| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লেকচার- ১
সম্মানিত সকল আসসালামু আলাইকুম ওয়া-রহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতুহু।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবঃ’র জন্য, যিনি আমাদেরকে তার অন্যান্য বান্দাদের উপরে মর্যাদা দান করেছেন একারনে যে, আমরা ঈমান এনেছি।
“আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহ সুবঃ’র প্রতি, তাঁর নবী রাসূলদের প্রতি, তাঁর প্রেরিত কিতাব সমূহের প্রতি, মালাইকাদের প্রতি, পরকালের প্রতি, তাকদীরের ভাল মন্দের প্রতি এবং মৃত্যুর পর পূনরুত্থানের প্রতি”
কোন কিছুর প্রতি ঈমান আনার অর্থ হচ্ছে ঐ বিষয়কে চুড়ান্তভাবে সত্য হিসেবে মেনে নেওয়া। আর তখনই মেনে নেয়া যাবে যখন ঐ বিষয়ে জানা যাবে। এ কারনে ঈমান হচ্ছে তাসদীক আল জামিম, অর্থাত এমন ভাবে বিশ্বাস করা যাতে মনে কোন ধরনের কোন দ্বিধা বা সন্দেহ না থাকে।
মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদের আক্বীদার বিষয়গুলি গভির ভাবে জানা এবং এর বিরোধিতা কারীদের উত্থাপিত প্রশ্ন সমূহের সঠিক জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। যে গাছের শিকড় মাটির যত গভীরে প্রবেশ করবে, সেই গাছ তত মজবুত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে, আর যে গাছের শিকড় অত গভীরে নয় তাকে উপড়ে ফেলা সহজ।
“যে মুমিন ঈমানের বিষয়গুলো ভালভাবে জানবে ও বুঝবে তাঁর ঈমানও তত মজবুত হবে”
আমাদের সমাজে কিছু লোক পাবেন, যারা নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে নিজেদেরকে খুব জ্ঞানি মনে করে। দূর্বল ঈমানের লোকজন এদের কথাবার্তায় বিভ্রান্ত হলেও যারা প্রকৃত জ্ঞানি, তাঁরা এদের মূর্খতায় হাসে। এরকম একজন ব্যক্তি হল ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের এক সময়কার বাংলা বিভাগের অধ্যপক হুমায়ূন আজাদ, তার দুইটি বক্তব্য পেশ করছি.......
‘ আমার অবিশ্বাস ‘ নামক বইতে হুমায়ূন আজাদ লিখেছে, ঐ তারা বা সূর্যই শুধু নয়, আমরাও মহাজগতের অধিবাসী, আমরাও ঘুরে চলছি মহাজাগতিক গগনে; কিন্তু আমরা কোন দেবতা দেখিনি, বিধাতা দেখিনি, যদিও এদের কথা দিন রাত শুনতে পাই।.....(মহাসমুদ্রে ছোট চর: আমাদের গ্রাম- হুমায়ূন আজাদ)
অর্থাত হুমায়ূন আজাদের কথা হচ্ছে ‘আল্লাহকে দেখিনি তাই তাকে বিশ্বাস করিনা’
এবার আপনাদেরকে ছোট একটা গল্প বলি......
