| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভাইজান০০৭
নিজ আয়ত্বাধীন কাজগুলো সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে করার চেষ্ঠা করি।
অনেক প্রতীক্ষার পর সরকার ও বিরোধীদলের প্রধান নেত্রী মহোদয় ২৬/১০/২০১৩ তারিখে ৪০ মিনিটের এক টেলি-সংলাপে অংশগ্রহণ করেছেন। ৪০ মিনিটের এই টেলি-সংলাপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাননীয় বিরোধীদলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দলীয় নেত্রবৃন্দসহ গণভবনে আগামী ২৮/১০/২০১৩ তারিখে আলোচনা ও নৈশভোজের আমন্ত্রন জানান। সরকারী সূত্রে জানা যায়, এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাননীয় বিরোধীদলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ও জাতির স্বার্থে জালাও-পোড়াও রাজনীতি বন্ধ ও হরতাল প্রত্যাহারের আহবান জানান। জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা বহালে সরকারের আন্তরিকতা না থাকলেও জাতির স্বার্থে বিরোধীদল ২৯/১০/২০১৩ তারিখের সন্ধ্যা ৬.০০ টার পর যেকোন সময় সংলাপে বসতে প্রস্তুত। আরও জানানো হয় যে, কর্মসূচী প্রত্যাহারের যথেষ্ট সময় না থাকায় হরতাল বহাল থাকবে এবং হরতালের পর যেকোন সময় মাননীয় বিরোধীদলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণভবনে যাবেন। এই নিয়ে সরকারের মন্ত্রী, এম.পি, নেতা-নেত্রী ও আইনজীবিরা ব্যাপক শোরগোল তুলেছেন, মাননীয় বিরোধীদলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংলাপের সুযোগ হারিয়েছেন বা সংলাপ না হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।
এই টেলি-সংলাপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় বিরোধীদলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের নিজ নিজ প্রস্তাবের কথায় শুধু বলেছেন। সামনা-সামনি তাঁদের মাঝে কি আলোচ্য বিষয় হবে তা বলেননি। আমার দৃষ্টিতে টেলি-সংলাপটি ছিল একটি রাজনৈতিক চাল, কেননা, আওয়ামীলীগ সাংবিধানিক কাঠামো (১৫-তম সংশোধনী) তে থাকতে চায়। আবার কখনো বলে সর্বদলীয় সরকারের কথা যা সাংবিধানিক কাঠামোর বাহিরে যেতে পারে। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধীনে জাতীয় নির্বাচন আওয়ামীলীগ করতে চায় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করতে চান। আপামর জনসাধারণ কি ভাবছে তা নিয়ে তাঁদের কোন মাথা ব্যথা নেই। সহিংসতায় সারা দেশের জনগণ যখন আতংকিত, সংকট যখন জটিল আবর্তে আবর্তিত, জাতীয় সংকট উত্তরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন শেষ সময়ে ফোন করবেন? ২৭/১০/২০১৩ তারিখে আলোচনা প্রস্তাবের পরিবর্তে কেন ২৮/১০/২০১৩ তারিখে সন্ধ্যায় নৈশভোজের আয়োজন? তিনি বলতে পারতেন, হরতাল প্রত্যাহার করে আসেন ২৭/১০/২০১৩ তারিখ সকালে আলোচনায় বসি, জাতীয় নির্বাচন কিভাবে এবং কার অধীনে হবে? তা না করে, তিনি হরতালের ৩৬ ঘন্টা পর নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের সংলাপকে নামকাওয়াস্তে রেখে নৈশভোজকে প্রাধান্য দিলেন। আওয়ামীলীগ নেতারা মাঝে মাঝে বলার চেষ্ঠা করছেন বিরোধীদলের সাথে সংলাপটি অন্যান্য দলের সাথে সংলাপের মত। তাহলে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে জনগণের দাবীটি কোথায় স্থান পেল?
তা সত্ত্বেও আমরা জাতীর অবহেলিত ভুক্তভোগী আমজনতা প্রতি দিন স্বপ্ন দেখি, মাননীয় দুই নেত্রী মহোদয় নিজেদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রাধান্য না দিয়ে জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে চলমান সংকট উত্তরনে ফলপ্রস্যু আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলের নেত্রীর মাঝে সমঝোতা না হলে , দুই দলের যত বড় নেতা আলোচনায় অংশগ্রহণ করুন না কেন, তা ফলপ্রস্যু হবে না। কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছায় নয়, জাতীয় সংকট মোচনে তাঁদের মাঝে সমঝোতা হতেই হবে। জাতি গভীরভাবে তা বিশ্বাস করে। একদিনে এই আলোচনা ফলপ্রস্যু হবে না, তার জন্য চাই গোপন বা প্রকাশ্য হোমওর্য়াক, মত-পার্থক্য কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ এবং চুড়ান্তভাবে নির্বাচনী সমঝোতা। সমঝোতা যত দেরী হবে দেশ ও জাতীর ক্ষয়-ক্ষতি তত বৃদ্ধি পাবে। প্রাণহানির ঘটনা যাবে বেড়ে। একটা প্রাণহানি একটা পরিবারের জন্য সারা জীবনের কান্না ও কষ্টের কারণ। আমরা প্রত্যাশা করি আর কোন প্রাণহানির ঘটনা ছাড়াই সমঝোতা হয়ে যাক।
কযেকদিন পূর্বে সিইসি বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আইস-ব্রেকিং শুরু হয়েছে। সুতরাং, চাপ এত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে তাদের জেদ ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে চাপ ও তাপ এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে তাদের মিথ্যা অহমিকা ও জেদ ভেঙ্গে ও গলে এক নতুন সমঝোতা ও সমাধানে নিয়ে যাবে।
গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা শুধু বিরোধীদল দ্বারা সমালোচিত হয়েছে, জনগণের দ্বারা নয়। জনগণ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা ছাড়া এদেশের জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে না। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শুধু ব্যর্থতা নয়, লজ্জা ও কলংকময়। সুতরাং, এদেশের জাতীয় নির্বাচনে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটা কার্যকর ব্যবস্থা এবং জনগণের জন্যেও স্বস্তিকর।
