| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তাহমিদ রহমান
কবি ও স্বপ্নচারী। শখের বশে কবিতা লেখার প্রয়াস হয়। হয়তো সেগুলা কবিতা হয়ে ওঠে না, হয় অগোছালো শব্দমালা,জীবনের মতোন...
পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।
আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর নয়।
কখনও মনে হয়,
স্থিরতা বলে কিছু নেই।
যে এগোয় না,
সে অদৃশ্য কোনো ঢালের দিকে
নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে।
প্রথমে শুধু পায়ের পাতা জলে দাঁড়ায়।
তখনো মনে হয় — এ আর এমন কী!
তারপর অতি নিঃশব্দে
জল হাঁটার ভাষা কেড়ে নিতে থাকে—
সে এমন ভদ্র যে,
কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে জানে না।
হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছালে
কয়েকজন ফিরে তাকায়।
কেউ ভেবে নেয় এও নিশ্চয়ই একধরনের বিশ্রাম,
কেউ ঠোঁটের কোণে সামান্য বিদ্রূপ রেখে চলে যায়,
কেউ নাম ধরে ডাকে—
যেন নাম উচ্চারণ করলেই
ডুবে যাওয়ার নিয়ম বদলে যেতে পারে।
তারপর জল কোমরের ভাষা শিখে ফেলে।
বুকের ভেতর থেকে একে একে
রঙিন পাখিরা উড়ে যায়।
মানুষ তখনও মানুষই থাকে,
শুধু তার চারপাশে
বাতাসের বদলে শ্যাওলা জন্মাতে থাকে।
এই পৃথিবীর সমস্ত ফুল
একই গন্ধ বহন করে না।
কোনো বিছানায় তারা রাত্রিকে মধুর বানায়,
আর কোনো বিছানায়
পাপড়ির আড়ালে অপেক্ষা করে কাঁটা।
আমি দেখেছি—
একই ঋতু
কারও কপালে আঁকে বিজয়ের রৌদ্রতিলক,
কারও কাঁধে বসায়
মরচে ধরা গোধূলির শেকল।
তবু আমি চিৎকার করি না।
কারণ ডুবে যাওয়ারও একটি শিষ্টাচার আছে—
সে খুব কম শব্দ করে।
শুধু মাঝে মাঝে
মুখে একটি অকারণ হাসি এসে বসে।
যেন ভেতরের ধ্বংসস্তূপে
এখনও কেউ একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার ভান করছে।
শেষ পর্যন্ত মানুষকে
জল নয়,
নিজের নির্মিত আয়নাই গ্রাস করে।
আর আমি,
ক্রমশ হারিয়ে যেতে যেতে
শিখে ফেলি—
অদৃশ্য হওয়াও
এক ধরনের জীবনযাপন।
(জুলাই ২০২৬) 
©somewhere in net ltd.