নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...

কাপুরুষের শেষ আশ্রয় হল দেশপ্রেম

স্পেলবাইন্ডার

সে আমারে ঠারে ঠারে ইশারায় কয়, এই চান্দের রাইতে তোমার হইছে গো সময়... ঘর ছাড়িয়া বাইর হও, ধর আমার হাত- তোমার জন্য আনছি গো আইজ চান্দেরও দাওয়াত...

স্পেলবাইন্ডার › বিস্তারিত পোস্টঃ

গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনুস সম্পর্কে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ কোথায়?

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:১০





১৯৮৩ সনে বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে চালু হওয়া গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনুসের কর্মকান্ড, অবদান নিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্টরা স্পষ্টতঃ দুইভাগে বিভক্ত। গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনুসের পক্ষের লোকজন বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্যের শিকল থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছেন, স্বাবলম্বী হয়েছেন। অপরদিকে বিরোধীদের বক্তব্য হল- গ্রামীণ ব্যাংক নতুনরূপে সুদখোর মহাজন হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেউ স্বাবলম্বী হয় না বরং চিরস্থায়ী দাসে পরিণত হয়।



উভয় পক্ষের লোকজনই নানা তথ্য উপাত্ত হাজির করেন। কিন্তু দেখা যায়, দুই ধরণের বিশ্লেষণই আগে থেকে কোন না কোন পক্ষাবলম্বন করে উপস্থাপন করা হয় অর্থাৎ বায়াসড। ফলে আমরা সাধারণ নাগরিকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি আসলে আমাদের কোন পক্ষ অবলম্বন করা উচিত।



অনেকে ড. ইউনুসের পক্ষে একটা যুক্তি দেখান- উনি একজন নোবেল লরিয়েট। উনার কর্মকান্ড ইউরোপ, আমেরিকা তথা পুরো বিশ্ববাসী মূল্যায়ন করেছে। তাই উনি নোবেল পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। উনি পুরো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, নোবেল পদক প্রাপ্তি কোন মানুষের কর্মকান্ড মূল্যায়নের জন্য যথার্থ নয়। কেননা, হেনরি কিসিঞ্জার, শিমন পেরেজ, বারাক ওবামাসহ অনেক বিতর্কিত ব্যক্তি নোবেল পদক পেয়েছেন।



আমার পছন্দের অনেক ব্যক্তি পত্রিকার পাতায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে এমনকি ব্লগে ড. ইউনুস ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে মতামত দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, ড. ইউনুস দেশকে কি দিয়েছেন সেটা জাতি হিসেবে আমরা আজ বুঝতে পারছি না কিন্তু একদিন হয়ত বুঝব। কিন্তু ওনারা ঠিক কতটুকু গভীরে গিয়ে অর্থাৎ কতজন তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারী মানুষের সাথে খোলামেলা আলোচনা করে সিদ্ধান্তে এসেছেন নাকি স্রেফ ড. ইউনুস একজন সাদাসিধে ভালমানুষ ও নোবেল লরিয়েট- এই জন্য এসি রুমে বসে তাকে সমর্থন করছেন করছেন সেটা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে দৈনিক প্রথম আলো সংশ্লিষ্টদের একচেটিয়া প্রোপাগান্ডায় অন্ধের মত বিশ্বাস করার কোন কারণ দেখি না।



একটা কথা ঠিক- আমাদের এই দেশে স্বয়ং ফেরেশতারও ভুল বের করার মানুষের অভাব নাই। কেউ যদি দেশটার জন্য নিজের কলিজাটা কেটে দেন- তারপরও অন্যেরা সমালোচনা করে বলবেন- মাথাটা দিলে ভাল হত। আবার মাথা দিলে বলবেন পুরো শরীরটাই কেন দিল না ইত্যাদি।



