| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একটা সময় ছিল যখন ব্লগে নাস্তিক আধা নাস্তিক এবং ধর্মনিরপেক্ষদের ব্যাপক আধিপত্য ছিল। এখানে নাস্তিক কোন গালি নয়, আদর্শিক পরিচয় মাত্র- যিনি বাহ্যিকভাবে নিজেকে স্রষ্টায় বিশ্বাসী নন বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অবশ্য অপ্রকাশ্যে স্রষ্টা সম্পর্কে তার মনের খবর তিনিই ভালো জানেন। আধা নাস্তিক বলতে যিনি মনে করেন, স্রষ্টা একজন সম্ভবত আছেন, তবে ঐ পর্যন্তই.. সৃষ্টি করেই তিনি ক্ষান্ত দিয়েছেন। বর্তমানে আদৌ জীবিত আছেন কিনা তা নিয়ে তারা ভাবতে আগ্রহী নন। আর ধর্ম নিরপেক্ষ হচ্ছেন তারা যারা স্রষ্টায় পূর্ণরূপে বিশ্বাসী। কিন্তু স্রষ্টাকে ইবাদতখানার বাহিরে আসার অধিকার দিতে নারাজ। স্রষ্টা স্রষ্টার জায়গায় থাকবেন, মানুষ ইবাদতগাহে গিয়ে তাকে সিজদা প্রণাম দিয়ে আসবে। পৃথিবীর ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ বাস্তবতায় স্রষ্টার নাক না গলানোই স্রষ্টার জন্য ভাল, মানুষের জন্যও ভালো- এই হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষদের মোটামোটি আদর্শিক অবস্থান।
এনাদের ভীড়ে যারা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করার পাশাপাশি জীবন জগতের সবক্ষেত্রেই স্রষ্টার দিক নিদের্শনা আছে বলে স্বীকার করে এবং সে অনুযায়ী পরিচালিত হতে ও পরিচালনা করতে আগ্রহী- তারা ছিল ব্লগে কোনঠাসা। কেউ একবার তাদের পরিচয় দিয়ে ফেললে তার আর রক্ষে ছিলনা, প্রথম খেতাব ছাগু। তারপর কাঁঠালপাতা, তারপর গদাম, তারপর আরো অনেক কিছু। এক যোগে ঘেরাও করে ভার্চুয়াল পাকড়াও। তারপরও সাইজ না হলে ব্যান।
সেই সমিকরণ এখন অনেক চেইঞ্জ হয়েছে। নেট জগত দাপিয়ে বেড়ানো নাস্তিকদের সংখ্যা এখন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। আর ইসলামীস্টরা দিন দিন বেড়ে চলছে। নাস্তিকদে সংখ্যা বাড়ার পেছনে মৌলিক কারণ হচ্ছে তাদের রিক্রুটমেন্ট কম। নাস্কিকদের শেকড় হচ্ছে কমিউনিজম... কমিউনিজমের আদর্শটাই এমন যে এখানে প্রবেশ করলে স্বেচ্ছায় কি অনিচ্ছায় নাস্তিকতাকে বরণ করে নিতে হয়। বলাই বাহুল্য কমিউনিজম একসময় ছিল মেধাবী আর মননশীল ছাত্রদের জন্য অহংকার স্বরূপ। কিন্তু নব্বইতে কমিউনিজমের চূড়ান্ত পতনের পর, মেধাবীরা কমিউনিজম থেকে মুখ ঘোরালো। এখন যারা নাস্তিক, তারা কমিউনিজম থেমে যাওয়ার পরও যে আপনা আপনি কিছুক্ষণ চলে, সেই ধারায় আগত, এদের সংখ্যা কম, দিনকে দিন আরো কমে আসছে। তবে এদের প্রত্যেকে মেধায় অনন্য, অন্তত একশ ইসলামীস্টের বিপরীতে একজন নাস্তিক, আধা নাস্তিক বা ধর্মনিরপেক্ষ যথেষ্ট।
সমস্যা হচ্ছে, ইসলামীস্টদের মধ্যেও ধীরে ধীরে মেধাবী ব্লগার বা ইন্টারনেট এ্যাকটিভিস্ট বেড়িয়ে আসছে, এবং সে সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ওই নাস্তিক বা নাস্তিকপন্থীরাই মূলত এর পেছনে দায়ী। সরকারের দমন নিপিড়নে ইসলামীস্টদের প্রিন্ট মিডিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এবং রাজপথে নামতে না পেরে তারা ইন্টারনেট মুখি হয়েছে। প্রথমে ছিল পাঠক, পরে রাজপথের স্লোগান ও বক্তৃতা দেয়ার বিকল্প হিসেবে বেছে নিল ইন্টারনেট।
বাস্তব ময়দানে নাস্তিকও ধর্মনিরপেক্ষরা সংখ্যায় সব সময়ই ছিল ইসলামীস্টদের চেয়ে কম, কিন্তু নেট জগতে নাস্তিকদের ধারে কাছে তারা ছিলনা। তারা ইন্টারনেট জগত সম্পর্কেই ছিল অজ্ঞ। কিন্তু সরকার পিটিয়ে তাদেরকে নেট জগতে পাঠিয়েছে। নেট জগতে ঢুুকে ব্লগে ঠাঁই নিলেও সেখানেও সরকার হামলা করলো। এরপর সব ঢুুকলো ফেসবুকে। প্রথমে বাশের কেল্লা জাতীয় পেইজের ছায়াতলে ছিল, কিন্তু সেখানেও সরকার খড়গহস্ত হওয়ায় এখন নিজেরাই লেখা শুরু করলো। অবাক করার মত হলেও সত্য, কিছু ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া ইসলামিস্টও এখন অত্যন্ত চমৎকার লিখে রীতিমত সেলিব্রিটি হয়েছে। এরা মেক্সিমামই জেল খেটে বেড়িয়ে ভয়ডর খুইয়ে বেপরোয়া হওয়ায় তেজস্বী লেখক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
