| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আহমেদ জী এস
পুরোপুরি একজন অতি সাধারন মানুষ । আমি যা আমি তাই ই । শয়তানও নই কিম্বা ফেরেশতা । একজন মানুষ আপনারই মতো দু'টো হাত, চোখ আর নিটোল একটা হৃদয় নিয়ে আপনারই মতো একজন মানুষ । প্রচন্ড রকমের রোমান্টিক আবার একই সাথে জঘন্য রকমের বাস্তববাদী...
রাজনীতি (কবিতা খন্ড)
প্রজ্ঞাময় এক বৃক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখি,
‘রাজনীতি’ আর ‘নিজনীতি’র পার্থক্য কি ?
উত্তরে অশীতিপর বৃদ্ধের মতো নির্বাক চেয়ে থাকে
বৃক্ষ সেই । গায়ে তার বলিরেখা, পাখিদের বিষ্ঠায়
বয়সের গাছ-পাথর বোঝা যায় না, কেবল বাতাস
শীষ তোলে, রোদের ফাজিল মুখ ফিকফিক করে হাসে
পাতায় পাতায় ।
পাকা চুলের মতো একটি দু’টি পাতা নিরবে খসে পড়ে
পায়ের কাছে শব্দহীন ।
গতর বেচা নগরবিলাসিনী এক নারীকে প্রশ্ন রাখি,
‘রাজনীতি’ আর ‘ধান্দাবাজী’র পার্থক্য কি ?
সবে প্রথম স্রাবের মুখ দেখেছে এমোন কিশোরীর মতো
ফ্যাকাসে হয় নারী সেই । একদা উদ্দ্যত বুকের কাঁচুলি ঠিক করে,
পায়ের বুড়ো আঙুলে খুটে তোলে মাটি,
সখিরা ঢলে পড়ে গায়ে, হাসাহাসি করে, নাগর আমার !
ধান্দাবাজীর আর জায়গা পাননা, না ?
সফেদ চুলের বিদগ্ধ একজনের কাছে প্রশ্ন রাখি,
‘রাজনীতি’ আর ‘আখের গোছানো নীতি’র তফাৎ কি ?
কালো ফ্রেমে উতল কাঁচের ওপারে তার চোখ
অতিকায় হয়ে ভাসে, পুরুলেন্সের চশমা খুলে
মুছতে থাকেন বারবার, অস্থির হয়েছেন তিনি বোঝা যায়,
পড়াশুনো অনেক, সীমাহীন জ্ঞানের পরিধি
বইয়ের আলমারী ছাড়িয়ে হেটে গেছে অনেক দুর ।
আমার উত্তরও তার সাথে হেটে যায় দরজা পেরিয়ে
উল্টে দিয়ে যায় পোর্সেলিনের ফুলদানী –
যাহ্, গেলোতো ভেঙে …! অস্ফুটে বলেন তিনি ।
আকাশের যতো তারা আছে প্রশ্ন রাখি,
‘রাজনীতি’ আর ‘শোষননীতির’ তফাৎ কি ?
ওরা শুধু মিটিমিটি জ্বলে তীব্র দহনে অন্ধকারে,
বুকের ভেতরে নিয়ে অযুত বিষ্ফোরন অপেক্ষায় থাকে
জ্বলে জ্বলে নিঃশেষে হবে এক কৃষ্ঞ গহ্বর কবে,
আলো যেখানে থাকেনা আলো হয়ে, কর্পূরের মতোন উবে যায়
নিমেষে, সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট গলে যাওয়ার মতোন
ব্রম্মান্ডও চলে যাবে তখোন নাকি আর এক পৃথিবীতে ।
আসলে নিয়তিই তার শোষিত হওয়ার, তাই
তারারা ব্যস্ত হয়ে ওঠে নিঃস্ব হয়ে যেতে ।
কাগজ কুড়োনো এক টোকাইকে প্রশ্ন রাখি,
‘রাজনীতি’ আর ‘নিজনীতি’
‘রাজনীতি’ আর ‘ধান্দাবাজী’
‘রাজনীতি’ আর ‘আখের গোছানো নীতি’
‘রাজনীতি’ আর ‘শোষননীতি’র
পার্থক্য কি জানিস ?
