নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

[কারো সমালোচনা করো না, তাহলে নিজেও সমালোচিত হবে না]

Sujon Mahmud

কারো যদি গোপন সাফল্যের চাবিকাঠি থাকে, তাহলে সেটা থাকে তার অন্যের কথার দৃষ্টাকোণ আর নিজের দৃষ্টি কোণ বুঝে নেওয়ার মধ্যে।।

Sujon Mahmud › বিস্তারিত পোস্টঃ

খ্রিস্টান ধর্ম থেকে মারিয়া\'র ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়র গল্প

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৫

[img]http://iqna.ir/files/bd/news/2016/8/14/7465_836.jpg[/img]
একদিন মারিয়া'র
সেলফোনে আজানের
সুমধুর ধ্বনি বেজে
ওঠলো তার বাবা-মা
স্বাভাবিকভাবেই
বিভ্রান্তিতে
পরে
যায়।
বার্তা সংস্থা ইকনা:
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর
মারিয়া তার নাম
পরিবর্তন করে মারিয়াম
রাখেন। মারিয়াম
বললেন: ‘আযান শুনে তারা
আমাকে বলেন, এটি
তাদের অন্তরকে একটু
নাড়িয়ে দিয়েছিল।
কারণ, ইসলাম গ্রহণের কথা
আমি তাদের আগে
জানায়নি।
২৯ বছর বয়সী মারিয়াম
স্পেনের মাদ্রিদের
শহরের ফুয়েনলাব্রাডার
শ্রমিক-শ্রেণির এক
খ্রিস্টান পরিবারে
সন্তান। তার ইসলামে
ধর্মান্তরিত হওয়ার
প্রক্রিয়া শুরু হয় সেই ১৯
বছর বয়স থেকেই। সেই
সময়ে মরোক্কান
বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির
সাথে তার পরিচয় হয় এবং
ঐ ব্যক্তি মারিয়াকে
একটি ধর্মীয় বই উপহার
দেয়। আর এটিই তাকে
ধীরে ধীরে ইসলামের
পথে ধাবিত করে।
মারিয়াম বলেন: ‘উপহার
প্রাপ্ত গ্রন্থটি কুরআন
শরিফ ছিল না। গ্রন্থটি
ইসলাম সম্পর্কিত একটি বই
ছিল। স্থানীয় বই মেলায়
এটি ছাড়ে বিক্রি
হচ্ছিল। বইটি দেখে ইসলাম
ধর্ম সম্পর্কে কৌতূহল
জাগে। তবে আমি তখনই
ইসলাম ধর্মের প্রতি ঈমান
আনিনি।’
মারিয়াম তখন থেকে
ইসলাম ধর্মের প্রতি গভীর
দৃষ্টি রাখে। নবীগণের
জীবনের আলোকে লেখা
বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়ন করা
শুরু করেন তিনি। ইসলাম
ধর্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন
প্রামাণ্যচিত্র দেখতে
থাকেন এবং অবশেষ কুরআন
পড়া শুরু করি।
তিনি বলেন, ‘আমি শৈশব ও
কৈশোরকালে অন্যান্য
বাচ্চাদের মত
স্বাভাবিক ছিলাম। তবে
১৭/১৮ বছর বয়স থেকে
আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে
সারাদিন বাইরে সময়
কাটাতাম।
তবে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে
তার জ্ঞান যত বৃদ্ধি
পেতে লাগল, ততই তার
লাইফস্ট্যাইলেও পরিবর্তন
আসতে লাগল।
মারিয়াম কখনো তার
বাবা-মার কাছে কোনো
কিছু গোপন করতেন না।
কিন্তু তার জীবনে হঠাৎ
কি ঘটতে যাচ্ছে- তিনি
