নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তানভীর আহমদ সায়েম

পেশায় ছাত্র(প্রশিক্ষণার্থী পাইলট),কোরআন হিফজ করেছি ছোটবেলায়।

তানভীর আহমদ সায়েম › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিভাবে একজন ছাত্র পবিত্র কোরআনে পাক হিফজ্ করে?

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৪:২৪

১ম পর্ব:

যারা হিফজ্ খানায়(মাদ্রাসার হিফজুল কোরআন বিভাগ কে হিফজ্ বিভাগ বলা হয়) পড়েন নি তাদের বেশিরভাগই তার ভেতরকার নিয়ম-কানুন জানেন না বা ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন।তাদের কোরআন হিফজে্র ব্যাপারে যথাসম্ভব সহজভাবে ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটা লেখা।

মাদ্রাসার সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুরু হয় বৃহ:স্পতিবার আসরের পর থেকে শুক্রবার মাগরীব পর্যন্ত।শুক্রবার মাগরিব থেকে বৃহ:স্পতিবার আসর পর্যন্ত থাকে মূল ক্লাশের দিন।নিচের পুরো লেখাটা পড়লে ছুটির টাইমটা সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা পাবেন।

১)নুরানী বিভাগ।এখানে হিফজ্(মুখস্ত) করার পূর্বে ছোটদের সহিহ্ ভাবে তেলাওয়াত(একে নাজারা বলা হয়) শেখানো হয়,পাশাপাশি তাজবিদ,আদব-কায়দা,৪০ হাদিস,ওজু-গোসল,পাক-নাপাক,নামাজে-রোজা ইত্যাদির প্রাথমিক মাসয়ালা-মাসায়েলের শিক্ষাদান করা হয়।এখানে মূলত কোরআন হিফজে্র মূল ভিত্তি স্থাপন করা হয়।ক্লাস হয় সকাল ৭টা অথবা ৯টা-এশার আগ পর্যন্ত।মাঝে গোসল,খাওয়া,নামাজের বিরতি এবং আসর থেকে মাগরীব পর্যন্ত ছুটি থাকে।বেশিরভাগ নুরানী বিভাগই আবাসিক।সাধারণত এই বিভাগের ব্যপ্তি ১ বছর(ক্ষেত্র বিশেষে কম-বেশি হতে পারে)।

নুরানী বিভাগের শিক্ষা সমাপ্ত হলে একজন মূল হিফজ্ বিভাগে প্রমোশন পায়।

২)প্রথমে বলে নিই,কোন কোন হিফজ্ খানায় মুখস্ত শুরু করানো হয় ৩০ তম পারা থেকে(তুলনামূলক সহজ বিধায় মানিয়ে নেওয়ার জন্য পেছন থেকে শুরু করানো হয় এবং অনেক প্রয়োজনীয় ছোট ছোট সূরা পেছনের দিকে) আবার কোন জায়গায় একেবারে ১ম পারা থেকে।হিফজ্ খানায় আলাদা হাফেজী কোরআন শরীফ পড়ানো হয় পৃষ্ঠা,পারা'র হিসাব রাখার সুবিধার্তে এবং ২৮ তম পারা পর্যন্ত ২০ পৃষ্ঠায় এক পারা হয়,২৯তম পারা ২৪ পৃষ্ঠা এবং ৩০ তম পারা ২৫ পৃষ্ঠা প্রায়।হিফজ্ খানার ক্লাশ টাইম সাধারণত ভোর রাত ৩টা থেকে রাত ৯/১০ পর্যন্ত।মাঝে নুরানী বিভাগের মতই বিরতি থাকে।

সবকি ছাত্র(একদম নতুন পড়াকে সবক বলা হয়):প্রথম যে পারা থেকে পড়া মুখস্ত শুরু করা হয় তার প্রতিদিনের প্রথম লেসন(যা আগে কখনোই মুখস্ত করা হয় নি) কে সবক বলে এবং তা আগে বিকাল ৩টা-৪টা পর্যন্ত আগে ভালভাবে রিডিং পড়ে ঝালাই করে নেওয়া হয় যেন মুখস্ত করতে সুবিধা হয় এবং বিকালের মধ্যেই সিনিয়র কাউকে শুনিয়ে ভুল ভ্রান্তি শুধরে নেওয়া হয় নইলে প্রায় সারাজীবনই এই ভুল থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।মাগরীবের নামাজের পর থেকে এশার নামাজের বিরতির আগ পর্যন্ত মুখস্ত করা হয় সেই পড়টা(ছাত্ররা সবক ওক্ত সময়ের মধ্যে যে যতটুকু সম্ভব মুখস্ত করে যার যার ক্ষমতা অনুযায়ী)।এশার নামাজের পর সবকের সংশ্লিষ্ট পারা'র পেছনের পড়াগুলো(একে সাত-সবক বলে) আবার রিভিশন দেওয়া হয় রাত ১০টা পর্যন্ত এবং ১০টায় ছুটি।তারপর রাতের খাবার গ্রহণের পর অজু ইস্তিন্জার করে ৩০ মিনিটের মধ্যে বিছানা গুছিয়ে শয্যায় যেতে হয়(খুব কড়া নিয়ম)।

