নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইউছুফ আরমান

আমি একজন রোমান্টিক কবি।

ইউছুফ আরমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিচারের পৃষ্ঠপোষকতা আর ধর্ষণকারীর যেন প্রতিযোগিতা

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:২৫

*** নৈতিক মানদন্ডে যে সকল আচরণ জঘন্যতম নৈতিক ও সামাজিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় তার মধ্যে ধর্ষণেই নিকৃষ্ঠতম। ধর্ষণেরে ফলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে আর এই ধর্ষণ সাম্প্রতিক পত্রিকাতে চোখ বুলাতে দেখা যায় ধর্ষণের শিরোনাম যা দেখে মনে হয় ভারত ও বাংলাদেশ যেন ধর্ষণের কোন প্রতিযোগিতা বা উৎসবের আমেজ নামছে। না হয় প্রতিনিয়ত এ ভাবে ধর্ষণের ঘটনা এক বিরল কাহিন ী। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী জাতি কোথা ও কোন অবস্থায় নিরাপদ বলে মনে হয় না। কেন না বাড়ী- গাড়ী-স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নারীর কোন নিরাপত্তা নাই। নারীরা সারাক্ষণ শংকিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তবে এর জন্য আমার মতে নারী কে বেশী দায়ী করা যেতে পারে। আমার লিখিত কয়েক লাইনের একটি কবিতা এখানে তুলে না ধরলে লেখা টি অসম্পূর্ণ থাকবে বিধায় নিম্নে তুলে ধরা হল।

দুনিয়াতে চলা ভাই খুব-ই কষ্ট

পর্ণোগ্রাফি আর সিনেমায় দুনিয়া টা নষ্ট

হাফ প্যান্ট ছোট জামা পরে মেয়েরা গান গাই

এসব দেখে যুবকেরা করে শুধু হায় হায়

যৌবন ঠেকানো বড়-ই কষ্ট।

আগামীতে আরো কিছু দেখা যাবে স্পষ্ট

ধর্ষণ হয় নারীরা সব জায়গায় শোনা যায়

এসব দোষের ভাগী নারীদের বলা যায়

মাথায় কাপড় ফেলে দিয়ে সেজে গুজে বের হয়

তাই দেখে যুবকদের হাইজ্যাকের লোভ হয়

পরিবেশ-ই যুবকেরা হয়ে যায় দুষ্ট

যৌবন ঠেকানো বড়-ই কষ্ট।

*** আমার কবিতার লাইনের ধারা আমি কোন নারী কে তুচ্ছ বা নগন্য হিসেবে আখ্যায়িত করেনি। বরং নারীদের প্রতি অনুশোচনা আর পরিতাপে মনভারী হয়ে উঠছে। পুরুষ কেন নরপশুতে পরিণত হল। যদি কারো মনে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট আসে তার জন্য সরি। এখানে কোন নারীদের দোষী সাবস্ত করে আর পুরুষদের রক্ষা করবো তা নয়। সুতরাং দুটি দিক বিবেচনা করে আমার লেখার মুখ্য বিষয়। সর্ব প্রথম মহাজোট সরকারের চার বছরের মধ্যে কতজন ধর্ষণের শিকার হয়েছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

*** পরিসখ্যানে দেখা যায় ৪ বছরে ধর্ষণ হয়েছে সর্বমোট = ১২৯৭১ জন।

*** ২০০৯ সালে ধর্ষণ হয়েছে ২৯৭৭ (দুই হাজার নয়শত সাত্তার) জন।

*** ২০১০ সালে ধর্ষণ হয়েছে ৩২৪৩ (তিন হাজার দুইশত তিয়াল্লিশ) জন।

*** ২০১১ সালে ধর্ষণ হয়েছে ৩৩৪৪ (তিন হাজার তিনশত চুচল্লিশ) জন।

*** ২০১২ সালে ধর্ষণ হয়েছে ৩৪০৭ (তিন হাজার চারশত সাত) জন।

উল্লিখিত তথ্যাদি পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদন মোতাবেক। পুরুষ কেন ধর্ষণ করে আর নারী কেন ধর্ষিত হয় তার কয়েক টি দিক বিবেচনা করে নিম্নে তুলে ধরা হল।

