নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তানভীর আহমদ সায়েম

পেশায় ছাত্র(প্রশিক্ষণার্থী পাইলট),কোরআন হিফজ করেছি ছোটবেলায়।

তানভীর আহমদ সায়েম › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিভাবে একজন ছাত্র পবিত্র কোরআনে পাক হিফজ্ করে?

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:২৪

২য় পর্ব:
আসসালামুয়ালাইকুম।।

পূর্বের লেখার পর থেকে,
একজন ছাত্রের সবক সাধারণত ৩পারা সম্পন্ন হওয়ার পর তার উপর তার উপর সবিনা পড়ার কাজ বর্তায় পেছনের পড়াগুলো প্রতি সপ্তাহে ঝালাই করে নেওয়ার জন্য।১০ পারা সম্পন্ন করার পর প্রতিদিন আসরের পর মাগরীবের আজান পর্যন্ত রুটিন করে নির্দিষ্ট পরিমাণে(২-৩ পারা) ধারাবাহিকভাবে হেটে হেটে মুখস্ত তেলাওয়াত করতে হয়।

হিফজ্ খানাগুলোতে রোজার ঈদের পর থেকে শবে-বরাতের আগ পর্যন্ত সবকী ছাত্ররা সবক পড়ে থাকে।শবে বরাতের পর থেকে রোজার আগ পর্যন্ত সাধারণত পড়াশুনার তেমন কোন চাপ থাকে না।

রমজানের ১ম দিন থেকে পূর্ণদ্যোমে শুরু হয় পেছনের পড়াগুলো ঝালাই করে নেওয়া।ওস্তাদ কে প্রতিদিন আধা পারা থেকে ২পারা আমুখতা শুনাতে হয়,পাশাপাশি বাকি সময় পেছনের পারাগুলো রুটিন করে তেলাওয়াত করা হয়।রোজার ২৩-২৪ তারিখ পর্যন্ত সেই নিয়মে চলে।তারপর ঈদের ছুটি।ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর আবার পুরোনো রুটিনে শুরু হয় সবকিছু।

সাধারণত একজন ছাত্রের জন্য সবকের খতম(সবক পড়ে) শেষ করতে সময় লাগে ৩-৩বছর ৬ মাস বা ৪ বছরের মত।অবশ্য অনেক ব্যতিক্রমও দেখেছি।অনেক ছাত্র এতটাই মেধাবী ছিল যে ১ মাসে সবকের খতম শেষ করে আর দুই মাস শুনিয়ে কোর্স শেষ করে ৩ মাস পর চলে গেছে।এগুলো ব্যতিক্রম।

সবকের খতম শেষ হলে শুরু হয় "খতমী ছাত্র" হিসেবে পড়াশুনা।তখন একজন ছাত্রকে মোটামুটি হাফেজ বলেই ধরা হয়।এখন শুধুমাত্র ওস্তাদকে কয়েক খতম শুনাতে হবে।
এই শুনানোর সময়টা সাধারণত ১ বছর হয়ে থাকে,ক্ষেত্র বিশেষে ২ বছর হতে পারে যদি কোন ছাত্র বেশ কয়েক পারা ভুলে যায়।

নোট:মুখস্ত করলে ভুলবে এটা সব পড়াশুনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।অন্যান্য পড়াশুনার মত হিফজেও বার বার রিভিশন দেওয়ার পর কোরআন তার বুকে স্থায়ী হয়।

প্রথম দিকে খতমী ছাত্রের রুটিন হচ্ছে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে আসর পর্যন্ত একটা নির্দিষ্ট পরিমান করে(১ অথবা ২ পারা) পুনরায় আমুখতা(পুরোনো পড়া) শিখবে।আসরের নামাজের পর সেটা হেটে হেটে পড়বে মাগরীবের আজানের পূর্ব পর্যন্ত।মাগরীবের পর সেই পড়াটা ওস্তাদকে শুনাতে হবে রাতের ছুটির পূর্বে।রাতের ছুটির পর দুই/চার রাকাত নফল নামাজের মধ্যে ৪-৬ পারা তেলাওয়াত করতে হবে।তারপর ভোর রাতে সবার থেকে অন্তত ৩০ মিনিট আগে ওঠে তাহাজ্জুতের নামাজে ১-২ পারা তেলাওয়াত করতে হবে।তারপর ভোর রাতে ক্লাশে বসে সকালের ছুটির পূর্ব পর্যন্ত ৫-৮ পারা তেলাওয়াত করতে হবে।

যখন একজন ছাত্র প্রতিদিন মাগরীবের পর আমুখতা ন্যূনতম ৫ পারা একটানা ওস্তাদকে শুনানোর যোগ্যতা অর্জন করবে তখন সে এশার নামাজ পড়েই নফল নামাজের জন্য বের হয় যাবে এবং দুই-চার রাকাত নামাজে ৮-১০ পারা তেলাওয়াত করতে হবে।ভোর রাতে আবার ন্যূনতম ৫ পারা নফল নামাজে তেলাওয়াত করতে হবে।

শুক্রবার জু'মার নামাজের পর থেকে বুধবার ফজর পর্যন্ত এই রুটিন চলে।বুধবার ফজরের পর থেকে শুক্রবার ফজরের পূর্ব পর্যন্ত দুইজন করে একেকটা গ্রুপ করে ছবিনা পড়া হয়।এই সময়ের মধ্যে প্রত্যেকে এক খতম করে একজন আরেকজন কে শুনাবে।এই খতমে মূলত ভুলগুলো শুধরানো হয়।যখন ছবিনায় পুরো এক খতমে একজন ছাত্রের সাধারণত সর্বোচ্চ ১-২টা আনফরচুনেট ভুল হয়,ওস্তাদ তখন তার কোর্স সম্পন্ন হয়েছে বলে গ্রান্টেড করেন।তখন ওস্তাদ তাকে একটা সময় দিয়ে বলেন যে,তুমি আমাকে অমুক দিন পুরো এক খতম শুনাতে হবে।যখন ছাত্র সাবলীলভাবে এক খতম ওস্তাদকে শুনাতে পারে(বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ১০-২০ পারা শুনেই আর শুনেন না ওস্তাদরা) তখন তার কোর্স সম্পন্ন হয়েছে তাকে মাদ্রাসা থেকে সসম্মানে বিদায় দেওয়া হয়।

পুরো লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ রইলো।কোন কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করলে কমেন্ট করতে দেড়ি করবেন না

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.