নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ছেলেটা ছিল সপ্নচারী... গল্প বলত রকমারি। হাসি দিত মন ভরে... নজর নিত কেড়ে। এমনটাই ছিল রৌদ।রৌদ থাকে চট্টগ্রাম। কখনো নিজের জন্য ভাবতো নাহ শুধুই ছিল বন্ধুরা আর ছিল পরিবারের মানুষরা।স্কুলের জীবন শেষ করে কলেজ জীবনে পা দিল সেখানেও বন্ধু আর পরিবারের বাইরে কেউ ছিল

সানবিন রহমান মাহী

Crazy writer

সানবিন রহমান মাহী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মিহিরের ডায়েরীর শেষ পাতা

২৭ শে জুন, ২০১৪ রাত ৯:১১

এটা আমার শেষ লেখা আর কখনো আমি কলম হাতে নিতে পারবো কিনা তা জানিনা।আমি আজকে অনেক কিছুই লিখব।আমার যে অনেক কিছুই বলার আছে মিথিলাকে।

ওহ আমার পরিচয়টা দিয়ে নেই।আমি মিহির Chittagong থাকি আর একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে বি.বি.এ করছি।আমি অনেক সাধারণ একটা ছেলে নিজেকে ভালোবাসি নিজের পরিবারের মানুষদের ভালোবাসি আর ভালোবাসি আমার মিথিলাকে।আজকে আমি আমার কথা নয় আমার মিথিলার কথা লিখব।

মিথিলা নামটা আমার আগে থেকেই অনেক বেশি ভালো লাগত কখনো ভাবিনি যাকে আমি এতোটা ভালোবেসে ফেলব তার নামটাও মিথিলা হবে।আমার মিথিলার কথা কি বলব এক কথায় সে ছিল অসম্ভব সুন্দরী আর গোছানো একটা মেয়ে।

মিথিলার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুক থেকেই।পরিচয়টা ছিল এমন-

ফেসবুকের মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখতে গিয়ে একটা আইডি অনেক আকর্ষণ করেছিল আমাকে।আইডিটা ছিল (সিরিয়াল পাগলী মিথিলা)।প্রথমে মনে হয়েছিল ফেইক আইডি তারপরেও আমি আইডি টাতে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায় জানিনা কেন রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম হয়তো অজান্তে নিজের হৃদয়ের শূন্যতা কে পূণ্যতায় পরিনত হওয়ার কারণে।যদিও তিনদিন কোন রিপ্লে পায়নি কিন্তু চতুর্থদিন ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার নোটিফিকেশন দেখেই ভালো লাগল।

মিথিলার সাথে আমার প্রথম আলাপন শুরু হয় ভালোবাসা দিবসে যার কারনে আমার জানার সুযোগ হয় যে মিথিলা সিঙ্গেল।

মিথিলার সাথে আমার কথার পরিমাণ বাড়তে থাকে আর আমাদের মাঝে দূরত্ব কমতে থাকে।এভাবেই রাগ অভিমান আর কাছে আসার মধ্যেই চলছে জীবন আমার আর মিথিলার্।আমরা একজন আরেকজনের পছন্দের খেয়াল রাখা শুরু করলাম।

একদিন ছন্দের মধ্যে মিথিলাকে কয়েকটা লাইন লিখে পাঠালাম-

হাত ধরে বাচতে চায় অদৃশ্য হয়ে...

ছায়া হয়ে চলতে চায় অদৃশ্য হয়ে...

নিশ্বাসের মাঝে থাকতে চায় অদৃশ্য হয়ে...

এরপর মিথিলার রিপ্লে ছিল-

হাত ধরেই বাচব...

ছায়া হয়ে চলব...

নিশ্বাসের মাঝেই রাখব...

