| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঢাকাকে সব কিছুর কেন্দ্র বানিয়ে ঢাকার মাথায় আমরা যে দুর্বহ বোঝা তুলে দিচ্ছি তার ভার কি ঢাকা বইতে পারবে? আমরা যদি খুব চেনা কিছু দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো রাজধানী শহরের কাজ রাজধানী হিসাবে কাজ করা। অন্য কাজ অন্য শহরের কাঁধে। পাশের দেশ ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লী। বাণিজ্যের ভার মুম্বাই বহন করছে। আইটির ভার বইছে বেঙ্গালুরু। নব শিল্পায়নের ভার বইছে গুজরাট। এমনকি আমাদের তুলনায় অনেক সূচকে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানেও রাজধানী ইসলামাবাদ। ব্যবসার ভার কারাচির ঘাড়ে। সিনেমা তৈরির ভার লাহোরের ঘাড়ে। আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। ব্যবসার ভার নিউ ইয়র্কের কাছে। হলিউড গড়ে উঠেছে লস এঞ্জেলেসে, গাড়ির ভার ডেট্রয়েটের উপর, সিএনএন-এর সদর দপ্তর আটলান্টায়। হার্বার্ড বা এমআইটি ওয়াশিংটনে নয়। লেখাপড়া বা চিকিৎসা বা ব্যবসা কোনো কিছুর জন্য রাজধানীতে যেতে হয় না। জাতি সংঘের সদরদপ্তর নিউ ইয়র্ক শহরে।
এখন আবার কিছু দেশ রাজধানী সরিয়ে ফেলেছে। মালয়েশিয়া কুয়ালা লামপুর থেকে সেটা নিয়েছে নতুন শহর পুত্রজায়ায়। ভারত দিল্লী থেকে নতুন শহর নয়া দিল্লী আর পাকিস্তান রাওয়াল পিণ্ডি থেকে নতুন শহর ইসলামাবাদে রাজধানী সরিয়েছে অনেক আগেই। মিয়ানমার ইয়াঙ্গুন থেখে দুই শ' কিলো দূরে নেই পি দো-তে রাজধানী নিয়ে গেছে। ইন্দোনেশিয়া জাকার্তা থেকে রাজধানী সরিয়ে বোর্নিও দ্বীপের কালিমান্তান প্রদেশে নেবার এন্তেজাম শুরু করেছে।
রাজধানী সরাবার কথা শুনে চমকে উঠার কারণ নেই। আমাদের দেশে রাজধানী বারবার বদল হয়েছে। মহাস্তান গড়ে ছিলো পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী। স্বাধীন সুলতানী আমলে রাজধানী ছিলো সোনারগাঁও। আকবরের সময় বাংলাদেশ মুঘলদের অধিকারে গেলেও আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬০৮ সালে সুবা (প্রদেশ) বাংলার রাজধানী হয় ঢাকা। সুবাদার ইসলাম খান রাজধানীর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। ১৭০৪ সালে ঢাকা রাজধানীর মর্যাদা হারায়। নবাব মুরশিদ কুলী খান রাজধানী নিয়ে যান মুর্শিদাবাদ। বৃটিশ শাসন শুরু হবার পর মুর্শিদাবাদকে বাদ দিয়ে বৃটিশ ভারতের রাজধানী হয় নতুন শহর কলকাতায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হবার পর ঢাকাও রাজধানী রইলো না। ১৯৪৭ সালে পূর্ববঙ্গের (পরে পূর্ব পাকিস্তান) রাজধানী হয় ঢাকা। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর প্রথমবারের মতো একটি স্বাধীন দেশের রাজধানী হয় ঢাকা। এরপর সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়ে ঢাকা। রাজধানীর সাথে ব্যবসা, লেখাপড়া, চিকিৎসা. চাকরি সবকিছুর জন্য স্রোতের মতো মানুষ ঢুকছে ঢাকায়।
বন্দরকে কেন্দ্র করে কেন ব্যবসা বা আমদানিরপ্তানির কেন্দ্র হবে না চট্টগ্রাম বা বাগেরহাট। লেখাপড়া বা চিকিৎসার জন্য আর কোনো শহর কেন গড়ে তুললাম না। সব দেশের সবচেয়ে বড় শহর কিন্ত রাজধানী শহর নয়।
জনস্রোত আর ব্যক্তিগত গাড়ির স্রোতের সাথে এখন মহাপ্লাবন শুরু হয়েছে ব্যাটারি রিকশার। এই মহাবিপজ্জনক বাহনটিই বোধ হয় ঢাকার কফিনে শেষ পেরেক হয়ে উঠতে পারে। জানি না আমাদের কপালে আর আমাদের রাজধানী ঢাকার কপালে কি আছে?