গ্রামে এক পরিত্যাক্ত কুয়ায় বউ বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে এক ব্যাঙ্গ বাস করত। কুয়ার পাশে গ্রামের মহিলারা এসে গল্প গুজব করত। ব্যাঙ্গ সে গুলি শুনে এসে তার বাচ্চাদেরকে বলত। বাচ্চারা ভাবতো, আমাদের বাবা কত কিছু জানে, কত বড় জ্ঞানি। একদিন মহিলারা সমুদ্র নিয়ে গল্প করল, বাচ্চারা শুনেতো অবাক! বাবা তো তাদেরকে কখনো সমুদ্রের কথা বলেনি। তারা তাদের বাবাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল , বাবা, সমুদ্র নাকি অনেক বড়! ওখানে নাকি অনেক পানি’ ব্যাঙ্গ উত্তর দিবে কি? সেতো কখনো সমুদ্রের কথা শুনেইনি কোন দিন। তার সারা জিবন কেটেছে কুয়ার ভিতরে। তাই তার বউ বাচ্চাকে বল্ল, আরে এগুলো সব মহিলাদের গাল গল্প, সমুদ্র বলে কিছুই নেই! এভাবে নয়ছয় বুঝিয়েও ব্যাঙ্গ কিন্তু মনে শান্তি পেলনা। সে ভাবল সমুদ্র কি তা দেখতেই হবে। তাই সে পোটলা পুটলি বেধে বউ বাচ্চা থেকে বিদায় নিয়ে একদিন রওনা হলো, নিজ গ্রামের সিমানার কাছাকাছি আসতেই আরেক ব্যাঙ্গের সাথে তার দেখা হলো। সে ও সমুদ্র দেখতে বেরিয়েছে। যাই হোক দুইজনই আরো কিছু দূর যাওয়ার পরেও সমুদ্র দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়লো। সামনে এক উঁচু ঢিবি দেখতে পেয়ে ভাবলো, ঢিবির ওপারে বোধহয় সমুদ্র আছে। ঢিবিতে দুইজনই উঠে সামনে তাকিয়ে দেখলেঅ, ওপাশে আর একটা নতুন গ্রাম। ত্যক্ত বরিক্ত হয়ে এক ব্যাঙ্গ আরেক ব্যাঙ্গকে বল্ল ধুর কোথায় পানি? সমুদ্র দেখি আমাদের গ্রামের মতই। যতসব গাঁজাখুরী গল্প! এ বলে দুজনই ফিরে চল্ল। কুয়াতে ফিরে এসে ব্যাঙ্গ তার বউ বাচ্চাকে বল্ল(বলেছিলামনা?)সমুদ্র ফমুদ্র বলে কিছু নেই। এগুলো মহিলাদের গাল গল্প।
তো এ হলো ব্যাঙ্গের সমুদ্র দর্শন। গল্পটা এ জন্য বল্লাম যে, আমি দেখিনাই বলে কোন একটা জিনিস নাই এটা যারা মনে করে এবং বলে বেড়ায়, তাদের জ্ঞানের দৌড় কুয়োর ব্যাঙ্গের মতই।
আমরা অনেক কিছুই দেখতে পাইনা। ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া কে আমরা দেখতে পাইনা, কিন্তু এদের অস্তিত্ব আছে। আমার দেখতে পারা না পারার সাথে কারোও থাকা না থাকা নির্ভর করেনা। আমরা অনেক কিছু দেখতে পাইনা কিন্তু অন্যরা দেখতে পায়। আমরা অনেক কিছু শুনতে পাইনা, এমন কিছু বাঁশি আছে যা বাজলে আমরা শুনতে পাইনা, কিন্ত কুকুর শুনতে পায়। মানুষের শ্রবন ক্ষমতা ২০ হার্টজ থেকে ২০,০০০ হার্টজ পর্যন্ত। এর উপরে শব্দ আর নিচের শব্দ মানুষ শুনতে পায়না কিন্তু কুকুর শুনতে পায়না, সুতারং আমি শুনতে পাইনা বলে কি ঐ শব্দটার অস্তিত্ব নাই?
