নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেঁচে থাকলে বড় হবো....

চারাগাছ

চারাগাছ একদিন ডালপালা ছড়াবে.....

চারাগাছ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ব্ল্যাকবোর্ডে রঙিন পৃথিবী দেখানো মানুষ গুলো

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



আমার কাছে শিক্ষক দিবস মানেই শুধু শিক্ষকদের কথা মনে করা নয়।এই দিনটায় আমার শৈশবের দুজন মানুষকে আরও একটু কাছে পাই।

একজন আমার আব্বা।
অন্যজন আমার আম্মা।

আব্বা ছিলেন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘ ছত্রিশ বছর শিক্ষকতা করেছেন।
আর আম্মা ছিলেন একজন হেডমিস্ট্রেস।

অদ্ভুত ব্যাপার,
আমার শৈশবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুজন মানুষই
জীবনটা শেখানোর পেশায় ছিলেন।

আব্বার কাছ থেকেই হয়তো
বইয়ের সঙ্গে আমার সেই পুরোনো প্রেমের শুরু।
শব্দের ভেতর দিয়ে,গল্পের ভেতর দিয়ে,
একটা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে
একটা বড় পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয়।

টলস্টয়ের সেই ‘Golden Trinity’—
কোন সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,
কোন মানুষটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,
আর কোন কাজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বড় হয়ে বুঝেছি,
কিছু প্রশ্নের উত্তর বইয়ে লেখা থাকে না।
কিছু উত্তর মানুষের জীবন দেখেই বুঝে নিতে হয়।

কখনো কেউ যখন বলে,
“স্যার আমাদের এমন ছিলেন...”

তখন মনে হয়—
আমার বাবা শুধু আমার শৈশবের মানুষ ছিলেন না,
তিনি অনেক মানুষের শৈশবেরও একটা অংশ ছিলেন।

কত ছেলেমেয়ে তাঁর কাছে ইংরেজি শিখেছে,
কতজন তাঁর বকা খেয়েছে,
কতজন হয়তো তাঁর বলা কোনো একটা কথা
আজও মনে রেখেছে—
আমি জানি না।

শুধু জানি,
একজন শিক্ষক চলে গেলেও তাঁর ছাত্রদের ভেতর থেকে
তিনি পুরোপুরি চলে যেতে পারেন না।

আজ শিক্ষক দিবস।

স্কুলের সেই ব্ল্যাকবোর্ড নেই।চকের ধুলো নেই। পুরোনো শ্রেণিকক্ষও নেই।

কিন্তু আমার স্মৃতিতে
একটা স্কুল এখনও দাঁড়িয়ে আছে।

সেখানে আব্বা আছেন—
হাতে চক,
সামনে কালো বোর্ড।

আর কোথাও,
একজন হেডমিস্ট্রেস হয়ে
আম্মাও হেঁটে যাচ্ছেন
সেই পরিচিত করিডোর দিয়ে।

সময় অনেক কিছু মুছে দেয়।শ্রেণিকক্ষ বদলে যায়।ব্ল্যাকবোর্ড বদলে যায়।
মানুষও একদিন চলে যায়।

কিন্তু কিছু মানুষকে
সময় কখনো পুরোপুরি সরিয়ে নিতে পারে না।

তাঁরা থেকে যান—
কোনো একটা বাক্যে, কোনো পুরোনো বইয়ের পাতায়,
কোনো ছাত্রের স্মৃতিতে,অথবা সন্তানের বুকের ভেতর।

আজ তাই সবার কাছে শিক্ষক দিবস হলেও,
আমার কাছে—
আরেকটা বাবা দিবস।

আর আম্মাকে মনে করার
একটা নীরব দিনও।

সেইসব শিক্ষককে শ্রদ্ধা,
যাঁরা ব্ল্যাকবোর্ডের কালো রঙের ভেতর
আমাদের রঙিন পৃথিবীটা দেখিয়েছিলেন।

— স্বপ্নবাজ সৌরভ

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার কবিতার সারমর্ম আমি বুঝি। কারন আমি ভিসিআরে সিনেমা দেখা মানুষ।

২| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




সুন্দর স্মৃতিচারণ।

৩| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

অধীতি বলেছেন: লেখক বলেছেন:
সেইসব শিক্ষককে শ্রদ্ধা,
যাঁরা ব্ল্যাকবোর্ডের কালো রঙের ভেতর
আমাদের রঙিন পৃথিবীটা দেখিয়েছিলেন।


চকের ধুলো আর ডাস্টারের পিটুনি খেয়েও ছুুটির সময় হৈ হৈ রবে বাড়ির দিকে ছোটার সেই দিনগুলোতে আমারদের শিক্ষকরা ছিলেন শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক।

৪| ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০২

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার মহীয়সী মা এবং প্রয়াত পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
আমার মনে হয়, উভয় প্যারেন্টস শিক্ষক- এমন দম্পতির সন্তান যেমন হওয়া উচিত, আপনার ব্লগিং থেকে আপনাকে যতটুকু জেনেছি আপনি তেমনই একজন সন্তান। আরও মনে হয়, আপনার মায়ের সাথে বোধকরি আপনার চেহারার বেশ মিল রয়েছে।
শিক্ষানুরাগী আপনার মা ও বাবা পাঠ্য বইয়ের বাইরেও আপনাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন, মানুষের জীবন দেখে জীবনের পাঠ নিতে শিখিয়েছেন। রুশ শিশুসাহিত্য সম্পর্কে আপনার জানার হাতেখড়ি হয়েছিল বাবার হাত ধরে, পরবর্তীতে হয়তো তা গড়িয়েছে রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যান্য শাখায়ও, আপন আগ্রহে। শিক্ষাদান করাটা বড় কথা নয়- সে আর কতটুকুই বা দান করা যায়! বড় কথা হচ্ছে শিশুদের ও বড়দের মনে শিক্ষালাভের আগ্রহ সৃষ্টি করা।
লেখাটা খুব ভালো লাগল। +

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০২

চারাগাছ বলেছেন:
আমার এইসব লেখা দেখে বোঝার উপায় নাই লাইফে আমি আসলে একজন লুজার/ ফেইলর। কিছু মনে করবেন না। ভীষণ শ্রদ্ধার জায়গা থেকে আজ কথাটা বললাম। জীবন আমার সাথে সঠিক আচরণ করেনি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.