নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সামহয়্যারইনব্লগ এর আর তেমন কোন জনপ্রিয়তায় নেই... তেমন কেউ পড়েও না...। তাই এই ব্লগেই আমার লেখাগুলো প্রকাশ করা সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছি...

মোঃ কামরুজ্জামান কনক

জ্ঞান অর্জন করতে হলে লেখার কোন বিকল্প নেই। একটি লেখা পড়ে যতোটা না জ্ঞান অর্জন হয়, একটি লেখা লিখতে তার থেকেও হাজারগুন বেশী জ্ঞানের দরকার হয়।

মোঃ কামরুজ্জামান কনক › বিস্তারিত পোস্টঃ

মানুষ নাকি সৃষ্টির সেরা জীব... এটা মস্তবড় ভুল একটা কথা

১৩ ই মে, ২০১৮ সকাল ১০:৩৩

আমি কনক, এবং একটি মানুষ। আর নিজে একজন মানুষ হওয়ার সুবাদে বেশ কয়েকদিন ধরেই আমার মাথাতে এই বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, মানুষ কোন ভাবেই সৃষ্টির সেরা জীব হতে পারে না। যারা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বলে আখ্যায়িত করে থাকে তারা আসলে ভুল করে বা ভুল বলে...

আমার সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যেটা মনে হয়েছিল সেটার উপরে বেজ করেই আমি এই সিদ্ধান্তে পৌছেছিলাম যে, মানুষ কোন ভাবেই সৃষ্টির সেরা জীব হতে পারে না। যে মানুষ প্রতিদিন জেনে শুনে হাজার হাজার খারাপ কাজ করে চলেছে, বোকামী করে চলেছে, অন্যের হক নষ্ট করে চলেছে, শয়তানের তৈরী করা মোহের মধ্যে আছে তাকে কিভাবে সৃষ্টির সেরা বলে মেনে নেবো?

নিজে মানুষ বলেই যে মেনে নেবো মানুষই সৃষ্টির সেরা এটা হতে পারে না।

আমি তখন উপলব্ধি করলাম যে, কথাটি আসলে সংশোধন করার প্রয়োজন। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব নয়। সেরা জীব তাকেই বলা যেতে পারে যারা আসলে প্রকৃত ঈমানদার। অর্থাৎ শয়তাদের ধোকা থেকে বাঁচতে সক্ষম এরকম যে মানুষ গুলো আছে তারাই শুধুমাত্র সৃষ্টির সেরা জীব। সব মানুষ সৃষ্টির সেরা নয়।

এরকম ভাবনাটা আমার মধ্যে এমনিতেই চলে এসেছিলো।

কিন্তু আশ্চর্য হলাম তখন যখন আমার সামনে কোরআন এর এই আয়াতটি এলো

সূরা বাইয়্যিনাহ- আয়াত-৭ এ আল্লাহ্ বলেছেনঃ

Those who have faith and do righteous deeds,- they are the best of creatures. অর্থাৎ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।

এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’য়ালা পরিষ্কারভাবে এটাই বলে দিয়েছেন যে আমার ভাবনাটা ভুল ছিলো না। মানুষ সৃষ্টির সেরা নয়, যে মানুষ ঈমানদার এবং সৎকর্ম করে তারাই শুধুমাত্র সৃষ্টির সেরা।

তাহলে এখন আর একটি প্রশ্ন আমার মনে চলে আসলো... যারা ঈমানদার নয় আর্থাৎ নামে মুসলিম কিন্তু আল্লাহর কোন হুকুম পালন করে না তারা তাহলে কি?

এর উত্তরটিও আল্লাহ্ তা’য়ালা কোরআন-এ আর একটি আয়াতে বলে দিয়েছেন।

তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। - সূরা আল আ’রাফ, আয়াত ১৭৯

গাফেল মানে কি সেটা খুজতে গুগল ট্রান্সলেটর ইউজ করলাম, অর্থ পেলাম-অসতর্ক

তার মানে যারা সবই জানে কিন্তু জেনে শুনেও এখনো পর্যন্ত অসতর্ক হয়ে আছে তারায় হলো সৃষ্টির নিকৃষ্টতর জীব।

এখন এই সৃষ্টির নিকৃষ্টতর জীবের কপালে কি আছে তাও আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। আমার আর আপাতত সেগুলো পড়ার সাহস হলো না।

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে বোঝার ক্ষমতা দান করুন, আর সবার আগে আমাকে বোঝার তৌফিক দিন, যেন গাফেল হয়ে মৃত্যুবরণ করতে না হয়।


