নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ একটি কারখানাকে সচল রেখে হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারত, তারই একটি অংশ এখন মানুষকে বেকারত্ব থেকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা যেন এমন এক চক্রে ঢুকে পড়েছি, যেখানে বাঁচতে গিয়ে নিজেদের উৎপাদনশীলতাকেই আরও দুর্বল করে ফেলছি।

বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সংকট কী? এক বাক্যে উত্তর দিতে হলে অনেকেই বলবেন, জ্বালানি সংকট। কিন্তু জ্বালানি সংকট আসলে সমস্যার শুরু, শেষ নয়। আমরা এমন এক যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য বহন করছি, যে যুদ্ধে আমাদের কোনো হাত ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের সংকট একটি জায়গায় থেমে থাকেনি। রাজনীতির সংকট গিয়ে পড়েছে শিল্পে, শিল্পের সংকট কর্মসংস্থানে, কর্মসংস্থানের সংকট মানুষের আয়ে, আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত এসে পড়ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ব্যাংক এবং সরকারের রাজস্বের ওপর।

আওয়ামী লীগ সরকার যতদিন ক্ষমতায় ছিল, আমরা এক ধরনের সংকটের মধ্যে ছিলাম। সরকার পতনের পর সংকট শেষ হয়নি, শুধু তার চেহারা বদলেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সবচেয়ে দ্রুত এবং নির্মম অর্থনৈতিক অভিঘাত পড়েছে কর্মসংস্থানে। বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাতে যারা কাজ করতেন, তাদের একটি অংশ হঠাৎ করেই কাজ হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, এমপি কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কী হয়েছে, তার পাশাপাশি আমরা কি একবার ভেবেছি, সেখানে কাজ করা সাধারণ মানুষগুলোর কী হয়েছে? নারায়ণগঞ্জের গোলাম দস্তগীর গাজীর কারখানার কথাই ধরা যাক। সেখানে লুটপাট করেছে কারা, সেই প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্থানীয় অনেক মানুষও এতে জড়িত ছিল। কারও সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল, কারও ওপর প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ছিল, কারও বহু বছরের ক্ষোভ জমে ছিল।

অনেকের বিশ্বাস ছিল, গাজী অবৈধভাবে সম্পদ তৈরি করেছেন। ফলে তার কারখানার প্রতি স্থানীয় মানুষের কোনো মায়া ছিল না। এখানেই আমরা একটি ভয়ংকর ভুল করে ফেলেছি। একজন ব্যবসায়ী অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন করলে তার সম্পদ অবৈধ হতে পারে, কিন্তু তার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকের চাকরি অবৈধ নয়। মালিক দুর্নীতিবাজ হতে পারেন, কিন্তু কারখানার উৎপাদন অর্থনীতির জন্য মূল্যহীন হয়ে যায় না।

একটি কারখানায় কাঁচামাল আসে, শ্রম ব্যবহার হয়, পণ্য তৈরি হয়, পরিবহন চলে, বাজারে অর্থের প্রবাহ তৈরি হয় এবং অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন হয়। সেই পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়াটি একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ধ্বংস করে দিলে ক্ষতি শুধু ওই ব্যক্তির হয় না, হয় তার ওপর নির্ভরশীল হাজার মানুষের। কারখানা বন্ধ হওয়ার অভিঘাত স্থানীয় দোকান, পরিবহন, বাড়িভাড়া ও ছোট ব্যবসার ওপরও গিয়ে পড়ে।

আমি জুলাই আন্দোলনের সময় এমন একটি এলাকায় থাকতাম, যেখানে একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার পর প্রায় আড়াই হাজার মানুষ কাজ হারিয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল। একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার অর্থ শুধু আড়াই হাজার মানুষের বেতন বন্ধ হওয়া নয়। স্থানীয় বাজারে ক্রেতা কমে যায়, দোকানের বিক্রি কমে যায়, বাড়িভাড়া কমে যায়, পরিবহনের যাত্রী কমে যায়, খাবারের দোকানের আয় কমে যায়। একটি কারখানা বন্ধ হয়, কিন্তু তার ধাক্কা গিয়ে লাগে পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে।

