নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক ও সহায়ক কর্মীর কর্মসংস্থান এবং শহরের অপ্রতুল গণপরিবহন ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল, অতিরিক্ত যানবাহন, রাস্তার ধারণক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য, প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের ঘাটতি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জিং এবং ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ভাঙা/গলানো/ফেলার মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
অতএব, সমস্যাটিকে কেবল রিকশা থাকবে কি থাকবে না এই দ্বিমাত্রিক প্রশ্নে দেখা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে চারটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন:
(১) বিদ্যুৎ শৃঙ্খলা,
(২) সড়ক ও জননিরাপত্তা,
(৩) শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা,
(৪) ব্যাটারি ও সিসা-দূষণ নিয়ন্ত্রণ।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার, কৃত্রিম উপায়ে বিদ্যুৎ চুরি, মিটার/লাইন কারসাজি এবং এসব অপরাধে সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে শাস্তির বিধান রয়েছে। বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপরাধে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে এবং অপরাধে সহায়তাকারীর ক্ষেত্রেও শাস্তির ব্যবস্থা আছে।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ইতোমধ্যে “ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩” প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ বৈদ্যুতিক যানবাহনকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার নীতিগত ভিত্তি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান।
পরিবেশগত দিক থেকেও নতুন করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপনের তালিকায় লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি প্রস্তুত, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত, আমদানি ও ব্যবহারের বিষয়ে ২০২১ সালের বিধান এবং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসার এমন কোনো মাত্রা জানা নেই যা সম্পূর্ণ নিরাপদ; বিশেষ করে শিশু ও সন্তান ধারণক্ষম বয়সের নারীরা বেশি ঝুঁকিতে। এমনকি তুলনামূলক কম রক্ত-সিসা মাত্রাও শিশুদের বুদ্ধিবিকাশ, আচরণ ও শেখার ওপর বিরূপ প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

সুতরাং প্রস্তাবিত নীতির মূল দর্শন হবে:
অবৈধতা বন্ধ হবে, কিন্তু বৈধ জীবিকা ধ্বংস হবে না;
অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ হবে, কিন্তু প্রয়োজনীয় স্বল্পমূল্যের পরিবহনও বন্ধ হবে না;
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হবে, কিন্তু বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে;
পুরোনো ও অনিরাপদ ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ হবে, কিন্তু বিকল্প জীবিকা ছাড়া শ্রমজীবী মানুষকে হঠাৎ বেকার করা হবে না।

নীতির প্রেক্ষাপট ও সমস্যা

বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ, গণপরিবহনের ঘাটতি এবং স্বল্প আয়ের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজনের কারণে ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।

এর সঙ্গে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে—চালক, মালিক, গ্যারেজ, চার্জিং স্টেশন, ব্যাটারি বিক্রেতা, মেরামতকারী, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, ছোট কারখানা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা এর সঙ্গে যুক্ত।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্যে ঢাকাসহ বড় শহরে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশার কথা বলা হয় ( এখানে ভিজিট করে দেখতে পারেন ব্যাটারি রিকশার দখলে ঢাকা, বিডি নেট টুডে সুত্র https://bdtoday.net/national/55765 )
তবে এসব সংখ্যার অনেকগুলো এখনো একটি সমন্বিত সরকারি নিবন্ধন/জনশুমারির মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি। তাই নীতিনির্ধারণে এগুলোকে প্রাথমিক আনুমানিক হিসাব হিসেবে বিবেচনা করে সরকারিভাবে একটি Vehicle and Livelihood Census পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জীবিকা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
আমরা সকলেই জানি ব্যাটারিচালিত রিকশা খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধু একটি যানবাহন খাত নয়; এটি একটি বৃহৎ শ্রমনির্ভর নগর অর্থনৈতিক চক্র।এর মধ্যে রয়েছে চালক, মালিক, দৈনিক/শিফটভিত্তিক চালক, গ্যারেজ কর্মী, চার্জিং স্টেশন কর্মী, ব্যাটারি মেরামতকারী, মোটর ও কন্ট্রোলার মেকানিক, যন্ত্রাংশ বিক্রেতা, ছোট উদ্যোক্তা, স্থানীয় পরিবহন-সেবা প্রদানকারী।
অর্থনৈতিক হিসাবের একটি উদাহরণ
ধরা যাক, কেবল বিশ্লেষণাত্মক উদ্দেশ্যে:
চালক = ১০ লাখ;
প্রত্যেক চালকের গড় দৈনিক আয় = ৮০০ টাকা; কর্মদিবস = ২৬ দিন।
তাহলে:
১০,০০,০০০ × ৮০০ × ২৬ দিন = ২০৮০ কোটি টাকা/মাস
অর্থাৎ বছরে প্রায় ২৪,৯৬০ কোটি টাকা?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন উপরের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী ১০ লাখ × ৫০০ × ২৬ = ২০৮০ কোটি টাকা/মাস, এবং বছরে প্রায় ২৪৯৬০ কোটি টাকা।
এটি কোনো সরকারি আয়-পরিসংখ্যান নয়; এটি কেবল সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবাহ বোঝানোর একটি scenario estimate।
যদি প্রকৃত চালকসংখ্যা, গড় আয়, কর্মদিবস, শিফট এবং পরিবার-নির্ভরতার তথ্য সরকারি জরিপে পাওয়া যায়, তাহলে এই খাতের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি নির্ভুলভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।

