| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমার ছোটবেলায় দুনিয়াটা আমার কাছে খুব খুব খুব ছোট ছিলো। আমার আইডল ছিলো আমার স্কুলের টিচারেরা। বাবার চাকরির বদলির সুবাদে বেশ কয়েকটা স্কুলে পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে।
সব টিচারকেই যে ভালো লাগত তা না, কাউকে জোকারের মত আবার কাউকে কাউকে ভিলেন ভিলেনও লাগত। টিচাররা আইডল ছিলো বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি, তখন তো বিটিভি আর পেপার পত্রিকা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না আমাদের সামনে, এখন তো সারা দুনিয়াই একসাথে দেখা যায়, হিরো চয়েজের অপশনও বেড়েছে।
বেশ কয়েকটা স্কুল পাল্টানোর কারনে আইডলও বেশ কয়েকবার চেঞ্জ হয়েছে। অনেক ভালো মানের শিক্ষক দেখেছি, খারাপের সংখ্যাও কম না।
দেখেছি অনেক শিক্ষকই যে বিষয়টা পড়াবেন তার সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী বইয়ে যা আছে তার থেকেও অনেক দূর এগিয়ে খুব চমৎকার একটা ধারণা দিতে পারতেন, অনেকে আবার বইয়ে যা আছে তাও বুঝাতে পারতেন না ঠিক মতো।
কারো ছিলো আকর্ষণীয় পারসোনালিটি, কেউ কেউ আবার দুনিয়ার ক্ষেত।
অনেকেই ক্লাসের প্রত্যেকটা ছাত্র যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টা বুঝতে না পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত পড়াতেন খুব যত্ন সহকারে। অনেকে আবার সুর করে রিডিং পড়তেন অথবা কোনো একজন ছাত্রকে রিডিং পড়ার দায়িত্ব দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখতেন!
কেউ কেউ নিজ ইচ্ছাতেই রাতের বেলা ছাত্রদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খবর নিতেন পড়াশোনা হচ্ছে কিনা ঠিক মতো, কেউ আবার ক্লাসেও খোঁজখবর নিতেন না মোটেও।
কারো কারো ক্ষমাশীল দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, কারো আবার অল্প দোষে বেত দিয়ে মারার বদভ্যাস ছিলো।
সিলেবাস শেষ করার ব্যাপারে কেউ ছিলেন খুব সাংগঠনিক, কেউ আবার বেড়াছেড়া লাগিয়ে ফেলতেন।
কারো মধ্যে দেখেছি স্বপ্ন দেখানোর মতো যোগ্যতা, কাউকে দেখেছি কলুর বলদের মতো জীবন যাপন করতে যাদের নিজের জন্যই কোনও স্বপ্ন নাই।
আমার এই শিক্ষকেরা আমার মনোজগতের বিশাল একটা অংশ জুড়ে আছে, এদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছে সুপারস্টার হয়ে থাকবেন চিরজীবন, কারো কারো আবার চেহারা মনে থাকলেও নাম ভুলে গেছি।
ছোটবেলায় তাঁরা যা বলেছেন তাই বিশ্বাস করেছি, আমার এই আমি-র আজকের অবস্থানের পিছনে তাদের প্রভাব অনেক।
একটা ছেলে কেমন করে বেড়ে উঠবে, তার অনেক কিছুই শুধুমাত্র পরিবারের উপর নির্ভর করে না, অনেক অনেক অনেক কিছু নির্ভর করে তার শিক্ষকেরা কেমন তার উপর। দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬ ঘন্টা ঘুমালে, বাকী ১৮ ঘন্টার ১০ ঘন্টাই থাকে সে শিক্ষকের কাছে।
দয়া করে আপনার ছেলেটাকে-মেয়েটাকে, ভাইটাকে-বোনটাকে কেবল মাত্র ভালো মার্কের জন্য শিক্ষকের কাছে পাঠাবেন না, ভালো মানুষ হওয়ার জন্য পাঠান।
ভালো মানুষ না হলে আর ভালো মার্ক দিয়ে কী হবে???
ঢাকার একটা ভালো স্কুলেই পড়াতে হবে এমন তো কোনো কথা নাই, ঢাকার বাইরেও ভালো পড়াশোনা হয়।
ভালো মার্ক পেলো। ভালো চাকরি পেলো কিন্তু মানুষ হলো না, এরকম যাতে না হয়। একজন অমানুষ বিদ্বান হলেও লাভ নাই, চাকরি-বাকরি করলেও সে আপনাকে দেখবে না, অমানুষেরা নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে, অন্যের কথা ভাবে না।
আর লক্ষ্য রাখুন শিক্ষকটা যাতে ধর্ষক না হয়!
©somewhere in net ltd.