| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
চারদিকে নারী নির্যাতন,পুরুষ সমাজে স্ত্রী'র একক কর্তৃত্ব,সংসারে হঠকারিতা,একে অপরকে ঠকানো,সংসার ভাঙ্গন,সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়,সম্পর্কের অবক্ষয় এসব যেন সমাজে প্লেগ এর ন্যায় মহামারীতে রূপ নিয়েছে।চারদিকে শুধু ক্ষয় আর ক্ষয়!!চারদিকে শুধু মানব সম্পর্কগুলো ভাঙ্গনের আর্তনাদ!
অথচ ছোট্ট একটা উদ্যোগ হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে আমাদের সমাজের অনেক বড় একটা ক্ষয় থেকে,অনেক বড় একটা হুমকি থেকে।
বিসিএস পরীক্ষার পর দায়িত্বে যোগদানের আগে উত্তির্ণ অফিসারদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট-বড় ট্রেনিং দেওয়া হয়,কর্মজীবনেও অফিসার/কর্মচারীদের করতে হয় কত-শত ট্রেনিং নিজেদের আরো দক্ষ করে তোলতে,সেনাবাহিনী,পুলিশ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটা সরকারী-বেসরকারী কর্মক্ষেত্রে ট্রেনিং/প্রশিক্ষণ/ডিপ্লোমার ব্যবস্থা রয়েছে।
কিন্তু বিয়ের ক্ষেত্রে এমনটা নেই কেন?অথচ বিয়ে তো মানব সভ্যতা টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম বা উপাদান।
আমার তো মনে হয় বিয়ে করার ক্ষেত্রেও প্রত্যেক যুবক-যুবতি কে এই বিষয়ে বাস্তবিক জ্ঞান থাকা বাঞ্চনীয়।জীবনের এতবড় একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে এই বিষয়ে বাস্তবিক জ্ঞান থাকাটা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ(মানবসৃষ্টির শুরু থেকেই তা গুরুত্বপূর্ণ ছিল কিন্তু আমরা একে গুরুত্বহীন করেছি,করার হীন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি) হয়ে গেছে বর্তমান সামাজিক অবক্ষয়ের,ভাঙ্গনের দিকে তাকালে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
কিন্তু এটা কিভাবে করা সম্ভব?
প্রথমত,প্রত্যেক ধর্ম অনুযায়ী তার প্রাপ্তবয়স্ক অনুসারীদের কে বিয়ের আগে ন্যূনতম এক বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে।সার্টিফিকেট অর্জন ব্যতিত কোন নাগরিক বিয়ে করতে পারবে না।ন্যূনতম পাশ মার্ক থাকবে ৮০-৯০।কোর্স সরকারী বেরসরকারী উভয় ভাবেই থাকতে পারে কিন্তু সার্টিফিকেট দিবে সরকার।যাদের অক্ষর জ্ঞান নেই তারা শুনে শুনে মৌখিক পরীক্ষা দিবে।যেমনভাবে আগে আমরা ছোটবেলায় মকতবে মাসালা-মাসায়েল শিখতাম।
দ্বিতীয়ত,এই ডিপ্লোমা কোর্সে বিবাহ বিষয়ক এবং বিবাহ পরবর্তি জীবন সম্পর্কে ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় সকল নিয়ম-কানুন এবং আইনের শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত থাকবে।এবং বিবাহিত জীবনে স্ত্রী'র প্রতি স্বামীর দায়িত্ব,স্ত্রী'র পরিবারের প্রতি দ্বায়িত্ব,স্বামী'র প্রতি স্ত্রী'র দায়িত্ব,স্বামীর পরিবারের প্রতি দায়িত্ব,সমাজের প্রতি যুগলের দায়িত্ব,নিজেদের সন্তানদের লালন-পালনের ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন,নিয়ম কানুন,সন্তানের প্রতি দায়িত্ব,সর্বপরি পরবর্তি জীবনের সম্পূর্ণ লাইফ স্টাইল নিয়ে একটা খসড়া থাকবে।
তৃতীয়ত,শিক্ষক হিসেবে থাকবেন পুরুষদের জন্য বিবাহিত পুরুষ আলেম/সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গুরু এবং পুরুষ আইনজীবী।নারীদের জন্য থাকবে বিবাহিত নারী আলেম/সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গুরু এবং আইনজীবী।
এতে লাভ?
পারিবারিক নারী নির্যাতন অনেকাংশেই কমে আসবে,যৌতুকের করাল গ্রাস উধাও হয়ে যাবে,সংসার ভাঙ্গন এবং বিবাহ বিচ্ছেদ অনেকাংশেই কমে আসবে,আইন-কানুন জানার ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রেম করে মা-বাবার অবাধ্য হয়ে পালিয়ের বিয়ের হার কমে আসবে,বাল্যবিবাহ বন্ধ হবে,একে অপরকে ঠকানোর কোন পথ থাকবে না,পরিবারে একক কর্তৃত্ব থাকবে না,প্রত্যেকে নিজেদের দ্বায়িত্ব এবং দেনা-পাওনা সম্পর্কে সচেতন থাকবে,একে অপরের সহযোগী হবে,সামাজিক বন্ধন অটুট হবে,সামাজিক মূল্যবোধ বাড়বে,পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হবে,কোর্টে মামলার পরিমাণ কমে আসবে,বিচার বিভাগ অন্যান্য কাজগুলো আরেকটু ভালভাবে মন দিয় করতে পারবে,হয়রানী কমে আসবে,পুলিশ এই জায়গায় আরো অন্য পাঁচটা কাজ ভালভাবে সামলে নিতে পারবে,সমাজ তথা রাষ্ট্র অনেকটা স্বস্তি পাবে
আমি অন্তত মনে করি পৃথিবীতে প্রত্যেকটা কাজের পূর্বে যদি ট্রেইনিং অত্যাবশ্যক হয় তো মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে,জীবনের এতবড় একটা কাজে হাত দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বিবাহ বিষয়ে প্রত্যেক নাগরিকের প্রাতিষ্ঠানিক শর্ট কোর্স/শিক্ষা থাকা বর্তমান সময়ের বিবেচনায় অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।পারিবারিক,সামাজিক অবক্ষয়গুলো আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এমন উদ্যোগ নেওয়া সময়ের একান্ত দাবী।নইলে যে কোন মুহূর্তে মানব সভ্যতা প্রচন্ড হুমকির সম্মুখিন হতে পারে।এবং অনরেডি তা হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ সুখী হোক সেই শুভ কামনাই রইলো।।

©somewhere in net ltd.