| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে নৃশংসভাবে। ক্যু হয়ে গেছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। সামরিক শাসন চলছে দেশে। চারিদিকে সীমাহীন উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। অস্বাভাবিক সময়। রাজনীতি নিয়ে যথাসম্ভব কম কথা বলছে মানুষ। সদ্য স্বাধীন দেশ ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যার পর নেই চিন্তিত। সে সময়ের কথা। কোনও এক শুক্রবার দুপুরবেলা। রৌদ্রময় দিন। ঢাকাস্থ জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণ। হঠাৎ নামাজের সময় আগমন ঘটলো, কুখ্যাত রাজাকার, জামায়াত নেতা গোলাম আজমের। জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় সদ্য বাংলাদেশে এসেছে। ভেবেছিলো, দেশের পটপরিবর্তন হয়েছে। সামরিক শাসন চলছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কোণঠাসা। কেউ কিছু করার সাহস পাবে না। নির্বিঘ্নে কাজ সেরে চলে যাবে। কিন্তু হয়েছিলো ঠিক তার উল্টো। গোলাম আজমকে দেখা মাত্রই রাগে ফেটে পড়লো মানুষ। পায়ের জুতো চপ্পল হাতে উঠে গেলো অনেকের। আলোকোজ্জ্বল সে দুপুরবেলায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গণে গোলাম আজমকে গণপিটুনি দিয়েছিলো উত্তেজিত জনতা। রাস্তার পকেটমার, ছ্যাচরা চোর, মাদকসেবিদের মতো গণপিটুনি থেকে জান বাঁচাতে কোনওরকমে দৌড়ে, লাফিয়ে, পালিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পায়। নাহলে আর চুরানব্বই বছরের দীর্ঘজীবন পাওয়া হতো না; সেই শুক্রবারই অন্তিম দিন হতে পারতো। জনরোষের উত্তুঙ্গ, উদ্বাহু আগুন দেখেছিলো গোলাম আজম। না, বাংলার মানুষ ভোলেনি একাত্তর। ভোলেনি মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তির জন্য তাদের সীমাহীন ত্যাগ, তিতিক্ষা; অশ্রু, রক্ত, ঘাম। সেই শুক্রবার দুপুরটা অবিস্মরণীয়। সাদাকালো ছবিগুলো দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। পত্রপত্রিকার আর্কাইভে পাবেন। চোখে ভাসছে উজ্জ্বল। উত্তেজিত জনতা মুষ্টি বাগিয়ে, জুতো চপ্পল হাতে ঘিরে রেখেছে গোলাম আজমকে। আরেক ছবিতে ভীতসন্ত্রস্ত অসহায় গাড়িতে বসে। (খুব সম্ভবত পুলিশের গাড়ি।) জুতো চপ্পল হাতে এদিকওদিক দাঁড়ানো মুসল্লীরা। সদ্য বেধড়ক পিটিয়েছে কুখ্যাত রাজাকার, জামায়াত নেতা গোলাম আজমকে।
(চলবে)
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:০০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এ ঘটনা জানি তবু আবার পড়লাম ।