নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কস্তুরী খুঁজে ফিরে তার সুবাস..হায় মৃগ, যদি জানত গন্ধ কার! পাখিও খুঁজে ফিরে শিস--হায়, যদি সে জানত! সুর থাকে ভেতরে, অন্তরে.। চুপটি করে এই তো এখনো ডাকে, ব্যকুল হয়ে - ডাকে আর ডাকে ।।

রাবেয়া রাহীম

মানব মন বুঝে, সাধ্য আছে কার ! কখনো আবেগী গাঁথুনিগুলো যেন নিরেট কনক্রিট কখনো আবার গভীরে সাজানো আবেগগুলো- সৌরভে সুবাসিত হয়ে আনন্দে লীন !

রাবেয়া রাহীম › বিস্তারিত পোস্টঃ

তাঁর কথা তাহাঁদের কথা

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:১৪

তাঁর সাথে আমার প্রথম দেখা অফিসের এলেভেটর থেকে বের হওয়ার সময়। এটাকে ঠিক দেখা বলা যায় না---সকালে অফিস সময়ে আমি অফিস ভবনের এলেভেটর থেকে বের হয়ে এসেছি আর সে কালো কোটের সাইড পকেটের ভেতর দুই হাত ঢুকিয়ে ভাবলেশহীন মুখে দাঁড়িয়ে ছিল এলেভেটরে উঠার জন্য। প্রথম দেখাতে তাঁকে খুব সাধারন বলেই মনে হোল। আমার ছিল অফিসের প্রথম দিন তাই বেশ উত্তেজনা আর কিছুটা তাড়াহুড়াও ছিল আমার ভেতর ।

পনের তলা অফিস ভবনের দশ তলার এলেভেটর থেকে বের হওয়ার সময় তার সাথে শুধু চোখাচোখি হয়েছিল ওই সময়ে। সে অফিসেরই একটি কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য নীচে নামার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলো। সে ছিলো নির্বিকার। প্রথম দেখায় আমার চোখে তাঁর কোন বিশেষত্ব ধরা পড়েনি।

নিউ জার্সির চেরিহিলের বানিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি গ্রুপ অব কোম্পানির আইটি সেক্টরে আমি এসিস্ট্যান্ট কিউ এ এনালিস্ট হিসেবে জয়েন করেছিলাম আর সে ছিলো ঐ অফিসের কিউ এ এনালিস্ট। অফিসে সে অনেকটা আমার বস ছিলো এমনই বলা যায়। তাঁর কাছে আমার কাজগুলো জমা দিতে হতো । তবে কাজের শিডিউল বুঝে নিতে হতো না। ম্যানেজার আমাকে সব বুঝিয়ে দিতেন।

লাঞ্চের পর সকাল থেকে যতগুলো মডিউল টেস্ট করেছি সেগুলো একিউরেট হয়েছে কিনা তা চেক করার জন্য ম্যানেজারের কাছ থেকে মেইল পেলাম “অল টেস্ট মডিউল সেন্ড টু রিদোয়ান আহমেদ" । পাশে রিদওয়ান আহমেদের ইমেইল এডরেস। ম্যানেজারের কথামত
"রিদোয়ান আহমেদ" কে সব রিপোর্ট পাঠিয়ে পরের মডিউল টেস্টের জন্য মনযোগ দিয়েছি। প্রায় ঘন্টা খানেক পর রকিং চেয়ারের শব্দে ঘাড় ঘুরাতেই সকালের সেই চেনা মুখ -- “ প্রথম দিনেই খুব ভালো করেছেন— কংগ্রাস “ ছোট্ট একটুকরো হাসি উপহার দিয়ে রকিং চেয়ারটা ঠেলে সোজা করে আবার নিজের কাজে মন দিলো। ব্যাপারটা এতো তড়িৎ ঘটে গেলো যে আমার বোধগম্য হতে কিছুটা সময় নিলো। আমি অবাক হয়ে চেয়েই আছি মানুষটার দিকে। সকালে এলেভেটর থেকে বের হয়ে প্রথমে তার সাথেই তো দেখা হয়েছিলো! ঘুণাক্ষরেও তখন বুঝতে পারিনি যে দিনের ৮ ঘন্টা সময় দুজন পাশাপাশি চেয়ারে পার করবো। তার ভরাট গলার ব্যাক্তিতসম্পন্ন কন্ঠ আমাকে সম্মোহিত করে দিলো যেন। হয়ত অনেকক্ষণ চেয়েছিলাম। নিজের কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে চেয়ে কিবোর্ড চাপতে চাপতে বললো “ এতো দেখলে আমি কমে যাবো, কাজে মনযোগ দেও। পরে কথা হবে”। সম্মোহিত আমি শুধু বললাম “হু”।