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩৫
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: আমারো তাই মনে হয়। ধন্যবাদ।
২|
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:০৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মেরে ফেলেছি ।
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩৫
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: আসলেই। ঠিক বলেছেন ভাই। ভালো থাকবেন।
৩|
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১০
বাজ ৩ বলেছেন: মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখেছেন
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩৬
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: একেবারে শেষ প্রান্তে চলে গেছি। ধন্যবাদ।
৪|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২২
হুমায়রা হারুন বলেছেন: তখন ১৯৯৮ সাল। ইউরোপের একটা প্রতিবেদন পড়লাম খবর কাগজে। ওরা বললো, আর বিশ বছরের মধ্যে ঢাকা বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাবে।
আমি কিছুই না বুঝতে পেরে আমার মামাকে জিজ্ঞাসা করলাম এই কথার অর্থ কি- বসবাসের অনুপযুক্ত? তিনি বিদেশ দেখা মানুষ। তিনি বললেন, 'এই যেমন ধরো, পানির কষ্ট হবে, বিদ্যুৎ থাকবে না। মানুষের চাপ বাড়বে। গ্যাস সরবরাহ থাকবে না।'
আমি বিশ্বাস করতে পারিনি সেই সময়। আর এখন? বাস্তবতা টের পাচ্ছি।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: দম আটকে আসার দশা হয়েছে। এখনই চাষাবাদ বন্ধ হবার যোগাড়। কাজের লোক পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই রিকশা চালায়।
৫|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: তাও আবার সেই রিকশা, যা চালাতে প্যাডেল মারতে হয় না।
হুট্ করে সামনে এসে দাঁড়ায় । দেখলেই আত্মা উড়ে যায়।
আগে যেমন রিকশা চালানো অসম্ভব পরিশ্রমের কাজ বলে, রিকশাওয়ালা মামুদের জন্য সফট্ কর্নার ছিল, এখন তার বদলে আছে আতংক। সাক্ষাত যেন যম দূত হয়ে ইচ্ছে মত ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তায়। রাস্তা যেন তাদের কাছে রাস্তা না, একটা নিয়ম না-মানার পার্ক।
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: ঠিক এটাই তাদেরকে দেখলে মনে পড়ে। ভয়াবহ অবস্থা।
৬|
২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫
মেহবুবা বলেছেন: দেশটা ছোট, মানুষ বেশী শুধু নয় অতিরিক্ত বেশী! বুদ্ধিমানের সংখ্যাও বেশী এবং সবার বুদ্ধি নিয়ে ঢাকা সমৃদ্ধ নগরী, সব সুযোগ সুবিধা এখানে জমাটবদ্ধ। ঢাকায় টাকা ওড়ে বাতাসে! সব পথ এসে মিশেছে ঢাকায়। আমার তো মনে হয় মানুষের ভারে একদিন ঢাকা দেবে যাবে, আমরা পাতালে চলে যাবো।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: একমত। জাকার্তা দেবে যাচ্ছে বলে রাজধানী কালিমান্তানে সরাবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
৭|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৮
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
ঢাকা তো অনেক বছর আগই মরে গেছে।
এটাকে আর নতুন করে মারা কিছু নেই।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: এক অর্থে তাই। এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা পড়ছে। ধন্যবাদ।
৮|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮
আহমেদ জী এস বলেছেন: এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল,
সহ-ব্লগার মেহবুবা ঠিকই বলেছেন: দেশটা ছোট, মানুষ বেশী শুধু নয় অতিরিক্ত বেশী! বুদ্ধিমানের সংখ্যাও বেশী এবং সবার বুদ্ধি নিয়ে ঢাকা সমৃদ্ধ নগরী, সব সুযোগ সুবিধা এখানে জমাটবদ্ধ। ঢাকায় টাকা ওড়ে বাতাসে! সব পথ এসে মিশেছে ঢাকায়। আমার তো মনে হয় মানুষের ভারে একদিন ঢাকা দেবে যাবে, আমরা পাতালে চলে যাবো।
একমাত্র বিকেন্দ্রীয়করন ছাড়া ঢাকাকে মরার হাত থেকে বাঁচানোর আর কোনও পথ নেই! কিন্তু করবে কারা ????????
