| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
(১) মুসলমানদের জন্য খাদ্যদ্রব্য দুই প্রকার। হালাল
আর হারাম। এর বাহিরে কিছু নেই।
আল্লাহ বলেন,
তিনি (আল্লাহ) তাদের জন্য পবিত্র ও ভাল বস্তুকে
হালাল করেদেন, আর খারাপ বস্তুকে করেন
হারাম”। (সূরা আরাফঃ ১৫৭)
সিগারেট কি পবিত্র ও ভাল বস্তু? অবশ্যই এটা খারাপ
বস্তু, আর উপরক্ত আয়াত দিয়ে আল্লাহ খারাপ
বস্তুকে হারাম করেছেন।
(২) আল্লাহ বলেন, “এবং খাও ও পান কর, কিন্তু
অপব্যয় ও অমিতাচার করোনা। কেননা, আল্লাহ
অপব্যয়কারীদের ভালবাসেন না?” (সূরা আরাফঃ ৩১)
এই পৃথিবীর সবাই জানে, ধূমপান করা মানে টাকার
অপচয় করা। এমন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ আছে কি
যে সিগারেটকে অপচয় বলবে না? আর সকল
অপচয় হারাম। ধূমপানের জন্য যে পরিমান অর্থ সারা
পৃথিবীতে ব্যয় হয়, তা দিয়ে কোটি কোটি
ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা
করা যেত।
(৩) সিগারেটের গন্ধ আশপাশের মানুষকে কষ্ট
দেয়। এই গন্ধ যে কতটা অসহ্য তা শুধু
অধূমপায়ীরাই বুঝে। ঘুম থেকে উঠার পরে
একজন ধূমপায়ীর মুখে যে দুর্গন্ধ হয়, তা দুনিয়ার
কোন বাজে গন্ধের সাথেও তুলনা করা যাবেনা।
রাসুল (সঃ) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস রাখে
সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না
দেয়৷” (বুখারী)
ধূমপানকারী তার ধুমপানের দ্বারা স্ত্রী-পরিজন,
বন্ধু বান্ধব ও আশে-পার্শের লোকজনকে
কষ্ট দিয়ে থাকে৷
অনেকে নীরবে কষ্ট সহ্য করে মনে মনে
ধূমপান কারীকে অভিশাপ দেন ৷ তাছাড়া বিভিন্ন
গবেষনায় দেখা গেছে, চেইন স্মোকারদের
স্ত্রীদের ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা
বেশি।
(৪) মহানবী (সঃ) রসুন বা পেয়াজের গন্ধ নিয়ে
মসজিদে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন
কেননা এই গন্ধ অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দেয়।
আর সিগারেটের গন্ধ তো সেগুলো হতে
কয়েক হাজারগুন বেশি কষ্টদায়ক।
(৫) আল্লাহ বলেছেন,
“তোমরা নিজেদের হত্যা করোনা। নিশ্চয়ই
আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি অতি দয়ালু।” (সূরা নিসাঃ২৯)
রাসুল (সঃ) বলেছেন, “তোমার প্রতি তোমার
শরীরের অধিকার আছে।”
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর ১০ লাখের
বেশি মানুষ মারা যায় ধূমপানের কারণে। যারা
ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা যায়, তাদের মধ্যে
৯০% হল ধুমপানের কারণে।
এছাড়া হৃদ রোগ, গ্যাস্ট্রিক আলসারসহ অনেক
জীবননাশকারি রোগ সৃষ্টি করে ধূমপান। এমনকি
গর্ভবতী মায়েরা ধূমপান করলে তাদের
বাচ্চাদের বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মানোর সম্ভবনা
অনেক বেশি থাকে। ইসলামে কখনো এভাবে
নিজের বা মানুষের ক্ষতি করা সম্পূর্ণ হারাম।
(৬) আল্লাহ বলেছেন, “এবং তোমরা নিজ হাতে
নিজেকে ধ্বংসে পতিত করো না।” (সূরা বাকারাঃ
আয়াত ১৯৫)
ধূমপান ক্যান্সার, যক্ষা প্রভৃতির মত ধ্বংসাত্মক
রোগের কারণ। ধূমপান নিজে নিজেকে ধ্বংস
করে দেয়।
(৭) ধূমপান যে বিষপান এটা সবাই একবাক্যে
স্বীকার করে। এমনকি ইউরোপে একসময়
এটাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং ধূমপানকারীকে
শাস্তি প্রদানও করা হত।
ইসলামে সকল বিষাক্ত জিনিস ভক্ষন করা নিষিদ্ধ।
রাসুল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি বিষ পানে
আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের
মধ্যে অনন্তকাল তাই চাটতে থাকবে। সেখানে
সে চিরকাল অবস্থান করবে।” (সহিহ মুসলিম)
(৮) আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জাহান্নামীদের
খাদ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,
“এটা তাদের পুষ্টিও যোগাবেনা ক্ষুধাও নিবারণ
করবে না৷” (সূরা আল-গাশিয়াহ : ৭)
ধুমপানের মধ্যে এ বৈশিষ্ট্যই রয়েছে যে তা
পানকারীর পুষ্টির যোগান দেয় না, ক্ষুধাও নেভায়
না৷ ধুমপানের তুলনা জাহান্নামী খাবারের সাথেই করা
যায়৷
(৯) বাস্তবতার আলোকে দেখা যায় এটা সমাজের
ভাল মানুষের কাজ না। সমাজে যারা বিভিন্ন অপরাধ
করে বেড়ায় তাদের ৯৮% ভাগ ধূমপান করে
থাকে৷ যারা মাদক দ্রব্য সেবন করে তাদের ৯৫%
ভাগ প্রথমে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়েছে তারপর
মাদক সেবন শুরু করেছে৷
আপনি একজনকে সিগারেট খাওয়ালেন কিংবা তাকে
খাওয়া শিখাইলেন। তাহলে উপরক্ত হাদিস অনুযায়ী
আপনি আজীবন তার পাপ পেতে থাকবেন।
আবার আপনি যদি সিগারেট হারাম, এটা প্রচার করে
মানুষকে তা থেকে বিরত রাখলেন, তাহলে
আজীবন তার সওয়াব পেতে থাকবেন।
যারা ধূমপান এখনো করছেন, তারা খাস দিলে
আল্লাহর কাছে তওবা করে যেভাবে পারেন, এই
মুহূর্তে ধূমপান ও অন্যান্য পান বন্ধ করুন। আর
কাফফারা সরূপ ভাল কাজ যেমন- নামাজ বেশি বেশি
করে আদায় করুন। আল্লাহ আপনাকে নিশ্চিত
উত্তম প্রতিদান দিবেন।
আল্লাহ বলেন,
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর,
একেবারে বিশুদ্ধ তওবা যাতে আল্লাহ
তোমাদের ক্রুটি-বিচ্যুতি মার্জনা করে দেন এবং
তোমাদেরকে সেই জান্নাতে প্রবেশ করান
যার পাদদেশ দিয়ে ঝরনাধারা প্রবাহিত।” (সূরা আত্
তাহরীম-আয়াত-৮) ।
মানা না মানা আপনার ব্যপার ,
বুঝলেন কি না দেখেন.।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান
করুণ । ( আ মি ন )
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৩৮
রক্তিম দিগন্ত বলেছেন: ইসলামে হারাম বলে নাই, মাকরূহ বলেছে।