নীতিগত শিক্ষা
সুতরাং কোনো শহরে যানজট বা নিরাপত্তাজনিত কারণে যানসংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলে তা পর্যায়ক্রমে, তথ্যভিত্তিক ও বিকল্প কর্মসংস্থান/পরিবহন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিতভাবে করতে হবে।
হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা দিলে
শ্রমিকের আয় বন্ধ হতে পারে, পরিবারে খাদ্য ও শিক্ষা ব্যয় কমে যেতে পারে, ঋণগ্রস্ত মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন,
যন্ত্রাংশ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অবৈধতা আরও বাড়তে পারে।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ: অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ, পেশার বিরুদ্ধে নয়
ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ একটি বাস্তব সমস্যা হলে তার সমাধান হওয়া উচিত সংযোগ, চার্জিং স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী শনাক্ত করে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার, কৃত্রিম উপায়ে বিদ্যুৎ নেওয়া, মিটার বা লাইনে কারসাজি এবং অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। Electricity Act-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে; এমনকি অপরাধে সহায়তাকারীর জন্যও বিধান রয়েছে।
অতএব নীতিগত অবস্থান হওয়া উচিত:
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের দায়ে অবৈধ সংযোগকারী, সংযোগদাতা, সুবিধাভোগী এবং প্রমাণিত সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ হবে; কিন্তু পুরো পেশাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

করণীয়
১. সব চার্জিং স্টেশনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা।
২. প্রতিটি চার্জিং স্টেশনে পৃথক মিটার/অনুমোদিত সংযোগ।
৩. অনুমোদিত লোড নির্ধারণ।
৪. স্মার্ট/প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের সুযোগ।
৫. নিয়মিত বিদ্যুৎ পরিদর্শন।
৬. অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণে ডেটা-ভিত্তিক অভিযান।
৭. একই স্থানে বারবার অবৈধ সংযোগ হলে কঠোর ব্যবস্থা।
৮. অবৈধ সংযোগদাতা সিন্ডিকেট শনাক্ত করা।
৯. বিদ্যুৎ কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা।
১০. বৈধ চার্জিং স্টেশনের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ লাইসেন্স ব্যবস্থা।

অবৈধ চার্জিং বন্ধ এবং বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা দুইটি একসঙ্গে। শুধু অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ চার্জিং বন্ধ করা হলে চার্জিংয়ের চাহিদা থেকেই যাবে এবং নতুন অবৈধ কেন্দ্র তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

তাই নীতির দুটি সমান্তরাল স্তম্ভ থাকতে হবে:
ক. Enforcement
অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, জরিমানা ও মামল, পুনরায় সংযোগে কঠোর ব্যবস্থা, অবৈধ তার/লাইন অপসারণ।
খ. Legalization
নির্দিষ্ট এলাকায় অনুমোদিত চার্জিং জোন, নির্ধারিত বিদ্যুৎ ট্যারিফ, পৃথক মিটার, অগ্নিনিরাপত্তা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, ব্যাটারি নিরাপত্তা, ব্যবহৃত ব্যাটারি সংগ্রহের ব্যবস্থা।
এভাবে illegal charging” থেকে regulated charging এ রূপান্তর করা সম্ভব।

যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা
ব্যাটারিচালিত যানকে ঘিরে দ্বিতীয় বড় সমস্যা হলো রাস্তার ধারণক্ষমতা, গতির পার্থক্য এবং যানবাহনের মিশ্রণ।
বিশেষ করে প্রধান সড়কে ধীরগতির যান, বিপরীতমুখী চলাচল, অনিয়ন্ত্রিত ইউটার্ন, ফুটপাত/রাস্তার অংশ দখল, যাত্রী ওঠানামায় বিশৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণহীন চালক, অতিরিক্ত যাত্রী, আলো/ব্রেক/স্টিয়ারিংয়ের ত্রুটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সুতরাং সমাধান হওয়া উচিত Vehicle Management, শুধু Vehicle Eliminationনয়।

প্রস্তাব হল
প্রধান মহাসড়ক ও দ্রুতগতির করিডোরে সীমিত/নিষিদ্ধ চলাচল,নির্ধারিত স্থানীয় রুট,আবাসিক ও বাজারভিত্তিক ফিডার রুট,নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড,নির্দিষ্ট পার্কিং,নির্ধারিত ইউটার্ন,গতি সীমা,রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা,প্রতিফলক/লাইট,বাধ্যতামূলক ব্রেক ও স্টিয়ারিং পরীক্ষা,পর্যায়ক্রমে ফিটনেস সনদ,চালক প্রশিক্ষণ ও পরিচয়ভিত্তিক নিবন্ধন।

সরকার ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক মোটরযানের নিবন্ধন ও চলাচল বিষয়ে ২০২৩ সালের নীতিমালা প্রকাশ করেছে। তাই নতুন ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামোকেই বাস্তবায়নযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা উচিত।

সিসা-দূষণ ও ব্যবহৃত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা

সমস্যাটিকে শুধু রিকশা সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না
সিসা-দূষণের মূল ঝুঁকি হলো ব্যাটারির life-cycle management।
ব্যাটারি তৈরি/আমদানি থেকে শুরু করে
ব্যবহার → মেরামত → সংগ্রহ → ভাঙা → সিসা পুনরুদ্ধার → বর্জ্য নিষ্পত্তি
প্রতিটি পর্যায় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসা মানুষের জন্য বিষাক্ত এবং এমন কোনো নিরাপদ মাত্রা জানা নেই যা ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের ওপর এর বিশেষ ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে।