মন্তব্য ১৯ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মে, ২০১৮ সকাল ১০:৫৬

কামরুননাহার কলি বলেছেন: কনক ভাইয়া আপনার লেখাটিতে আমি মুগ্ধ। মানুষ সবাই সৃষ্টির সেরা জীব নয়। আপনে বলার পর আমিও কোরআনের রেফারেন্স খুজে দেখেছি । আপনার লেখা এই কথাটিই লেখা আছে। আপনাকে ধন্যবাদ অনেক।

১৩ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:২৮

মোঃ কামরুজ্জামান কনক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

২| ১৩ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:২০

নতুন বলেছেন: বিশ্বের ২১% মানুষই ইসলামের অনুসারী....

তাহলে বাকী ৭৯% মানুষ সৃস্টির সেরা জীব হবার যোগ্য না?

১৩ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৮

মোঃ কামরুজ্জামান কনক বলেছেন: না, বাকি মানুষগুলো সৃষ্টির সেরা জীব হওয়ার যোগ্য না। কেন সেটা শুনবেন?

কারণ তারা মানুষ হয়েও যদি তাদের সৃষ্টিকর্তাকেই চিনতে না পারে তবে কিভাবে সৃষ্টির সেরা হবে? একটা কুকুর, একটু গরু, একটা গাধাও জানে তার সৃষ্টিকর্তা কে আর মানুষ হয়ে যদি কেউ সেটা না বুঝতে পারে তবে কিভাবে তাকে সৃষ্টির সেরা বলবেন আপনিই বলুন। আর একটি কথা, আমি আমার লেখাতে ইসলামের অনুসারীগণই সৃষ্টির সেরা সেটা কোথাও বলিনি। আমি বলেছি যারা প্রকৃত ঈমানদার অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে তারাই সৃষ্টির সেরা। আপনি মুসলিম কিন্তু আল্লাহর কোন ইবাদত করেন না, সব কিছু জেনে বুঝেও শয়তানের ধোকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না তাহলে আপনি কিভাবে সেরা হবেন বলুন? তাই যে শুধু ২১% মুসলিমই সেরা সেটাও ভুল কথা। হিসেব করলে ১% পাওয়া যাবে কিনা সেটা সন্দেহ। তাই এই ১% এর জন্য বাকি ৯৯% কে সৃষ্টির সেরা কখনই বলা যাবে না। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৩| ১৩ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৯

ক্স বলেছেন: আমি তাকে সৃষ্টি করেছি উত্তম কাঠামোতে, অতঃপর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নিচু থেকে নিচুতর স্তরে। তবে তাদের নয়, যারা ঈমান এনেছে (মানে স্রষ্টাকে চিনেছে), সৎকর্ম করেছে (মানে স্রষ্টার আদেশ মেনেছে) - তাদের জন্য আছে নিরবিচ্ছিন্ন পুরষ্কার।

সূরা ত্বীন

১৩ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৪:০০

মোঃ কামরুজ্জামান কনক বলেছেন: তার মানে ঈমানদার গনদের আল্লাহ তা’য়ালা নিচু স্তরে নামিয়ে দেননি। এর অর্থ হলো তারা সৃষ্টির সেরার স্থানেই আছে।
আর উত্তম কাঠামো সবারই আছে, অর্থাৎ সব মানুষেরই ... কিন্তু আল্লাহ ঈমানদার গণ ব্যাতিত বাকীতের নিচু স্তরে নামিয়ে দিয়েছেন। বাকিরা তার মানে সৃষ্টির সেরা নয়। শুধু কাঠামো নিয়েই সেরা হওয়া যায় না। একদম সিম্পল। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৪| ১৩ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৪:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার সাথে সহমত।

ভালো লিখেছেন।

৫| ১৩ ই মে, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৬

নতুন বলেছেন: যারা বিধমী তারা ইসলামের সৃস্টিকতা`কে বিশ্বাস করেনা। তাদের কাছে আপনার বিশ্বাসের কোন মুল্য নাই।

আর একজন মানুষকে শুধু মাত্র তার ধম` বিশ্বাস দিয়ে মুল্যায়ন করলে বিরাট ভুল হয়। কারন ধম`বিশ্বাস ছাড়াও মানুষ ভালো হয়। ভালো কাজ করে।

যারা খারাপ কাজ করে তারা অবশ্যই নিকৃস্ট মানব... তারা মানুষ নামের কলঙ্গ.... কিন্তু অনেক মানুষই আছে যারা ইসলামে বিশ্বাসী না কিন্তু তারা আমাদের সমাজের অনেক বিশ্বাসীর চেয়ে অনেক ভালো কাজ করে এবং ভালো মানুষ।

