| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
![]()
কুইন্সবোরো প্লাজার সাবওয়ে স্টেশনে হঠাৎই চোখে পড়লো একটি পোস্টার- “ডোন্ট প্লে ডাম উইথ ইওর স্মার্ট ফোন। স্টে অ্যালার্ট, প্রোটেক্ট ইওর বিলংগিংস, প্রোটেক্ট ইওরসেল্ফ।” হাতে স্মার্ট ফোন মানেই নিউইয়র্কে ঝুঁকির মধ্যে থাকা। ট্রেনের যাত্রী কিংবা পথচারী যে কেহই হতে পারেন হামলার শিকার। শুধুই যে ফোন কেড়ে নেওয়া তা কিন্তু নয়! সামান্য ফোনের কারণে প্রাণটা কেড়ে নিতেও পিছ না হয় না এখানকার ছিনতাইকারীরা।
যার সাম্প্রতিক শিকার এক পাকিস্তানি তরুণ। স্মার্ট ফোনটির জন্য প্রাণ দিলো মোহাম্মদ চৌধুরী (১৯)। তবে এ ঘটনাটি নিউ জার্সির। গত ১২ জুলাই শুক্রবার ভোররাতে সেহেরির সময় মেলোরি এভিনিউতে নিজের বাড়ির সামনে এক ছিনতাইকারী তাকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ অবশ্য এই ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে। মোহাম্মদ চৌধুরীর বন্ধু সাইদ মোহাম্মদের ভাষ্যে, সেলফোনের কারণেই প্রাণ দিতে হলো তার বন্ধুকে। সাঈদ জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাতের খাবার তৈরি করে বাইরে বের হয়েছিলেন মোহাম্মদ চৌধুরী ও তার ভাই। এসময় ছিনতাইকারীটি মোহাম্মদের ভাইয়ের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়। এসময় বাধা দিতে গেলে মোহাম্মদ চৌধুরীকে গুলি করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী।
আমরা পাকিস্তান থেকে এই দেশে এসেছি একটি নিরাপদ সাচ্ছন্দের জীবনের জন্য। পাকিস্তানে আমরা কখনোই একটি সেল ফোনের জন্য গুলি চালিয়ে দেই না, বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই বলছিলেন সাঈদ মোহাম্মদ।![]()
গোটা যুক্তরাষ্ট্র জুড়েই এটি একটি বড় সমস্যা। ২০১২ সালের একটি হিসেবে ১৬ লাখ আমেরিকানের স্মার্টফোন ছিনতাই হয়েছে। বিষয়টি জাতীয় মহামারি বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের মতে, সারাদেশে প্রতি তিনটি ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যে অন্তত একটি মোবাইল ফোন সম্পর্কিত।
গত ১৩ জুন নিউইয়র্কে হয়ে গেলো ‘স্মার্টফোন সামিট’। সেলফোন চুরি ও ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে সৃষ্ট হতাশা দূর করার উপায় খুঁজতেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় স্মার্টফোন প্রস্তুতকারকদের এই সম্মেলন ডাকা হয়েছিলো। নিউইয়র্কের এটর্নি জেনারেল এরিক স্নাইডারম্যান ও স্যানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি জর্জ গ্যাসকন এই সম্মেলন ডেকেছিলেন।
উদ্দেশ্য একটাই চুরি বা ছিনতাই হওয়া স্মার্টফোনগুলো দ্রুততার সঙ্গে পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়ার জন্য নতুন কোনো প্রযুক্তি আবিস্কার করা যায় কি না সে নিয়ে কথা বলা। অ্যাপেল, গুগল, স্যামসাং, মাইক্রোসফট এর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে যোগ দেন।
অ্যাপেল’র সবশেষ ভার্সন আইফোনের ওপরই ছিনতাইকারীদের নজর বেশি। এরই মধ্যে বিষয়টি ‘অ্যাপেল পিকিং’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে। তবে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ট্যাবেরও ওপর ছিনতাইকারীদের নজর কম নয়।