আগামী দুই সপ্তাহের বিভিন্ন কাজের সূচি ঠিক করতেই কখন বিকাল পাঁচটা বেজে গেলো টের পাইনি । ইনবক্সে ম্যানেজারের মেইল দেখতে পেয়ে চেক করি “ সাট ডাউন কম্পিউটার , গো হোম , টেক রেস্ট, কাম ব্যাক টুমরো মরনিং। “
"ওকে” রিপ্লাই দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকে খুঁজি মানে রিদওয়ানকে। কি আজব মানুষ কিছু না বলেই বের হয়ে গেলো। কেমন একটা অভিমান দানা বাঁধে যেন। আবার মন থেকে “ রিদওয়ান” নামটি ঝেড়ে ফেলার জন্য কাঁধ ঝাঁকিয়ে নিজেকে বলি "চলে গেলেই বা আমার কি”! কাঁধ ঝাঁকিয়ে তাকে ঝেড়েই ফেলে দিলাম বলা যায়। কিন্তু ভাগ্য যখন নির্ধারিত হয়ে যায় তখন আমাদের হিসেবের ভেতর কিছুই থাকেনা বা আমাদের হাতে কোন কিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। আমরা তখন বিধাতার হাতের পুতুল মাত্র ।

পরের দিন অফিসে আমার জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসতে যেতেই তার দিকে চোখ যায়। আকাশী রংয়ের শার্ট গায়ে তার নিজের চেয়ারে বসে কমপিউটারের দিকে ঝুঁকে আছে। আমার চেয়ার টানার শব্দ পেয়ে ঠায় বসে বাংলায় বললো “সুপ্রভাত “
আমি উত্তরে বললাম গুড মরনিং। আসলে আমেরিকায় আমরা গুড মরনিং বলাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাই। সে যে সুপ্রভাত বলেছে এ ব্যাপারটা আমি খেয়াল করিনি মোটেও। চেয়ারটা কিছুটা পেছন দিকে ঠেলে শুস্ক আবার কিছুটা রুক্ষও গলায় বলে উঠলো — আমি বাংলাতে বলেছিলাম, উত্তর বাংলাতেই আশা করেছিলাম। মাথা ভর্তি কাঁচা পাকা চুল চোখে প্লাস পাওয়ারের চশমার আড়ালে ভীষণ আবেগীয় দুটি চোখের কালো তারায় কি দুর্নিবার আকর্ষণ আমার ভেতরটা কাঁপিয়ে দিলো যেন। আমি তাকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে “ সুপ্রভাত “ বলে নিজের কাজে মনযোগী হয়ে উঠলাম।

আজকে অফিসের দ্বিতিয় দিনে মডিউল টেস্টের লিস্ট বেশ দীর্ঘ ছিলো। কখন যে লাঞ্চ টাইম হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। পাশ থেকে বলে উঠলো — খাওয়ার সময় খেতে হয়ে। চলো আজ তোমাকে পিওর বাংলাদেশি খাবার খাওয়াবো। উইকডেতে ঘরে রান্না করা হয়ে উঠে না। তাছাড়া কোন কোন শনি রবিবার ঘরের অন্যান্য কাজে ক্লান্ত হয়ে পিজা অর্ডার করেই খাওয়া শেষ করি। তবে কখনো উইক এন্ডে বাংলাদেশি খাবার রান্না করতে পারি। আয়েশ করে বাংলাদেশী খাবার রান্না করার সময় বিদেশে আসার পর খুব কমই জোটে। তাই তার কথায় আমার জিভ যেন লকলক করে উঠলো।

