| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রুখতেই হবে
আমি একজন ভাল মানুষ!!! নিজের সম্পর্কে নিজেই ঢোল পিটালাম নাকি??জাউগগা ওসব কথা..............
যে দেশে উঠতি যুবক যুবতীর দল লেইট নাইট পার্টি, কে এফ সি-পিজা হাট নিয়ে পরে থাকে, রাতে বার্সা/রিয়ালের পরাজয়ে মুষড়ে পড়ে । যে দেশে তরুণেরা প্রেমিকার সাথে অভিমানে কিংবা প্রিয় দলের পরাজয়ে আত্মহত্যা করে; সেই দেশে কিছু যুবক যুবতী এই সব মেকি অভিমান আর স্বাদ আহ্লাদ কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিদিন ঝাপিয়ে পড়ে জীবন সংগ্রামে । হ্যাঁ, এরাই পোশাক শ্রমিক । তাদের সর্বোচ্চ আনন্দ ঐ স্টার সিনেপ্লেক্স এ নয়, মেসি/রোনালদোর বাঁ পায়ের যাদুতেও নয় । তাদের সর্বোচ্চ আনন্দ প্রতি মাসের শেষে বাড়িতে পাঠানো নিজের ঘামে সিক্ত প্রতিটি টাকায় । প্রতি সেমিস্টার শেষে বাবার কাছে সেমিস্টার ফি চাওয়া তো দুরের কথা; উল্টো প্রতি মাস শেষে বাবার ঔষধ, ছোট বোনের বিয়ে, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচে ঝুজতে থাকা সমাজের এই "নিচু তলা"র মানুষেরা প্রতি মাস শেষে কতটা অমানুষিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যায় ।হয়তোবা এই মাসেও এই অল্প বেতনে ছোট বোনটার জন্য লাল জামাটা কেনা হয় নি ।
................................
তারুণ্যের সব আনন্দ উচ্ছাস কে পাশে রেখে, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়েও, সাধ আর সাধ্যের মাঝে হিমশিম খেয়েও বন্ধ হয় না তাদের সেলাই মেশিন। হয়তোবা একদিন বন্ধ হয়ে যায় তারাই । শেষ হয়ে যায় ছোট বোনটির লাল জামার স্বপ্ন, বাবার ঔষধের টাকা আর ভাইটির পড়াশোনা । কিন্ত দেদারসে চলতে থাকবে বিজিএমইএর বিলাস বহুল পার্টি আর কনসার্ট । আর সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কে হারিয়ে বৃদ্ধ মা বাবা বিশ হাজার টাকা নিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকবে । আমরা সমাজের সুবিধাভোগীরা আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিব এইটা ঠিক ছিল না, ঐটা ঠিক ছিল না । কিন্ত কেউ এগিয়ে আসবো না, পাশে দাঁড়াবো না । সময়টা যতটা না খুঁত ধরার, তার চেয়েও বেশি আত্ম জিজ্ঞাসার ।
আর আজকে হচ্ছে সেই দিন,যে দিনের জন্য রক্ত দিয়েছিল অসংখ্য শ্রমিক কারন তারা চেয়েছিল তারা মুক্ত হবে শোষকদের হাতথেকে। কিন্ত বিধিবাম!!! তারাতো শ্রমিক,তারা সৃষ্টি হয়েছে শোষণ হয়ার জন্যয়।
তার পরেও আজ আমি মে দিবসে সকল শ্রমিককে জানায় আমার আন্তরিক প্রিতি ও শুভেচ্ছা । আর কামনা করি মুক্ত হোক মেহনতি মানুষের।
©somewhere in net ltd.