নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।

এম টি উল্লাহ

উপন্যাস অসমাপ্ত জবানবন্দী, নিরু, গায়েবি শৃঙ্খল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ‘মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘একাত্তরের অবুঝ বালক’ এর লেখক। পেশায়-আইনজীবী। কর্মস্থল- হাইকোর্ট।www.facebook.com/mohammad.toriqueullah

এম টি উল্লাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নক্ষত্রের বিদায়!

১২ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৫২


দেশবরেণ্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি, সাবেক স্পীকার, সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার স্যার রাত ৪ টা ১০ ঘটিকায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, আইন ও রাজনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা তথা জাতীয় জীবনে অভিভাবকের ভূমিকা রাখায় স্যার চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

জমির উদ্দিন সরকার ১ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স একজন জোতদার ছিলেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ অনার্স, এমএ ও পরবর্তীকালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করেন। পরে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল সনদ লাভ করেন।

তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্রের জনক। তার ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।  
তিনি নূর আখতারকে বিয়ে করেন, যিনি ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই দম্পতির এক কন্যা, নিলুফার জমির এবং দুই পুত্র, নওশাদ জমির এবং নওফেল জমির। তিনি ১৯৬০ সালে হাইকোর্টে আইনপেশা শুরু করেন।

তিনি আওয়ামী মুসলিমের লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মাওলানা ভাসানীর সহচর।
আইন পেশায় সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাকে পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। দল গঠনের প্রথম পর্যায়ে জিয়াউর রহমান জাগদল গঠন করলে তিনি তাতে যোগ দেন। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে হাইকোর্টে আইনজীবীদের যে গ্রুপটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, জমির উদ্দিন সরকার তাদের একজন।

রাষ্ট্রপতি
জমির উদ্দিন সরকার স্যার বিগত ২০০১-২০০৫ বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ সাল পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মন্ত্রী

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায় ৬ এপ্রিল ১৯৮১ থেকে ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ সাল পর্যন্ত গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন।

আবদুস সাত্তার সাহেবের মন্ত্রিসভায় তিনি ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রীসভায় ২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ২৮ আগস্ট ১৯৯১ পর্যন্ত ভূমিপ্রতিমন্ত্রী ও ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে ১৯ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে গঠিত স্বল্পকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্পিকার
তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে ২৮ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদ সদস্য
১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন দিনাজপুর-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নবম জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রকাশিত বই

• গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

• এক নজরে সংসদ সম্পর্কিত বিধিবিধান

• লন্ডনে শিক্ষা জীবন

• স্ট্রংগার ইউনাইটেড ন্যাশনস ফর পিসফুল ওয়েলফেয়ার ওয়াল্ড

• পাল রাজ থেকে পলাশী এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন

• গ্লিমপেসেস অব ইন্টারন্যাশনাল ল

• অষ্টম সংসদে স্পীকার

• দি ল অব দি সি

• ল অব দি ইন্টান্যাশনাল রিভারস এ্যান্ড আদার ওয়াটারকোর্রস

• লন্ডনে বন্ধু-বান্ধব

• লন্ডনে ছাত্র আন্দোলন

• বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি


আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে তাঁর অসীম রহমত, মাগফিরাতে আচ্ছাদিত করেন, তাঁর সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন, তাঁর সকল নেক আমল বহুগুণে বৃদ্ধি করে কবুল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন। আমীন

সংকলনে-
মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট







মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, আইন ও রাজনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা তথা
জাতীয় জীবনে অভিভাবকের ভূমিকা রাখায় স্যার চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

................................................................................................................
আমি উনার আত্নার মাগফেরাত প্রার্থনা করি ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.