নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পথের পরিচয়

সঠিক পথে বাঁচতে চাই

পথের পরিচয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

মন্দিরে ভাঙচুর; একই কারণে নাফিস-বিশ্বজিৎ-হিজাব দিবস

০৩ রা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৭

১। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে ঘিরে চলছে মন্দিরে ভাঙচুর; দেশব্যাপী পুলিশ সদস্য, জামায়াত-শিবির, আওয়ামী লীগ, বিএনপির মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলাও চলছে সমানতালে; এসব ঘটনায় কার কী লাভ হচ্ছে সেই হিসাবটা অনেক জটিল। যে বিষয়টা চোখের সামনে স্পষ্ট, সেটা হল লাশের মিছিলটা ক্রমেই লম্বা হচ্ছে।

২। আল কায়েদার সঙ্গে জড়িত থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার কথা গত ৩ ফেব্র“য়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে স্বীকার করেছে বাংলাদেশি যুবক নাফিস। দেশি-বিদেশি সমালোচকদের মতামত অনুসরণ করেই বলছি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একজন মুসলমান আসামি প্রয়োজন ছিল। নাফিস কেবল তার বলি হয়েছে।

৩। গত ৯ ডিসেম্বর প্রাণ দিল বিশ্বজিৎ দাস।

৪। গত ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব হিজাব দিবস পালন করা হয়েছে। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নিউইয়র্কবাসী নাজমা খান এ দিবসটি পালনের উদ্যোক্তা।

৫। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে শিয়া ও সূন্নীদের মধ্যকার সহিংস বিরোধ, ইউরোপীয়-যুক্তরাষ্ট্রীয় সেনাদের সঙ্গে মুসলমান জঙ্গি গোষ্ঠীর সশস্ত্র লড়াইয়ের কথা না-ই বা বললাম।



এসবের মূল কিন্তু একটাই। রাজদণ্ডধারীদের নীতি-- রাজনীতি। এসব রাজনীতিতে ধর্মীয় বিরোধ উস্কে দিয়ে সেটাকেই লগ্নি করা হচ্ছে, সেটা বলাই বাহুল্য।

বিশ্ব রাজনীতির দিকে না গিয়ে আমরা একটু আমাদের দেশের দিকেই বরং মনোযোগ দিই। আমরা কী করছি? কী করছেন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা? আমাদের দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানদেরকে বলছি-- বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়াটা কি আপনাদের জন্য খুব কঠিন কাজ? ৯০ এ যদি পেরে থাকেন, এখনকার সময়টা তবে কী দোষ করেছে? নাকি ব্যবসার লাভের অঙ্ক নিয়ে আপনাদের মধ্যে বড় ধরনের ঝামেলা হয়েছে; যার হিসেবটা আপনাদের কেউই মেলাতে পারছেন না। কিন্তু আর কতদিন একতরফাভাবে নিজেদের লাভের কথা ভেবে যাবেন?

দেশের আটপৌরে মানুষগুলো তো আপনাদের কাছে খুব বেশি কিছু চায় না। তারা কেবল আপনাদের কাছে মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা চায়। তারা চায়, অহেতুক সহিংসতায় তাদের স্বজনরা যেন প্রাণ না হারায়। আপনাদের রাজনৈতিক আর ব্যবসায়িক লাভালাভের পরে যেটুকু চুইয়ে পড়ে, তা দিয়েই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। আপনাদের লাভের অঙ্কে বড় ভাগ বসানোর ইচ্ছা দেশের মানুষের নেই। তারা শুধু সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চায়। তাদের ন্যূনতম চাহিদাটুকু পূরণ করতে আপনাদের এত গড়িমসি কেন?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল দেশে যে অরাজকতা ডেকে এনেছে, তার মাশুল শুধু যে ওইসব দলের নেতা-কর্মীদের দিতে হবে তা-ই নয়; দেশের আটপৌরে মানুষগুলোকেও এর মাশুল গুণতে হবে এবং অনেক বেশি করেই গুণতে হবে। বাস্তবেও সেটাই হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে ভাঙচুর এর সূচনা মাত্র। এরপর আবার ৭১ দেখতে হবে কি না, কে জানে।

সূর্যসেন আর মহাত্মা গান্ধীর কথা খুব মনে পড়ছে। ব্রিটিশ সৈন্যরা খেলার মাঠ দখল করে ক্যাম্প করেছিল বলে এলাকার কিশোররা সূর্যসেনের কাছে প্রতিকার চাইতে গেল। কারণ তারা জানে, সূর্যসেন ব্রিটিশদের ঘৃণা করেন। কিন্তু সূর্যসেন ওই উত্তেজিত কিশোরদের শোনালেন অন্য কথা-- সূর্যসেন ব্রিটিশদেরকে নয়, ঘৃণা করেন তাদের শাসন পদ্ধতিকে। তিনি চেয়েছিলেন এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান। তাই তিনি সশস্ত্র আক্রমণের পথে এগিয়েছিলেন। অন্যদিকে মহাত্মা গান্ধী এগিয়েছিলেন অহিংস পথে। দুজনের ল্য কিন্তু একটাই ছিল-- ব্রিটিশ শাসনের অবসান। ব্যক্তিগত স্বার্থের অনেক উর্ধ্বে উঠে গিয়েছিলেন তারা।

আর আমাদের নেত্রীরা এখনও সেই জায়গাটাতেই ডুবে আছেন। তাই যদি না হবে, তবে কেন তারা আজ একসঙ্গে বসে আলোচন করতে পারেন না? মৈত্রীর প্রয়োজন সত্ত্বেও আজ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে দেখা করছে না?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.