নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আতাহার হোসাইন

উড়োজাহাজ

ফেসবুক প্রোফাইল-https://www.facebook.com/ataharh

উড়োজাহাজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোথায় বান্ধি ঘর?

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:০২



আমি খুব স্বল্প পরিমাণ অর্থ রোজগার করি। এ দিয়ে কোনোমতে দিন পার করি। সামান্য ব্যতিক্রম হলে, পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোনো প্রকার ঝামেলায় পড়লে মুশকিলে পড়ে যাই। খুবই সাধারণ মানের জীবন যাপনে অভ্যস্ত আমি। দীনহীন বেশ বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না।

আমার এ ধরনের জীবন যাপন নিয়ে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এই যুগে এমন একজন প্রতিভাবান(!) মানুষ এভাবে পড়ে রয়? একটু চেষ্টা প্রচেষ্টা করলেই তো ভালো একটা উপার্জন করা যায়। অনেকে অনেক সময় অনেক প্রস্তাবও দিয়ে থাকেন কিছু করার জন্য। কিন্তু আমি সেদিকে মনোযোগী নই। তবে মাঝে মাঝে ভাবি কিছু একটা করা দরকার উপার্জনের জন্য। এমনি এক দুর্বল মুহূর্তে বড় ভাই এই একই বিষয় নিয়ে কথা তুললেন। বললেন, আর কত? এখন তো কিছু একটা করতে পারিস! বাচ্চা-কাচ্চা হয়েছে, সংসার হয়েছে। ওদের ভবিষ্যত আছে। পড়ালেখা আছে। আমিও তখন উনার সাথে সায় দিলাম। বললাম, দেখি- সামনের বছরের দিকে কিছু একটা করার চেষ্টা করব।

বেশ কয়েকমাস কেটে গেলো এরপর। আজকে হঠাৎ মনে হলো- আমার বড় ভাইতো আমার মতো অন্য কিছু করেনি। বিয়ের পর থেকে রাত দিন চেষ্টা করেছেন উদয়াস্ত পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করেছেন। এক সময় ব্যবসা ভালো হওয়ায় ব্যবসাতেই মনোযোগ দিয়েছেন। ছেলে মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছেন। এখন এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌছেঁছেন যে দেখে বয়সের চেয়ে অনেক বুড়ো মনে হয়। অথচ আমার বাবা এখনও বয়সের তুলনায় অতটা বুড়ো হয়ে যাননি। বেশ ভালোভাবেই চলাফেরা করতে পারেন তিনি।

বড় ভাই ও ভাবী- দু'জনে মিলে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে সংসারটাকে গড়ে তুলেছেন। সামান্য জমি কিনে তার উপর বাড়িও করেছেন ছোটো-খাটো একটা। অবশ্য ভাবির বাবার পরিবারের অবদানও আছে এর পেছনে। ব্যবসায় মোটামুটি সংসার চলে যাচ্ছে। বেশ কিছু নগদ অর্থের লেনদেন হয় দোকানে। ব্যবসাটা মূলত সিম বিক্রি, ফ্ল্যাক্সিলোড, বিকাশ ইত্যাদির। হঠাৎ কিছুদিন আগে ডিবি পুলিশ এসে হানা দিয়ে দোকানের মালামাল জব্দ করে নগদ টাকাসহ ধরে নিয়ে গেল। অভিযোগ বিকাশে অবৈধ লেনদেনের। অর্থাৎ কোথাও কোনো অপহরণকারী মুক্তিপন আদায়ের জন্য বিকাশে টাকা লেনদেন করেছে। গ্রাহকের পরিচয় না রাখায় সন্দেহমূলকভাবে বেশ কিছু দোকানীকে ধরে নিয়ে যায়। তার মধ্যে আমার বড় ভাইও ছিলেন। ধরে নিয়ে যাওয়ার পর মারধোর, রিমান্ড। প্রচুর অর্থ ব্যয় ও দৌড়াদৌড়ি করে জামিন করানো হয়। মামলা এখনও চলছে। পাশাপাশি যে নগদ টাকাগুলো নিয়ে গিয়েছিল তা আর ফেরত পাওয়া যায়নি। পুনরায় কষ্টে-সৃষ্টে পুজিঁ জোগাড় করে এখন আবার ব্যবসা শুরু করেছেন।