আমাদের নিজেদেরও এলাকায় একটি ছোট বাড়ি আছে, যেটি মূলত ভাড়া দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু মানুষের আয় কমে যাওয়ার পর ভাড়াটিয়া ধরে রাখতে এবং নতুন ভাড়াটিয়া পেতে আমাদেরও ভাড়া কমাতে হয়েছে। গত কয়েক দশকে আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এমন মানুষের হাতে গড়ে উঠেছে, যাদের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থপাচার কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই টাকায় তৈরি কারখানায় আবার হাজার হাজার মানুষ বৈধভাবে চাকরি করেছে।

অর্থাৎ একজন অসৎ মানুষের তৈরি সম্পদও বহু সৎ মানুষের জীবিকার ভিত্তি হয়ে গেছে। এটা একটা ভয়ংকর ট্র্যাপ। একজন দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, তার সম্পদ জব্দ হবে, ব্যাংকের টাকা ফেরত চাওয়া হবে, তাকে জেলে পাঠানো হবে। অবশ্যই হবে। কিন্তু তার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকটির কী হবে? তাই দুর্নীতির বিচার করতে গিয়ে যেন উৎপাদন ব্যবস্থাটাকেই ধ্বংস না করি।

মালিকানা বদলানো যায়, ব্যবস্থাপনা বদলানো যায়, প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়, নতুন বিনিয়োগকারী আনা যায়। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। কারণ একটি কারখানা শুধু মালিকের সম্পদ নয়, সেখানে কাজ করা মানুষের জীবিকার অবকাঠামোও। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট। কারখানা উৎপাদন করতে পারছে না, বিদ্যুৎ নির্ভরযোগ্য নয়, গ্যাস ও জ্বালানির দাম বেশি। ফলে উৎপাদন কমছে।

উৎপাদন কমলে শ্রমিকের আয় কমে, আয় কমলে বাজারে চাহিদা কমে, চাহিদা কমলে ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যবসা দুর্বল হলে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ কমে, বিনিয়োগ কমে এবং কর্মসংস্থান আরও সংকুচিত হয়। কর্মসংস্থান কমলে মানুষ এমন কাজের দিকে যায়, যেখানে প্রবেশের জন্য খুব বেশি পুঁজি, দক্ষতা বা শিক্ষা লাগে না। সেখানেই অটো রিকশা, ছোট ব্যবসা এবং নানা ধরনের অনানুষ্ঠানিক কাজ সামনে আসে।

অটো রিকশা নিঃসন্দেহে বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। একজন শ্রমিক চাকরি হারিয়ে অটো চালাচ্ছেন, একজন বেকার তরুণ অটো চালিয়ে আয় করছেন, একজন স্বল্প আয়ের মানুষ কাজের পাশাপাশি অটো চালাচ্ছেন। তাই সমস্যাটা অটো রিকশা নয়। সমস্যাটা হলো, কেন একজন মানুষের জন্য অটো চালানো সবচেয়ে ভালো অর্থনৈতিক বিকল্প হয়ে উঠছে? ব্যক্তির জন্য এটি কর্মসংস্থান, কিন্তু জাতীয় অর্থনীতির জন্য সব ধরনের কর্মসংস্থান সমান উৎপাদনশীল নয়।

একটি অটো একজন মানুষকে আয় দিতে পারে, কিন্তু একটি উৎপাদনশীল কারখানা একই সঙ্গে শ্রমিকের আয়, কাঁচামালের চাহিদা, পরিবহন, বাজার, রপ্তানি, কর এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। দুটিই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কিন্তু তাদের value addition এক নয়। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অটোচালককে দোষ দেওয়া নয়, বরং এমন অর্থনীতি তৈরি করা যেখানে একজন তরুণের সবচেয়ে ভালো বিকল্প হয় উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে কাজ করা।

এখানেই বিদ্যুতের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেশে যখন বিদ্যুৎ সংকট চলছে এবং লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তখন বিপুল সংখ্যক অটো ও ইজিবাইকও বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। অটোর সংখ্যা বাড়তে থাকলে বিদ্যুতের ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। অটোচালকের কোনো দোষ নেই। তার সামনে যদি কারখানার চাকরি না থাকে, তাহলে সে অটো চালাবে। প্রশ্ন হলো, আমরা কেন এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করতে পারলাম না, যেখানে উৎপাদনশীল কাজই মানুষের সবচেয়ে ভালো বিকল্প হবে?