গত কয়েকদিনে পত্রিকার পাতায়, টিভির আলোচনায় শুনলাম- কেউ বলছেন গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার ৬০%, কেউ বলছেন ৩০%। আমার কথা হল- ৬০% বা ৩০% কেন হবে? কেন সেটা সর্বোচ্চ ১০% হবে না? নাকি সুদের হার ১০% হলে ঋণগ্রহীতা সহজেই শোধ করে দিতে পারবে- এজন্য সুদের হার উচ্চ রাখা হয়? একটা মানুষ যদি জীবনে একবার ঋণ নিয়ে অল্প কিছুদিনের মধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে যায় তাহলে তাকে আরও বেশি লাভের আশা দেখিয়ে আরও বেশি ঋণ নিতে উৎসাহিত করার কোন দরকার আছে? আমি যতটুকু জানি, বেশিরভাগ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এভাবে মানুষকে বেশি বেশি ঋণ নিতে প্রলুদ্ধ করে যাতে ঐ অঞ্চলে তারা প্রচুর কাজ করছে সেটা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দেখাতে পারে। সেই সাথে ঋণগ্রহীতা মানুষগুলো চিরদিন তাদের কেনা গোলাম হয়ে থাকে। আমার এক বিদেশী সহকর্মী বলতেন, একজন ডাক্তারের কাছে একজন রোগী একটা বিজনেস অর্থাৎ কাস্টমার ছাড়া আর কিছুই না। তেমনি ব্যাংকের কাছে একজন ঋণগ্রহীতা স্রেফ একজন কাস্টমার। যদি একটি অঞ্চলের মানুষ ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করে ফেলে তাহলে ঐ এলাকা থেকে নিশ্চয়ই ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে আসতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান কি সেই সৎসাহস রাখে?



আমার মনে হয়, এখন সময় এসেছে গ্রামীণ বাংক, ব্র্যাকসহ অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকান্ড সম্পর্কে সার্বিক ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের। সরকার এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার জরিপ পরিচালনা করে দেখতে পারে গত ত্রিশ বছরে আমাদের পল্লী অঞ্চলে ক্ষুদ্রঋণের নামে যে কর্মকান্ড চালু আছে তা সত্যিকার অর্থে দেশের সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক জীবনে উল্লেখযোগ্য কোন অবদান রাখতে পেরেছে নাকি ক্ষুদ্রঋণের নামে নতুন মোড়কে একদল শিক্ষিত ও চতুর শ্রেণীর মানুষ দেশের নিরীহ, আপাত বোকা, সাধারণ দরিদ্র মানুষদের শোষণ করে যাচ্ছে।



আমরা সাধারণ নাগরিকরাও কিছু কাজ করতে পারি। আমরা যার যার এলাকায় যখন যাই, তখন সাধারণ মানুষদের সাথে কথা বলে জেনে নিতে পারি- এলাকায় কোন কোন এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদের কর্মপদ্ধতি কেমন, সুদের হার কেমন, কত জন মানুষ উপকৃত হয়েছেন, আবার ঋণ নিয়ে বিপদে আছেন কে এবং কেন ইত্যাদি। এতে করে পুরো দেশের মানুষের মূল্যায়ন আমাদের তথা দেশের সুবিধাভোগী শ্রেণীর বুঝতে সুবিধা হবে। আমরা তখন সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জনমত সৃষ্টি করতে পারব।



শেষ আরেকটা কথা হল, শীর্ষ মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনে গ্রামীণ ব্যাংক তথা গ্রামীণ টেলিকমের শেয়ার হল ৩৪%। এই কোম্পানীর লাভের অংশটুকু গ্রামীণ ব্যাংক কোন খাতে ব্যয় করে এবং সেটা কেন গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার কমাতে ব্যবহৃত হয় না সেই বিষয়গুলো পুরো দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।



অনেকে অনেকরকম মন্তব্য করতে পারেন, কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস- কেউ ধোয়া তুলসিপাতা নয়।



[এই বিষয়ে যে কোন তথ্যপূর্ণ ও বিশ্লেষণমূলক লেখার লিংক দিলে উপকৃত হব।]