আজকে হঠাৎ ঘটনাটি মনে পড়ে গেল। এই যে আমাদের সমাজব্যবস্থা, যেখানে বিচার নেই, ন্যয়-নীতি নেই- এখানে পয়সা কামিয়ে কি হবে? আমার পয়সা নিয়ে আমি নিরাপদ, আমার পয়সা কেউ লুটে নেবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? পয়সা হলে আমি যে দুর্বৃত্তদের টার্গেটে পড়ে যাব না তার গ্যারান্টি কি? উদয়াস্ত শ্রম দিয়ে আমার কামাই করা টাকা কেউ একদিন এসে পিস্তল ঠেকিয়ে নিয়ে গেলে তো সবই গেল। এর মাঝে অর্থ কামাই করে ফায়দা কোথায়? কোনো বিপদ আপদ আসার আগে যেটুকু ভোগ করা যায় সেটুকুই কি তবে লাভ?
যদিও ভাবছি এখন কিছু একটা করা দরকার, কিন্তু এগুলো মনে আসলেই মনে হয় এই সমাজব্যবস্থাকে এভাবে রেখে আমি কোথায়, কীভাবে বান্ধি সাধের ঘর?

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: মন্দ বলেন নি।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৬

উড়োজাহাজ বলেছেন: ডি-মোটিভেশনাল কথাবার্তা। লোকে আমাকে ভাইরাস বলে। আমি নাকি মানুষকে ডি-মোটিভেট করে দেই।

২| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১৯

সনেট কবি বলেছেন: দুঃখ জনক

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৬

উড়োজাহাজ বলেছেন: পরিবর্তনের তাড়না নেই আমাদের মাঝে- এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় দুঃখজনক।

৩| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:০২

ওমেরা বলেছেন: বাংলাদেশে জান মালের কোন নিরাপত্তা নেই আসলেই ।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২০

উড়োজাহাজ বলেছেন: আমরা এটা মেনে নিয়েছি। পরিবর্তনের তাড়না নেই আমাদের মাঝে- এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় দুঃখজনক।

৪| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:১৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: এভাবে চিন্তা করলে তো হবে না। এটাই আমাদের দেশের বাস্তবতা, এর মধ্যেই থাকতে হবে।
এখন আপনি যদি চিন্তা করেন, বাসা থেকে বের হলে তো বাসায় ফিরতে পারার কোন নিশ্চয়তা নাই, কাজেই বের না হওয়াই ভালো।
তাহলে কেমন হবে?

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৭

উড়োজাহাজ বলেছেন: ধরেন, টুপ করে বাসা থেকে বের হলাম। তারপর আবার দ্রুত চলে আসব। এভাবে যতদিন বেঁচে থাকতে পারি আরকী!

পরিবর্তনের তাড়না নেই আমাদের মাঝে- এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় দুঃখজনক। আমরা পরিস্থিতি মেনে নিয়েছি।

৫| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৩

বাকপ্রবাস বলেছেন: ঘটনা দুঃখজনক। চিন্তা নেগেটিভ। একটু স্বাচ্ছন্দে চলার মতো পয়সা চাই না হলে অন্যের দারস্থ হবার সম্ভবনা থাকে। বড় বিপদে অন্যের দারস্থ হওয়া যায় কিন্তু প্রতিদিনকার প্রয়োজনটায় সাচ্ছন্দ হওয়া চাই। একটা নির্দিষ্ট মৌলিক চাহিদা মেটানোর পয়সা টা না থাকলে মন মেজাজও ভাল থাকার কথা না, নিজে নিজে ভাল থাকা যায় কিন্তু একজনের উপর অন্যরা নির্ভর তারা ভাল থাকবেনা, সন্তান স্ত্রী এদের কথা বলছি।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৪

উড়োজাহাজ বলেছেন: হা হা হা! কেউ সমাজ পরিবর্তন করার চিন্তা করলেন না! আমার মতে এ অবস্থা আরো কয়েক শতাব্দী চললেও বোধ হয় আমাদের বোধোদয় হবে না।

৬| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৭

ঢাকার লোক বলেছেন: উপরে বাকপ্রবাস যা বলেছে আমিও তাই বলি, টাকা পয়সা সুস্থ সুন্দর জীবন যাপনের জন্য দরকার, অতিরিক্ত না দরকার হতে পারে, সচ্ছল সুন্দর জীবন যাপনের জন্য দরকার, এবং সৎপথে তা রোজগার করতে চেষ্টা অব্যাহত রাখা দরকার, এতে নিজে যেমন ভালো থাকবেন প্রয়োজনে আরেকজন বিপদগ্রস্থকে সাহায্য করতে পারবেন, ভালো থাকুন এই কামনা !!

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৫

উড়োজাহাজ বলেছেন: হা হা হা! কেউ সমাজ পরিবর্তন করার চিন্তা করলেন না! আমার মতে এ অবস্থা আরো কয়েক শতাব্দী চললেও বোধ হয় আমাদের বোধোদয় হবে না।

৭| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: আহারে----

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.