| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
Sujon Mahmud
কারো যদি গোপন সাফল্যের চাবিকাঠি থাকে, তাহলে সেটা থাকে তার অন্যের কথার দৃষ্টাকোণ আর নিজের দৃষ্টি কোণ বুঝে নেওয়ার মধ্যে।।
ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের স্পর্শ।
আজ সকালটা অন্যরকম। উঠোনে নরম রোদ পড়েছে, কিন্তু সেই রোদের উষ্ণতা যেন বুকের ভেতর ঢুকছে না। ব্যাগটা গুছিয়ে দরজার পাশে রেখে দাঁড়িয়ে আছি, তবুও মনে হচ্ছে—কিছু একটা ফেলে যাচ্ছি। আসলে কিছু না, সবকিছুই ফেলে যাচ্ছি।
বউটা চুপচাপ। সে কখনো সামনে কাঁদে না। কিন্তু আজ তার চোখের নিচে জমে থাকা ঘুমহীন রাতের চিহ্নগুলো সব বলে দিচ্ছে। রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে বারবার একই প্রশ্ন করছে,
—আর কিছু লাগবে?
আমি জানি, এটা প্রশ্ন না… এটা তার মনের অজানা ভয়—আমি গেলে আবার সেই ফাঁকা ঘর, সেই একাকীত্ব।
আমার ছোট মেয়েটা বুঝে না কিছুই। সে শুধু জানে, বাবা যাবে।
তার ছোট্ট হাতটা আমার শার্ট আঁকড়ে ধরে বলল,
—বাবা, তুমি যেও না… তুমি এখানে থাকো না?
এই ছোট্ট প্রশ্নটার উত্তর দিতে পারিনি। শুধু তাকে বুকের সাথে চেপে ধরেছি। তার মাথার গন্ধটা যেন বুকের ভেতর গেঁথে নিতে চাইলাম—ঢাকার একাকী রাতগুলোতে বাঁচার জন্য।
বাবা বারান্দায় বসে আছেন। তার চোখে কোনো জল নেই, কিন্তু দৃষ্টি অনেক দূরে। হয়তো তিনি ভাবছেন—তার ছেলেটা কবে আবার এমন করে বাড়ি ফিরবে। বয়সের ভারে তার শরীর নুয়ে পড়েছে, তবুও আমাকে বললেন,
—সাবধানে থাকিস… শরীরের খেয়াল রাখিস।
এই কথাগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকে হাজারটা না বলা ভালোবাসা।
মা… মা কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারছে না।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আমার ব্যাগে বারবার হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, যেন ব্যাগের সাথে আমাকে আটকে রাখতে চায়।
—খাবার ঠিকমতো খাস… সময়মতো ঘুমাস…
এই কথাগুলো তো প্রতিবারই বলে, কিন্তু আজ কেন যেন প্রতিটা শব্দ বুকের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধছে।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার মুহূর্তটা সবচেয়ে কঠিন।
একবার পেছনে তাকালাম—
বউটা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে, চোখে অশ্রু।
মেয়েটা তার আঁচল ধরে আছে, কাঁদতে কাঁদতে হাত নাড়ছে।
মা দরজার চৌকাঠ ধরে দাঁড়িয়ে, যেন পা এগোতে পারছে না।
বাবা চুপচাপ তাকিয়ে আছেন—নিঃশব্দ বিদায়।
রাস্তা ধরে হাঁটছি, কিন্তু মনে হচ্ছে প্রতিটা পা আমাকে ছিঁড়ে ফেলছে।
স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে উঠলাম।
ট্রেন ছাড়ার আগে শেষবার ফোন করলাম—
ওপাশ থেকে শুধু কান্নার শব্দ।
ট্রেনটা যখন ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করল, মনে হলো—আমি শুধু একটা শহরে যাচ্ছি না, আমি আমার সুখগুলো পেছনে ফেলে যাচ্ছি।
ঢাকায় পৌঁছালে আবার সেই ব্যস্ততা, সেই কাজের চাপ, সেই কোলাহল।
কিন্তু রাত নামলে, নিঃশব্দে একটা শূন্যতা এসে বসবে পাশে।
মোবাইলের স্ক্রিনে মেয়ের হাসি, বউয়ের ছবি, মায়ের কণ্ঠ—সবকিছুই থাকবে… কিন্তু ছোঁয়া থাকবে না।
জীবনটা বড় অদ্ভুত।
আমরা সবাই ভালো থাকার জন্য ছুটি, কিন্তু ভালো থাকার জায়গাটাই ফেলে চলে আসি।
ঈদের সেই বারোটা দিন এখন শুধু স্মৃতি।
আর আমি…
আমি আবার অপেক্ষা করছি—পরের ছুটির, পরের ফিরে যাওয়ার, পরের সেই মুহূর্তের জন্য—যখন আবার দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে কেউ বলবে,
—এসেছো?