ফোকলা দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে তার মুখ
প্রজ্ঞাময় হয়ে ওঠে, আমন্ত্রন চোখে
এক পথবিলাসী সাজে, মাথার রুক্ষু চুলে
লাগে যেন বিদগ্ধ সফেদ এর ছোঁয়া,
তীব্র দহনে পোড়া সপ্রতিভ মুখে
যেন ছড়িয়ে যায় হাসি –
‘এডাও জানেন না আফনে-
পারথোক্কো হুদা বানানে !’
০১ লা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:০৩
আহমেদ জী এস বলেছেন: কবিরাজ_কুশল,
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
আপনাদের ভালো লাগার জন্যেই শুধু কিম্বা কবিতার খাতিরেই নয় কিছুটা হলেও বোঝানোর প্রয়াশ ছিলো লেখার পেছনে ।
২|
০১ লা জুন, ২০১২ সকাল ৯:১২
রিভানুলো বলেছেন: ‘এডাও জানেন না আফনে-
পারথোক্কো হুদা বানানে !’ ঠিক বলছে টোকাই ++++
০১ লা জুন, ২০১২ দুপুর ১২:১৩
আহমেদ জী এস বলেছেন: রিভানুলো ,
টোকাইকে আমি সর্বসাধারন এক মানুষের প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছি । যে সাধারন মানুষ আসলে সাধারন নয় । টোকাইএর বর্ণনা দেখুন -
"ফোকলা দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে তার মুখ
প্রজ্ঞাময় হয়ে ওঠে, আমন্ত্রন চোখে
এক পথবিলাসী সাজে, মাথার রুক্ষু চুলে
লাগে যেন বিদগ্ধ সফেদ এর ছোঁয়া,
তীব্র দহনে পোড়া সপ্রতিভ মুখে..."
যাদের কাছে প্রশ্ন করেছি তারা কেউই কিন্তু কোনও না কোনও কারনে উত্তরে নিরব ছিলো । এই ই আমাদের অসাধারন মানুষদের আসল চিত্র । সেখানে টোকাই আমার -আপনার প্রতিভু । তার কিন্তু আসল কথাটি বলতে কোনই দ্বিধায় পড়তে হয়নি । কারন সে ছলাকলা বোঝেনা । জানে সরল সত্যটি । ঠিকই বলে ......
আশা করি এতে কবিতাটি আপনার আরো ভালো লাগবে দ্বিতীয় বার ।
পরিশেষে, ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
৩|
০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ৮:৫৬
জুন বলেছেন: কি লিখবো এই অসাধারন কবিতা নিয়ে তাই ভাবছি আহমেদ জী এস।
অনন্যসাধারন মানব চরিত্র চিত্রন।
+
০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ৯:১৩
আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন,
অনন্য মানুষের ছবি আঁকতে পেরেছি কিনা জানিনে ।
আমি সব উঁচু স্তরের মানুষের কথাই রূপক হিসেবে বলেছি কেবল টোকাই বাদে ।
একজন টোকাইকেই শুধু মানুষ হিসেবে দেখিয়েছি যে আমার -আপনার মতো অতি দীন, অতি সাধারন । আর সে তা-ই বলে খুব সহজ সাধারন উত্তর তার । যে উত্তর বুদ্ধিবাদীদের মুখে আনতে কষ্ট হয় খুব, তা পানির মতো তরল করে বুঝিয়ে দিয়েছে সে ।
আপনার এই দেখার গভীরতা আপনার জীবন ঘন বুদ্ধিবৃত্তিরই পরিচয় বহন করে ।
ভালো আছেন তো ? শুভেচ্ছান্তে ।
৪|
০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ৯:০৩
বাঘ মামা বলেছেন: নির্মম সত্য গুলো উঠে এসেছে,
আপনার থেকে আমি ভিন্ন কিছু আশা করেছিলাম,পাচ্ছি ও সামনে পাবো আশা রাখি।
শুভ কামনা সব সময়।
০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ৯:১৯
আহমেদ জী এস বলেছেন: বাঘ মামা ,
বাঘ দেখার মতো ভয়ের মধ্যে ফেলে দিলেন তো !
ভিন্ন কি আশা করেছিলেন আমার কাছে ? তোষামোদ, চাটুকারীতা , স্রোতে গা ভাসানো ?