ভোর ৩টায় ওঠে ১৫ মিনিটের মধ্যে অজু এস্তেন্জা সেরে ক্লাশে বসতে হয়।তারপর সন্ধ্যা থেকে এশা পর্যন্ত যে সবকটা শেখা হয়েছে সেটা আবার কিছুক্ষণের মধ্যে রিভিশন দিয়ে ফজরের পূর্বে ওস্তাদ কে পড়া দিতে হবে(সংশ্লিষ্ট পারা কে বলা হয় সবকের পারা)।ফজরের নামাজের পর দ্রুত সাত-সবক রিভিশন দিয়ে সকাল ৭টার(নাস্তার বিরতি ১৫ মিনিট) আগে পড়াটা ওস্তাদকে শুনাতে হবে*।এভাবে দিনে দিনে এক পারা(২০ পৃষ্ঠা) শেষ হলে একজন ছাত্রকে সাধারণত সকালের নাস্তার পর থেকে মাগরীব পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট পারা রিভিশন দেওয়ার জন্য।মাগরীবের পর ওস্তাদ তার কাছ থেকে দাঁড় করিয়ে পুরো পারাটা একটানা মুখস্ত নিবে।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পড়া আদায় করতে না পারলে কড়া পানিশমেন্ট দিবে।

*সকাল সাতটার পর থেকে সকালের ছুটির আগ পর্যন্ত আমুখতা(সবকের পারা ব্যতিত পেছনে মুখস্ত করে আসা পারা,আধা পারা থেকে ১ পারা পর্যন্ত হতে পারে।যার পেছনের মুখস্তকৃত পারার পরিমাণ যত বেশি তার আমুখতা তত বেশি।তবে পরিমাণ দুই পারার বেশি নয়) শেখা হয়।আমুখতার পড়ার ব্যপ্তি হয়ে থাকে ১ম পারা থেকে শুরু করে সবকের পারা'র পূর্বের পারা পর্যন্ত।
তারপর সকালের ছুটি ৮টা অথবা ৯টায় হয়।ছুটির পর ১ ঘন্টার মধ্যে গোসল করে খেয়ে দিবানিদ্রায় যেতে হয়।দিবানিদ্রার সময় ২ ঘন্টা যা দুপুর ১২ টা পর্যন্ত হয়।

১২টায় ঘুম থেকে ওঠে ১৫ মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে ক্লাশে বসতে হয়।তারপর সকালের শেখা আমুখতা দু/একটা রিভিশন দিয়ে দুপুর ২/৩টার আগে ওস্তাদকে শুনাতে হবে।সাধারণত জোহরের নামাজের বিরতির আগেই শুনানো শেষ হয়।তারপর ১:১৫ তে নামাজ এবং দুপুরের খাবারের ছুটি ২টা পর্যন্ত।২টার পর থেকে ৩/৩:৩০ পর্যন্ত পেছনের পারাগুলো নির্দিষ্ট পরিমান করে সিরিয়ালে প্রতিদিন তেলাওয়াত করা হয় যেন পেছনের পড়া ভুলে না যায়।৩টার পর থেকে আসরের আগ পর্যন্ত আবার নতুন সবকের পড়া রিডিং পড়ে ঝালিয়ে নেওয়া হয়।আসরের পর থেকে মাগরীব পর্যন্ত রিফ্রেশমেন্টের এবং প্রয়োজনীয় কাজ গোছানের ছুটি।এই নিয়মে চলতে থাকে শুক্রবার মাগরীবের নামাজের পর থেকে বৃহ:স্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত।

বৃহ:স্পতিবার সকালের নাস্তার বিরতির পর থেকে আসর পর্যন্ত ছবিনা পড়া হয়।ছবিনা পড়ার নিয়মটা হচ্ছে ২জন/৪জন ছাত্র মিলে একটা গ্রুপ করে পেছনের পড়াগুলো একজন আরেকজনকে ধারাবাহিকভাবে শুনায়।ওস্তাদ গ্রুপ বানিয়ে দেন।ছবিনা বলতে আবার মাইকে পড়া বুঝবেন না।এই নিয়মে সারা বছর চলতে থাকে যতদিন না সবক পড়ে পড়ে পূর্ণ ৩০ পারা খতম করা হয়েছে।

চলবে...........

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:২২

তানভীর আহমদ সায়েম বলেছেন: দ্বিতীয় পর্ব নিচের লিংকে-


http://www.somewhereinblog.net/blog/tanvirahmedsayem/30177604

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.