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: একমাত্র বিকেন্দ্রীয়করন ছাড়া ঢাকাকে মরার হাত থেকে বাঁচানোর আর কোনও পথ নেই! এটাই একমাত্র সমাধান। বিশেষ করে বাণিজ্যিক বিকেন্দ্রী করণ হলে বাকি সুযোগ সুবিধাও গড়ে উঠবে।
৯|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আমাদের টাউন প্ল্যানাররা কি যে করেন, বুঝি না।
কাউকে ঢাকাতে আসা ঠেকানো উচিৎ হবে না।
গ্রাম পর্যায়ে কর্মসংস্থান না হলে ঢাকার দিকে ধাবিত জনস্রোত ঠেকানো যাবে না।
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:১৫
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: টাউন প্ল্যানারগণ কি করছেন তাতো জানি না। তাদের যে গুরুত্ব দেওয়া হয় না সেটা দেখাই যায়। গ্রামে কর্মসংস্থান দরকার। তার চেয়ে বেশি দরকার ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলো আর বড় বড় জেলা শহরগুলোকে কর্মসংস্থানের উপযোগী করা।
১০|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ব্যাটারি চালিত রিকশাগুলোকে একটু মডিফাই করে আর সঠিক ট্রাফিক নিয়ম করে দিলেই রিকশাগুলো আমাদের সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে।
আমার কাছে প্যাডেল চালিত রিকশাকে খুব অমানবিক মনে হোয়।
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২৪
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: প্যাডেলে চলা রিবশার কশা ভাবাই যায় না। ব্যাটারি রিক্সা চরম অনিরাপদ বাহন। অটোরিক্সা (সিএনচি) পর্যন্ত রাজধানীতে গ্রহণযোগ্য। অন্য দেশগুলো বাস, মেট্রোরেল (এমআরটি/এলআরটি/মনোরেল) আর পুরনো দেশগুলোতে আছে ট্রাম এসব দিয়ে নগর পরিবহনকে সাজায়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবী। কৃষিকে (ফসল,প্রাণিসম্পদ,মৎস্য) ভর্তুকি দিয়ে, প্রটেকশন দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। না হলে জীবন বাঁচবে না কারোই।
১১|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০০
কিরকুট বলেছেন: ঢাকা তো অনেক আগেই মৃত । একে বেহুদা লাইফ সাপোর্টে রেখে অর্থের অপচয় চলছে ।
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২৪
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: লাখ লাখ কর্মঘন্টার অমার্জনীয় অপচয়।
১২|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০
রাজীব নুর বলেছেন: মানুষ সচেতন না হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২৬
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে সরকার যেন ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবতে বাধ্য হয়।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭
ভুয়া মফিজ বলেছেন: বান্দরের হাতে এ কে ৪৭ পড়লে যা হয়; লোভী, স্বার্থপর আর নির্লজ্জ নীতি-নির্ধারকদের হাতে পড়ে ঢাকার তাই হয়েছে। নাথিং আনলাইকলি।