| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইদানিং ফেসবুকে কওমীওয়ালাদের একটা ডায়ালগ ভেসে বেড়াচ্ছে, "আমরা দক্ষ আলেম তৈরী করতে চাই,ডাক্তার ইন্জিনিয়ার নয়"।
১)আমি "দক্ষ আলেম" কথাটার মানে বুঝলাম না।এতদিন জেনে এসেছি আলেমরা জ্ঞানী হয়,বুজুর্গ হয়,সত্যের উপর নীতির উপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয় ইত্যাদি।দক্ষ হয় ডাক্তার ইন্জিনিয়ার পাইলটরা।এক কথায় কর্ম কৌশলী ব্যক্তিরা হয় দক্ষ।
২)উনারা ডাক্তার ইন্জিনিয়ার তৈরী করতে চান না।যদি তারা তা না চান তাহলে এখনকার মত আজিবন ধর্মজ্ঞানহীন ধর্মবিমুখ এসব শিক্ষিত(!) ডাক্তার ইন্জিয়ারদের গোলামীই করে যেতে হবে যত দক্ষই(!) হন না কেন!কেননা শয়তানের হাতে যখন শাষণের দায়িত্ব থাকবে তখন ভাল মানুষ তথা আলেমরা গোলামে পরিণত হবে সেটাই বাস্তব সত্য,এবার সেটা প্রত্যক্ষই হোক বা পরোক্ষ।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশে প্রায় ৯৯.৯৯% শিক্ষিত সমাজই ধর্মের ন্যূনতম জ্ঞান রাখে না এবং সেই সাথে ধর্মবিমুখও বটে।
৩)ছোট মুখে কিছু বড় কথা বলি,শরহে জামী অথবা শরহে বেকায়া'র পর সত্যিকার আলেম হওয়ার সাথে সাথে ছেলেদের ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার,অর্থনীতিবীদ,ব্যবসায়ী ইত্যাদি হওয়ার পথ তৈরী করুন।প্রশ্ন থাকতে পারে শরহে জামী বা শরহে বেকায়া'র পর কেন?তাহলে বলি,একবার কোথাও(আমার ঠিক মনে নেই) আল্লামা ত্বাকি উসমানী(দা:বা
এর একটা কথা এমন শুনেছিলাম যে, "আমি এমন কিছু ছেলে চাই যারা শরহে জামী সমাপ্ত করছে,তার উপরে যায় নি"।সুতরাং উনার কথা থেকে এতটুকু বুঝা যায় যে শরহে জামী বা শরহ বেকায়া পর্যন্ত দ্বীনের একটা শক্ত গাঁথুনী তৈরী হয়।আর এটাই আমাদের জীবনে পরবর্তি পদক্ষেপ নিতে দ্বীনি দিক নির্দেশনা যোগাবে।দ্বীনি পরামর্শের জন্য পাশে পাবে নিজেরই ওস্তাদদের।
তাহলে শিক্ষিত প্র্যাকটিসিং ধার্মিক মুসলিম পরিবারের অভিভাবক যারা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যত এবং সন্তানের উত্তম চরিত্র নিয়ে শঙ্কিত তারা কওমী মাদ্রাসাগুলোর দিকে ঝুকবে।এমন অনেকেই আছে যারা ছেলেকে আলেম নয় ডাক্তার ইন্জিয়ার বা এমন কিছু বানাতে চায় কিন্তু দ্বীনদারী যেন ঠিক থাকে।কিন্তু বর্তমান স্কুল কলেজে শিক্ষার বেহাল দশা দেখেও দিতে বাধ্য হচ্ছে।যখন দেখবে কওমী থেকে একটা পর্যায় পর্যন্ত পড়েও ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হতে পারবে তখন ধার্মিক অভিভাবকেরা কওমীর দিকে শুধু হাটবে না,দৌড়াবে।যে আশায় অনেকেই সন্তানকে আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ায়!
বর্তমান শিক্ষিত(!) শ্রেণী সহজে আলেমদের কথা মানতে চায় না।যখন সব ডাক্তার ইন্জিনিয়ার ব্যবসায়ী সবাই এক কওমীর প্রোডাক্ট হবে তখন দেশে শিক্ষিত শ্রেণী আলেমদের কথা নির্দিধায় মানবে,আলেমদের শানে বেয়াদবী করবে না।আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হবে।কোন শিক্ষিত শয়তান তৈরী হবে না।দেশে মুসলমানদের শক্ত ঐক্য তৈরী হবে।
এক কথায় কওমীতে একটা পরিবেশ বা এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা তৈরী করুন যেন বাংলাদেশের প্রতিটা মুসলিম পরিবারের সন্তান হয় কওমী সন্তান।এবার সে আলেম হোক বা ডাক্তার হোক বা ইন্জিনিয়ার।দেশের প্রতিটা সেক্টরে থাকবে কওমীর সন্তান,সেক্টরগুলোর পরিচালনা করবে কওমীরা।দখলে থাকবে কওমীদের।
তাছাড়া এদেশে চুর-বাটপার ব্যবসায়ী,ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার,বুদ্ধিজীবী,রাজনীতিবীদ তৈরী হওয়ার পথ বন্ধ হবে।এই জায়গাগুলো আপনাদের মত ভাল মানুষগুলোর দখলে যাবে।হয়তো আলেমদের মধ্য থেকে কোন যোগ্য ব্যক্তি একদিন এদেশের নেতৃত্বের হাল ধরতে পারবে।নইলে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে দিনে দিনে আপনাদের সাথে সাথে এদেশ থেকে এই মুসলিম নামটাও একদিন বিলিনের পথে বসবে।
শেষ কথা,কওমীওয়ালা বলে নিজেদের আলাদা একটা শ্রেণীতে আবদ্ধ না রেখে পুরো জাতিকে একটা কওমী ভেবে তাদেরকেও আপনাদের কাঁতারে শামীল করুন যেন পুরো দেশটাই হয়ে যায় আস্ত একটা "কওমী"।সেখানে যেন কওমী বলতে আলাদা কোন দল/জাত না থাকে।কওমী হবে শুধুই একটা নাম।এদেশের সাধারণ মানুষ হবে কওমী,শাষকও হবে কওমী।যে ধনী সেও হবে কওমী,যে গরীব সেও হবে কওমী।আর এই এক "কওমী" তৈরী করতে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা আর পদক্ষেপ।
©somewhere in net ltd.