আল্লাহ, মালাইকা, জান্নাত, জাহান্নাম, জ্বিন জাতি এদের অস্তিত্ব আমাদরে দেখা না দেখার উপর নির্ভশীল নয়। আমরা দেখতে না পেলেও কেউনা না কেউ দেখেছে।
এবার আমরা আলোচনা করব, কোন একটা বিষয় সত্য না কি মিথ্যা তা কিভাবে প্রমান করা যায়।
প্রমানের একটি পদ্ধতি হচ্ছে প্রত্যক্ষ প্রমান যেমনঃ আমি আমার হাতের দিকে তাকিয়ে ৫টি আঙ্গুল দেখতে পাই, আমি সরাসরি দেখছি কোন সন্দেহ নেই। আপনারা আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন, রোদে বসলে শরীরে গরম লাগে, বরফ ঠান্ডা লাগে, করলা তিতা লাগে, এগুলী একেবারে প্রত্যক্ষ প্রমান।
মানুষের ৫টি ইন্দ্রিয় আছে, চোখ, কান, নাক,,জিহ্বা, চামড়া- এগুালি দিয়ে মানুষ কোন বিষয় বা কোন জিনিস সম্পর্কে সরাসরি জানতে বা বুঝতে পারে। আমরা যারা সাধারন মানুষ তাদের পক্ষে এ দুনিয়াতে আল্লাহ সুবঃকে এভাবে প্রত্যক্ষ করা সম্ভব নয়। আমরা পরকালে তা পারবো। তবে মূসা আঃ, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সরাসরি আল্লাহ সুবঃ’র সাথে কথা বলেছেন। সুলাইমান আঃ জীনদের সাথে কথা বলেতেন, কিন্তু আমাদের সাধারন মানুষদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
তাই আমি দেখিনা তাই তুমি নাই- এটা যে বলে সে মূর্খ, যে রকম আগেই বলেছি, আমি করোনা ভাইরাসকে দেখিনা তাই করোনা ভাইরাস নাই- এটা যে মনে করে সে একটা নির্বোধ, আর তার কথা যারা মানে তারা বেকুব।
প্রমানের আরেকটা পদ্ধতি হচ্ছে পরোক্ষ প্রমান। আমাদের জীবনের অসংখ্য বিষয় এর সাথে জড়িত। এর একটা উদাহরন হলঃ- ধোয়া দেখে আগুনের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। আপনি যদি আগুন নাও দেখেন, তবুও ধোয় দেখে আপনি বুঝতে পারবেন কিছুক্ষন পূর্বে হয়তো আগুন জালানো হয়েছিল। যদিও আপনি কাউকে আগুন জালাতে দেখেননাই। রাস্তায় একটা মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখলে আপনি বুঝবেন যে, কারও পকেট থেকে এটা পড়েগেছে। আপনি নিশ্চয় বেকুবদের মত একথা বলবেননা যে মানিব্যাগটা এমনি এমনি তৈরি হয়েগেছে! আপনি যদি বলেন আমি যেহেতু কারও পকেট থেকে মানিব্যাগ পড়তে দেখিনি তাই আমি বিশ্বাস করিনা যে, এটা কারও পকেট থেকে পড়েছে, বরং মানিব্যাগটা এমনি এমনিই তৈরি হয়েগেছে। এ কথা যে বলবে তাকে মানুষ হেমায়েতপুরে পাঠাবে।
এ পরোক্ষ প্রমানের মাধ্যমে আল্লাহ সুবঃ’র অস্তিত্ব চূড়ান্তভাবে প্রমানিত হয়।
নাস্তিকেরা কি এ প্রমানকে অসিকার করে? মালাইকা, জ্বীন কিংবা আল্লাহ সুবঃ’র বেলায় তারা বলে দেখিনা তাই বিশ্বাস করিনা, কিন্তু কই তারাতো একটা মোবাইল দেখে বলেনা, এ মোবাইল কেউ তৈরি করতে দেখিনি, তাই এ মোবাইল তৈরি করেছে এটা আমি বিশ্বাস করিনা ?।
পরোক্ষ প্রমানের মাধ্যমে আল্লাহ সুবঃ’র অস্তিত্বের প্রমান অসংখ্যভাবে করা যায়, যা আমরা আমাদের আলোচনায় বিভিন্ন সময় নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ। এখন শুধু একটা উদাহরন দিচ্ছি-------