এর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল informal economy আরেকটি স্তর যোগ করেছে। ফুটপাতের দোকান থেকে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় বাজার থেকে নানা ধরনের সেবা—বিপুল মানুষ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। তারা অর্থনীতির বাইরে নয়, বরং অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ। সমস্যা হলো, তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক হিসাবের মধ্যে পুরোপুরি আসে না। ফলে রাষ্ট্রের পক্ষে এই অর্থনীতির প্রকৃত আকার, উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও নির্ভুলভাবে বোঝা কঠিন।

সমস্যাটা শুধু হিসাবের নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বিভিন্ন ব্যবসা ও কর্মকাণ্ডে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, তার একটি অংশ মিটারবিহীন বা অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। ফলে একদিকে রাষ্ট্র প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা ঠিকভাবে পরিমাপ করতে পারছে না, অন্যদিকে বিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক উৎপাদন কাঠামোর বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে মোট চাহিদার ওপর কোন খাত কতটা চাপ তৈরি করছে, সেটিও সবসময় পরিষ্কার থাকে না।

তবে informal economy-কে সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না । এটি লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের প্রধান অবলম্বন এবং অনেক ক্ষেত্রে অর্থনীতিকে সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আসল সমস্যা হলো, অর্থনীতির এত বড় একটি অংশ যদি অনানুষ্ঠানিক থেকে যায়, তাহলে রাষ্ট্র তার প্রকৃত আকার, বিদ্যুৎ ব্যবহার, উৎপাদন এবং করযোগ্য আয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পায় না। ফলে অর্থনীতি পরিচালনা, বিদ্যুৎ পরিকল্পনা এবং কর আদায়-তিন ক্ষেত্রেই তথ্যের ঘাটতি তৈরি হয়।

ফলে আমরা অনেক সময় জানিই না দেশের informal economy আসলে কত বড়, কোন খাত সংকুচিত হচ্ছে, কোন খাত বাড়ছে এবং কত মানুষ উৎপাদনশীল কাজ ছেড়ে survival economy-তে ঢুকে পড়ছে। এটি শুধু পরিসংখ্যানের সমস্যা নয়, নীতিনির্ধারণের সমস্যাও। কারণ আপনি যদি অর্থনীতির বড় একটি অংশকে সঠিকভাবে দেখতে না পান, তাহলে সেটির জন্য সঠিক নীতিও তৈরি করতে পারবেন না। রাষ্ট্রকে তাই informal economy-কে দমন নয়, বরং ধীরে ধীরে formal কাঠামোর মধ্যে আনার পথ তৈরি করতে হবে।

রাষ্ট্রের কাজ শুধু মানুষকে বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া নয়। রাষ্ট্রের কাজ এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ তার শ্রমকে সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার করতে পারে। মানুষ অটো চালাবে, ছোট ব্যবসা করবে, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করবে-এগুলো অর্থনীতির বাস্তবতা। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি অর্থনীতি তৈরি করা, যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকবে না, উৎপাদন করবে, আয় করবে, কর দেবে এবং অন্যের জন্যও কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এই বিষয় নিয়ে আসলে সরকার কি কর্মপরিকল্পনা করছে সেটাই নির্ধারণ করবে সবার ভবিষ্যত ।


ফটোকার্ড : ইন্টারনেট টুডে ।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: সৈয়দ কুতুব,





