| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কিরকুট
আমি মানুষ, আমি বাঙালি। আমার মানবিকতা, আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাওয়া প্রাণী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ। আমার দেশের উপর আঘাত হানতে চাওয়া প্রাণীদের পালনকারী, প্রশ্রয়দানকারী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ, রাক্ষস। হোক সে যে কোনো সাম্প্রদায়িক কিংবা ঢেঁড়স চাষ পরামর্শক।
আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, আর আমরা অন্ধ অনুসারীরা বেকুবের মতো তাদের পেছনে হাঁটছি?
আজকের সমাজে এমন মানুষের অভাব নেই, যারা ধর্ম কে ব্যবহার করে নিজেদের প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে চায়। তারা কথায় কথায় ধর্মের কথা বলে, কিন্তু তাদের আচরণে ন্যায়বিচার, সততা কিংবা মানবিকতার প্রতিফলন দেখা যায় না। ধর্মকে তারা আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে নয়, বরং সমালোচনা এড়ানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ভণ্ডামি এককভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। এটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে আমাদের দৃষ্টকুট নীরবতা ও অন্ধ সমর্থনের কারণে। কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় ধারণ করলেই আমরা তার সব কাজকে সঠিক ধরে নিতে শুরু করি। তার অন্যায়কে অন্যায় বলতে দ্বিধা করি, কারণ মনে করি এতে ধর্মের অবমাননা হবে। অথচ একজন মানুষের অন্যায়ের সমালোচনা করা ধর্মের বিরোধিতা নয়; বরং ন্যায় ও ধর্ম উভয়ের পক্ষে দাঁড়ানো।
ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায়, দয়া ও জবাবদিহিতা শেখায়। তাই ধর্মের নামে মিথ্যা, প্রতারণা, বিদ্বেষ বা ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমর্থন করা ধর্মকে সম্মান করা নয়; বরং ধর্মকেই অসম্মান ও অপব্যবহার করা।
একটি সুস্থ সমাজ গড়তে হলে আমাদের ব্যক্তি ও ধর্মকে আলাদা করে দেখতে শিখতে হবে। কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় পোশাক পরেছেন, ধর্মীয় ভাষায় কথা বলছেন বা নিজেকে ধার্মিক দাবি করছেন এতে তিনি সমালোচনার ঊর্ধ্বে চলে যান না। তার কাজের বিচার তার কাজ দিয়েই হওয়া উচিত।
একটি জাতির শক্তি তার অন্ধ আনুগত্যে নয়, বরং তার বিবেক, যুক্তিবোধ ও ন্যায়বোধে। যতদিন আমরা ব্যক্তি পূজাকে ধর্মভক্তি মনে করব এবং অন্যায়কে ধর্মের আড়ালে লুকানোর সুযোগ দেব, ততদিন ভণ্ডামি সমাজে আরও শক্তিশালী হবে।
আপনি আপনার নিজ ধর্মকে ভালোবাসুন, কিন্তু ধর্মের নামে ভণ্ডামিকে নয়। মানুষকে অনুসরণ করুন তার চরিত্র, সততা ও কর্মের জন্য; কেবল তার ধর্মীয় পরিচয় বা মুখের বুলি দেখে নয়। কারণ সত্যিকারের ধর্ম পালন মানুষকে সকল অন্যায়, অবিচার থেকে মুক্ত করে, আর ভণ্ডামি মানুষকে অন্ধ, বধীর করে।
এখন আপনি ভাবুন সুস্থ্য মানুষ হয়ে সমাজে মাথা তুলে বাঁচবেন নাকি অন্ধ বধীর হয়ে সমাজে মাথা নিচু করে দাসত্বের শৃঙ্খলে নিজেকে বেধে রাখবেন ।
২|
২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩
কথামৃত বলেছেন: সাধু হও সাধু সাজিও না
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এখন কি করতে হবে ?