অপরিকল্পিত বা অনিরাপদ ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সিসার ধুলা ও ধোঁয়ার মাধ্যমে শ্রমিক ও আশপাশের জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

সরকারি নীতির বিদ্যমান ভিত্তি
পরিবেশ অধিদপ্তরের সরকারি নথিতে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি প্রস্তুত, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত, আমদানি ও ব্যবহার সংক্রান্ত ২০২১ সালের বিধান;
ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য/ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
অতএব নতুন নীতি প্রণয়নের সময় সম্পূর্ণ নতুন আইন তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান বিধানগুলোর কার্যকর প্রয়োগ, সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

জাতীয় ব্যাটারি লাইফ-সাইকেল ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা
প্রতিটি ব্যাটারির জন্য একটি Battery Identification and Traceability System চালু করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
প্রবাহটি হবে:
উৎপাদক/আমদানিকারক → ব্যাটারি আইডি → যানবাহন → মালিক → প্রতিস্থাপন → সংগ্রহ → পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ
প্রতিটি ব্যাটারিতে QR/ডিজিটাল আইডি থাকতে পারে।
এতে জানা যাবে কে তৈরি/আমদানি করেছে, কখন বাজারে এসেছে, কোন গাড়িতে ব্যবহৃত হয়েছে, কতবার পরিবর্তন হয়েছে
কোথায় ফেরত দেওয়া হয়েছে, কোন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হয়েছে।

নতুন ব্যাটারি নিলে পুরোনো ব্যাটারি ফেরত বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা
প্রতিটি নতুন লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি বিক্রির সঙ্গে Take-back System চালু করা উচিত।
নীতিটি হবে New Battery = Old Battery Return
অর্থাৎ নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় পুরোনো ব্যাটারি ফেরত নেওয়া হবে।
পুরোনো ব্যাটারি খোলা জায়গায় ফেলা যাবে না, সাধারণ স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীর কাছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দেওয়া যাবে না
বসতবাড়িতে ভাঙা যাবে না, শিশুদের কর্মে ব্যবহার করা যাবে না, খোলা জায়গায় গলানো যাবে না।

অনুমোদিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং কেন্দ্র
সরকার অনুমোদিত ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে:
আবদ্ধ dismantling area, অ্যাসিড সংগ্রহ ব্যবস্থা, ধুলা নিয়ন্ত্রণ,পর্যাপ্ত ventilation,emission control ,wastewater treatment
hazardous waste storage, অগ্নিনিরাপত্তা, কর্মীদের PPE, নিয়মিত পরিবেশগত মনিটরিং, বর্জ্য/অবশিষ্টাংশের নিরাপদ নিষ্পত্তি।
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিত:
খোলা আকাশে সিসা গলানো, বসতবাড়িতে ব্যাটারি ভাঙা, রাস্তার পাশে ব্যাটারি কাটাকাটি, মাটি/ড্রেনে অ্যাসিড ফেলা,
শিশুদের দিয়ে ব্যাটারি ভাঙা, সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া সিসা পুনরুদ্ধার।

Lead Hotspot Mapping
সরকারের উচিত একটি জাতীয় Lead Pollution Hotspot Map তৈরি করা।
প্রাথমিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা যেতে পারে ব্যাটারি মেরামত এলাকা, পুরোনো ব্যাটারি বাজার, স্ক্র্যাপ মার্কেট, রিসাইক্লিং এলাকা
চার্জিং ক্লাস্টার, ব্যাটারি কারখানা, আশপাশের মাটি, রাস্তার ধুলা, ড্রেন, পানি, নিকটবর্তী স্কুল ও বসতবাড়ি।
বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীর বসবাসের এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শিশু ও শ্রমিক সুরক্ষা
সিসা-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের রিসাইক্লিং কাজে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী Blood Lead Level পরীক্ষা,
স্কুলভিত্তিক স্বাস্থ্য নজরদারি, কর্মস্থলে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, কর্মস্থল ও খাবার/বিশ্রাম এলাকা পৃথক করা, দূষিত পোশাক বাড়িতে নিয়ে না যাওয়ার ব্যবস্থা,
প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও exposure cessation ব্যবস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষভাবে শিশুদের সিসা-দূষণের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং exposure-এর উৎস শনাক্ত ও বন্ধ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

লেড-অ্যাসিড থেকে লিথিয়াম: বাস্তবসম্মত রূপান্তর
দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ব্যাটারি প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।
তবে শুধু লিথিয়াম ব্যাটারি বাধ্যতামূলক ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।
প্রথমে মূল্যায়ন করতে হবে ক্রয়মূল্য, আয়ুষ্কাল, চার্জিং অবকাঠামো, অগ্নিনিরাপত্তা, তাপ ব্যবস্থাপনা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, কাঁচামাল, স্থানীয় মেরামত সক্ষমতা,রিদ্র চালকের বহনক্ষমতা,জীবনচক্র পরিবেশগত প্রভাব।

অতএব প্রস্তাব হল Technology-neutral but safety-first policy
অর্থাৎ যে ব্যাটারি প্রযুক্তি নিরাপদ, অর্থনৈতিকভাবে টেকসই, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত সেটিকে ধাপে ধাপে উৎসাহিত করা