আগেপিছে কোনও কিছু না ভেবেই আবেগে ভেসে যাওয়া আমাদের স্বভাবই হলো ক্ষোভের বশে ফ্যাক্টরী-কারখানা, বাস, বানিজ্যিক কিম্বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাঙ্গচুর চালানো নয়তো আগুন দেয়া। কিন্তু একবারও কেউ ভেবে দেখেনা যে এতে শ্রমিকরা কর্ম হারায়, উৎপাদনের হাতিয়ার বন্ধ হযে যায়, অর্থনীতি তার গতি হারায় আর তাতে হাযারো পরিবার সংকটে পড়ে যায়।
একথা ভেবে ঠিকই বলেছেন -একজন ব্যবসায়ী অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন করলে তার সম্পদ অবৈধ হতে পারে, কিন্তু তার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকের চাকরি অবৈধ নয়। মালিক দুর্নীতিবাজ হতে পারেন, কিন্তু কারখানার উৎপাদন অর্থনীতির জন্য মূল্যহীন হয়ে যায় না।
অথচ এটা কেউ ভেবে দেখেনা যে, একটি কারখানায় কাঁচামাল আসে, শ্রম ব্যবহার হয়, পণ্য তৈরি হয়, পরিবহন চলে, বাজারে অর্থের প্রবাহ তৈরি হয় এবং অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন হয়। সেই পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়াটি একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ধ্বংস করে দিলে ক্ষতি শুধু ওই ব্যক্তির হয় না, হয় তার ওপর নির্ভরশীল হাজার মানুষের। কারখানা বন্ধ হওয়ার অভিঘাত স্থানীয় দোকান, পরিবহন, বাড়িভাড়া ও ছোট ব্যবসার ওপরও গিয়ে পড়ে।

সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে সুন্দর লেখা।

২| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:০৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




দেশের প্রথম সারির শুধু প্রথম সারি কেন প্রতিষ্ঠিত কোন সংবাদ মাধ্যমেই দেশের বড় কোন সমস্যার সংবাদ
দেখতে পাওয়া যায়না , কারণ তারা এখন যুগের সেরা সংবাদ প্রকাশের স্বাধিনতায় ভোগছে !!!! এটা জুলাই
বিপ্লবের গরুত্বপুর্ণ সুফল স্বীকার করতেই হবে!!!

এখন সংবাদ পত্র খুজলেই দেখা যায় দেশে গতানুগতিক যে সমস্ত অঘটন ( খুন খারাবী , চুরী ডাতাতি , ধর্ষন )
যা সর্বকালে সব সময়ই দেশের আনাচে কানাচে ঘটত এবং যেগুলি সে সময় সংবাদ পত্রের ভিতরের পাতায়
খুব ছোট আকারে উঠে আসত , সে ধরনের সংবাদই প্রথম পৃষ্ঠা জুরে আছে । এগুলি অবশ্যই সমস্যা এবং
সংবাদপত্রে ঠাই পাবার মতই তাতে কোন দ্বিমত নেই । তবে দেশের মুল প্রকট সমস্যা নিয়ে তথ্যভিত্তিক
ফিচারধর্মী কোন লেখা , সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় দেখতে পাওয়া যায়না ।

তাই দেশের মুল সম্যাগুলি জানার জন্য ইন্টার নেট যুক্ত সংবাদ মাধ্যমগুলিতে বিচরণ করা ছাড়া বিকল্প খুব
বেশী একটা নাই । সেকারণেই বেশ অখ্যাত বিডিটুডে নামক একটি মাধ্যমে
( সুত্র: https://bdtoday.net/national/55765) ডু মেরে যা দেখা যা তা নীচে তুলে দিলাম ।
“বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। রাজধানীতেই রয়েছে ৮ লাখের ওপরে। চট্টগ্রামে রয়েছে ৩ লাখ। এসব পরিবহন
প্রধান সড়কের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এজন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুব কৌশলে
এ ব্যবসার জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসা হয়েছে।“

এই সংবাদ ভাষ্যের তথ্য যদি কিছুটা প্রকৃত অবস্থার কাছাকাছি হয় তাহলে দেখা যাবে দেশে নিম্মোক্ত জনসংখ্যা
সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে এই পরিবহন খাতে:
ব্যটারী চালিত অটো রিক্সা ৬০ লাখ
প্রতি রিক্সায় দিনে রাতে ২/৩ শিফটে প্রায় ২/৩ জন রিক্সা চালক নিয়োজিত খাকার সম্ভাবনা ।
প্রতি রিক্সায় ২ জন নিয়োজিত ধরলে সংখাটি দাঁড়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ X ২ জন = ১২০ লক্ষ তথা ১কোটি ২০ লক্ষ
রিক্সা চালক
আবার রিক্সা প্রতি ৩ জন ধরলে দাঁড়ায় ৬০ লক্ষ X ৩ জন = ১৮০ লক্ষ তথা ১কোটি ৮০ লক্ষ রিক্সা চালক

