নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তানভীর আহমদ সায়েম

পেশায় ছাত্র(প্রশিক্ষণার্থী পাইলট),কোরআন হিফজ করেছি ছোটবেলায়।

তানভীর আহমদ সায়েম › বিস্তারিত পোস্টঃ

আওয়ামী শাষনামল ১৯৯৬-২০০১

২২ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৯

বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কোন পুলাপানের মুখে ভুলেও(নট ভয়ে) আওয়ামীলীগের নাম শুনিনি। বরঞ্চ তারা আওয়ামীলীগের নাম শুনলে ওল্টা চেইত্তা যাইতো! বিশ শতকের শুরুতে যেসব ইয়াং ছেলেরা ছাত্র রাজনীতিতে জয়েন করেছে আমার দেখামতে তাদের ৯৫ শতাংশ বিএনপিতে যোগ দিয়েছে।

১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রম এবং ফতোয়া বিরোধী রায়ে অতিষ্ট হয়ে সাধারণ জনগণ ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি কে ক্ষমতায় আনে। আমি তখন দেশের হাল হাকিকত সব বুঝি। আব্বা ইনকিলাব পত্রিকা রাখতো রেগুলার। আমরা তখন নিয়মিত রাজনৈতিক খবর পড়তাম।

আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার শেষ দিকে ২০০১ সালের ১ জানুয়ারী হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম রব্বানী ও নাজমুন আরা সুলতানা সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সকল প্রকার ফতোয়া অবৈধ ও দন্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করে। এ রায় ঘোষণার সাথে সাথে সারাদেশের মুসলমানগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ফতোয়াবিরোধী রায় বাতিলের দাবীতে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ২ ফেব্রুয়ারী পল্টনে মহাসমাবেশ আহ্বান ও ৩ ফেব্রুয়ারী সারাদেশে হরতাল কর্মসূচী পালন করা হয়। ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারী ফতোয়া বিরোধী রায়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচী পালনকালে পুলিশ দেশবরেণ্য আলেমসহ প্রায় ২ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে শাইখুল হাদীছ আল্লামা আযীযুল হক, মুফতী ফজলুল হক আমীনী, মুফতী ইযহার, এ, আর, এম, আবদুল মতিন, মাওলানা আবদুল লতীফ নেযামী, মাওলানা আবূ জাফর কাসেমী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

সেই ফতোয়া বিরোধী রায়ের প্রতিবাদে ২০০১ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী ব্রাক্ষণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুসিয়ার ছাত্ররা আন্দোলনে ফেটে পড়লে আওয়ামীলীগের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিমের নির্দেশে পুলিশ এবং বিডিআর ছাত্রদের মিছিলে সামনা সামনি ওপেন ফায়ার করে জামিয়ার ৯ জন ছাত্র কে শহীদ করে এবং আহত করে শতাধিক। মুফতি আমিনী মুফতি ইজহারসহ অসংখ্য দেশবরেণ্য আলেমকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার।

তারপর সারাদেশে আলেম সমাজ এবং সাধারণ মুসলমান আন্দোলনে ফেটে পড়ে। আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সব মাদ্রাসা মসজিদগুলো থেকে বিরাট বিরাট মিছিল বের হতে দেখেছি চোখের সামনে। মানুষ মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধেও মিছিলে যেতে দেখেছি। আর সেখান থেকেই আওয়ামীলীগের পতন শুরু। দেশের মানুষ তখন আওয়ামীলীগের নাম নিতেও ঘৃণায় থুতু ফেলতো।

শিবিরের ছেলেদের দেখতাম তৎকালীন ভারতের বিজেপি প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি শেখ হাসিনার কপালে তিলক লাগাচ্ছে হাতে চুমু খাচ্ছে এসব পোস্টারিং করছে। সারাদেশে এসব পোষ্টারে ছেয়ে গিয়েছিল। এমন কোন দেয়াল ছিল না যেটাতে এসব পোষ্টার দেখা যায় নি। তখন শেখ হাসিনাকে ট্রল করে অনেক ছড়া কবিত গান রচনা হয়েছিল। এসব গান মানুষের মুখে মুখে থাকতো। তার মধ্যে অন্যতম একটা ছিল

"হাসিনা গো হাসিনা
নৌকা লয়া ভারত যা"