আবার বললেন - ".....পাচ্ছি ও সামনে পাবো আশা রাখি।"
ঠিক মেলাতে পারছিনে , কি বলতে চাচ্ছেন আপনি ।
তাই বাঘের ভয়ের কথা বললুম ।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে এবং সাথে শুভ কামনা ও.......
৫|
১২ ই জুন, ২০১২ দুপুর ২:২৭
আরুশা বলেছেন: অনেক ভালোলাগলো সমাজ সচেতন কবিতা ।
ভালো থাকবেন নিরন্তর আর লিখতে থাকুন এমনি করে।
+++++++
১২ ই জুন, ২০১২ রাত ১১:১৫
আহমেদ জী এস বলেছেন: আরুশা,
ভালোলাগার জন্যে ধন্যবাদ ।
এছাড়া আমাদের আর কি করার আছে বলুন, যাতে দু'টো ভালো বোধ তৈরী হয় সবার ?
নিরন্তর ভালো থাকতে বলেছেন আর লিখতে । থাকতেই যে হয় !
আপনিও ভালো থাকুন ।
৬|
২৬ শে জুন, ২০১২ দুপুর ১২:৫২
জুল ভার্ন বলেছেন:
রাজনীতি নিয়ে ব্লগে কিছু বললতে/লিখতে আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করিনা। কারন এখানে বিশাল বিশাল রাজনীতিবিদ আছেন-তাঁদের যোগ্যতার সামনে আমার নিরবতাই যথাযার্থ মনে করি।শুধু মাত্র আপনার লেখা সুন্দর কবিতাটা সম্পর্কেই বলছি- যে কোন সুস্থ্য-সচেতন মানুষ, একবাক্যে আমার সাথে একমত হবেন যে, বর্তমানে জাতীয় রাজনীতি ও ছাত্ররাজনীতি পরিপুর্ন ভাবে কলুসিত হয়ে গিয়েছে । বিগত কুড়ি বছরে , এই কলুসিত ছাত্র রাজনীতি, জাতীয় জীবনে তেমন কোন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেনি। বার বার শুধু মায়ের কোল খালি করেছে । জাতীয় রাজনীতির নোংরামী এমন পর্যায়ে গিয়ে দাড়িয়েছে যে, বর্তমানে দলীয় প্রধান প্রধান নেতৃত্ব রাজনৈতিক ময়দান খিস্থি খেউড়ের প্লাটফর্ম তৈরী করেফেলেছে। একটু সাদা চোখে তাকালে দেখা যাবে যে, বর্তমানে নষ্ট রাজনীতিত গোড়াতেই গলদ। তাই রাজনীতির লেজুর ছাত্র রাজনীতি হল, নষ্ট হওয়ার প্রথম সোপান । পরবর্তী সোপান গুলি হল, ফেন্সিডিল, পিস্তল, বোমা, ধর্ষনের সেঞ্চুরী, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী,ইভটিজিং, এবং প্রতিপক্ষের নেতা কর্মী সদস্যদের হত্যা করা কিম্বা ওদের হাতে নিহত হওয়া।
এমতবস্থায়, কিছু কিছু মানুষ দাবী করবে যে, এই ছাত্ররাজনীতির ব্যাপক ভুমিকা আছে, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহসে, ভাষা আন্দোলনে, নব্বুইয়ের গনঅভ্যুথানে , তাই এইসব ইতিহাস যারা কচলাবে, তাদের কাছে, একটাই প্রশ্ন, বিগত দুই দশকে ছাত্র রাজনীতি আমাদের কিছুই দিতে পারে নি, ভবিস্যতেও দিতে পারবে তেমন কোন নমুনা এখনো দেখা যাচ্ছে না, সুতরাং যদি সারা হাত পচে যায়, এবং তা থেকে যদি শরীরের অন্যখানে পচনের সম্ভবনা থাকে, তাহলে কি হাত কেটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না?