পরিবেশ ও পরিবহন নীতিকে একীভূত করা

ব্যাটারি রিকশা ব্যবস্থাপনা আলাদা আলাদা দপ্তরের বিচ্ছিন্ন কাজ হওয়া উচিত নয়।
একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন:
বিষয় প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা
যান নিবন্ধন BRTA
রুট/চলাচল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ
বিদ্যুৎ সংযোগ বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা
বিদ্যুৎ চুরি বিদ্যুৎ বিভাগ/বিতরণ সংস্থা/আইন প্রয়োগকারী সংস্থা
পরিবেশ ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর
ব্যাটারি আমদানি/উৎপাদন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা
রিসাইক্লিং পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
শ্রমিক স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য ও শ্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
দুর্ঘটনা তথ্য BRTA/পুলিশ/স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান
নগর পরিকল্পনা সিটি কর্পোরেশন/স্থানীয় সরকার

তথ্যভিত্তিক জাতীয় জরিপ
সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সমন্বিত National Battery Three-Wheeler Census।
জরিপে অন্তর্ভুক্ত হবে
মোট যানসংখ্যা , কোন শহরে কত, মালিক বনাম ভাড়াচালক, চালকের সংখ্যা, গড় আয়, পরিবারে নির্ভরশীল সদস্য, ব্যাটারির ধরন, গড় ব্যাটারি আয়ুষ্কাল,চার্জিং পদ্ধতি
বৈধ/অবৈধ সংযোগ, দুর্ঘটনার হার, ব্যাটারি বর্জ্যের পরিমাণ, রিসাইক্লিং চ্যানেল, কর্মসংস্থান, নারী/প্রতিবন্ধী/অতি-দরিদ্র পরিবারের ওপর প্রভাব।
এই তথ্য ছাড়া বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদমূলক সিদ্ধান্ত নিলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফল অনুমাননির্ভর হয়ে যাবে।

পাঁচ বছরের বাস্তবায়ন রোডম্যাপ
প্রথম বছর: তথ্য ও নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি


জাতীয় যানবাহন জরিপ,চালক ও মালিক নিবন্ধন,চার্জিং স্টেশন ম্যাপিং,বিদ্যুৎ সংযোগ অডিট,Lead Hotspot Mapping,ব্যাটারি আমদানি/উৎপাদন তালিকা,রিসাইক্লার তালিকা।

দ্বিতীয় বছর: লাইসেন্স ও আনুষ্ঠানিকীকরণ

সব চার্জিং স্টেশন লাইসেন্সের আওতায়,পৃথক বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ,ব্যাটারি বিক্রেতা নিবন্ধন,রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স,Battery ID চালু,চালক প্রশিক্ষণ।

তৃতীয় বছর: নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি মান
নতুন যানবাহনের নিরাপত্তা মান,ব্রেক/লাইট/স্টিয়ারিং বাধ্যতামূলক পরীক্ষা,অননুমোদিত ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ,নির্ধারিত রুট বাস্তবায়ন,দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানভিত্তিক ব্যবস্থা,
ব্যবহৃত ব্যাটারি Take-back বাধ্যতামূলক।

চতুর্থ বছর: উচ্চঝুঁকির পুরোনো যান/ব্যাটারি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার

অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ যান শনাক্ত,পুরোনো ব্যাটারি পরিবর্তনে সহায়তা,নিম্নআয়ের চালকদের জন্য স্বল্পসুদের ঋণ/সহায়তা,নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তর।

পঞ্চম বছর: সমন্বিত পূর্ণ বাস্তবায়ন
বৈধ নিবন্ধিত যানবৈধ চার্জিংপূর্ণ ব্যাটারি ট্রেসিং,আনুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং,নিরাপদ রুট,বার্ষিক পরিবেশ ও সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন।

অর্থায়ন ও প্রণোদনা
ব্যবস্থাটি সফল করতে শাস্তি এবং প্রণোদনা দুইটি একসঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে।

প্রস্তাবিত প্রণোদনা
বৈধ চার্জিং স্টেশনে সহজ লাইসেন্স, নিরাপদ ব্যাটারি কিনতে স্বল্পসুদের ঋণ, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটারি ফেরত দিলে incentive
নিরাপদ প্রযুক্তির জন্য কর/শুল্ক সুবিধা বিবেচনা, নিবন্ধিত চালকের জন্য প্রশিক্ষণ, বৈধ যান মালিকের জন্য সহজ ফিটনেস নবায়ন,
নিরাপদ রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
বিদ্যুৎ চুরি,অবৈধ চার্জিং,মিটার কারসাজি,খোলা জায়গায় সিসা গলানো,অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং,শিশু শ্রম,গুরুতর যানবাহন নিরাপত্তা লঙ্ঘন।

নীতির মূল দর্শন
এই নীতির লক্ষ্য ব্যাটারিচালিত রিকশাকে অন্ধভাবে বৈধতা দেওয়া নয়; আবার সব রিকশাকে একসঙ্গে উচ্ছেদ করাও নয়।
লক্ষ্য হবে:
অপরাধীর শাস্তি হোক, পেশার নয়।
অবৈধ সংযোগ বন্ধ হোক, বৈধ জীবিকা নয়।
অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ হোক, প্রয়োজনীয় স্থানীয় পরিবহন নয়।
অনিরাপদ ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা বন্ধ হোক, প্রযুক্তিগত রূপান্তর হোক।
এই নীতির চারটি স্তম্ভ:
১. Electricity Discipline
২. Road Safety
৩. Livelihood Protection
৪. Lead & Battery Safety