এক তরুন এক বুড়া রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলো ‘চাচা’ আল্লাহ সুবঃ আছেন আপনি বুঝলেন কেমনে? নাস্তিক মার্কা প্রশ্ন শুনে চাচা প্রথমে রেগে গেল, তখন তরুন বল্ল ‘চাচা’ রাগবেননা আপনারতো বিচার বুদ্ধি বিবেক আছে। আপনার বিচার বুদ্ধি দিয়ে আপনি কিভাবে বুঝলেন যে, আল্লাহ সুবঃ আছেন? রিকশাওয়ালা চাচা কিছু সময় ভেবে উত্তর দিলেন- ( আমি প্যাডেল চাপলে রিকশার চাকা ঘুরে, আর এত বড় দুনিয়াটা যেহেতু ঘুরতেছে, প্যাডেল তো কেউ একজন মারতেছে)।
আপসোস নাস্তিকেরা তাদের মিথ্যা অহংকারের কারনে এ রিকশাওয়ালার বোধ বুদ্ধিও হারিয়ে ফেলেছে।
প্রমানের তৃতীয় আরেকটা পদ্ধতি হচ্ছে সাক্ষ্য প্রমান। আমাদের সমাজে বিশেষ করে পুরো বিচার ব্যবস্থাই টিকে আছে এর উপর। একজন সত্যবাদীর সাক্ষের ভিত্তিতে একটা লোককে মৃত্যু দন্ড পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছে। নাস্তিকরা কিন্তু কখনো একথা বলেনা যে, বিচারক ঐ লোককে তো খুন করতে দেখেনি তারপরও সাক্ষীর কথা শুনে কেন ফাঁসীর রায় দিল? কোন নাস্তিক কি কখনো বলেছে যে, সাঈদী সাহেবকে তো বিচারক নিজ চোখে অপরাধ করতে দেখেনি, তবুও যাবজ্জীবন কারাদন্ড কেন দিল? নাস্তিকরা কখনো বলেছ? তারা সমস্ত কিছুর ব্যাপারে স্বাক্ষ্য প্রমানকেও মেনে নেয়, শুধু আল্লাহ সুবঃ’র ব্যাপারে বা অস্তিত্বের বেলাতেই তারা খালি নিজ চোখে দেখতে চায়। বস্তুত নিজ চোখে দেখলেও তারা আল্লাহ সুবঃকে অস্বিাকার করত, তার হুকুমকে অস্বিকার করত। শয়তান আল্লাহ সুবঃকে দেখেও তাকে মানতে অস্বিাকার করেছে। এরা তো তাদের বংশধর। আমি এক নাস্তিককে চিনতাম. যাকে আল্লাহ সুবঃ’র অস্তিত্বের প্রমান দেয়ার পর সে তা মানতে বাধ্য হল, কিন্তু তার অহংকারের কারনে সে বল্ল (আল্লাহ আছে বুঝলাম, তো এখন কি করতে হবে? তার পা ধরে বসে থাকতে হবে?) নাঊযুবিল্লাহ মিন যা-লিকা।
আল্লাহ সুবঃএর ব্যাপারে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন কে? হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), যার সত্যতার ব্যাপারে তার শত্রুদের মনে কোন সন্দেহ ছিলনা...... আল্লাহ সুবঃ এর ব্যাপারে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন কে? ঈসা আঃ, মূসা আঃ, ইব্রাহীম আঃ যাদের চরম শত্রুও কোন ব্যাপারে তাদের প্রতি বলার অপবাদ দিতে পারবেনা, তাদেরকে স্বার্থপর বলতে পারবেনা, তাহলে কোন স্বার্থের কারনে আল্লাহ সুবঃ এর ব্যাপারে তারা মিথ্যা বলতে যাবে? বরং আল্লাহ সুবঃ এর কথা বলতে গিয়ে অনেক নবী শহীদ হয়েছেন।
মূর্খ নাস্তিকদের কাছে এসকল সত্যবাদীর মূল্য নেই। অথচ মিথ্যাবাদীদের স্বাক্ষ্যের কারনে হাজার হাজার মানুষ জেলে বন্দি আছে, নাস্তিকরা এটা দিব্যি মেনে নিয়েছে বা নিচ্ছে। এ বেলায় তারা বলেনা যে, নাস্তিক অভিজিতকে হত্য করতে বিচারক যেহেতু নিজ চোখে দেখেনি তাই আসামীদের খালাস দেয়া হোক! নাস্তিকরা সত্যবাদী হলে এটা বলুক।
স্বাক্ষ্য প্রমানের মাধ্যমে আল্লাহ সুবঃ’এর অস্তিত্ব চূড়ান্ত ভাবে প্রমানিত হয়, যা আমাদের পরবর্তী আলোচনায় আসবে ইনশাআল্লাহ। আজকের আলোচনায় আমাদের মূল বিষয় ছিলোঃ...
1. মুমিন হিসেবে ঈমান মজবুত করার জন্য জঞান অর্জন করা।
2. ব্যাঙ্গের সমূদ্র দর্শন।
3. প্রমানের পদ্ধতি – ০৩ টি যেমনঃ.....
ক) প্রত্যক্ষ প্রমান।
খ) পরোক্ষ প্রমান।
গ) স্বাক্ষ্য প্রমান।
লেকচার – ২ চলমান
©somewhere in net ltd.