যাহোক কমটাই ধরি তথা ১কোটি ২০ লক্ষ রিক্সা চালকের সাথে এই পেশায় সহযোগী অন্নান্য় পেশা যথা মালিক,
গ্যারেজ কর্মী, চার্জিং স্টেশন কর্মী, ব্যাটারি মেরামতকারী, মোটর ও কন্ট্রোলার মেকানিক, যন্ত্রাংশ বিক্রেতা, ছোট
উদ্যোক্তা, স্থানীয় পরিবহন-সেবা প্রদানকারী প্রভৃতিকে হিসাবে ধরলে এই ব্যটারী চালিত বাহন কর্মটির সাথে
সম্পৃক্ত জনতার সংখা কম করেও ১কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে ।

এখন এই ১কোটি ৩০ লাখের নীজ পরিবারের নির্ভরশীল পরিবার প্রতি ৪/৫ জন ধরা হলে এ কর্ম কান্ডের সরাসরি
উপকারভোগী জনসংখার আকার দাঁদাবে প্রায়
(১কোটি ৩০ লাখ X ৪ জন ধরে ) = ৫কোটি ২০ লাখ যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতিয়াংশ ।

এখন কথা হল জুলাই বিপ্লবের পর দেশ দ্বিতীয় বারের মত স্বাধীন ( তখন অনেকের মুখেই এ কথা শুনা গিয়েছিল )
হওয়ার পর অতি উমসাহিতদের কারণে দেশের প্রতিষ্ঠিত ( এই পোস্টে বলা রূপগঞ্জের দস্তগীরের কারখানার মত )
কল কালকানায় যে পরিমান অভুতপুর্ব উন্নয়ন হয়েছে তাতে বড় কারখানার ভবিষ্যতের দিকে আর সহসা নজর না
দিলেও চলবে .তার পরে গ্যাস ও বিদ্যুত খাতের যে অবস্থা তাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ডাক্তারী পরিভাষায় রোগীর
অবস্থা স্টেবল স্টেবল থাকবে বলেই ধরে নিতে হবে ।

এমতাবস্থায় এই গ্যাস ও বিদ্যুত ঘাটতি সহ বিবিধ ধরনের অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতার মাঝেই এই ব্যটারী চাালিত
অটোরিক্সার এমন দ্রত প্রবৃদ্ধি এদেশ সহ পৃথিবীর কোন দেশ দেখছে বলে আমার মনে হয়না ।

তাই অবস্থা দৃস্টে মনে হয় এমন দ্রুত বিবাশমান (স্বল্প পুজী ও স্বল্প কিংবা কোন পুর্ব দক্ষতা ছাড়াই ) পরিবহন
শিল্পখাতের বিকাশে বাধা না দিয়ে একে আরো দুর্বার গতিতে বাড়তে দিয়ে দেশকে পরিবহন শিল্প জগতে সেরা
আসনে বসিয়ে দেশের বেকার সম্স্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব । এ শিল্পের বিভিন্ন খাতে, উপখাতে সহায়ক খাতে ,
উপজাত খাতে . শিক্ষাখাতে ( বিবিধ ধরনের প্রশিক্ষন ) এখাতের জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থখাতে চিকিতসক , কারগরী
খাতে দেশের সকল টেকনিক্যল পেশার লোক ইত্যাদি বিবিধ খাতের জন্য চাকুরী নিশ্চিত করা যাবে ।
ড,ইউনুস যেমন করে গ্রামীন ব্যাংক মডেলকে পৃথিবীর প্রায় ৪০ টি দেশে রপ্তানী করতে পেরেছিলেন তেমন ব্যটারী
চালিত অটোরিক্সা পরিবহন শিল্প মডেলকে বিশ্বের প্রায় ২০০টিরো বেশী দারিদ্র পিড়িত দেশে দ্রুত বেকারত্ব দুরীকরণ
ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষে রপ্তানী করা যাবে !!!!! শতকরা ৭৫ ভাগ আমদানী নির্ভর পোশাক শিল্পের পোশাক রপ্তানীর
জন্য বিশ্বের গুটি কয়েক ধনী দেশের খাম খেয়ালীর উপর নির্ভর করতে হবে না । শুধু এ অটো রিক্সার কারণে
দেশর সম্ভাব্য পরিবেশ ও স্বাস্থ জুকীর দিকটা ভালভাবে দেখবাল করলেই হবে!!!! আর প্রয়োজন হলে অটো
রিক্সার বদলে দেশের শতকরা ২/৪ ভাগ বিত্তশালী লোকদের দ্রুত গতির গাড়ী বিতারণ করে দিলে ট্রাফিক জাম
বা অন্য সকল অনুযুগের হাত হতে রক্ষা পাওয়া যাবে । এক্সিডেন্টে বেশীর ভাগ মানুষ মারা যায় দ্রুত গতীর
গাড়ীর তলে । রিক্সা চাপায় মারা গেছে সে পরিসংখ্যান খুবই কম বলতে গেলে নাই বললেই চলে । আর গতি
সেতো দ্রুতগতি ধীর গতি মিলিয়ে এখন নাকি গড়ে ধীর গতিরই সমান এবং এর সাথে এখন সকলেই অব্যস্ত
হয়ে গেছেন!!!

