বের না করলে আপনাদের শত কপট ভদ্রলোকদের দেহদান করবে কিভাবে? ME TOO আন্দোলন সাবিশ্বে আপনাদের মোত প্রগতিশিলদের বাদর্য চেহারা উন্মোচন করে দিয়েছে।কিলন্টন তো বলেই ছিলো, মানষিক চাপ কমাতে নাকি সে মনিকার সাথে সম্পর্ক করেছিলো...... দেখা যাচ্ছে, নারী দেহ না পেলে কাজের চাপে প্রগতিশীলরা মানষিক রোগী হয়ে পড়ে, তাই নারীদেরকে তো ঘর থেকে বের করতেই হবে, কিবলেন?
 মুক্তমনাঃ (রেগে গিয়ে) তবুও তো আমরা নারীদেরকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছি, আর সবাইতো একরকম নয়, কিন্তু ইসলাম তো মেয়েদেরকে পিছিয়ে রেখেছে।
 মোল্লাঃ ( সমঝদারের ভঙ্গিতে ) হুম্ম......, কিন্তু ইতিহাসতো অন্য কথা বলে..... ১৪০০ বছর পূর্বে উমর রাঃ এর খিলাফতের সময়, শাফি নামক এক নারী বাজার ব্যবস্থাপনার কাজ ছিলেন। মেয়েদের চাকরির অধিকার তো ইসলাম ১৪০০ বছর আগেই বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। এর জন্য কোন নারীকে পুলিশের বাড়ি খেতে হয়নি। রাসূল (সাঃ) কে মদীনার শাষক হিসেবে বাইআত প্রদানের সময় ২ জন নারীও ছিলেন। এটা ছিলেআ রাজনৈতিক অধিকার।
অথছ খোদ আমেরিকাতেই ১৯২০ সালে এর আগে নারীরা দেশ ব্যাপী নির্বাচনে ভোট দিতে পারতেননা। তারা ভোটাধিকার পেয়েছেন তখন..... ইসলামি খিলাফতের শাসনামলে মেয়েরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরাপদে ভ্রমন করেছে। আর তথাকতিথ ধর্ম নিরপেক্ষ গণতন্ত্রের ধ্বজা ধারীরা নারীকে এমনই মুক্তি দিয়েছে যে, গন ধর্ষন এর পর তাকে হত্য করে দুনিয়া থেকেই মুক্তি দিয়েছে।
 মুক্তমনাঃ (রেগে গজগজ করতে করতে) এগুলো আপনাদের মোল্লাদের বানানো গাঁজাখুরী গল্প।
 মোল্লাঃ (চুক চুক শব্দে আপসোস প্রকাশ করে) আপনাদের ধর্ম নিরপেক্ষ মিডিয়া BBC ই প্রকাশ করেছে, আধুনিক Satellite এর আদি ভার্সন হচ্ছে Astrolab যার আবিষ্কারক এক জন মুসলিম নারী (মরিয়ম)। তার পর Daily Star পত্রিকার সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন Shout এ প্রকাশিত হয়েছে তিউনিসায়ার ফাতিমা আল ফিহারির কথা, যিনি পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠাতা। অক্সফোর্ড, হাভার্ড এর ও শত শত বছর আগে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম যদি নারীদের পশ্চাৎ পদতার কারন হয়ে থাকে, তাহলে এগুলি হল কিভাবে? এ নারীরা হলেন ইসলামি ব্যবস্থার অতুলনীয় সৌন্দর্যের উদাহরন।
 মুক্তমনাঃ (প্রচন্ড রেগে গিয়ে) রাখ, তুই তোর মা বোনকে দাসী বান্দী বানিয়ে, আমার কি?
 মোল্লাঃ (মৃদু হেসে) আমরা আমাদের মা বোনদের জন্য বইমেলা চত্বরে আলোকিত মানুষদের দ্বারা এটা ওটা হাতানো আর সোনার ছেলেদের কাছে ইজ্জত হারানোর চেয়ে আল্লাহ সুবঃ এর বান্দী হয়ে থাকাটা শ্রেয় মনে করি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.