সরকারের কাছে ২০টি চূড়ান্ত দাবি

১. জাতীয় ব্যাটারি-রিকশা জরিপ
ঢাকা ও সব বড় শহরে ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান, চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের সরকারি জরিপ করতে হবে।
২. অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান
পুরো রিকশা খাতকে দায়ী না করে অবৈধ সংযোগ, মিটার কারসাজি ও অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. বৈধ চার্জিং স্টেশন চালু
নির্ধারিত এলাকায় সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈধ চার্জিং জোন গড়ে তুলতে হবে।
৪. পৃথক মিটার ও লোড ব্যবস্থাপনা
প্রতিটি অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনে পৃথক মিটার ও অনুমোদিত লোড নিশ্চিত করতে হবে।
৫. চার্জিং স্টেশন ডিজিটাল রেজিস্ট্রি
প্রতিটি চার্জিং স্টেশনের অবস্থান, মালিক, মিটার, অনুমোদিত লোড ও লাইসেন্সের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে রাখতে হবে।
৬. রিকশা নিবন্ধন ও পরিচয় ব্যবস্থা
প্রতিটি বৈধ যানকে ইউনিক নম্বর/QR কোডের মাধ্যমে নিবন্ধিত করতে হবে।
৭. চালক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং
নিরাপদ চালনা, ট্রাফিক আইন, যাত্রী নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে।
৮. নির্ধারিত রুট ব্যবস্থা
প্রধান সড়ক, আবাসিক রাস্তা, বাজার ও স্থানীয় ফিডার রুটের জন্য আলাদা চলাচল নীতি করতে হবে।
৯. দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানভিত্তিক ব্যবস্থা
শুধু যানবাহন নিষিদ্ধ না করে দুর্ঘটনার Black Spot চিহ্নিত করে গতি, রুট, সিগন্যাল ও রাস্তার নকশা সংশোধন করতে হবে।
১০. বাধ্যতামূলক ফিটনেস
ব্রেক, লাইট, স্টিয়ারিং, টায়ার, বৈদ্যুতিক সুরক্ষা ও ব্যাটারি নিরাপত্তার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১১. জাতীয় Battery Life-Cycle Management System
উৎপাদন/আমদানি থেকে রিসাইক্লিং পর্যন্ত প্রতিটি ব্যাটারির তথ্য ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করতে হবে।
১২. Battery Passport/QR চালু
প্রতিটি ব্যাটারির প্রস্তুতকারক/আমদানিকারক, উৎপাদনের তারিখ, ধরন, ধারণক্ষমতা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত অবস্থার তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
১৩. New Battery = Old Battery Return
নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় পুরোনো ব্যাটারি ফেরত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১৪. অবৈধ ব্যাটারি ভাঙা ও খোলা জায়গায় সিসা গলানো বন্ধ
বসতবাড়ি, রাস্তা বা অননুমোদিত স্থানে ব্যাটারি ভাঙা, অ্যাসিড ফেলা এবং সিসা গলানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
১৫. অনুমোদিত রিসাইক্লিং কেন্দ্র
আধুনিক পরিবেশ ও শ্রমিক-নিরাপত্তা মানসম্পন্ন অনুমোদিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
১৬. Lead Hotspot Mapping
ব্যাটারি কারখানা, রিসাইক্লিং এলাকা, স্ক্র্যাপ বাজার ও সংশ্লিষ্ট বসতিতে মাটি, ধুলা, পানি ও প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের সিসা পরীক্ষা করে জাতীয় মানচিত্র তৈরি করতে হবে।
১৭. শিশু সুরক্ষা
ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও সিসা-ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু শ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের স্বাস্থ্য নজরদারি চালু করতে হবে।
১৮. নিরাপদ প্রযুক্তিতে ধাপে ধাপে রূপান্তর
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির বিকল্প নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারে গবেষণা, পরীক্ষামূলক প্রকল্প, অর্থায়ন ও প্রণোদনা দিতে হবে; তবে বাস্তবসম্মত প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ছাড়া হঠাৎ কোনো প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা যাবে না।
১৯. শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষা
যানসংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলে পর্যায়ক্রমে করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত চালক/মালিকের জন্য বিকল্প রুট, প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদের ঋণ বা অন্যান্য পুনর্বাসন ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
২০. সমন্বিত জাতীয় ব্যাটারি-রিকশা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ/টাস্কফোর্স

বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, BRTA, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন এবং স্বাস্থ্য/শ্রম সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামো গঠন করতে হবে এবং প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

উপসংহার
ব্যাটারিচালিত রিকশা বাংলাদেশের নগর বাস্তবতায় একটি উদ্ভূত অর্থনৈতিক ও পরিবহন ব্যবস্থা। এতে যেমন গুরুতর সমস্যা আছে, তেমনি রয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের স্বল্পমূল্যের যাতায়াতের প্রয়োজন।
তাই নীতিগতভাবে দুই ধরনের চরম অবস্থানই পরিহার করা প্রয়োজন
একদিকে: সব রিকশা অবৈধ, তাই সব বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে: জীবিকার জন্য চলছে, তাই কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই।
উভয় অবস্থানই বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য অধিক কার্যকর পথ হলো:
Regulate, Formalize, Safeguard and Gradually Transform.
অর্থাৎ
নিয়ন্ত্রণ করতে হবে → বৈধ করতে হবে → নিরাপদ করতে হবে → পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে হবে → ধাপে ধাপে উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ আইন অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
বিদ্যমান পরিবহন নীতিমালায় বৈদ্যুতিক মোটরযানের নিবন্ধন ও চলাচলের কাঠামো রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিধানও রয়েছে।
এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী সিসা-দূষণ প্রতিরোধে উৎস শনাক্ত, exposure পরিমাপ এবং দূষণের উৎস বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অতএব নতুন করে একটি বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি গ্রহণের সময় এসেছে:
ব্যাটারি রিকশা ব্যবস্থাপনা = পরিবহন + বিদ্যুৎ + পরিবেশ + জনস্বাস্থ্য + জীবিকা
সরকারের নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত
অপরাধীর শাস্তি হোক, পেশার নয়;
অবৈধ সংযোগ বন্ধ হোক, বৈধ জীবিকা নয়;
অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ হোক, প্রয়োজনীয় স্থানীয় পরিবহন নয়;
সিসা-দূষণ বন্ধ হোক, নিরাপদ প্রযুক্তির রূপান্তর হোক।