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:২৯

মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: আপনার লেখায় প্রথম কমেন্ট করছি। লেখাটা খুবই ভাল লাগলো। আমার গত বছরের বেশি সময় দেশের বহু জেলায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সাথে কথা বলা, তাদের অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত হয়েছি বিভিন্ন সময়ে গবেষণা কাজ করতে গিয়ে। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে খুব অল্প কিছু পরিবারের উন্নতি ঘটেছে, তাও ক্ষুদ্রঋণের সহায়তার সাথে সাথে ওই পরিবারের সক্ষমপুরুষনারীদের শ্রম জড়িত। একটাই পেশার অধীনে ওই উন্নয়ন ঘটেনি। ওই পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তির অন্যকাজের অর্জনও এখানে যুক্ত।

গ্রামীণ ব্যংকের অধীক সুনাম তারাই করে যারা তার ভক্তকুল, জ্ঞানপাপীরা। গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকে সুদখোর হিসেবে চেনে। আমাদের গ্রামীণ সামাজিক বাস্তবতায় সুদখোর - শব্দটাকে খুব নিচু করে দেখে। এটা আমার নিজের কথা নয়। এই শব্দটা আমি গ্রামের অল্পশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মানুষের মুখ থেকে বহুবার শুনেছি। এনজিও সম্পর্কেও তাদের সরল কিছু মতামত আছে। আমি কুড়িগ্রামের এক গ্রামে অনেক কৃষকদের মাঝে কিছু তথ্য সংগ্রহ করার জন্য একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা সভার ভেতর এনজিওদের সুফল বিষয়ে মতামত দিতে বলেছিলাম - এক বয়স্ক কৃষক বলেছিল 'রাস্তা নষ্ট করলো ট্রাক আর গ্রাম নষ্ট করলো ব্রাক। তাদের পর্যবেক্ষণকে সেলুট জানিয়েছিলাম। এটা তাদের অভিজ্ঞতাজাত এনজিও বিষয়ে সার কথা। গ্রামীণ ব্যাংক এর বাইরে না। এইরকম আমারও মনে হয়।

ভাল থাকবেন।

১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:০৫

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
গ্রামীণ ব্যাংক তথা ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য ও অবদান দেশের বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের মুখে শুনতে পাই।
অথচ গ্রামের সাধারণ মানুষের ভিতর এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আমার পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে।
কেউ কেউ গ্রামীণ ব্যাংকের সহায়তা নিয়ে উপকৃত হয়েছেন আবার কেউ কেউ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শাপশাপান্ত করছেন।
তবে দুটি জিনিস স্পষ্ট যে- ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারীরা কিস্তির টাকা আদায়ে জোরজবরদস্তি করে থাকেন এবং বাঙ্গালী ঋণ নিলে যে শোধ করতে হবে সেই চিন্তা মাথায় ঢুকাতে চায় না।

২| ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৩১

মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: #গত দশ বছরের বেশি সময় - পড়তে হবে।

১১ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:০৯

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: বুঝতে পেরেছি ধন্যবাদ।

৩| ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১৭

দাসত্ব বলেছেন: গ্রামীন ব্যাংক কে অনেকে সুদী মহাজনী ব্যবসার ব্যাংকায়ন হিসেবে ধরে নেয়।
তারা বলতে চায় এই ব্যাংক দিয়ে দারিদ্র দুরীকরন হয়না , বরন্চ্ঞ গরীব দারিদ্রের দুষ্ট চক্রে আটকা পড়ে।

এটার মূল কারন গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার ৩০ %- ৩৫ % ..... বিশ্বস্ত সূত্রে জানি।

