নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটা অন্যরকম হবার কথা ছিল!

শেরজা তপন

অনেক সুখের গল্প হল-এবার কিছু কষ্টের কথা শুনি...

শেরজা তপন › বিস্তারিত পোস্টঃ

পরিস্থিতি কি জটিল?

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো চলাচলও বন্ধ। মিটিং কি একেবারেই বাতিল করব, নাকি বিকেলে শিফট করব—বুঝতে পারছি না।

আমাদের মতো দেশে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করার কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্থায়ী উপায় নেই। আজ ওদের বেতন বাড়লে কাল থেকেই বাসা ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে—ফলাফল 'যে লাউ, সেই কদু'।

এমন কোনো মজুরি কাঠামো বানানো সম্ভব নয়, যা একই সঙ্গে শ্রমিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক উভয় পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারে। যেকোনো মজুরিতেই শ্রমিকদের মনে হয় তারা শোষিত হচ্ছে, আর মালিকেরা ভাবেন এই আর্থিক চাপ সামলে তারা কীভাবে টিকে থাকবেন!

মূল সমস্যাটি অন্য জায়গায়। এই মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। দ্বিতীয়ত, ব্যাপক হারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। এই দুটি কারণে বাজারে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার ফলে উচ্চমধ্যবিত্তরাও এখন বাজার করতে গিয়ে হাঁসফাঁস করছেন (এর পেছনে কিছু বৈশ্বিক বিষয়ও দায়ী, তবে সেটা ভিন্ন আলোচনা)।

বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়া ৩ বছর পিছিয়ে যাওয়ার পেছনেও এর একটি বড় প্রভাব রয়েছে। ভারত পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে বছরে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে। সেখানে কখনো গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের কথা শুনেছেন? ওদের বিশাল দেশ ও বিশাল অর্থনীতি; সুযোগও প্রচুর। কিন্তু আমরা যে একটিমাত্র খাতের ওপর ভর করে চলছি, সেটা বোধহয় তাদের পছন্দ নয়। আমাদের এই ব্যবসায় ধস নামিয়ে বাজারটা কবজা করাই তাদের বড় উদ্দেশ্য। আমাদের রুটি-রুজির জায়গাতেই তারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

গ্রামগঞ্জ থেকে একদল নিরক্ষর ও অনভিজ্ঞ মানুষ ঢাকায় এসেই যদি ৩০০০ টাকা বেতনের চাকরি পেয়ে যায়, তবে শিক্ষাদীক্ষা আর কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন কোথায়?

একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দৈনিক ২ টাকা মজুরিতে লোক রাখবেন কি না—সেটা তাঁর ইচ্ছে। আপনার পোষালে কাজ করবেন, না পোষালে করবেন না; সেই স্বাধীনতা আপনার আছে। এখানে জোর করে দাবি আদায়ের কী আছে, আর সরকারই বা এতে এত মাথাব্যথা দেখাচ্ছে কেন?

ভারতে কেন শ্রমিক আন্দোলন হয় না? এর একটি বড় কারণ হলো, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দেওয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সে দেশের সরকারের তেমন কোনো মাথাব্যথা বা হস্তক্ষেপ নেই।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: কম বেতনে শ্রমিক পেলে মালিক বেতন বাড়াবে কেন? শ্রমিকের কাজে পোষালে কাজ করবে না পোষালে কাজ করবে না- সহজ কথা।

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

শেরজা তপন বলেছেন: কম বেতনে পাওয়া বলে কথা না। আমার প্রতিষ্ঠান আমি কেমনে চালাব সেটা অন্য কেউ নির্ধারন করে দিতে পারে না।
এখানে দুপক্ষেরই সর্বোচ্চ স্ব্ব্বাধীনতা থাকা উচিৎ।

২| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫

নতুন বলেছেন: দ্রব্যমুল্যের উপরে নিয়ন্ত্রন না থাকলে বেতন বাড়ালে কোন কাজ হবেনা।

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

শেরজা তপন বলেছেন: দ্রব্যমুল্য ( যেটা অস্বাভাবিক ও জনগনকে জিম্মি করে করা হয়) নিয়ন্ত্রন করলে অনেক সমস্যারই বড় ধরনের সমাধান হবে বলে আমার বিশ্ব্বাস।।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.