সবচেয়ে মজার বিষয়, এই বিষয় গুলি তে , আমাদের শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া উভয়ই আন্তরিক। কিন্ত তারা ভয় পান, যদি এমন হয় যে, ছাত্রলীগ বন্ধ হল, কিন্তু ছাত্র দল চালু থাকলো, অথবা ছাত্রদল বন্ধ হল, কিন্তু ছাত্রলীগ চালু থাকলো । সেক্ষেত্রে, যে দল, বেশী মহানুভবতা দেখাতে যাবে, সে দলের অবস্থা হবে চরম শোচনীয় ।রাজনীতি নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনা শুধু অজয় দাশ গুপ্তের রাকনীতি নিয়ে একটি ছড়া কবিতা শেয়ার করতে চাইঃ-
নষ্ট রাজনীতি/ অজয় দাশগুপ্ত
বাচ্চা লোগ তালিয়া বাজাও
বাজাও জোরে তালি
কেউ বলছে হারিয়ে গেছে, কেউ বলছে
... লুকিয়ে আছে আলী
গোয়েন্দারাও শরমিন্দা
পায় না খুঁজে খুনি
পোষ্টমর্টমে দ্বিতীয়বার
মরছে সাগর রুনি
রাত দুপুরে ঘুরে বেড়ায়
বস্তা ভরা টাকা
সচল আছে সব ই কেবল
অচল জীবন চাকা
কথায় ছোটে তুবড়ি যাদের
স্তাবকতাই কাজ
তারা আছে মুকুট হয়ে
খসল সোহেল তাজ
সরকারি ও বিরোধী দল
যেই হোকনা দায়ী
পরষ্পরকে দূষছে তারা
নিয়ম অনুযায়ী
মরছে মানুষ মরছে আশা
হচ্ছে জীবন গুম
এমন দেশে শান্তিতে কেঊ
পারবে যেতে ঘুম?
খুন ধর্ষণ হরতাল আর
চলতেছে রাজ ভীতি
দেশ ডুবছে? কি আসে যায়
জয়তু রাজনীতি!!
ছয় নম্বর ভাল লাগা।
২৬ শে জুন, ২০১২ বিকাল ৩:১২
আহমেদ জী এস বলেছেন: জুল ভার্ন ,
আপনার প্রতিটি কথার সাথে একমত । আমিও প্রচলিত রাজনীতিতে আস্থাহীন । তাই বলে অসংগতি দেখিয়ে দেয়ার সুযোগ থাকলে মাঝেমাঝে ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করেনা ।
আমার এই কবিতাতে আমি রাজনীতির এই দৈন্যদশা ই তুলে ধরতে চেয়েছি । আপনার দৃষ্টি ভঙ্গীর সাথে মিলে গেছে না ?
ধন্যবাদ পড়া এবং একখানি কবিতা উপহার দেয়া জন্যে ।
৭|
২৮ শে জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪৮
সত্য কথায় যত দোষ ! বলেছেন: দূর্ণীতিই যাদের নীতি-তারাই করে রাজনীতি।
২৮ শে জুন, ২০১২ রাত ৮:১৯
আহমেদ জী এস বলেছেন: সত্য কথায় যত দোষ,
সত্য কথায় দোষ হয় জেনেও কিন্তু সত্য কথাই বলে ফেলেছেন ।
ধন্যবাদ ।
৮|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:১০
শাহেদ খান বলেছেন: দারুণ !
রূপক-উপমা'র আড়ালে চমৎকার লাগল আপনার সচিত্র প্রতিবেদন এবং সুতীক্ষ্ণ উপস্থাপন !
অনেক অনেক শুভকামনা, আহমেদ ভাই।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১১:৩২
আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহেদ খান ,
অজস্র ধন্যবাদ আপনাকে । আপনার কথাগুলোই আমি অন্যভাবে বলেছি মাত্র ।
মঙ্গলাকাঙ্খা আপনার জন্যেও ।
৯|
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: বহুরূপী রাজনীতির কিছু রূপ উন্মোচনের প্রয়াস পেয়েছেন কবিতায়, রূপক প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে। শেষ পর্য্ন্ত কেউই সঠিক জবাবটি দিলেন না বা দিতে পারলেন না, কেবল শেষের ঐ ফোঁকলা দাঁতের টোকাই মশাই ছাড়া। তার উত্তরটাই যথার্থঃ "পারথোক্কো হুদা বানানে"।
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২
আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,
ধন্যবাদ, একযুগেরও আগের পোস্টে এসে মন্তব্য করার জন্যে।
পোস্টের মূল বক্তব্যটাই টোকাই এর কথায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।
শুভেচ্ছান্তে।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা জুন, ২০১২ রাত ১:৩৩
কবিরাজ_কুশল বলেছেন: চমৎকার লিখসেন । +++