মুদ্রার একপিঠ দেখে অনেক কিসু বলে ফেলা যায়।
বাংলাদেশের গরীবরা অনেক ক্ষেত্রে স্বভাব দোষে গরীব।
গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার এত চড়া হওয়ার কারন আমি ধারনা করি ঋন নিয়ে ফেরত না দেওয়ার প্রবনতা।
এটা একটা নিখাদ বাস্তবতা।
ড: ইউনুস লংগর খানা খুলে বসেননি , হাজী মুহাম্মদ মহসীনের মত দানবীর নন....
এটা ব্যাংকিং....
ব্যাংক টাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে টাকা ফেরত পেতে হবে ....
সুতরাং ঋন গ্রহীতাদের কে চাপে রাখতে হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশী ক্রেডিট কার্ড দিতো সিটি ব্যাংক.....
অর্থনৈতিক মন্দার পর ওরাই সবচেয়ে বেশী ধরা খেয়েছে....
ব্যবসার অবস্থা লালবাতি....লাটে ওঠার মত...
কিভাবে এটা হলো?
কারন ওরা চাইলেই ক্রেডিট কার্ড দিতো এবং সুদের হার ছিলো সবচেয়ে কম এবং সুদের শর্ত ছিলো সবচেয়ে সহজ... অবশ্য এটা এখনো আছে.....
কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার বেল ন্যাড়া মাথায় পড়ার পর সিটি ব্যাংক সাবধান হয়ে গেসে.....
যুক্তরাষ্টে ২ বছরের বেশী হয়ে গেলো..... অন্য ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছি যাদের সুদের হার বেশী এবং সুদের শর্ত একটু কম নমনীয়....
ঠেলার নাম বাবাজীতে মাসের কিস্তিও ঠিক রাখি....
এ যাবৎ ২ বার আবেদন করলাম সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের জন্য , সিটি ব্যাংক এবারো রিজেক্ট করলো আমার আবেদন... অবস্থা বোঝেন.....

তাহলে বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে ডঃ ইউনুস যে গরীব কে ঋন দেয়ার সাহস দেখাচ্ছেন সেটাই তো অনেক বড় একটা ব্যাপার....

এই নাটক বাজীর দেশে সবসময় ঘটনার ভেতরের কোন একটা গুরুতর সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট তৈরী করার জন্য দৃশ্য তৈরী করা হয়....
ডঃ ইউনুস কে নিয়েও সেটা তৈরী হয়েছে....

অপ্রিয় সত্য টা হচ্ছে এদেশের গরীবরা রিকশাওয়ালাদের মত আচরন করে....
হাতে পরীক্ষার জিনিসপত্র দেখলে কিংবা বৃষ্টি হলেই এরা আমাদের কে ব্ল্যাকমেইল করে...
গ্রামান্চ্ঞলে গরীবদেরও টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়ার বদঅভ্যাস আছে.....
গ্রামীন ব্যাংক যদি দাতা হাতেম তাই আচরন করে লাটে উঠতো তো দেশে- ব্লগে হাজারো চামচিকা যারা ইউনুসের মত হাতির গায়ে লাথি মারছে আজকে মহাবিজ্ঞ সমালোচকের মত তারা তখন দানবীর দেউলিয়া ইউনুস কে নিয়ে চুকচুক করতো !

আসল সমস্যা হচ্ছে ইউনুসের আন্তর্জাতিক সম্মান আর পরিচিতি....
এরা বলে ইউনুস সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল.....
বলি তাই বোধহয় ইউনুস এমআইটির অরিয়েন্টেশনে বক্তৃতা দিতে পারেন!!!

ইউনুস নোবেল পেয়েই দোষ করেছেন।



আসল সত্যটা হলো
১.
বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হচ্ছে ইউনুসের নামে.... ইউনুসের দেশ - বাংলাদেশ।
শেখ মুজিবের নামে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হচ্ছেনা....
প্রশ্নটা হলো :

সাকিব সম্পর্কে আমার ধারনা সে ভবিষ্যতে ৩৫০ টা ওয়ানডে খেলতে পারলে ২৫+ ওয়ানডে হান্ড্রেড করবে , উপমহাদেশ সহ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ গুলোতে সাকিবের নামে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হবে..... এই দেশগুলোতে সাকিব কে যত মানুষ চিনবে তার ১০০০০ এ ১ জনও মুজিব কে চিনবেনা , মুজিবই নয় শুধু সোহরাওয়ার্দী- শেরেবাংলা -ভাসানী-জিয়া কাউকেই চিনবেনা...
হীন মন্য হাসিনা কি তাহলে সাকিব কেও সামনে ভোগাবে ?