কথাগুলি রম্যমুলক হলেও ভেবে দেখার মত বিষয় বটে । দ্রুত গতীর যান বাহনের মালিক ও যাত্রী দেশের
৫/১০ শতাংশ মানুষের ( এই দ্রতগতির হাতেই দেশের বেশীরভাগ মানুষ দুর্ঘটনায় পতিত হয় যদিও দুষ চাপানো
হয় ধীর গতীর বাহনকেই , বায়ু দুষন, জুরে জুরে কান ফাটানো হর্ণ। পে পো বাজীয়ে শব্দ দুষন , দেশের
জ্বালানী সম্পদের সিংহ ভাগ ভোগকারী , তারা টেক্স দেন বটে, তবে যে বস্তুর তরে টেক্স দেন তার জোগান
বেশীটাই বৈদেশিক মুদ্রায় , যার মুল যোগান দেন দেশের পোশাক কর্মী ও প্রবাশী কর্মী বাহিনী ) । তাই ভেবে
দেখার সময় এসেছে দেশের ৫/১০ পারসেন্ট মানুষের কথা বেশী ভাবা হবে নাকি দেশের প্রায় অর্ধেক জনতার
রুটি রোজগার ও স্বার্থের কথা ভাবতে হবে । ব্যটারী চালিত অটোরিক্সার এমন ভয়াবহ বিকাষ পরিস্থিতে ( তা যে
ভাবেই হোক না কেন দেশে সৃস্টি হয়ে গেছে ও বলতে গেলে স্থায়ীত্বের আসনে বসে গেছে ) দেশের নীতি
নির্ধারকদের উচিত হবে একটি ব্যপক জনমত যাচাই এর মাধ্যমে দেশের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি , নিজস্ব সম্পদ ,
মানব সম্পদ ব্যাবহার করে সল্প পুজিতে কারো উপর নির্ভর না হয়ে দেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই ভিত্তির
উপর দাড়াতে সহায়তা করে ।
আপনার প্রস্তাব মত দেশের ইনফরম্যাল খাতকে ফরমাল করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা করতে হবে অচীরেই ।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সংকট কী?
................................................................................
বাস্তবতাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি না করা ।
আমাদের যোগ্যতা, মেধা ও প্রয়োগ কোন লেভেলে আছে, তার
কোন যাচাই, বাছাই ও মূল্যায়ন নাই । ফলে যোগ্যরা অবহেলিত হচ্ছে
টাউটরা অভিজ্ঞদের ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে নিজে ত্রাতা সাজঁছে,
সরকারের চারিদিকে চাটুকারের বলয় তৈরি হচ্ছে, ফলত :
জনগণ ধুঁকে ধুঁকে গরীব থেকে গরীব হচ্ছে ।
..............................................................................................
জণগনের মৌলিক চাহিদার ব্যবস্হা না করে চাটুকারী বক্তব্য ও অণ্যায়কে
পরক্ষো সমর্থন করা কোনটাই সরকারের জন্য মঙ্গলজনক হবেনা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.