তাই দুনিয়ার দিকে তাকান এবং বাইরের সমাজ, ধম`,জাতীর মানুষের সাথে মিশে দেখুন তাদের মাঝে কত ভালো মানুষ আছে।

তখন আপনার ভুল ধারনা পাল্টাতে পারে।

১৩ ই মে, ২০১৮ রাত ১১:৫৫

মোঃ কামরুজ্জামান কনক বলেছেন: আমি জানি না আপনি কোন ধর্মের তবে এটুকু বলতে পারি উপরের লেখাতে আমি সরাসরি কোরআন এর রেফারেন্স দিয়ে কথা বলেছি, আপনি যদি আমার কথা না মানেন তবে আপনি কোরআন কে বা সৃষ্টিকর্তার বাণীকে অস্বীকার করলেন। সৃষ্টিকর্তাও একটা আর তার দেখানো পথ অর্থাৎ ধর্মও একটা তাই একাধিক ধর্মের কথা বলে কোন লাভ নেই। সেটা আপনি বুঝলে ভালো আর না বুঝলে আপনার বেপার সেটা। এখন না বুঝলেও হয়ত ইহকাল বা পরকালে একদিন ঠিকই বুঝবেন। তবে আমি এখানে সিম্পল একটা কথা বুঝিয়েছিলাম.. সৃষ্টির সেরা হতে হলে সৃষ্টিকর্তাকেও চিনতে হবে এবং সঠিকভাবে চিনতে হবে। সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে আমার আরো সহজ ভাষায় লেখা পোস্ট এই ব্লগেই আছে আপনি চাইলে সেগুলো পড়তে পারেন তবে আপনি আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন না যদি আপনি গভীর ভাবে চিন্তা করেন বিষয়টি। আপনার মন্তব্যের জন্য আবারো আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

৬| ১৩ ই মে, ২০১৮ রাত ৮:০৫

সুমন কর বলেছেন: আরে, মানুষ কই !! সবই তো পশু !! দেখছেন না, যেভাবে অন্যায়, মিথ্যাচার, চুরি, পাপাচার................হচ্ছে

১৩ ই মে, ২০১৮ রাত ১১:৫৮

মোঃ কামরুজ্জামান কনক বলেছেন: এতকিছুর পরেও কিন্তু মানুষ খুঁজলে দুই একজনকে পাওয়াই যাবে... এখনো পাওয়া যাবে... আমি শিওর

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৭| ১৩ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:২৭

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: ভাল লিখেছেন।

১৪ ই মে, ২০১৮ রাত ১২:০০

মোঃ কামরুজ্জামান কনক বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের মতো পাঠকদের জন্যই মাঝে মাঝে লিখতে ইচ্ছে করে। আরো লেখা পড়তে Click This Link ঘুরে আসতে পারেন...

৮| ১৪ ই মে, ২০১৮ রাত ১২:৪৩

শাহিন-৯৯ বলেছেন: আপনার লেখাটি বেশ ভাল লাগল।

৯| ১৪ ই মে, ২০১৮ রাত ৩:০৮

রাকু হাসান বলেছেন: সত্যিই মুগ্ধ.বিষয়টা জনতাম না ,শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

১০| ১৪ ই মে, ২০১৮ সকাল ৭:০০

লোনার বলেছেন: আপনার অনুভব সঠিক - সকল মানুষই সৃষ্টির সেরা জীব নয়। আল্লাহ্ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন কেবল একটি উদ্দেশ্যে - তার ইবাদত করার জন্য! (কুর'আন, ৫১:৫৬)। জীবনের সেই একমাত্র purposeটি যখন কেউ পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সে আর সেরা জীব থাকে না, পরিণত হয় lowest of the lowতে - যা আল্লাহ্ নিম্নলিখিত আয়াতগুলোতে বলেন:

لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ - ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ - إِلَّا الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ

"অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে। তারপর আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি হীনদের হীনতম রূপে। তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।" (কুর'আন, ৯৫:৪~৬)

১১| ১৪ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১:৫১

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: খায়রুল বারিয়্যা - আর - আশরাফুল মাখলুকাত - কি এক?

১২| ১৫ ই মে, ২০১৮ সকাল ১১:৩৭

কাবিল বলেছেন: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব

১৩| ০১ লা জুন, ২০১৮ রাত ৯:৩৬

রাকু হাসান বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.