নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হয়ত মানুষ বলেই নিজের কষ্ট গুলো প্রকাশ করতে পারি ।।

লেখক হবার ইচ্ছে নয় , একটু লেখার ইচ্ছা !

অন্য স্পর্শ

আমি মানুষকে হাসিমুখে দেখতে ভালবাসি । যদিও মানুষকে হাসানোর মত যোগ্যতাটা আমার মাঝে নেই তবুও চেষ্টা করি হাসানোর।

অন্য স্পর্শ › বিস্তারিত পোস্টঃ

অজানা কথা [ছোট গল্প] বাকি টুকু/পার্টঃ২

২৫ শে মে, ২০১৩ রাত ৩:৫৭

মিথি কি হয়েছে তোর । ফোন বন্ধ থাকে কেন?

বেপার কি কথা বলছিস না কেন? আমি তোর সাথে কথা বলছি । আমার কোন ভুল ?



ইমতিকে প্রায়ই রাগ দেখাতো, আজ কিছু না বলে চলে গেল মিথিলা । অবাক হয়ে তাকিয়েই থাকল ইমতি । ইমতিও পণ করে নিল মিথিলা তার সাথে কথা না বললে সেও কথা বলবে না ।



ইমতি মিস করতে থাকে মিথিলাকে । বন্ধুত্বের যতটুকু পাওয়া পায়নি ইমতি । এটাই কি বেস্ট ফ্রেন্ডের উদাহরণ ?



মিথিলা ক্লাসে আশাও কমিয়ে দেয় । ইমতির মাঝে প্রনচঞ্চলতাটা আর নেই ।



নিজের রাগ টুকু ভেঙ্গে মিথিলার সাথে দেখা করার সিন্ধান্ত নেয় সে । হোস্টেলে তার অন্য বন্ধবীকে ফোন করে মিথিলার সাথে দেখা করে ইমতি ।



"তোর সমস্যাটা কি ? মুখ খোলে মিথিলা । আমি তোর সাথে কথা বলিনা তো তোর এত গায়ে লাগে কেন? আমি কি তোর গার্লফ্রেন্ড ? কি বলতে চাস তুই ? কি জানতে চাস তুই ? আর কখনো আমায় ডিস্টার্ব করবি না ।" ইমতির বলার অনেক কিছু ছিল । কিছু না বলেই চলে আসে ।



ইমতির মনের মাঝে অনেক প্রশ্ন জাগে । কিন্তু জবার দেয়ার মানুষটা অপরিচিত হয়ে গেছে এখন।



নিজের অজান্তে অনেক ভালবেসে ফেলেছিল মিথিলাকে । এই ভালবাসার জন্য দায়ি শুধুই মিথিলা । কখনো পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেয়নি যে শুধু সে বন্ধুত্ব চায় । মাঝে মাঝে গার্লফ্রেন্ডের মত আচরণ করে সবার সামনে । অভিযোগ বকা একটু অভিমান সবই ছিল তাদের সম্পর্কে । এটা ভালবাসা না বন্ধুত্ব ? না না বন্ধুত্বই ছিল । তবে আজ এমন করছে কেন মিথিলা?



ইমতি অন্তর্দন্দে ভোগে । তার পৃথিবী আগের মত নেই ।



মিথিলা অনেকদিন পর ফোন দেয় ইমতিকে । ক্লাসে আসিস না কেন? সামনে পরীক্ষা ইম্পটেন্ট ক্লাস গুলো করছিস না । ঠিক করছিস না কিন্তু । অবশেষে ইমতি বলে আমি ক্লাস করছি কি না তুই বলার কে? আমি মরি না বাঁচি তুই বলার কে? কেঁদে ফেলে ইমতি । মিথিলা ওপাস থেকে নিজের কান্না টুকু লুকিয়ে বলে আর কোনদিন এমন হবে না । সেইদিনই মিথিলা বুঝে ফেলে ইমতি তাকে ভালবাসে ।



আসলে কি হয়েছিল মিথিলার সে হঠাত্‍ এমন চেন্জ হয়ে গিয়েছিল কেন?



কথাটা জানতে চায় ইমতি ।মিথিলা সব খুলে বলে , আমার কাজিনের সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিল । ছোট থেকেই শুনে আসছি ও আমার বর । কখনো ভালবাসার কথা হয়নি ।কিন্তু অনেক টান ছিল তার প্রতি । কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় মারা যায় সে । তার লেখা কিছু চিঠি খালা আমায় তুলে দেয় অসম্ভব ভালবাসত সে আমায় । এরপর থেকে ওকে ভুলতে পারছি না । বার বার চেষ্টা করছিলাম নিজের কষ্টটাকে আটকে রাখতে কিন্তু পারিনি । পারিনি এর মাঝে তোর দিকে তাকাতে । ৪ মাস হল । তবুও কষ্টটা একবিন্ধুও কমেনি । ফোনে কারও সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হত না । কেউ জানে না কষ্ট আমার কি । লুকিয়ে রেখেছিলাম । এখনো কি তুই আমার উপর রেগে থাকবি ইমতি?



ইমতি মাথা নিচু করে বলে, আমি তোর ফ্রেন্ড হবার যোগ্য না । আমি আমার কষ্ট গুলোকে বড় করে দেখছিলাম । কিন্তু তোর পৃথিবী যে আলাদা ছিল বুঝিনি ।

মিথিলা মলিন হাসি দিয়ে বলে কষ্ট দুর করানোর চেষ্টা করছিস । হা হা হা বুঝি বুঝি।



ইমতি এখন প্রায় চেষ্টা করে মিথিলাকে হাসি খুশি রাখতে । বলবে না সে ভালবাসি । ভালবাসার কথা না বলেও ভালবাসা যায় মনে মনে ভেবে নেয় ইমতি ।



কিন্তু তার এর মাঝের ব্যকুলতায় মিথিলা জেনে ফেলে ইমতির মনের কথা । আর কোনদিন ইমতির বাড়াবাড়িতে মিথিলা বলেনি আমি তোর গার্লফ্রেন্ড না কি ।।



কিছু ভালবাসা আছে এমন যা রয়ে যায় অব্যক্ত । কারণ গুলো এমন হয় যা থেকে যায় অজানা ।



তবুও একে ভালবাসাই বলে বোধয় ।।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে মে, ২০১৩ সকাল ১১:০৯

কক বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর লাগলো.....লিখতে থাকুন। সময় পেলে আমার পেইজটাতে লাইক দিয়েন....আপনাদের জন্যই আমাদের এই পেইজের সব কার্যক্রম!

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৫০

অন্য স্পর্শ বলেছেন: ধন্যবাদ কক ভাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.