তার বাবা-মাকে বলতে
পারেননি। বাবা-মাকে
কি বলবেন? ভেবে অস্থির
হয়ে যান তিনি। তবে
যথাসম্ভব
স্বাভাবিকভাবেই
বিষয়টি তিনি তার
বাবা-মাকে বলতে
চেয়েছেন, যাতে এ নিয়ে
তার পরিবারে হঠাৎ
কোনো ঝড় না বয়ে যায়।
তিনি তার বাবা-মা'কে
ছোট ছোট বার্তা প্রেরণ
করা শুরু করল। ইসলাম ধর্ম
সম্পর্কে লিখিত গ্রন্থ ঘরে
নিয়ে আসত। মারিয়াম
বলেন: আমার পরিবর্তনের
ব্যাপারে আমার বাবা-
মা বুঝতে পারে। আমি
দিনের অধিকাংশ সময়
ঘরে দিতে শুরু করি। পূর্বে
মত বাহিরে অনেক
বাহিরে যেতাম না।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের
ব্যাপারে বাবা-মায়ের
সাথে কথা বলা অনেক
কঠিন ছিল। কারণ আমি ভয়
পাচ্ছিলাম এবং
তাদেরকে কষ্ট দিতে
চাচ্ছিলাম না।
মারিয়াম বলেন: তাদের
জন্য আমার কোন চিন্তা
ছিল না; কারণ আমরা
একত্রে জীবন যাপন করি
এবং তারা জানতো যে,
এই জীবন আমার জন্য অনেক
ভালো। আমি মদ পান
করতাম না, ধূমপান করতাম
না এবং ড্রাগ ব্যবহার
করবেন না। তারা
দেখতেন যে, আমি সঠিক
সময় কাজে যেতাম ও কাজ
শেষে দ্রুত বাড়ীতে
ফিরে আসতাম। একটি সুস্থ
ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন
করছি। কিন্তু এ নিয়ে
আমি তাদের উপর কোনো
ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে
চাই না কারণ এটি একটি
স্পর্শকাতর বিষয়।’
মারিয়ামের সবচেয়ে বড়
ভয় ছিল ইসলাম গ্রহণের
বিষয়টি তার পরিবারের
বাইরের লোকদের মধ্যে
আলোড়ন সৃষ্টি করতে
পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি,
এমন স্পর্শকাতর একটি
বিষয় সমাজের মানুষ
কিভাবে গ্রহণ করবে এবং
তাদের প্রতিক্রিয়া
কিরূপ হবে। যখন আমি
হিজাব ব্যবহার করে
আমার বাবা-মায়ের
সাথে বাহিরে যাব, তখন
সকলে আমাকে দেখবে।
এটা আমাদের জন্য সহজ
হবে না।
বাবা-মা’র সঙ্গে বাইরে
বের হলে হিজাব পরতে
হবে এবং সমাজের লোকজন
আমাদের ঠিকই দেখবে।
এটা আমাদের জন্য সহজ
হবে না। একজন
ধর্মান্তরিতকে দেখে
মানুষ মনে করেন, তার
(ধর্মান্তরিতের) বাবা-
মা কি তাকে লালন পালন
করতে ব্যর্থ হয়েছে,
তাদের ভুলটা কোথায়
ছিল? এই অনাকাঙ্ক্ষিত
অবস্থা থেকে আমি
তাদের মুক্তি দিতে চাই।
আমি কখনই তাদেরকে কষ্ট
দিতে চাই না।’
মারিয়াম বলেন, ‘আমার
বাবা-মা আমাকে সর্বদা
সমর্থন করেন। খাওয়ার সময়
আমার মা আমাকে
শুয়োরের মাংস দিত না।
বাড়ি রং করার সময়
আমার কাছে রাখা কুরআন
শরিফটি হারিয়ে ফেলি।
সেসময় এটির সন্ধান করতে
সবাই আমাকে সাহায্য
করেছে। আমি
খোলাখুলিভাবে তাদের
বলিনি যে, আমি একজন
মুসলিম এবং তাদেরকে
এটা বলার প্রয়োজনও নেই।'

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.