নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমরা শুধু মুখে মুখে স্বাধীনতা কথা বলি,কাজের বেলায় নেই।আমরা শুধু গানে গানে দেশ প্রেমের সুর তুলি, আসলে তা অন্তরে নেই।ভালোবাসা নেই মাটি ও মানুষের ।ভালোবাসা নেই লাল সবুজ এই পতাকার।চেতনার নামে দেশকে যারা আজ লুটে খাচ্ছে ,ওরাই স্বাধীনতা বিরোধী,আসল রাজাকার।

জীবনের পথচলা এক পথিক

সরল পথের পথিক

বুকের তাজা রক্ত ঢেলে যারা স্বাধীন করেছে বাংলা, ভুলবোনা তাদেরে আমরা , যায়না কভু ভোলা

সরল পথের পথিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

রজব মাসের সালাতুর রাগায়েব ও কিছু বিভ্রান্তির নিরসনঃ একটি গবেষণা মূলক নিবন্ধ

১৪ ই মে, ২০১৪ রাত ১১:৩২

অনেক বেদাতের মধ্যে এটি একটি। এক্ষেত্রে আমার গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো তুলে ধরলাম।



সালাতুর রাগায়েব আদায়ের পদ্ধতিঃ



হযরত আনাস রাযিঃ এর সূত্রে উল্লেখিত এই সালাতের বিবরণের সার সংক্ষেপ এখানে তুলে ধরলামঃ রজবের প্রথম জুমা রাতে মাগরিব ও এশার মাঝে এই নামায আদায় করতে হয়। এটাই প্রসিদ্ধ তবে অন্যান্য দিনের কথাও পাওয়া যায়। আর বৃহঃ দিনে রোযা রাখার কথাও আছে।

ছয় সালামে বারো রাকাত নামায পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার পর তিন বার সূরা কদর এবং বারো বার সূরা ইখলাস পড়তে হবে।

নামায শেষ হলে সত্তর বার এই দোয়াটি পড়তে হবেঃ

اللهم صل علي محمد النبي الأمي و علي ا له

এরপর সেজদায় গিয়ে সত্তর বার এই দোয়াটি পড়তে হবেঃ

سبوح قدوس رب الملئكة و الروح

সেজদা থেকে উঠে বসা অবস্থায় সত্তরবার এই দোয়াটি পড়তে হবেঃ

رب اغفر وارحم و تجاوز عما تعلم انك انت العلي العظيم

অথবা

الأعز الأكرم

আবার সেজদায় গিয়ে প্রথম সেজদার দোয়াটি সত্তর বার পড়বে এবং আল্লার কাছে প্রার্থনা করবে যা প্রার্থনা করবে তাই পাবে।



ফজিলতঃ



১ যা প্রার্থনা করবে তাই পাবে

২ সব গুনাহ মাফ হবে যদিও তা সাগরের ফেনা এবং গাছের পাতার সম পরিমাণ হয়

৩ পরিবারের ৭০০ শত লোকের শাফায়াত করতে পারবে

৪ এ নামায সুপুরুষের রুপ ধরে কবরের একাকীত্বে সঙ্গী হবে কিয়ামতে ছায়া দিবে

৫ মাওলার পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভে কখনো বঞ্চিত হবে না।



হাদীসটির মানঃ



১"মওযূ বাতিল বা ভিত্তিহীন জাল" এ কথা বলেছেন বা সমর্থন করেছেন নিম্নোক্ত বিখ্যাত হাদীস বিশারদগণঃ



* ইবনুল জাওযী

* নববী

* হাফেজ ইরাকী

* ইমাম সিরাজুদ্দীন

আবূবকর তরতূসী

* ইয ইবনে আব্দুস সালাম

* আবুল খাত্তাব ইবনে দিহইয়া

* ইবনে আররাক

* সুয়ূতী

* হাফেজ ইবনে হাজার

* হাফেজ যাহাবী তিনি বলেছেন এর রাবীদের জন্মই হয় নি মনে হয়



২ হাসান গরীব বা ভালো উত্তম। আবুল ফযল মুহাম্মাদ ইবনে নাছির আস সুলামী এর মতে। হাফেজ ইরাকী বলেন তিনি এই হুকুম আরোপের ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছেন। (সুতরাং অন্যসব হাদীস বিশারদদের তুলনায় তার এ কথা মূল্যহীন কারণ এই রেওয়াতটি আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহদাম থেকে এসেছে তিনি জাল হাদীস প্রণয়নে প্রসিদ্ধ ছিলেন তাই তার হাদীস হাসান বা উত্তম হতে পারে না)



