নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তানভীর আহমদ সায়েম

পেশায় ছাত্র(প্রশিক্ষণার্থী পাইলট),কোরআন হিফজ করেছি ছোটবেলায়।

তানভীর আহমদ সায়েম › বিস্তারিত পোস্টঃ

কওমী শিক্ষা

০১ লা মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:২৬

আচ্ছা কওমী মাদ্রাসাগুলোতে বাংলা ভাষার প্রতি এত অবজ্ঞা কেন?আর ইংরেজীর কথা কি বলব!এটা তো লাল কুত্তাদের ভাষা!যদিও ইউরোপ-আমেরিকায় ইংরেজী ভাষা-ভাষী মুসলিম অগণিত।অবশ্য একটা সময় পর্যন্ত কওমীরা তো স্বয়ং বাংলা ভাষাকেই হিন্দুদের ভাষা বলে শিখতেই চাইতো না!

কওমী মাদ্রাসাগুলোতে বাংলা,ইংরেজী,অংকের বই পড়ানো হয় সর্বোচ্চ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত।তার বেশি কোথাও পড়ায় বলে আজো শুনি নি।পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত যাও পড়ায় খুব অবজ্ঞার সাথেই।হুজুরদের মতে অ-তে অলি,A-তে Apple আর যোগ-বিয়োগ,গুণ ভাগ একটু পারলেই হলো!ফলাফল হয় কি?যারা স্বেচ্ছায় এসব শিখে না তাদের কাছ থেকে কখনো শুদ্ধ বাংলা শুনতে পাই নি।

তবে আশার কথা হচ্ছে ইদানিং অনেক ছাত্ররা নিজ দায়িত্বে বাংলা ইংরেজী শিখছে।ফলে কওমীর বেশ কিছু লেখক পাচ্ছি এখন।এই শেখার পেছনেও তাদের বাঁধার শেষ নাই।এসবের জন্য বহুত টর্চারের শিকার হতে হয়!নিজের ক্লাশের বাইরে অন্য পড়া তো মাদ্রাসা শিক্ষকরা ঘূর্ণাক্ষরেও সহ্য করতে পারেন না!এতে নাকি ছাত্ররা পথভ্রষ্ট হয়ে যায়!হায় হায়!

কওমীর তারা সার্টিফিকেট চায়।সার্টিফিকেট আরো ৩০ বছর আগে যেখানে দরকার ছিল তারা সেটা গত ১২ বছর আগে চেয়েছে!ভাল কথা,তো সার্টিফিকেট চাইলে সার্টিফিকেট ওয়ালাদের মত দুনিয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা সম্পন্নও হওয়া প্রয়োজন,তাই নয় কি?নইলে কি সার্টিফিকেট ওয়ালারা এমনিতেই আপনাদের হাতে সার্টিফিকেট তোলে দিবে?

সরকার বহু আগে থেকেই বলে আসছে কওমী সিলেবাস পরিবর্তন করতে হবে।সরকারের এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ভাল নয় এটা সবাই ভাল করে জানে।সরকারের লোক যদি কওমীর সিলেবাসে হাত দেয় তখন আর সেটা ইসলামী শিক্ষা থাকবে না,এটা হয়ে যাবে শয়তানি শিক্ষা।কিন্তু কওমীতে এমন একজন ব্যক্তি আছে কিনা আমার সন্দেহ হয় যে কিনা কওমীর একটা স্ট্যান্ডার্ড সিলেবাস তৈরী করতে পারে!

কওমীরা ওঠতে-বসতে দেওবন্দের উদাহরণ দেয়।আমার প্রশ্ন দেওবন্দে দারুল হাদিস/তাকমিলে হাদিস সমাপ্ত করতে লাগে ৭ বছর।কিন্তু বাংলাদেশে সেটা ন্যূনতম ১০-১২ বছর কেন?দেওবন্দকে আপনারা কোথায় ফলো করছেন?তারপর তাফসির,ইফতা,হাদিসের উচ্চতর পড়াশোনা পরেই আছে!এগুলো ন্যূনতম করে পরলেও ২ বছর করে।আর ভাল করে পরলেও ন্যূনতম ৪ বছরের কোর্স।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে,তারা চাইলেই অপ্রয়োজনীয় উর্দূ ফার্সী কিতাবগুলো বাদ দিয়ে সেখানে বাংলা,ইংরেজী,গণিত যোগ করতে পারে।কিন্তু তাদের কথা হচ্ছে মূল কিতাব পড়তে এগুল খুব দরকার হয়।ভাল কথা এগুলো দরকার হবেই,তাই বলে এগুলো কখনোই সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না।আর এই উর্দূ ফারসী কিতাবগুলো না পড়িয়ে আরবী ভাষার গাঁথুনী আগে ঠিক করে নিলে উর্দূ ফারসীর বাড়তি কিতাব নিয়ে টানাটানি করতে হয় না।কারণ,বড় ইমামদের রেফারেন্স কিতাবগুলোও আরবীতেই লেখা।আর যেসব উর্দূ ফারসী মাসায়েলের কিতাব নিচের ক্লাশগুলোতে পড়ানো হয় সেগুলো বাংলায় অনুবাদ করে নিয়ে পড়ালেই হয়।