এভাবেই চলছিল আমাদের সময় আর আমি সবসময় মিথিলার জন্য অপেক্ষা করতাম ফেসবুকে।ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কটা একটা meaningful সম্পর্কে পরিণত হতে থাকল।মনে হতে থাকল এই বুঝি এক অব্যাক্ত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

এভাবেই কেটে গেলো অনেকটা সময়।কিন্তু এমন মনে হয় যে প্রতিদিন আমি মিথিলাকে নতুন করে জানছি।

তারপর একদিন মিথিলার ফোন নাম্বার নিলাম তারপর মিথিলাকে ফোন দিলাম-

মিথিলা-হ্যালো

আমি-হুম আপনি কি মিথিলা বলছেন?

মিথিলা-হুম কিন্তু আপনি কে?

আমি-আমি অদৃশ্য মানব যে আপনার সাথে ছায়া হয়ে থাকতে চায়,যে আপনার নিশ্বাসের মাঝে বাচতে চায়।

মিথিলা-মিহির....

এভাবেই চলতে থাকল বর্ণের সাহায্যে শব্দ বানিয়ে কথার সমারোহ।এই যেন এক অচেনা কন্ঠে চেনা অনুভূতির হাতছানি।হাজার কথা আর হাজার বার্তার মাঝে আদানপ্রদান হতে থাকল অনুভূতি আর ভালোবাসার মায়া।

মিথিলার সাথে দেখা হল।আমি ছিলাম সাদা পাঞ্জাবিতে আর মিথিলা ছিল লাল শাড়িতে।অনেক কথা অনেক অনুভূতির মেলা ছিল সেদিন।অব্যাক্ত ভালোবাসা যেন মনের অজান্তে ব্যাক্ত হওয়ার রাস্তা খুজছে।আমরা দুজনেই বৃষ্টিকে miss করছিলাম সেদিন কিন্তু কিভাবে জানিনা হয়তো magical ভাবে আমাদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি নেমে এসেছিল।বৃষ্টিতে ভিজলাম রিকশায় চড়লাম অনেক মজা করলাম তারপর সন্ধ্যায় মিথিলাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসলাম।

দুঃখের অনুভব ছাড়া নাকি সুখটা অনুভব করা যায় নাহ।আমার জীবনেরও মনে হয় সুখের সময়টা শেষ হয়ে এসেছিল যার কারণে আমার অপারগতাটাকে avoid মনে করে মিথিলা আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেল।

মিথিলা তোমায় কিভাবে avoid করব বলো তুমি যে আমার নিশ্বাসে থাক।তোমাকে কখনো বলা হয়নি একটা কথা আজকে না বললে হয়তো আর কখনো বলতে পারব নাহ...

অনেক বেশিই ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাই স্বার্থপর হতে পারলামনা।তাই নিজে থেকেই সরে গেলাম কিন্তু তোমার পাশেই থাকব ছায়া হয়ে কথা দিলাম।

এটাই ছিল আমার বন্ধু মিহিরের ডায়েরীর শেষ লেখা।যেদিন এটা লিখেছিল সেদিন মিহিরের ব্রেন টিউমারের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু অপারেশন হওয়ার আগেই মিহির চলে যায় আমাদের ছেড়ে।মিহির চায়নি মিথিলা কখনো এগুলো জানুক কারণ মিহির চাইত মিথিলা যেন মিহির কে ঘৃণা করুক।মিথিলা যদি মিহির কে ঘৃনা করে তবেই যে মিথিলার মনে মিহিরের নামটা থাকবে।

মিথিলার সুন্দর জীবন দেখার অপেক্ষায় থাকবে মিহির্।মিহির থাকবে মিথিলার পাশে কিন্তু অদৃশ্য হয়ে।

অদৃশ্য ভালোবাসা ব্যাক্ত হবে...

যদি আরেকবার দেখা মিলে...

নতুন করে ভাসাবো ভেলা...

যদি আরেকটু সময় থাকে...

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৪:০৮

মামুন রশিদ বলেছেন: ভালো লাগলো ।

২| ২৯ শে জুন, ২০১৪ রাত ১২:৫০

আহসানের ব্লগ বলেছেন: ব্লগে আপনাকে ওয়েলকাম :-)

৩| ৩০ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: দুঃখজনক।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.