এই সমন্বিত পদ্ধতিই একদিকে বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করতে পারে, শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা রক্ষা করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সিসা ও ব্যাটারি-বর্জ্যজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে পারে।

—সমাপ্ত—

তথ্যগত সতর্কীকরণ
এই নীতিপত্রে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা, চালকের সংখ্যা, পরিবার-নির্ভরতা, দৈনিক আয় বা সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের যেসব পরিমাণগত উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নীতিগত বিশ্লেষণের জন্য আনুমানিক/Scenario Estimate হিসেবে বিবেচ্য। চূড়ান্ত সরকারি নীতি গ্রহণের আগে BRTA, সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সমন্বিত জরিপের মাধ্যমে এগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।

ধৈর্য ধরে এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল, অতিরিক্ত যানবাহন, রাস্তার ধারণক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য,
প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের ঘাটতি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জিং এবং ব্যবহৃত
সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ভাঙা/গলানো/ফেলার মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

.............................................................................................................................................
এসব একদিনে তৈরী হয় নাই, বিভিন্ন সরকারের সময় অনৈতিক সুবিধা প্রদান ও ঢাকার রাজনীতিতে বড়
একটি অংশ রিক্সাওয়ালাদের ভোট বাক্স , অনেক অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে ।
এদেশে যতসব অন্যায় কাজ, ধীরে ধীরে বাড়িয়াছে দেনা , শোধিত হইবে ঋণ ।

ষৃন

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সমস্যাগুলো আজ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি এগুলো বছরের পর বছর ধরে নেওয়া অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত এবং
অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাবাদী সিদ্ধান্তেরই ফল। বিভিন্ন সরকারের আমলে জনস্বার্থের চেয়ে তাৎক্ষণিক
রাজনৈতিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিস্তারকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট
রুট, লাইসেন্সিং, প্রশিক্ষণ, ফিটনেস পরীক্ষা ও নিরাপদ চার্জিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়নি।

ঢাকার বিপুলসংখ্যক নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার বাস্তবতা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু জীবিকার
অধিকার মানেই নগর ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিধি অমান্য করার
অধিকার নয়। একইভাবে কোনো একটি ভোটব্যাংককে খুশি রাখার রাজনৈতিক সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে
সেই জনগোষ্ঠীকেই অনিরাপদ ও অনিশ্চিত ব্যবস্থার মধ্যে আটকে রাখে।

আজ তাই প্রশ্ন শুধু ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকবে কি থাকবে না—প্রশ্ন হলো, কে দায়িত্ব নেবে এই দীর্ঘদিনের
অব্যবস্থাপনার? অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল, অতিরিক্ত যানবাহন, অদক্ষ চালক,
ফিটনেসের অভাব, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবেশবিধ্বংসী
ব্যবস্থাপনা এসবকে আর রাজনৈতিক প্রশ্রয় দিয়ে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।

সমাধানও হতে হবে বাস্তবসম্মত ও মানবিক: নিবন্ধন, নির্ধারিত রুট, চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স, যানবাহনের
ফিটনেস, বৈধ ও নিরাপদ চার্জিং ব্যবস্থা, ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ধাপে ধাপে নগর পরিবহন
পরিকল্পনার সঙ্গে একীভূতকরণ। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত চালকদের বিকল্প জীবিকা ও ন্যায্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও
থাকতে হবে।

কারণ, বছরের পর বছর অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে একসময় তার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্য পুরো
সমাজকেই দিতে হয়।

এদেশে যতসব অন্যায় কাজ
ধীরে ধীরে বাড়িয়াছে দেনা
শোধিত হইবে ঋণ।

এখন প্রয়োজন কাউকে দোষারোপ করে থেমে থাকা নয়; দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় স্বীকার
করে, জনস্বার্থে একটি কঠোর কিন্তু মানবিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়ন করা।

শুভেচ্ছা রইল

২| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: বিদ্যুৎ এর অপব্যবহার এবং এতদসংক্রান্ত অপরাধের ব্যাপারে বিদ্যমান আইনেই শুধু অপরাধীর নয়, অপরাধে সহায়তাকারীরও শাস্তির বিধান রয়েছে, এ তথ্যটা আমার জানা ছিল না। এত চমৎকার একটা আইন বলবৎ থাকা সত্ত্বেও সরকার এর সুফল ঘরে তুলতে পারছে না সর্ষের মধ্যে ভুত কেবল লুকিয়ে থাকা নয়, দাপিয়ে বেড়ানোর কারণে।