চেরি হিলের এই এলাকাটি ছিমছাম নিরিবিলি। এ এলাকায় বাংলাদেশী, ইনডিয়ান , পাকিস্তানি দেখা যায়। তবে সংখ্যায় খুব কম। বেশ কিছু সুপার চেইন শপ আর ব্র্যান্ড নেম কোমপানির স্টোর নিয়ে বড় একটা শপিং মল আছে এখানে। তার পাশেই সাদামাটা একতলা একটা বিল্ডিংয়ের সামনের অংশ মোটা কাচের ওয়াল দিয়ে ঘেরা বাহারী ডিজাইনে লেখা ইন্ডিয়ান কুজিন । তবে রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি । কাঁচের ভারি দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই সুস্বাদু মুখরোচক বাংলাদেশী খাবারের গন্ধে ভীষণ ক্ষিধে পেয়ে গেলো। মুখোমুখি চেয়ারে আমরা দুজন বসলাম। ততক্ষণে বেয়ারা সালাড আর রায়তা দিয়ে গেছে সাথে পাঁপড়। এতোটুকু খাবার দেখেই ক্ষুধায় পেট জ্বলতে লাগলো। আমি গোগ্রাসে সালাড আর পাঁপড় খেতে লাগলাম। আমার খাওয়ার ধরন দেখে রিদয়ান হেসে উঠে । গভীর মমতায় জানতে চায়— সকালে নাস্তা ঠিকমত করেনি না?

মুড়মুড়ে পাঁপড় কুড়কুড়িয়ে ভাংতে ভাংতে বলি --- "এক পিস টোসট কফি"

"পাগলী এতো অল্প খেলে চলে! দুধ ডিম খাবে রোজ। এ দেশে অনেক কাজ করতে হয় । ঠিকমত না খেলে শরীর খারাপ করবে। ঘরে দেখার মত কেউ কি আছে"? — কি অবলিলায় সে পাগলী কথাটা বলে দিলো কিন্তু শুনতে আমার কেনো যেন ভীষণ ভালো লাগলো।

(ছবি গুগল থেকে নেওয়া)

(চলবে)

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:০৮

কানিজ রিনা বলেছেন: বেশী বেশী ভাললাগল পরের পর্ব আশায়
থাকলাম। অনেক শুভ কামনা।

২| ০১ লা নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২৮

জাহিদ অনিক বলেছেন:

আমার লাইক গ্রহন করা হয়েছে বুবু।


আচ্ছা, অবস্থা তাহলে এই। আমি জানি এই গল্প মিথ্যা। সত্য হলে মিঃ রহীম তোমাকে খেয়ে ফেলবে! নাকি কিছুই বলবে না? কি জানি ?


যাইহোক, গল্পের দিকে মন দেই। মেয়ে চরিত্রটায় মনে হল মেয়েটা অল্পতেই মুগ্ধ হয়ে যায়। সাধারনত যাদের জীবনে প্রাপ্তি কম তারা অল্পতেই মুগ্ধ হয়ে যায়।
আর ছেলেদের কথা বলতে চাইলে হুমায়ূন আহমেদ থেকে ধার করে বলতে হয়, ছেলেরা সময়ই একজন মুগ্ধ বালিকা চায়, যে বালিকা তার সবকিছুতেই মুগ্ধ হবে। হাসি দিলেও মুগ্ধ হবে, কাশি দিলেও মুগ্ধ হবে।

গল্পের মেয়েটা যেন সেই মুগ্ধ বালিকা। এই বালিকা খুব শীঘ্রই বেদনার নীল জলে পড়ে যাবে।

৩| ০১ লা নভেম্বর, ২০১৭ রাত ২:৪৫

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: আবেগই কি প্রাধান্য পেয়েছে!! ভুলও হতে পারে।।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.