এসব ঘটনা চোখের সামনে দেখেছি, উপলব্ধি করেছি। তখন থেকেই দেশের হাল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে শুরু করি। আমাদের এলাকার এমপি হয়েছিলেন আমিনী সাহেব। আমিনী সাহেবের জেলে যাওয়া, নির্বাচনী উত্তেজনায় আমিনী সাহেবের প্রতিটা জনসভা, মিছিল, রাজনৈতিক প্রচারণা সবগুলো একেবারে কাছ থেকে দেখেছি।

শেখ হাসিনা আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং তৎপার্শ্ববর্তি এলাকাগুলোতে গিয়ে প্রকাশ্যে বলতো একটাবারের জন্য আমাকে চান্স দেন, আমাকে আপনারা ভিক্ষা দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আমাদের এলাকায় এসে ভোট ভিক্ষা চাইলে মানুষ প্রকাশ্যে জুতা ছুড়েছিল। এসব চোখের সামনে দেখেছি। একদম ক্লিয়ার মনে আছে এসব।

২০০১ সালের নির্বাচনের সময়টা ছিল বর্ষাকাল যতটুকু মনে পড়ে। তখন অনেক মানুষের নিজস্ব জিঙ্গি নৌকা ছিল। এসব ডিঙ্গি দিয়ে পাট তোলার কাজ করতো বেশিরভাগ। তখন আওয়ামী ঘৃণায় অনেক নৌকা ওয়ালাকে দেখেছি
"নাও ডুবাই দে
ধান লাগাই দে"
এসব বলতে বলতে নৌকার পাটাতন ভেঙ্গে নিজের নৌকা নিজেই ডুবাই দিসে!

স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৯ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে এবং তৎপার্শ্ববর্তি আসনগুলোতে প্রতি জাতিয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের লজ্জা জনক ভরাডুবি হতো। ২০০৯ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর আসনে আওয়ামীলীগ জিতলেও আমাদের সরাইল আসনে এখনো একবারের জন্য আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় যেতে পারে নি।

এখনকার এমপি জাতিয় পার্টির। তাও নিজেদের ঘরের ছেলে বলে পাশ করতে পেরেছে এমন ব্যক্তি যে কিনা এলাকার মেম্বার হিসেবেও নিজের বৌ এর ভোটটা পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল না। মূলত সরাইল থেকে আওয়ামীলীগ পাশ করবে না আর বিএনপি থেকে কেউ ছিলও না তাই বর্তমান এমপি জাতিয়পার্টি থেকে চামে দিয়ে পাশ করে ফেলসে তখন।

মূলত ১৯৯৬ থেকে দেশের বা রাজনৈতিক ব্যাপারগুলো বুঝতাম না বাট বাপ চাচার মুখে শুনতে শুনতে আর ১৯৯৯ এর পর থেকে দেশের জনগণের মধ্যে হঠাৎ একটা চরম আওয়ামী বিরোধী পরিবর্তন আসে। দেশ হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের কারণে। সেই বিষয়গুলো থেকেই মূলত তখন থেকে দেশ এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলো বুঝতে শুরু করি।

এতকিছু বলার কারণ হচ্ছে আজকের দিনে এসে যখন আমার ছাত্রলীগের বিভিন্ন ক্লসমেটরা তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক আইডোলজির কথা শুনায়, তারা "কিছু একটা" সেটা দেখাতে চায় তখন বড্ড হাসি পায়। তারা তাদের আইডোলজির কথা যখন শোনায় তখন ভাবি আদৌ তাদের কোন আইডোলজি আছে কিনা! তারা নিকট কোন রাজনৈতিক ইতিহাসও আদৌ জানে কিনা সন্দেহ! আমি নিকট অতিতের যেসব কথা বললাম তোমরা নতুন ছাত্রনেতারা তখন মায়ের আঁচলের নিচে ফিডার খাইতা। তারপর(তখনকার সময়ে ডায়পার ছিল না) খেতার মধ্যে মুততা।

আওয়ামীলীগের এক রূপ ছিল ১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত। আরেকরূপ ছিল ১৯৯৬-২০০২ পর্যন্ত। আর ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত দেখাচ্ছে আরেক ভিন্ন রূপ!

লাস্ট একটা কথা বলি, ৭৫ পরবর্তি সময়ে যেমন মানুষ আওয়ামীলীগের নাম নিতে ঘৃনা করতো তেমনি ১৯৯৯ সালের পর থেকে এবং বিএনপির সময়কালে মানুষ ভয়ে নয়, প্রচন্ড ঘৃণায় আওয়ামীলীগের নাম নিতেও ঘৃণা করতো।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.