গ্যাসকন ও স্নাইডারম্যানের ইচ্ছা, ফোনটি চুরি হওয়ার নোটিস পাওয়া মাত্রই তা এমনভাবে অকেজো হয়ে যাবে যে চোর বা ছিনতাইকারীর কাছে তার কোনো মূল্যই থাকবে না।
স্যানফ্রান্সিসকোতে ডাকাতির ঘটনার অর্ধেকের বেশিই সেলফোন সম্পর্কিত। বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি গ্যাসকন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা যেনো “কিল সুইচ” নামে একটি প্রযুক্তি আবিস্কার করেন যাতে ফোনটিকে নিমিষে অকেজো করে দেওয়া যায়। জুনের গোড়াতে সানফ্রান্সিসকোতে ২৭ বছরের এক পর্যটককে তার আইফোনের কারণে ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয়। ছিনতাইকারীরা ফোনটির জন্য ওই যুবকের মুখম-লে ছুরিকাঘাত করে তার গলায় ছুরি চালায়।
স্নাইডারম্যান জানান, নিউইয়র্কে গত এক বছরে সেলফোন চুরির মাত্র বেড়েছে ৪০ শতাংশ। আর এর মধ্যে অ্যাপেলের আইফোন চুরির সংখ্যাই বেশি।
আইডিসি নামে ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসেবে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৬৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যে ১৭ কোটি ৫০ লাখ পিস সেলফোন বিক্রি হয়েছে যার অধিকাংশই স্মার্ট ফোন।
সাম্প্রতিক একটি জরিপের বরাত দিয়ে স্নাইডারম্যান জানান, গতবছর অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলারের সেলফোন চুরি গেছে। তিনি বলেন, হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসটি চুরির মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। আর প্রায়শঃই ঘটনাগুলো সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এক বিবৃতিতে ¯œাইডারম্যান বলেন, আইন-শৃংখলাবাহিনী কাজ করবে তবে সময় এসেছে বিষয়টি বন্ধে প্রস্তুতকারকদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবনী কিছু করা।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে প্রায়শঃই ঘটছে সেলফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক যাত্রী জানালেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে সাবওয়েতে। ট্রেনগুলোতে দেখা যায় অধিকাংশ যাত্রীই যাত্রার অবসরটুকু তাদের সেলফোনের সঙ্গে কাটান। কেউ গান শোনেন, কেউ গেমস খেলেন, কেউ স্রেফ হাতে ধরে কানে হিয়ারিং ডিভাইস লাগিয়ে কথা বলেন। ছিনতাইকারীরা এদের মধ্যে যারা ফোনটির চেয়ে খেলায় কিংবা গানে বেশি মগ্ন তাদেরকেই টার্গেট করেন। বিশেষ করে যারা ট্রেনের দরজার কাছাকাছি বসেন তাদের টার্গেট করে রাখেন। ট্রেন কোনো স্টেশনে প্লাটফর্মে থামার পর দরজা খুলে যাওয়ার মূহুর্তেই হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ট্রেন থেকে বের হয়ে যায় ছিনতাইকারী। ভীরের মধ্যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছিনতাইকারী ছুটে সরে যায়। এরই মধ্যে ট্রেনের দরজাও যায় বন্ধ হয়ে ফলে ছিনতাইয়ের শিকারের পক্ষে আর কিছুই করার থাকে না।
ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় নিউইয়র্ক সিটি সবচেয়ে এগিয়ে। গত বছর এই নগরীর মোট ডাকাতির ৪০ ভাগই সেল ফোন সম্পর্কিত। দ্বিতীয় অবস্থানে কলাম্বিয়া ডিস্ট্রিক্ট। এখানে সেলফোন ছিনতাই ৩৮ শতাংশ।
দামি ও অত্যন্ত কাজের ছোট্ট এই ডিভাইসটি হাতে পেলে ছিনতাইকারীরা দুইভাবে উপকৃত হতে পারে। তারা এটি বিক্রি করে দিয়ে পেয়ে যায় বড় অংকের অর্থ। আর ফোন থেকে তারা তথ্যও চুরি করতে পারে।
