| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রিক্শা ছেড়ে দিয়ে হেটে বাসার দিকে যাচ্ছি। রাস্তটায় মোটামোটি ভিড়। ডানে বামে রিক্শা, দুই একটা প্রাইভেট কার। লোকজনও হাটছে। একটা মেয়ে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। তাকাচ্ছেও আমার দিকে। আমিও তাকাচ্ছি। মেয়েটা সুন্দর, চুলগুলো মশ্রিণ, চোখদুটো দ্বীপ্তিময়। আমার নজর আটকে গেছে ওর চোখের দিকে। এরকম একটা মেয়েকে পাওয়ার জন্য আমি ৫০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে রাজি আছি। কিন্তু আমার পকেটে মাত্র ৫০ টাকা। ছোট চাকরী করি। সামান্য বেতন। থাকি মেসে, ব্যাচেলর বাসায়। অফিস যাই, বাসায় ফিরি, বাজার করি, খাই, ঘুমাই, রাস্তায় হাটি, হাটতে হাটতেই কোন কোনদিন কোন চোখের দিকে এরকম নজর আটকে যায় আমার। অত:পর বাসায় ফিরে স্বপ্ন দেখি কোন এক রুপালী সকালে ঘুম ঘুম চোখে চোখ মেলে দেখব বিছানায় আমার পাশের বালিশটা ফাঁকা। কেউ নেই। যে ছিল সে রান্নাঘরে। গরম কফির মগ হাতে সে পাশে এসে দাড়াবে একসময়। তার ভেজা চুল, স্নিগ্ধ চোখ, কি যে সুন্দর লাগবে তাকে ! আমি তাকিয়ে থাকবো তার অদ্ভুত সুন্দর চোখদুটোর দিকে। যেই চোখের দিকে তাকালে কোনদিন মরতে ইচ্ছে করবেনা। কোনদিন না। মেয়েটো আমাকে ক্রস করে পেছনে চলে গেল। আমিও দৃষ্টি সরিয়ে আমার দিকে হাটতে লাগলাম। কিছুদূর গিয়ে আবার পেছন ফিরে তাকালাম, আশ্চর্য ঠিক ঐ মুহুর্তে মেয়েটাও মাথা ঘুরিয়ে তাকালো আমার দিকে ! আমি দাড়িয়ে গেলাম। না: আর কতো স্বপ্ন দেখা। কতো অপেক্ষা। দেখিনা একটু সাহস করে বলে। কাউকে না কাউকেতো বলতেই হবে। আমি দিক পরিবর্তন করে ভয়, সংশয় আর উত্তেজনা মিশ্রিত এক অনুভূতি নিয়ে ওর পেছন পেছন হাটতে লাগলাম। মেয়েটা এবার বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে। সেই তাকানোতে ভয় নাকি আবেদন বোঝা যাচ্ছে না। আমি নিজেও নার্ভাস। কি বলব? ঝাড়ি টারি দিবেনাতো? তা দিক। যদি ইভটিজিং হয়? সর্বনাশ ! সামনে থানা, পাশেই র্যাব অফিস। সময়টা আবার রাত। যদি আমাকে ছিনতাইকারী ভেবে মেয়েটা দৌড় দেয়, যদি লোকজন এসে ধরে ফেলে আমাকে। গণধোলাই, বাঁশডলা !
ওহ্ গড। না থাক, ফিরে যাই বাসায়। ফিরে যাবো? এতো কাছাকাছি এসেও? না যাবোনা। মরতে হলে মরবো। এরকম একটা মেয়ের জন্য জীবন দেওয়া কোন ব্যাপার না। কি লাভ এই জীবন রেখে? যে জীবনে রং নেই, ভালোবাসা নেই।।
এক্সকিউজমি?
আমাকে বলছেন?
জ্বি আপনাকে, একটু কথা বলতে চাচ্ছিলাম।
জ্বি বলেন।
দাড়ালেন কেন, হাটুন। আমি আপনার সঙ্গে একটু হাটতে পারি?
মানে?
না মানে হাটতে হাটতে কথা বলতাম।
ও আচ্ছা...
হ্যাঁ বলেন, কি বলবেন।
না তেমন কিছু না। যেই মেয়ে কারো দিকে এতো সুন্দর করে তাকায়, সে কিভাবে কথা বলে খুব শুনতে ইচ্ছা করল। তাই আপনার পেছন পেছন আসলাম। কিছু মনে করেননি তো? আচ্ছা আপনার নাম কি?.......
আমাকে অবাক করে দিয়ে ও খিলখিল করে হেসে উঠলো। কি যে মিষ্টি হাসি ! কেন যে হাসলো। ওর হাসির শব্দে আলোকিত হয়ে গেল আামর মস্তিস্কের সমস্ত অন্ধকার কোনাগুলো।
হাসি থামিয়ে ও বলল সত্য নাম বলব না মিথ্যা নাম বলব। আমি বললাম অবশ্যই সত্যি নাম বলবেন মিথ্যা বললে বলার দরকার নাই।
আমার নাম রুমী। শোনেন, সামনেই আমাদের বাসা, আপনি কি আর কিছু বলবেন?
হ্যাঁ বলব
বলেন।
আপনি দেখতে আমার স্বপ্নবালিকার মত। আমি আপনাকে ভালোবাসতে চাই। আমার কথা শুনে রুমী আবার হাসতে লাগলো। ওর হাসি দেখে আমার খুব ইচ্ছে হলো আকাশের তারা এনে ওর কপালে টিপ পরিয়ে দেই।
রবিউল করিম বাবু,
[email protected]
01943679956
কাদেরাবাদ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
©somewhere in net ltd.