নির্বাচনকালীন সরকারের রুপরেখা অনেকে অনেকভাবে দিচ্ছে। কেউ দিচ্ছে সংবিধানের মধ্যে থেকে, কেউবা দিচ্ছে বাহিরে থেকে। যেভাবেই হউক বা যে নামেই হউক নির্বাচনকালীন সরকার হতে হবে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও নিরপেক্ষ। বর্তমানে দেশে দুটি দল আছে, এক. সরকারি দল, দুই. বিরোধীদল। সুতরাং, সংবিধানের মধ্য থেকেই যদি করতে হয়, তাহলে নির্বাচনকালীন সরকারের (প্রধান উপদেষ্টা সহ ১১ জন সদস্য) রুপরেখাটি নিম্নরুপ হতে পারে :
বর্তমান সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের থেকে নিম্নলিখিতভাবে বাছাই করা যেতে পারে-
সরকারীদল থেকে উপদেষ্টা সংখ্যা হবে = ০৫
বিরোধীদল থেকে উপদেষ্টা সংখ্যা হবে = ০৫
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে টেকনোক্রাট কোঠায় সর্বজন শ্রদ্ধেয়, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ একজন ব্যক্তি নির্বাচিত করা।
২৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১০:৪৭
ভাইজান০০৭ বলেছেন: তথ্য নির্ভর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাই বিদ্রোহী ভৃগু, দেশটা কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে, যে যার ইচ্ছামত দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ কাউকে তার খেয়ালখুশিমত রাষ্ট্র পরিচালনা করার ইজারা দেইনি। কেউ যদি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে ব্যক্তিগত লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক ভাবে জুলুম-নির্যাতন করে, তার পরিনতি ইতিপূর্বে এদেশে খুব ভালো হয়নি।
কোন দল বা তার প্রধান যত বেশী ভুল করবে, সে দল বা তার প্রধান জনগণ থেকে তত বেশী দূরে সরে যাবে। মুসলিম লীগের নাম কিন্তু কেউ আর মুখেও নেয়না।
২|
২৮ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৪৭
ম্যাংগো পিপল বলেছেন: বাংলাদেশের বাস্তবতায় নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার কোন বিকল্প নাই
২৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১০:৪৯
ভাইজান০০৭ বলেছেন: বাংলাদেশের বাস্তবতায় নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার কোন বিকল্প না। ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৮:৩৬
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: একটা প্রতিষ্ঠিত বিধানকে স্রেফ একজনের গোয়ার্তুমিতে বাদ দিয়ে আজ দেশ মহা সংকটে....
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিতিশীলতার জন্য সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীকে দায়ী করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিলউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, “১৫তম সংশোধনী সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশে হয়নি। এটি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মনগড়া সিদ্ধান্তে। তাই এই সংশোধনী অসাংবিধানিক ও অবৈধ।”
শনিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘উদ্ভূত সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
সংলাপ সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “আমরা সম্মিলিকভাবে আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের গণতন্ত্র খাদে পড়তে যাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি এর কারণ খুঁজতে চাই তাহলে পাবো, এর জন্য দায়ী নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই দলের অনড় অবস্থান। এই অনড় অবস্থানে জন্য দায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।”
তিনি ১৫ তম সংশোধনীর বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরে বলেন, “২০১০ সালের ২১ জুলাই প্রথম ১৫ জন সদস্য নিয়ে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়। তারা ২৭ টি মিটিং করে। মিটিং শেষে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ বিদ্যমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়।”
তিনি সংবিধান সংশোধনী কমিটির বিভিন্ন সদস্যদের বক্তক্য উদ্ধৃত করে বলেন, “তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, এটা সেটল ইস্যু, এটা পরিবর্তন করার দরকার নেই। আমির হোসেন আমু বলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেভাবে আছে সেভাবেই রাখা উচিত। ব্যানিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছিলেন, সংবিধানে তিন মাস নির্দিষ্ট করে দেয়া যেতে পারে। অ্যাডভোকেট আমীর খসরু বলেছিলেন, এমন কিছু করা ঠিক হবে না যা বিতর্ক সৃষ্টি করে। রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তনের দরকার নেই। বর্তমান স্পিকার শিরীনি শারমিন বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সংশোধনের দরকার নেই। কমিটির কো-চেয়ারম্যান প্রস্তাব করে বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার দরকার নেই।”
তিনি বলেন, “কিন্তু ২৭ এপ্রিল, ২০১১ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটি দেখা করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী বলেন,“ জনগণ আর অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেখতে চায় না।”১০ মে কমিটি আবার বলে, শর্ত সাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। ২৯ মে সংবিধান সংশোধনী কমিটি সর্বম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার পক্ষে সুপারিশ করে। ৩০ মে, কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে সবকিছু উল্টে যায়, সবকিছু বদলে যায়। ২০ জুন কমিটি নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করে। ২৫ জুন,২০১১ তা কেবিনেটে ও ৩০ জুন সংশোধনীতে তোলা হয়।”
১৫তম সংশোধনী - প্রধানমন্ত্রীর মনগড়া সিদ্ধান্ত - সূজনের সম্পাদক বদিউল আলম
ভালটাতো বুঝছে সবাই- মানছে কই?