২.
গ্রামীন ব্যাংক যদি নষ্টনীতির ব্যাংকই হয়ে থাকে তবে ব্যাংকটিতে সরকারের মালিকানা কত শতাংশ সেটা নিয়ে আদালত - রাষ্ট্রপক্ষ প্রশ্ন তুললো কেন ?
বোধহয় এটাকেই বলে সেয়ানা পাগল !

৩.
হাসিনা তার গোবর মস্তিষ্কে এটা বুঝতে পারছেনা যে ইউনুসকে সবাই চেনে তার থিওরীর জন্য , ব্যাংকের জন্য নয়। ব্যাংক ইউনুস নানাদেশে গড়বে... ভেনেজুয়েলায় - আমেরিকায় সর্বত্র....
ইউনুসের আন্তর্জাতিক পরিচিতি সে ইউনুসকে গ্রামীন থেকে সরিয়ে দিলেই দাবিয়ে রাখতে পারবেনা।

৪.
বলা হয় গ্রামীন ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে কয়জন দারিদ্রমুক্ত হয়েছে ?
কৃষি ব্যাংকের দায়িত্ব ঋন দেয়া , হাল চাষ করা নয় ।
গ্রামীন ব্যাংকের দায়িত্ব ঋন দেয়া এমন কিসু মানুষকে যারা কোনদিনও কোন ব্যাংক থেকে ঋন পাওয়ার আশা করতে পারেনা।
ডঃ ইউনুসের দায়িত্ব এটা নয় যে ঐ ঋণের টাকায় হাসমুরগী পালন কিংবা গরু -ছাগল পালনের ট্রেনিং দিয়ে ঐ ঋন গ্রহীতাকে কাঁধে তুলে নিতে হবে।

বাঙালীকে খেতে না দিলে বলে দেয় নাই।
খেতে দিলে বলে খাইয়ে দেয় নাই।
আবদারের শেষ নাই !

আমার মন্তব্যটা এখানেই শেষ হলো।



১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ২:১১

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনার মন্তব্যের সাথে অনেকাংশে একমত। তবে কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করতে চাই-

১। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের সুদের হার উচ্চ। আপনার মতে, এটা ব্যাংকের অস্তিত্বের স্বার্থেই। ধরে নিই, একটি গ্রামে ১০০ জন গ্রাহককে ব্যাংক একই হার সুদে ঋণ দিল। এর মধ্যে ৮০ জন গ্রাহক সময়মত কিস্তি পরিশোধ করলেন এবং ২০ জন ব্যর্থ হলেন। আপনার কথা অনুসারে ব্যাংকের সুদের হার পর্যাপ্ত থাকায় উক্ত ডিফল্টারদের কারণে ব্যাংক আল্টিমেটলি কোন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। কিন্তু ভেবে দেখেছেন, ২০ জনের ব্যর্থতার কারণে বাকী ৮০ জনকে কড়া সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। (সঠিক পরিসংখ্যান গ্রামীনের ওয়েবসাইটে আছে?)
২। কৃষিব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ প্রদানের পার্থক্য আছে। যতদূর জানি, কৃষিবাংক উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা দিয়ে থাকে। উদ্যোক্তার প্রকল্প আছে কি নাই সেটা মূখ্য বিষয় নয় (কিংবা যাচাই করার সুযোগ হয় না)। অনেকে কৃষিঋণ নিয়ে সেটা ভিন্ন খাতে ব্যয় করে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ পেতে হলে নির্দিষ্ট প্রকল্প থাকতে হয়, প্রকল্প মনিটরিং করা হয় এবং ব্যাংকের কিস্তি ঐ প্রকল্পের আয়ের সাথে আবর্তিত হয়।
৩। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতারা অধিকাংশই ঋণ ফেরত দেয়। তা না হলে এই ব্যাংকটি দিনে দিনে এভাবে সমৃদ্ধ হতে পারত না। ড. ইউনুসের দেউলিয়া হওয়ার প্রশ্নও উঠত না। তবে ঋণের কিস্তি আদায়ে কঠোরতা আছে সেটা সবাই স্বীকার করে।
৪। আজ হোক কাল হোক ক্ষুদ্রঋণ তথা ড. ইউনুসকে নিয়ে কথা উঠতই। তাছাড়া নিরঙ্কুশ ক্ষমতা স্বৈর মনোবৃত্তির জন্ম দেয়। হয়ত বিষয়টার অনেক সুন্দর ও সম্মানজনক সমাধান হতে পারত। কিন্তু আমরা স্বভাবে বাঙ্গালী- ঠেলে না সরালে একচুল জায়গা ছাড়তে রাজি নই।