হয়তো সেই একটা শব্দই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:২৯
Sujon Mahmud বলেছেন: ধন্যবাদ
২|
৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখাটা ভাল লাগলো।
আমিও এই জিনিসটা খেয়াল করেছি। দেশ, জাতি ভেদে, departure এবং arrival - দুই জায়গায় একদম ভিন্ন দুই scenario
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৭
Sujon Mahmud বলেছেন: একদম ঠিক বলেছেন—একই যাত্রা, কিন্তু বিদায় আর ফিরে আসার অনুভূতি যেন দুই মেরুর।
departure-এ থাকে ভারী বুক আর চুপচাপ চোখের ভাষা, আর arrival-এ থাকে হাসি আর অপেক্ষার উষ্ণতা।
এই দুইয়ের মাঝেই আমরা বেঁচে থাকি, আর গল্পগুলো জন্ম নেয় এখান থেকেই।
৩|
৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৫
মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: মা'দের এমনি স্নেহ সন্তানের প্রতি শিশুকাল থেকে সন্তান বুড়ো হয়ে গেলেও একি কদর। পৃথিবীর সকল মা'দের শ্রদ্ধা। আপনার লিখা ভালো লাগল।
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৯
Sujon Mahmud বলেছেন: সত্যিই, মায়ের ভালোবাসার কোনো বয়স হয় না—সন্তান যত বড়ই হোক, তার কাছে সবসময় সেই ছোট্ট শিশুই থেকে যায়।
আপনার এই অনুভূতিটা খুব গভীরভাবে ছুঁয়ে গেল, মনে হলো গল্পের বাইরেও একটা সত্যকে আপনি তুলে ধরলেন।
ভালো লাগার কথা জানিয়ে পাশে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
৪|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৯
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও যারা ঈদের ছুটিতে দেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই আবার তাদের শহরের কর্মস্থলে ফিরে আসতে পারেননি ।
সড়কের নির্মাণ মৃত্যু তাদেরকে কেড়ে নিয়েছে।
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৪২
Sujon Mahmud বলেছেন: এটাই প্রকৃতির নিয়ম
৫|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫৭
রাজীব নুর বলেছেন: বিদায় নেওয়াটা কষ্টের। দুপক্ষের জন্যই কষ্ট।
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:২৯
Sujon Mahmud বলেছেন: জ্বি, বিদায় নেওয়া বা দেওয়া দুটোই কষ্টের
৬|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫
খায়রুল আহসান বলেছেন: হৃদয়স্পর্শী পোস্ট!
অনুভূতিগুলো সার্বজনীন। তাই হয়তো অনেক পাঠকের মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠবে, চোখ অশ্রুসিক্ত হবে। বিশেষ করে তাদের, যারা এবারের ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন।
আপনি অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করতে পেরেছেন, এটা আপনার ভাবনার ও লেখার সার্থকতা। কেউ কেউ এগুলো শুধুই পাথরের বোঝার মত বয়ে নিয়ে বেড়াবে পরবর্তী ছুটি পর্যন্ত, আর রাতে নীরব আঁধারে বালিশ ভেজাবে।
ভালোবাসার সব ভাষা সব মানুষ বুঝতে পারে না। আপনি বুঝতেও পেরেছেন, বলতেও পেরেছেন এবং বুঝাতেও পেরেছেন।
একটি সুন্দর, মনোগ্রাহী পোস্ট লিখার জন্য আপনাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা!
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪
Sujon Mahmud বলেছেন: আপনার কথাগুলো পড়তে গিয়ে মনে হলো—এই গল্পটা শুধু আমার না, আমাদের সবার।
অনেকেই হয়তো বলতে পারে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একই অনুভূতি বয়ে নিয়ে চলে—আপনি সেটা অনুভব করেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
এভাবে পাশে থাকার জন্য সত্যিই
৭|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭
শায়মা বলেছেন: কোথাও ছেড়ে যাবার দৃশ্য এবং সময় আমার কাছে চিরকাল ভীষন কষ্টের।
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩২
Sujon Mahmud বলেছেন: এই অনুভূতিটা সত্যিই খুব গভীর—বিদায়ের মুহূর্তগুলো যেন বুকের ভেতর নিঃশব্দে ভার হয়ে বসে থাকে।
হয়তো এই কষ্টটাই প্রমাণ করে, আমরা কতটা ভালোবেসে বেঁচে আছি।
আপনার এই অনুভূতিটা গল্পের সাথে মিশে গেল—ধন্যবাদ হৃদয় থেকে বলার জন্য।
৮|
০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২২
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার এই লেখাটা ফেসবুক থেকে চুরি করা এবং এআই দিয়ে জোড়া-তালি দিয়ে বানানো।
শুধু তাই নয়, পাঠকের মন্তব্যের উত্তরগুলোও আপনি এআই দিয়ে লিখেছেন। আপনি হচ্ছেন ব্লগের আবর্জনা।
৯|
০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২০
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: সন্তানদের মা বাবা এত কষ্ট করে যত্ন করে বড় করেন অথচ বয়সকালে কেউ থাকতে পারি না তাদের কাছাকাছি। এটাই জীবন, আমাদের জীবনো এমন হবে একদিন
লেখা ভালো লাগলো