নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“Those who have the privilege to know have the duty to act.”― Albert Einstein

মোস্তফা কামাল পলাশ

"সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে"

মোস্তফা কামাল পলাশ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাঁচতে হলে জানতে হবে (পর্ব ২): বাংলাদেশের কোন বিভাগ ও জেলায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঝাঁকুনি অনুভূত হবে?

০২ রা মার্চ, ২০২৩ বিকাল ৩:৪৫

ছবি: বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝঁকি মানচিত্র। রং যে স্হানে যত বেশি গাড় হলুদ সেই স্হানে তত বেশি ভূু-কম্পন সৃষ্টি হবে।

স্কুল জীবনে বিজ্ঞান বই এ গতিবেগ ও ত্বরণ সম্বন্ধে জেনেছি যা হয়ত অনেকের মনে নাই তাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি মূল আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে। গতিবেগ হলও সময়ের সাথে দূরত্বের পরিবর্তনের হার। আর ত্বরণ হলও সময়ের সাথে গতিবেগ বৃদ্ধি হার। নিচে সংযুক্ত মানচিত্রে বিভিন্ন রং নির্দেশ করতেছে ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট তরঙ্গের কারণে কোন স্থানের ভূমিতে কেমন ত্বরণ এর সৃষ্টি হবে (উ-লম্ব বরাবর কিংবা অনুভূমিক বরাবর ভূমির গতিবেগ বৃদ্ধির পরিমাণ)।

ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট তরঙ্গ বা ঢেউ যখন ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন ভূ-পৃষ্ঠে কম্পনের সৃষ্টি হয়; ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত বাড়ি-ঘর, গাছ-পালা সহ ভূ-পৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা সকল বস্তু কম্পিত হয়। কোন বস্তু কতটুকু কম্পিত হবে তা নির্ভর করছে ঐ বস্তুর নিচে অবস্থিত মাটির গঠনের উপর। ভূ-পৃষ্ঠের নিচের মাটি যদি কঠিন পাথুরে হয় তবে কম্পন অপেক্ষাকৃত কম হবে। মাটি যদি আলগা হয় তবে কম্পন হবে মাঝারি মানের। মাটি যদি পানিযুক্ত ও কর্দমাক্ত হয় তবে সেই মাটির নিচ দিয়ে ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট তরঙ্গ প্রবাহিত হলে ভূমির কম্পন হবে সর্বোচ্চ পরিমাণ। ঠিক এই কারণে নদী-নালা, জলভূমি ভরাট করে তৈরি করা বিল্ডিং অন্যান্য প্রকারের মাটিতে তৈরি বিল্ডিং অপেক্ষা বেশি ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ছবিতে কোন জেলার নাম উল্লেখ থাকুক কিংবা না থাকুক তাতে কিছু যায় আসে না। ভূমিকম্প ঝুঁকি নির্দেশ করতেছে আপনার জেলা শহরটি কোন রং দিয়ে চিহ্নিত তার উপর। যদি আপনার জেলা শহরটি গাড় হলুদ রং এর কোন এলাকার মধ্যে পড়ে থাকে তবে আপনার জেলাশহরটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে যেমন সিলেট ও খাগড়াছড়ি জেলা। পক্ষান্তরে আপনার জেলাটি যদি সবুজ রং এর এলাকার মধ্যে অবস্থান করে তবে সেই জেলায় অপেক্ষাকৃত কম ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে পাবনা জেলা পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে যেখানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে আমরা জানি স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে পাবনার রুপপুরে এই পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্হানপন করা হচ্ছে। তবে আমাদের বেশিভাগ মানুষই জানেনা যে রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বেই অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ভূমিকম্প ঝুঁকি সম্পন্ন স্থানটি স্বাধীনতার পূর্বের চিহ্নিত করা হয়েছিল।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা মার্চ, ২০২৩ রাত ১০:০৮

অধীতি বলেছেন: ঢাকাতে তাহলে ঝাঁকুনি মধ্যম হবার সম্ভাবনা আছে।

০৩ রা মার্চ, ২০২৩ রাত ১২:৫৩

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন: সিলেট ও চট্রগ্রামে ঝাঁকুনি বেশি অনুভব হবে। তবে ঢাকা ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান বেশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কারণ জন ঘনত্ব অনেক বেশি। ঢাকার রাস্তা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ লাইন এর কারেন।

২| ০২ রা মার্চ, ২০২৩ রাত ১০:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোস্তফা কামাল পলাশ,




ভালো লেখা।
এর পাশাপাশি ভুমিকশ্পের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ধরন সম্পর্কিত ধারনা সহ সাবধানতার বিষয়টি থাকলে আরও ভালো হতো।

০৩ রা মার্চ, ২০২৩ রাত ১২:৫৫

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন: আহমেদ ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্য ও পামর্শের জন্য। আমি ঠিক করেছি ছোট-ছোট একাধিক পোষ্ট দিয়ে ভূমিকম্পের এ থেকে জেড পর্যন্ত লিখবো আগামী কয়েক মাসে। আশাকরি সাথে থাকবেন।

৩| ০৩ রা মার্চ, ২০২৩ রাত ২:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোস্তফা কামাল পলাশ,




ধন্যবাদ প্রতিমন্তব্যের জন্যে।
ছোট-ছোট একাধিক পোষ্ট দিয়ে ভূমিকম্পের এ থেকে জেড পর্যন্ত লিখবেন, বলেছেন। খুব ভালো হবে এবং আমাদের করণীয় সহ সতর্ক হবার সুযোগও তৈরী হবে তাতে।

৪| ০৩ রা মার্চ, ২০২৩ দুপুর ১:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: হ্যাঁ আমি আবহাওয়া অফিসের একজনের সাথে কথা বলেছি- সে-ও বলল ভূমিকম্প হলে সিলেটে সবার আগে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.