*** অল্প বয়সে পর্ণোগ্রাফি আগ্রাসনে আসক্ত।

*** মাকদ সেবনে আসক্ত।

*** অভিভাবকের অবহেলার ফলে সে যে কোন জঘন্য কাজ করতে দ্বিধা করে না।

*** কোন কোন সময় অভিভাবকের অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের ফলে অপকর্ম করতে সাহস পায়।

*** পশ্চাত দেশের সংস্কৃতিতে নিজেদের তুলনা করতে গিয়ে ধর্ষণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

*** ফিল্মে যে ধর্ষণের কিছু চিত্র তুলে ধরে যা অভিনয় স্বরূপ করা হয় ডিজিটাল ছেলেরা তা বাস্তবে প্রয়োগ করে।

*** নারীরা ধর্ষণের মূখ্য বিষয় হলো বর্তমান নারী ইসলামের কোন বিধিবিধান মানেনা। তাই তারা প্রতিনিয়ত নিজের ইজ্জত নিয়ে আতংকিত থাকে।

*** নারীদের চলাফেরার অসচেতনতা।

*** ছেলেদের হাত ধরে অল্প বয়সে মেয়েদের ইচ্ছার স্বাধীনতা।

*** অভিভাকদের তদারকিহীন মেয়েদের জীবনের পথচলা।

*** মেয়েরা পর্দার আড়াল কিংবা ইজ্জতের আবরণ ঢেকে না রাখা ।

*** মেয়েদের ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে বেহায়াপনা ডিজাইনের কাপড় চোপড় পরিধান করা ইত্যাদি।

*** নৈতিক অধঃপতন এমন এক সমস্যা যা মানুয়ের চরিত্র ধ্বংস করে। মানুষের নেপথ্য তার উন্নত চরিত্র নিঃসন্দেহে সর্বাধিক প্রভাবক বিষয়। মানুষের জীবনের প্রথম এবং প্রধান চাহিদা হলো সে তার অস্তিত রক্ষা করবে এবং এ জন্য সর্বোতভাবে জীবনের নিরাপত্তা বিধান করবে। সামাজিক অবস্থান ছাড়া একজন মানুষের পক্ষে একা একা নিজের অস্তিত রক্ষা করা বা নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একজন নারীর জন্য তার অস্তিত রক্ষা ও নিরাপত্তা সংরক্ষণের অব্যর্থ হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে তার শালীনতা ও বোরকা,হিজাব ইত্যাদি নিজের সৌন্দর্য্য প্রকাশ্য না করা। বিভিন্ন রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দিয়ে নারীর আচরণের মধ্যে যে গুলো ইতিবাচক নয় বরং ক্ষতিকর সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আর নারীদের জন্য যা কল্যাণকর তাতে তাদের উদ্বুদ্ধ করা।

একজন নারীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো পর্দা রক্ষা করে চলা। নিজের রূপ সৌন্দর্র্য্য অন্যের নিকট প্রকাশ না করা, সর্বদা পর পুরুষের দৃষ্টি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে পর্দা করতে হবে। এমন পোশাক পরিধান করতে হবে যাতে শরীরের বিশেষ বিশেষ স্থান আবৃত হয় এবং এমন পোশাক পরা যাবে না যাতে শরীরের বিশেষ স্থান গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে। তবে আজকের সমাজের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পায় যে, নারীরা বেপর্দা অবস্থায় চলাফেরা করতে পছন্দ করে। এক্ষেত্রে নারীদের উচিত তাদের নিজেদের কে নিয়ন্ত্রণ করা।তোমরা নিজ গৃহ অবস্থান কর, বর্বরতার যুগের নারীদের মত সাজ সজ্জা করে বাইরে যেয়ো না।

সতীত্ব একজন নারীর অমূল্য সম্পদ। শুধু মুসলিম সমাজের নয় সকল সমাজেই নারীর সতীত্ব হেফাযত করার কথা বলা হয়েছে। নারীর সতীত্ব হলো পুরুষের আমানত। সর্বাবস্থায় সতীত্ব রক্ষা করা নারীদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর বর্তমান যুগে নরপশুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না চার থেকে বারো বছরের শিশু কন্যা। এই অবুঝ শিশু যেখানে নিজের জীবন নিয়ে শংকটাপন্ন সেখানে তার সতীত্ব ধরে রাখার প্রশ্ন আসে না। তার জন্য চাই কঠোর হাতে ধর্ষণ প্রতিরোধ এবং ন্যায় বিচার।

সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে ও সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সুনীতি ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ ব্যবস্থায় যে কোন মূল্যে ন্যায়বিচার কায়িমের কথা বলা হয়। ধনী-নির্ধন,সাদা-কালো,ধর্ম-বর্ণ- নির্বিশেষে সকল মানুষের বিচারের ক্ষেক্রে সমান মর্যাদা দেয়ার বাধ্যবাধকতা সমাজ ব্যবস্থায় থাকতে হবে। এখানে শাসক বা শাসিত কোনো পক্ষই বিচারে বিশেষ সুবিধা না পায়। নিজের বিপক্ষে গেলে ও সমাজ ব্যবস্থায় ন্যায় বিচার করতে হবে।























মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.