| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমাদের গণতন্ত্র (Democracy) শব্দটির উৎস সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আমাদের সবার জানা থাকা উচিৎ যে, এটা আরবী শব্দ নয়, এটি একটি গ্রীক শব্দ। দুটি শব্দের সমন্বয়ে তা গঠিত হয়েছে: “গণ”( Dems) অর্থ: জনগণ এবং “তন্ত্র” (Cracy) অর্থ: বিধান, কর্তৃত্ব, বা আইন। গণতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হলো মানুষের দেয়া বিধান, মানুষের কর্তৃত্ব বা মানুষের দেয়া আইন।
গণতন্ত্র সমর্থকদের মতে এটিই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং এ কারনেই তারা এ ব্যবস্থার প্রশংসা করে এবং সমাজ ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রকে অনেক উচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়। একই সাথে তা কুফর, শিরক এবং মিথ্যা মতবাদের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্য যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক; কারন আপনি জানেন যে, প্রধান কারনে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যে কারনে কিতাব সমূহ নাজীল করা হয়েছে এবং নবী রাসূলগনকে প্রেরন করা হয়েছে। আর যে ঘোষনা দেয়া আমাদের প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক, তা হলো আল্লাহ সুবঃ এর একত্ববাদের ঘোষনা।প্রতিটি ইবাদত তাঁরই দিকে নিবদ্ধ করা এবং তাকে ছাড়া অন্য সকল কিছুর ইবাদত করা হতে দূরে থাকা। বিধানে অর্থাত আইন, বিচার বা শাষন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আনুগত্য যা এক ধরনের ইবাদত তা একমাত্রই আল্লাহ সুব’র প্রাপ্য; আর এই আনুগত্য যদি অন্য কাউকে করা হয় তবে মানুষ মুশরিক হয়ে যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
গণতন্ত্র বলে থাকে আইন জনগণের দ্বারা বা অধিকাংশ লোকের দ্বারা প্রবর্তিত হয় যা গণতন্ত্র পন্থিদের সবচেয়ে বড় দাবী। কিন্তু বর্তমানে আইন প্রবর্তনের অধিকার চলেগেছে বিচারকদের হাতে বা বড় নেতা, বড় ব্যবসায়ী ও ধনীদের হাতে, যারা তাদের টাকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে সংসদে স্থান করে নেয় এবং তাদের প্রধান উপাস্য (রাজা, বাদশা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ইত্যাদি) ক্ষমতা রাখে যে কোন সময় ও যে কোন ভাবে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার । সুতারং, বহু ইশ্বরবাদের (Polytheism) এক পাশে হচ্ছে গণতন্ত্র এবং অন্য পাশে হলো আল্লাহ সুবঃ’র সাথে কুফরি করা যা অনেক কারনেই ইসলামের একত্ববাদের, নবী ও রাসূলদের দ্বীনের বিরোধী।
• এখানে আইন হচ্ছে মানুষের বা তাগুতের, আল্লাহ সুবঃ’র আইন নয়। আল্লাহ সুবঃ রাসূলকে (সাঃ) হুকুম দিয়েছেন- আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার ফায়াসালা করার জন্য এবং মানুষের ইচ্ছা দ্বারা প্রভাবিত না হতে এবং আল্লাহ সুবঃ যা নাযিল করেছেন থেকে সরে যেতে প্রলুব্ধ না হন।
• আল্লাহ সুবঃ পবিত্র কুরআনের ৫নং সূরা মায়েদার ৪নং আয়াতে বলেছেন [ অতঃপর আল্লাহ সুবঃ যা অবতীর্ন করেছেন তদানুযায়ী তাদের বিচার নিষ্পত্ত্বি কর, তাদের খেয়াল খুসির অনুসরন না কর এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক হও যাতে আল্লাহ সুবঃ যা তোমার প্রতি অবতীর্ন করেছেন তার কিছু হতে তোমাকে বিচ্যুত না করে। ]
• তাদের সংবিধানের মতে, আইন বা বিধান দিবে সংসদে নির্বাচিত কতিপয় মানুষ বা ত্বাগুতেরা যারা নিজেদেরকে আল্লাহ সুবঃ’র সমকক্ষ করেছে, এটা তাদের সংবিধানের কথা, যেই সংবিধানকে তারা আল কুরআন থেকেও পবিত্র মনে করে থাকে।
• “ বাংলাদেশর সংবিধানের মূল ধারা নং (৭)/(২):
৭(২)- জনগণের অভিপ্রায়ে পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য পূর্ন হয় তাহা হলে সেই আইনের যতটুকু অসামঞ্জস্যপূর্ন ততটুকু বাতিল হইবে।
• একই কথা বলা হয়েছে তয় ভাগের ২৬ ধারায় এবং সংবিধানের ৫ম ভাগে সংসদ নামক পরিচ্ছেদে বলা হয়েছেঃ জাতীয় সংসদ নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে।
• (৩য়) গণতন্ত্র হচ্ছে সেকিউলারিজম এর নিকৃষ্ট ফল এবং এর অবৈধ সন্তান, কারন সেকিউলারিজম হচ্ছে এমন একটি ভ্রান্ত মতবাদ যার উদ্দেশ্য হচ্ছে শাসন কর্তৃত্ব থেকে ধর্মকে আলাদা করা। চলবে.....।
©somewhere in net ltd.