সালাতুর রাগায়েবের উত্‍পত্তি হলো যেভাবেঃ



ইমাম আবূ মুহাম্মাদ ইয ইবনে আব্দুস সালাম বলেনঃ বাইতুল মুকাদ্দাসে রজব মাসে কখনো সালাতুর রাগায়েব আদায় করা হত না। এবং শাবানের ১৫ তারীখের নামাযও ছিল না। ৪৪৮ হিজরিতে নাবলুস থেকে ইবনুল হাই নামক এক লোক আসে এবং বাইতুল মুকাদ্দাসে এই নামায শুরু করে পরের বছরেও করে ফলে প্রচুর লোক সমাগম হয় এবং এভাবেই ধীরে ধীরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এই নামায। এমনকি তা প্রতিষ্ঠিত সুন্নতের রুপ ধারণ করে লোক সমাজে।



ইবনুস সলাহ রহঃ বলেনঃ ৪র্থ শতাব্দীর পরে এই নামাযের বিস্তার ঘটে। এর আগে মানুষ এ নামাযের কথা জানত না।

হাজী খলীফা কাশফুজ জুনূন গ্রন্থে বলেনঃ কতিপয় মিথ্যুক ৩য় শতাব্দীতে এর ফজীলত সম্পর্কে একটি জাল হাদীস প্রণয়ন করে। ৪র্থ শতাব্দীতে (বা আরো কিছু পরে) তা ছড়িয়ে যায়।



সালাতুর রাগায়েব আদায় করার হুকুম



১ নিকৃষ্ট পর্যায়ের বেদাত।ইমাম নববী বলেনঃ

الصلاة المعروفة بصلاةالرغائب . . . . و صلاة ليلة نصف شعبان مائة ركعة و هاتان الصلاتان بدعتان و منكران قبيحان



ইয ইবনে আব্দুস সালাম বলেনঃ এটা বেদাত হওয়ার প্রমাণ হলোঃ ঐসব সাহাবা তাবেঈন তাবে তাবেঈন এবং বিদ্যান মনীষিগণ যারা শরীয়তে ইসলামিয়্যা সংকলন করেছেন তাদের কারো থেকেই এই নামাযের কথা বর্ণিত নেই এবং কোন প্রকার আলোচনা নেই। অথচ তারা মানুষকে ফরয সুন্নত তথা দীন শিখানোর ব্যাপারে ছিলেন সবচে বেশী তত্‍পর।



শায়েখ শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার মক্কী বলেনঃ এই নামায আদায় না করা আমাদের মাযহাব মালেকী সহ অন্য সবার মাযহাব এবং হেজাযের অধিকাংশ উলামা এবং মদীনার ফুকাহাদের মাযহাব



আরো যারা বেদাত হওয়ার কথা বলেছেনঃ



* ইবনে আবিদীন

*ইবনে নুজাঈম

*ইবনে তাইমিয়া

*যাকারিয়া আল আনসারী

*আবু শামা আল মাকদেসী এবং আরো অনেকেই।



২ মুস্তাহাব। একথা বলেছেন কূতুল কুলুবের লেখক আবূ তালিব আল মক্কী এবং তার অনুকরণে ইহইয়াউ উলূমিদ্দীনের লেখক বিশিষ্ট দার্শনিক আলেমে দীন ইমাম গাযালী। ইমাম নববী বলেন যারা মুস্তাহাব হওয়ার কথা বলেছেন তারা ভুল করেছেন।



তথ্যসূত্রঃ



১ জামেউল উছূল ৬/১৫৪-৫৫

২ তানযীহুশ শরীয়া ২/৯১ . ১/৮৭

৩ ইতহাফুসসাদিতিল মুত্তাকীন ৩/৪২৩

৪ আল লাআলিল মাসনূআহ ৩/৪৮

৫ আল মাজমূ ৪/৬১

৬ মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ ফী আইয়ামিস সানাহ ৩২০

৭ রদ্দুল মুহতার ২/৪৬৯-৭০

৮ কিতাবুল মউযূআত ২/১২৫



- মাওলানা মুহাম্মাদ তাসনীম

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.