| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
আজকে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু একটা এমন তথ্য দিলেন যেটা শুনে বাংলাদেশের আমজনতা রীতিমতো ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেল। কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার খাবার খরচ নিয়ে। কোন সালে কত টাকার খাবার খাওয়া হয়েছে সেটা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি, শুধু বললেন পঁয়ত্রিশ কোটি টাকা। ব্যস, এটুকু শুনেই সোশাল মিডিয়ার গণিতবিদরা ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। কেউ একজন হিসাব বসিয়ে দিলেন যে দিনে খাওয়া হয়েছে প্রায় দশ লাখ টাকার কাছাকাছি, ঘণ্টায় চল্লিশ হাজার, মিনিটে ছয়শো টাকার ওপরে, আর সেকেন্ডে এগারো টাকা। মানে হিসাব অনুযায়ী একজন মানুষ ঘুমের মধ্যেও প্রতি নিঃশ্বাসে টাকার নোট চিবিয়ে খাচ্ছেন এমন একটা চিত্র দাঁড়িয়ে গেল। এই হিসাব কে করেছে সেটাও মজার, নিচে লেখা ছিল চ্যাটজিপিটি সমাধান করেছে। অর্থাৎ মানুষ এখন রাজনৈতিক ক্ষোভ ঝাড়তেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছে, প্রযুক্তি সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছে।
পঁচাত্তর বছর বয়সী একজন মানুষ দিনে দশ লাখ টাকার খাবার খাবেন এটা ভাবতে গেলে পেটের চেয়ে কল্পনাশক্তির প্রশংসা করতে হয় বেশি। বাস্তবে এমন হিসাব শুনলে বোঝা যায় আসল টাকাটা হয়তো খাবারের নামে অন্য কোনো খাতে সরে গেছে, প্লেটে খাবার কম, খাতায় হিসাব বেশি। তবে এই খেলাটা একতরফা নয়। জুলাই ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকির বেলাতেও প্রায় একই রকম ঘটনা শোনা গেছে। খবরে বলা হয়েছে মাত্র ছয় মাসে আপ্যায়ন আর নাশতার বিল উঠেছে এক কোটি টাকার বেশি, দিনে গড়ে ছাপান্ন হাজার টাকা। পঁচিশ দিনে ভিভিআইপি আপ্যায়ন আর ইন্টারনেট বিল উঠেছে প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা। স্বেচ্ছাসেবকরাও পিছিয়ে নেই, আশি জনের আপ্যায়নেই খরচ সাতান্ন লাখ টাকা। এমনকি একদিনের জাদুঘর পরিদর্শনে অতিথি আপ্যায়নে সত্তর হাজার টাকার নাশতা লেগেছে, বোঝাই যাচ্ছে সিঙ্গারা আর সমুচার দামও এখন সোনার বাজারের সাথে পাল্লা দিচ্ছে।
এসব ঘটনার মূল সূত্রটা আসলে সহজ। নতুন সরকার এলেই পুরাতন সরকারের কাসুন্দি ঘাঁটা শুরু হয়। একটা সংখ্যা দেখিয়ে দিলেই মানুষ বিশ্বাস করে নেয়, তারপর সেই সংখ্যা হাজার বার শেয়ার হতে থাকে, কয়েকদিন হাসাহাসি চলে, তারপর সবাই ভুলে যায়। এটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, বিরোধী দলে থাকলে আপনি ত্যাগী নেতা, ক্ষমতায় গেলেই আপনি ভোজনরসিক খলনায়ক। সংসদে আমির খসরু আরেকটা মজার তুলনা টেনেছেন, বলেছেন তারেক রহমানের সরকার খুবই মিতব্যয়ী, তারেক রহমান নিজেও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন। শুনতে ভালোই লাগে, কিন্তু ছয় মাসের শাসনের সাথে পনেরো বছরের শাসনের তুলনা করাটা একটু তাড়াহুড়ো হয়ে গেল বলে মনে হয়। নতুন সরকার প্রথম কয়েক মাস সবসময়ই সাধু সাজে, জনগণকে তারা কতটা ভালোবাসে তা প্রমাণ করতে ব্যস্ত সময় কাটায়। আসল রূপ বেরোতে সময় লাগে, ক্ষমতার স্বাদ যত পুরনো হয় খরচের হিসাবও তত রঙিন হতে থাকে।
শেখ হাসিনা কম খেতেন নাকি বেশি খেতেন সেটা তার আশেপাশের মানুষ ছাড়া কারো পক্ষে বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত যে হিসাবের খাতায় যা লেখা থাকে বাস্তবে তার সবটাই পেটে যায় না, কিছুটা পথে হারিয়ে যায়। আর রাজনীতির এই মজার খেলায় আজ যিনি অন্যের প্লেটের হিসাব নিয়ে হাসাহাসি করছেন, কাল হয়তো তার নিজের প্লেটের হিসাব বের করতে কেউ একজন ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে যাবে।
শেখ হাসিনার এক বছরের খাবার খরচই ছিল ৩৫ কোটি টাকা-আমার সংবাদ ডেস্ক
এলাহী কারবার ফারুকীর, নাস্তার বিল লাখ টাকা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আগেই নেয়া হয় ভাইভা-বারতা বাজার
photocard credit: Bongo Wiki
১৩ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জাতির বুঝা লাগবে না । জাতি না বুঝেই সুখে আছে ; বেশি বুঝতে গেলেই বিপদ । গুম , খুন হওয়া লাগে ।
২|
১৩ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪
মাথা পাগলা বলেছেন: অর্থমন্ত্রী মুজিববর্ষের খরচের কথাগুলা বলার সাথে খাবারের আজগুবি খরচের কথা বলে মুজিববর্ষের অপচয়ের ব্যাপারটা হালকা করে ফেলেছেন। দিন শেষে মূল সমস্যার ধারে কাছেও আলোচনা হবে না।
১৩ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মূল সমস্যা কি আগে সেটা জানা থাকা লাগবে ; এরপর সমাধানের কথা ভাবা যাবে ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: নতুন সরকার এলেই পুরাতন সরকারের কাসুন্দি ঘাঁটা শুরু হয়।
...............................................................................................
আমাদের যে চরিত্র বদলায়নি এটা তার প্রমাণ ।
বিদেশীরা আমাদের যে মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে,
এই জাতি আর কতদিন পর বুঝবে ?