| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কতদিন প্রাণ ভরে খোলা আকাশ দেখি না। দেখি না পূর্ণ চাঁদের উদয়াস্ত; ফাগুনে প্রাণদায়ী উড়াল হাওয়ায় মেহগনি গাছে বিন্দু বিন্দু করে বেড়ে ওঠা পাতার দল দেখি না কতটা কাল। দেখতে পাই না পরিষ্কার সকালে আকাশের ভয়ঙ্কর নীল। একসময় সে নীল থেকে চোখ ফেরাতে পারতাম না। হয়তো এখনও পারব না। অবশ্য এখন সেসব দেখার সুযোগই পাই না।
এখন শুধু দেখি লাশের খবর। প্রতিদিন কত কত মানুষ লাশ হচ্ছে। নোংরা বিতর্ক নিয়ে এক অপরকে টপকানোর যুদ্ধ দেখি। দেখি অসহিষ্ণু মানুষের দীর্ঘ মিছিল। সে মিছিলের সারি কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। চাই কী সেজন্য লাশের মিছিলটাও আরো লম্বা হোক; তাতে অসুবিধা নেই। তবুও এতটুকু দুশ্চিন্তা নেই। তারপরও কোনো ছাড় নয়। দোষী-নির্দোষ সবাই কী করে যেন এক কাতারে সামিল হয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিচারে আমি উদ্দাম আনন্দ করছি। নির্দোষ মানুষের প্রাণ চলে গেলে তাতে আমি নির্বিকার থাকছি। কী করে পারছি আমি? আমি কি আমার মায়ের মুখটাও ভুলে গেছি? কী করে ভুলেছি? আমার মা তো আমাকে এতটা নিষ্ঠুর হতে শেখায়নি। আমার দেশও আমাকে এতটা নিষ্ঠুরতার শিা দেয়নি। তবে কে বানালো আমাকে এমনটা? কোন্ অসভ্য নাগরিক জীবন আমাকেও অসভ্য আর নির্বিকার করে তুলেছে? তবে কি সভ্যতা নেই? সভ্যতার মুখোশ পড়ে তবে কি আছে কেবল কৃষ্ণগহ্বরের নিঃসীম অন্ধকার?
©somewhere in net ltd.