আপনাকে ধন্যবাদ।

৪| ১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:২০

মেহেদী পরাগ বলেছেন: পোস্টটা পর্যবেক্ষণ করা শুরু করলাম।

১১ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১০:৪৫

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার নিজের মতামত আশা করেছিলাম।

৫| ১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১:৫৯

শিরোনাম বলেছেন: চমৎকার স্পেলুভাই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

১১ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১০:৫৩

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনার নিজের মতামত কি সেটা জানাই কিন্তু উদ্দেশ্য। ধন্যবাদ।

৬| ১১ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:২৫

আকাশের তারাগুলি বলেছেন: শীর্ষ মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনে গ্রামীণ ব্যাংক তথা গ্রামীণ টেলিকমের শেয়ার হল ৩৪।

গ্রামীন টেলিকম কি আসলেই গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান? নাকি গ্রামীন ব্যাংকের ফেসভ্যালু, গরীবী, জনবল ব্যবহার করে শুধু লাভবান গ্রামীন টেলিকম আলাদা প্রতিষ্ঠান যারা পুরো প্রফিটটাই গ্রামীন টেলিকমের যার কোন অংশই গ্রামীন ব্যাংক পায়না।


বাংলাদেশের ইউনুস নোবেল পেয়েছে।
ইউনুসের বাংলাদেশ নয় মোটেই। নোবেল লরিয়েট দিয়ে দেশের branding হয় না।

১১ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৪১

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: নোবেল লরিয়েট দিয়ে দেশের branding হয় না।

৭| ১১ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:২৬

মুভমেন্ট বলেছেন: আপনি চাইলে এই লিংকটা পড়ে দেখতে পারেন। চেষ্টা করেছি মধ্যবর্তী কিছু যুক্তিকতা তুলে ধরতে (Click This Link)

১১ ই মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১৪

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: ধন্যবাদ। পড়ছি।

৮| ১১ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:২৪

ভীরু বলেছেন: ইউনূস সাবেরে লইয়া এত্তো ক্যাচাল কেন? চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। যেইগুলান মিডিয়াতে বইসা ইউনূস সাবেরে আর হাসিনা বুবুরে লইয়া ক্যাচাল করে সেইগুলা চোরের সহযোগী। অরা লগি বৈঠা লইয়া মানুষ মারে আবার সুদের বোঝা চাপাইয়া মানুষ মারে। পেটেও লাথি মারে পিঠেও মারে। নোবেল প্রাইজ কি এমন কোন চুক্তি যে ইহার ধারক হবে তার সাত খুন মাপ? অভিযোগের বিচার হইবো- বিচারের রায় যা হয় তাই মাইন্না ল্ওন লাগব। এত্তবড় সম্মান ওয়ালা মানুষ হইলে গরিবের রক্ত চুইষ্যা খাইলো কেমনে?

১১ ই মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৬

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: নোবেল প্রাইজ কি এমন কোন চুক্তি যে ইহার ধারক হবে তার সাত খুন মাপ?

৯| ১১ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:৪৬

নামহীনা বলেছেন: আপনাকে বলছি, গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার ১০% এবং এটা সমমানের সকল ক্ষুদ্র ঋনপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন।

১৫ ই মার্চ, ২০১১ বিকাল ৪:০৬

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: গতকাল এক আলোচনায় বক্তারা বললেন বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণে সর্বনিম্ন সুদের হার ২৩%!!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.