ড্যাটা স্টোর করে রাখার বিভিন্ন পদ্ধতি থাকে এইসব স্মার্ট ফোনে। ফলে তা অনেকের জন্যই একটি প্রয়োজনীয় ডিভাইস। নতুন একটি ফোন কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি এটি হয়ে ওঠে অধিকাংশের জন্য্ই বড় ক্ষতির কারণ। ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য, পাসওয়ার্ড, ইমেইল অ্যাকাউন্ট, সোসাল নেটওয়ার্ক, কনট্রাক্ট লিস্ট, কাজের সূচি সবই তখন ছিনতাইকারী বা চোরের হাতে। ফলে ফোন থেকে সেসব তথ্য চুরি করে অনেক ক্ষতিই করে ফেলতে পারে ছিনতাইকারীরা।
বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে কাজ করছে ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন। মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এই ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রতিরোধে ওয়্যারলেস ফোন ইন্ডাস্ট্রি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। তারা আশা করছে ২০১৩ সালের শেষ নাগাদ চুরি যাওয়া ফোনগুলোর একটি কেন্দ্রীয় জাতীয় ডাটাবেজ প্রস্তুত করতে পারবে। এবং সেগুলোকে অকেজো করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর মাধ্যমে চুরি যাওয়া ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করা যাবে। এবং ফোনটি অকেজো হলে এর পুনবিক্রয়মূল্য থাকবে না। ফলে চুরি কমবে।
এছাড়াও এফসিসি আশা করছে, এবছরের মধ্যেই এটিঅ্যান্ডটি, স্প্রিন্ট ভেরাইজন ওয়্যাললেস ও টি-মোবাইল এমন একটি প্রোগ্রাম বের যার মাধ্যমে চুরি চাওয়া ফোনটি ক্রেতা নিজেই অকেজো করে দিতে পারবেন। ফোনগুলো রিমোটেড অবস্থান থেকে লক করে দিতে পারবেন কিংবা দ্রুতই তাদের নিজস্ব ডাটাগুলো মুছে ফেলতে পারবেন। এমনকি ফোনটি কোথায় আছে তাও ট্র্যাক করে নিতে পারবেন।
এফসিসি’র চেয়ারম্যান জেনাচোয়াস্কির মতে, একটি ফোন চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া খুবই সহজ। কিন্তু নতুন এই কর্মসূচিগুলো নেওয়া হলে তা আর ততটা সহজ হবে না।
নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর চার্লস ই সুমার এরই মধ্যে এ ধরনের চুরি বন্ধে বিশেষ আইন প্রণয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি চুরি যাওয়া সেল ফোনকে ¯্রফে একটি ফাঁকা ওয়ালেটের মতো মূল্যহীন করে তোলা।”
তবে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের পাশাপাশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। ব্যবহারকারীদের মধ্যেও থাকে অনেক ধরনের অসতর্কতা। গবেষণায় দেখা গেছে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অর্ধেকই তাদের ফোনটিকে পাসওয়ার্ড বা পিন-প্রটেক্টেড করে রাখেন না।
‘হোয়ার্স মাই ফোন’ নামে যে অ্যাপ্লিকেশনটি রয়েছে তা ইনস্টল করে রাখলে চুরির পর সহজেই তা খুঁজে পাওয়া যাবে। এছাড়াও ফোন থেকে ভার্চুয়াল তথ্য চুরি ঠেকাতে মোবাইল সিকিউরিটি সফটওয়্যার ইনস্টল করে নিতে হবে।
সুত্রঃ Click This Link
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৪:২৯
হ্যারিয়ার টু বলেছেন:
আমেরিকায় স্মার্টফোন চুরি করে এক পয়শাও লাভ নেই।
থানায় রিপোর্ট করা মাত্র ime number বাতিল করে ফোন অকেজো খেলনায় পরিনত হবে।