ইন্টারনেট জগতের এই ক্রমবিবর্তনের ধারায় নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষদের দীর্ঘ দিনের একক আধিপত্য প্রায় শেষ পর্যায়ে। মেধা বিবেচনায় নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষরা এখনও সেরা স্বীকার করতেই হবে, কিন্তু তাদের মধ্যে নতুন রিক্রুটমেন্ট শুন্যের কোটায় হওয়ায় এবং ইসলামীস্টদের সংখ্যাগত সয়লাব এবং ক্রমশ তা গুনগত মানে কনভার্ট করার দিকে যাওয়ায় এই সমিকরণে খুব শীঘ্রই ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসছে সন্দেহ নেই। ইসলামীস্ট লেখকদের মধ্যে এখন বেশ কিছু মেধাবী দাড়িয়ে গেছে এবং যাচ্ছে যারা যে কোন বিচারে নাস্তিকদের সাথে চ্যালেঞ্জ দেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন।
বলাই বাহুল্য, ইসলামীস্টরা বাস্তব রাজপথে স্মরণকালের সর্বোচ্চ পরিমান বিপর্যস্ত- এটি যেমন সত্য, তেমনি ইন্টারনেট জগতে তারা স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি সংগঠিত ও সক্রিয় এবং তা এতদিনের একছত্র রাজত্বকারী নাস্তিক - ধর্মনিরপেক্ষদের জন্য প্রথমবারের মত এক শক্তিমান আগ্রাসী প্রতিপক্ষ রূপে আবির্ভূত। এই সমিকরণের সূদূর প্রসারী ফলাফল আদর্শিক জগতের মেরুকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায় তা দেখতে হলে কেবল অপেক্ষা করতে হবে।
২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪১
তরঙ্গ বলেছেন: জাপানের নাস্তিকরা কমিউনিজম বিরোধী বলে কি কমিউনিজম নাস্তিকতার অন্যতম উৎস হতে পারবেনা?- এ কেমন 'সেকুবি' সমিকরণ?
আমি বলতে চেয়েছি বাংলাদেশে যারা প্রতিক্রিয়াশীল নাস্তিক, ইসলাম বিরোধিতাকে জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে, তাদের অধিকাংশের উৎস বামপন্থি তথা কমিউনিস্ট রাজনীতি।
কলেবর ছোট রাখতে সব বিষয় ব্যাখ্যা করে বলা হয়নি।
২|
২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৯
নিয়ামুল ইসলাম বলেছেন: রাজাকারদের চামচাদের ছাগু বলা হত, ইস্লামিস্টদের বলা হয় নি। আর আপনার পরিচয় এখানেই বুঝা যাচ্ছে। জামাতিরা কোন পদের ইস্লামিস্ট ওইটা ঐ ব্রেইনওয়াশডরা বাদে বাকি সব সাধারন মুসলমানরাই জানে।
২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৯
তরঙ্গ বলেছেন: আপনার নামের অর্থ যতদূর বুঝি 'ইসলামের নিয়ামত'। ইসলামের নিয়ামত হচ্ছে ইসলাম মানুষকে জীবন যাপনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ঐশি গাইডলাইন দিয়েছে যা দেশ কাল বর্ণ নির্বিশেষে পক্ষপাতহীন কারণ তা বিশ্ব জগতের প্রতিপালক ও মানুষের স্রস্টা আল্লাহ প্রদত্ত।
এই কথাকে সামনে রেখে আপনি, প্রথম কিংবা দ্বিতীয় যে প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা হন, এই ব্লগে যুক্তি প্রমাণ সহ একটা লেখা লিখুন যে পরিবার সমাজ সরকার ব্যবস্থা বিচার ব্যবস্থা তথা রাষ্ট্র- সবক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা ইসলামের বিধানগুলো প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই রয়েছে মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ- দেখুন আপনাকে যদি ছাগু খেতাব দেয়া না হয়... চ্যালেঞ্জ করছি।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৬
খেলাঘর বলেছেন:
" নাস্কিকদের শেকড় হচ্ছে কমিউনিজম... কমিউনিজমের আদর্শটাই এমন যে এখানে প্রবেশ করলে স্বেচ্ছায় কি অনিচ্ছায় নাস্তিকতাকে বরণ করে নিতে হয়। "
-আপনি বেকুব।
৬০% জাপানী স্রস্টায় বিশ্বাস করে না; ৯৯% জাপানী সোস্যালিজম/কম্যুনিজম বিরোধী।
আপনি কুপের ভেতর থেকে হাউকাউ করছেন।