নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তানভীর আহমদ সায়েম

পেশায় ছাত্র(প্রশিক্ষণার্থী পাইলট),কোরআন হিফজ করেছি ছোটবেলায়।

তানভীর আহমদ সায়েম › বিস্তারিত পোস্টঃ

রূপালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে একদিন।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:০৮

রূপালী ব্যাংকের হেড অফিসে কয়েরবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।আমরা সাধারণ মানুষেরা মনে করি বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের হেড অফিসগুলোতে না জানি কত কাজের চাপ!আসলে তার কিছুই না।বরঞ্চ হেড অফিসগুলোর তুলনায় ব্রাঞ্চ অফিসগুলোতে ব্যস্ততা বেশি।

রূপালী ব্যাংকের হেড অফিসে গিয়ে যা দেখলাম-
সকাল ৯টায় অফিস টাইম হলেও ১০ আগেসাধারণ কর্মচারীদের তেমন কেউ-ই আসে না।১০ পরে এসে তারা রেস্ট নেয়,সহকর্মীদের হাল হাকিকত,পরিবার,ভাবী,বাচ্চা-কাচ্চাদের খোঁজ খবর নেন।কার বউ কাকে কতটা আদর করে,বকা দেয়,কার বাচ্চার কোন পরীক্ষা,কেমন রেজাল্ট,কার বাচ্চা কতটা শান্ত/দুষ্টু সেসব নিয়ে আলোচনা করেন।খবরের কাগজে কি লিখেছে,দেশের পরিস্থিতি,দূর্নীতি,রাজনীতি,রাস্তার জ্যাম এসব নিয়ে একদফা চা-গরম আলোচনা চলে।মহিলা কর্মচারীরা এসে ফ্রেশ হন,তারপর আবার একদফা ত্বকের যত্ন নেন।প্রত্যেকের সামনেই একটা করে পিসি দেওয়া আছে।সেগুলো আস্তে আস্তে ওপেন করেন।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসেন ১২ টার দিকে।এসেই নিজের এসি রুমে চলে যান,বিভিন্ন ফোনের কাজ সারেন।এসব করতে করতে ১টায় লাঞ্চের ব্রেক পড়ে।

লাঞ্চের আগে কোন কাজে/ফাইলে হাত দেওয়া মনে হয় অফিসের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।যদি তাদের কাছে আপনার কোন ফাইল পড়ে যায় তাহলে আপনাকেও ন্যূনতম একমাস তাদের সাথে ৯-৫টা অফিস করতে হবে তাদের দু:খ কষ্ট আর কাজের চাপটাকে উপলব্ধি করার জন্য।এই একমাস তারা আপনাকে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরাবে সবাই কে সালাম করে সম্মান জানানোর জন্য।আপনার পেছনে যদি স্ট্রং কোন শেল্টার থাকে তাহলে আবার আপনি তাদের কাছে ভগ্নিপতির সম্মান পাবেন নিশ্চিত।তখন তারা নিজ দায়িত্বে নিজেদের শালা-শালী ভেবে নেয়।সেটা আলাদা করে আপনাক বলতে হবে না।

সাধারণ কর্মচারীরা ২টায় লাঞ্চ করে টায়ার্ট হয়ে ৩টা পর্যন্ত চলে ঝিমানোর পালা।৩টার পরে লবিংয়ের ফাইলগুলো দু/একটা দেখেন।সাথে সাথে মহিলা সহকর্মীদের সাথে পুরুষদের খোশ গল্প,পরিবারের খোজ খবর,আজকের ড্রেসটা কেমন মানিয়েছে তার প্রশংসা,আজকে দেখতে কেমন লাগছ,হেয়ার কাট টা কতটা মানিয়েছে,রান্নাটা কতটা ভাল হয়েছে,অন্যান্য পদের রান্নার গুণগান এবং পরবর্তি দিনে সেটা রান্না করে আনার আবদার,স্বামী আদর-যত্ন করে কিনা,সবকিছুর খেয়াল রাখে কিনা,লাস্ট কবে কে কাকে কত টাকা দিয়ে কি শপিং করে দিয়েছে,নিজের বউ কতটা দজ্জাল সেসব নিয়ে চলে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ।৪টার পর থেকে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি এবং অপেক্ষার শুরু।

কোন কোন পরহেজগার মহিলাদের লাঞ্চের পরে বিভিন্ন দোয়া দরুদ এবং তসবীহ জপতে দেখা যায়।কেউ কেউ বসে পড়েন প্রিয় কোন লেখকের প্রিয় কোন বই নিয়ে।কাইকে দেখি ধর্মীয় বই পড়ছেন কেউ বা আবার প্রেমের কোন উপন্যাস।কেউ বা আবার অন্যকে পঠিত বইয়ের কাহিনী শুনাতে ব্যাস্ত।কেউ বা আবার আয়েশ করে পান সাজাতে ব্যস্ত।কখনো নিজে একটা মুখে পুড়ছেন আর পাশের সহকর্মীকে একটা অফার করছেন।

আর ঊর্ধতন কর্মকর্তারা লাঞ্চের ব্রেকের পর ডিরেক্ট মিটিং রুমে ব্যাংকের উন্নয়ন,বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের লক্ষ নিয়ে মিটিংয়ে বসেন।সেই সাথে তৈরী হয় মিটিংয়ের নাস্তার খরচ বাবদ লম্বা ভাউচার।

৪:৫০ এ শুরু হয় সবাই দলবেঁধে বের হওয়ার প্রতিযোগীতা।বাসায় পৌছে দেওয়ার জন্য থাকে সরকারী স্টাফ বাস।

আজকের দিনের মত অফিসের হ্যাপি এন্ডিং এখানেই।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.