আধুনিক কওমী মাদ্রাসার একটা সুন্দর উদাহরণ বলা যায় ব্রাক্ষণবাড়িয়ার দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা।যেখানে কোন উর্দূ ফারসীর এক্সট্রা কিতাব পড়ানো হয় না।উর্দূ ফার্সী বাদ দেওয়ার কারণে দারুল আরকামের ছেলেরা আরবীর বস হতে পারে আর দারুল হাদিস সম্পন্ন করতেও লাগে মাত্র ৭ বছরের মতই সাথে যথাসম্ভব বাংলা,ইংরেজী,গণিত তো আছেই।যেখানে দারুল আরকামের ছেলেরা আরবীতে হয় বস সেখানে বাংলাদেশের বাকি সব মাদ্রাসার ছেলেরা আজিবন আরবী নিয়ে ঠেকে ঠেকেই যেতে হয়।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে,তারা দারুল হাদিস কে চায় এমএ সমমান দিতে।বেশিরভাগকেই যদি জিজ্ঞাসা করা হয় এমএ ডিগ্রীর মানে কি?হা করে হাওয়া গিলবে!

যাই হোক,আমার যতটুকু মনে হয়,তারা যদি সার্টিফিকেট চায়,আধুনিক সিলেবাস তৈরী করতে চায় এবং আধুনিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চায় তাহলে তাদের কে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসের দিকেই নজর দিতে হবে এবং পরামর্শও তাদের কাছ থেকে নিলে পরেই কেবল একটা ভাল ফলাফল আসতে পারে।আমি বলছি না দেওবন্দের আদর্শ ছেড়ে দিন।আদর্শ ঠিক রাখুন কিন্তু আধুনিক সিলেবাস এবং ডিগ্রীর হিসাব নিকাশ মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুন।

তবে আমার মনে হয় না তারা কখনো মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণাপন্ন হবে।তাদের মতে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্কলারগণ ভ্রান্ত আর কেবলমাত্র দেওবন্দ সঠিক।যেখানে তাদের কাছেই শুনেছি রাসুল (সা:) নাকি নিজে বলেছেন যে,মদিনা হচ্ছে ঈলমের বাড়ি মানে House of knowledge।

এখনো সময় আছে মুসলিম নেতৃত্বের জন্য কওমীকে তৈরী করুন।কারণ মুসলিম নেতৃত্ব মুসলমানদের জন্য নামাজের মতই ফরজে আইন করা হয়েছে এটা আমার চাইতে কওমীরা হাজারগুণ ভাল জানে।আর নেতৃত্ব দিতে গেলে সে যুগের উপযুক্ত আপডেট থাকতে হয়।নইলে ব্যাকডেটেড বলে এভাবে পেছনেই ফেলে রাখবে।

আর মাদ্রাসায় ভর্তির জন্য মানুষকে তাগাদা দিতে হবে না।দেখবেন মানুষই নিজের প্রয়োজনে সন্তানদের দলে দলে মাদ্রাসায় পাঠাবে।ছাত্র নিয়ে আপনারা কুলাতে পারবেন না।সমাজের উচু থেকে প্রান্তিক প্রতিটা শ্রেণীর মানুষ সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠাবে।ঘরে ঘরে ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার,ব্যারিষ্টারের সম পরিমাণে বললে ভুল হবে তার চাইতেও অধিক পরিমাণ আলেম তৈরী হবে।দেশে নাস্তিকতা,ধর্মদ্রোহিতার উপদ্রব কমে আসবে।দেখবেন দেশে একটা নবজাগরণ তৈরী হয়েছে।দেখবেন বাংলা উর্দূ সাহিত্যে পাকিস্তানের আলেমদের মত বাংলা সাহিত্যের তথা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছে কওমীরা।তখন জাফর ইকবালদের মত খোদাদ্রোহী ফালতু বৈজ্ঞানিক তৈরী হবে না এদেশে ইনশা আল্লাহ।

আমি বলছি না আপনারা পুরো দুনিয়ার নেতৃত্ব দিন।আপনারা বাংলাদেশী,আমরাও বাংলাদেশী।নিজেদের যোগ্যতাসম্পন্ন করে তুলে দেশ এবং জাতিকে রক্ষা করুণ।জাতি আপনাদের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে কবে আপনাদের ঘুম ভাঙ্গবে,কবে ফিরবে আপনাদের চৈতন্য।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.