ব্যাটারি চালিত যান ও বাহনের চলাচল ও চার্জিং সংক্রান্ত প্রস্তাবিত নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে যে চারটি নীতিমালার উল্লেখ করেছেন, সেগুলো জনবান্ধব এবং গ্রহণ ও প্রয়োগযোগ্য। এ বিষয়ে সকল ধরণের অপরাধ নিরোধকল্পে যে ১০টি 'করণীয়' দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই সাথে সমান্তরালভাবে এনফোর্সমেন্ট ও লিগালাইজেশন এর উপর আলোকপাত করেছেন, তার যথাযথ বাস্তবায়ন অবশ্যই সুফল বয়ে আনতে পারে, যদি সকল লুপহোল বন্ধ করে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সঠিক জনবল দ্বারা অভিযান চালানো হয়।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার মূল্যবান মন্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো আইন ও বিধানের ঘাটতির চেয়ে
আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়া। অপরাধী যেমন আইনের আওতায় আসবে,
তেমনি অপরাধ সংঘটনে সহায়তাকারী, প্রশ্রয়দাতা কিংবা দায়িত্বে অবহেলাকারীকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে
হবে। তা না হলে যত ভালো আইনই প্রণয়ন করা হোক, তার সুফল জনগণ পাবে না।

‘সর্ষের মধ্যে ভূত’ কথাটিও যথার্থ। তবে সেই ভূতকে শুধু চিহ্নিত করলেই হবে না আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে
তাকে সরিষা থেকে বের করে আনতে হবে। প্রয়োগকারী সংস্থার ভেতরে অনিয়ম, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের
হস্তক্ষেপ এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা বন্ধ করা না গেলে কোনো নীতিমালাই কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাই নীতি, আইন, এনফোর্সমেন্ট ও লিগালাইজেশন এই চারটি বিষয়কে
সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। একদিকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে বৈধ
যানবাহন ও চালকদের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত নিবন্ধন ও অনুমোদন ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে সাধারণ
চালক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন, আবার অনিয়মকারীদের জন্যও আইনের ফাঁক ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে না।

উল্লেখ্য ১০টি ‘করণীয়’ বিষয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সঠিক জনবল, নিরপেক্ষ এনফোর্সমেন্ট, প্রযুক্তিনির্ভর
নজরদারি, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। বিশেষ করে প্রতিটি লুপহোল বন্ধ করে এমন একটি
ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে অপরাধ করে পার পাওয়ার চেয়ে আইন মেনে চলাই হবে সহজ ও লাভজনক।

শেষ পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কাউকে জীবিকা থেকে বঞ্চিত করা নয়; বরং নিরাপদ সড়ক, বৈধ কর্মসংস্থান,
সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা, নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং পরিবেশ সুরক্ষা এই সবগুলোকে একসঙ্গে নিশ্চিত করা।

ভালো আইন তখনই সত্যিকার অর্থে ভালো আইন হয়ে ওঠে, যখন তার প্রয়োগে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের
জন্য আলাদা দরজা খোলা থাকে।

আপনার মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: একটা ভিসিয়াস সাইকেলের মাঝে পড়ে গেছে বাংলাদেশ । কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অটোরিকশা বাড়ছে । অটোরিকশা বেড়ে যাওয়ার ফলে ২/৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত বেশি খরচ বেড়েছে কিন্তু অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার রাজস্ব আদায় করতে পারছে না । এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণ কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা অর্ডার কমে গিয়েছে । উৎপাদনে দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ছে ।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



এই পোস্টের বিষয়ে আলোচনায় আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসলে আমরা যে সমস্যাটির মুখোমুখি হচ্ছি,
সেটি সত্যিই একটি ‘ভিসিয়াস সাইকেল’ বা দুষ্টচক্র এবং এর একটি সমস্যা অন্যটিকে আরও গভীর করে তুলছে।

শিল্পকারখানায় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমলে মানুষের আয় কমে যায়; তখন অনেকেই জীবিকার প্রয়োজনে
অটোরিকশা বা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এসব যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে এবং বিদ্যুতের
ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আবার যদি সেই বিদ্যুৎ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সরকার
একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ বহন করছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলে উৎপাদন ব্যয় ও সময়
দুটোই বাড়ে, অর্ডার কমে যেতে পারে, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত আরও
কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না বরং সংকুচিত হয়। ফলে আবার নতুন মানুষ বিকল্প জীবিকার সন্ধানে অটোরিকশার দিকে
যেতে বাধ্য হন। এভাবেই একটি সমস্যা আরেকটি সমস্যাকে জন্ম দিয়ে দুষ্টচক্রটিকে আরও শক্তিশালী করছে।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি অটোরিকশা চালক বা নিম্নআয়ের মানুষ সমস্যার মূল কারণ নন;
তাঁরা অনেকাংশে সমস্যার ফলাফল ও এর শিকার। মূল সমস্যা হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কর্মসংস্থানের সংকট,
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অবৈধ সংযোগ, যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত
পরিকল্পনার ঘাটতি।

তাই শুধু অটোরিকশা বন্ধ করে বা চালকদের উচ্ছেদ করে এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন একটি সমন্বিত
জাতীয় কর্মপরিকল্পনা যেখানে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবৈধ সংযোগ বন্ধ, নিরাপদ ও বৈধ চার্জিং অবকাঠামো, অটোরিকশার নিবন্ধন ও রুট ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং একই সঙ্গে শিল্প ও কর্মসংস্থান
পুনরুজ্জীবন সবগুলো বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিদ্যুৎ কোথায়, কীভাবে এবং কোন কাজে ব্যবহার হচ্ছে তার হিসাব ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত
করা। বিদ্যুৎ একটি সীমিত ও মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। তাই উৎপাদনশীল শিল্পের প্রয়োজন এবং অনিয়ন্ত্রিত
ব্যবহার দুটিকে একইভাবে দেখলে চলবে না।

দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে সমস্যার দৃশ্যমান শেষ প্রান্তে ব্যবস্থা না নিয়ে মূল কারণগুলোতে একযোগে আঘাত করতে হবে।
শিল্প সচল হবে → কর্মসংস্থান বাড়বে → মানুষের আয় বাড়বে → অনিশ্চিত জীবিকার ওপর নির্ভরতা কমবে →
বিদ্যুতের অপব্যবহার ও অবৈধ চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে → রাজস্ব বাড়বে → বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোয়
পুনঃবিনিয়োগ সম্ভব হবে → আবার শিল্প ও অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

অর্থাৎ সমাধানটি বিচ্ছিন্ন কোনো একটি খাতে নয় শিল্প, বিদ্যুৎ, পরিবহন, কর্মসংস্থান ও নগর ব্যবস্থাপনাকে
একসঙ্গে বিবেচনা করেই এই ভিসিয়াস সাইকেল ভাঙতে হবে।

আপনার অত্যন্ত সময়োপযোগী মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

৪| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:১৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,





দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম , রাস্তা-ঘাট-মাঠ জুড়ে তিন-চাকার যানবাহন চলায় অব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তান্ডব, অনিরাপদ সড়ক, জনদুর্ভোগ ইত্যাদির সমস্যার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ের সমাধান নিয়ে কষ্টসাধ্য এবং বিশদ একটি আলোচনা তুলে ধরে, সমন্বিত নীতিগত যে সব প্রস্তাব রেখেছেন তার তুলনা নেই। ধন্যবাদ আপনাকে।

সরকারের কাছে যে ২০টি দাবী তুলে ধরেছেন তা সরকারের কাছে পৌঁছুবে কিনা জানিনে, যদি পৌঁছায়ও তবে সহ-ব্লগার খায়রুল আহসান এর পর্যবেক্ষনের সাথে একমত হয়েই বলি - বিদ্যুৎ এর অপব্যবহার এবং এতদসংক্রান্ত অপরাধের ব্যাপারে বিদ্যমান একটা আইন বলবৎ থাকা সত্ত্বেও সর্ষের মধ্যে ভুত কেবল লুকিয়ে থাকা নয়, দাপিয়ে বেড়ানোর কারণে সরকার এর সুফল ঘরে তুলতে পারবে কি ?????

শুভেচ্ছান্তে।



০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার অত্যন্ত আন্তরিক, চিন্তাশীল ও উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্যের জন্য হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে
আপনি যে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভালো আইন ও নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও তার সুফল জনগণের
কাছে পৌঁছায় না কেন এটিই আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্যাটারিচালিত রিকশা, তিন-চাকার যানবাহন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা এবং
সিসা-দূষণ বিষয়গুলোকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখলে টেকসই সমাধান পাওয়া কঠিন। এগুলো পরস্পরের
সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই আমি মনে করি, নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈধতা, জীবিকা সুরক্ষা, নিরাপদ প্রযুক্তি এবং
কঠোর আইন প্রয়োগ সবগুলোকে একই নীতির আওতায় আনাই হবে বাস্তবসম্মত পথ।

আপনি এবং সহ-ব্লগার খায়রুল আহসান যে ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’-এর প্রসঙ্গটি এনেছেন, সেটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আমাদের দেশে অনেক সময় আইন প্রণয়নই যেন কাজের শেষ ধাপ হয়ে দাঁড়ায়; অথচ প্রকৃত কাজ শুরু হয় আইন
প্রয়োগের সময়। যদি প্রয়োগকারী ব্যবস্থার মধ্যেই অনিয়ম, যোগসাজশ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রভাবশালী
মহলের হস্তক্ষেপ থাকে, তাহলে যত কঠোর আইনই থাকুক, তার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবেই।

তাই আমার দৃষ্টিতে সমাধানের মূল চাবিকাঠি শুধু নতুন আইন নয় বিদ্যমান আইনকে নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করার
সক্ষমতা ও সদিচ্ছা তৈরি করা। কে অপরাধী, কে সহায়তাকারী এবং কে দায়িত্বে থেকেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রয়োজনে
প্রত্যেকের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগ যেন নিরীহ চালক বা নিম্নআয়ের মানুষের
ওপর নির্বিচার হয়রানির হাতিয়ার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার একটি কথার সঙ্গে বিশেষভাবে একমত প্রস্তাবিত ২০টি দাবির সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক
সদিচ্ছা, দক্ষ জনবল, স্বচ্ছ প্রশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং কার্যকর এনফোর্সমেন্টের ওপর। নীতিমালা হবে
জনবান্ধব, কিন্তু প্রয়োগ হবে দৃঢ়; বৈধ জীবিকার সুযোগ থাকবে, কিন্তু অবৈধতার জন্য কোনো ছাড় থাকবে না এই
ভারসাম্যটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আর সরকারের কাছে দাবিগুলো পৌঁছাবে কি না এটি অবশ্যই একটি বাস্তব প্রশ্ন। তবে নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ,
পাঠক ও সচেতন মানুষের দায়িত্ব হলো সমস্যাগুলোকে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে সামনে তুলে ধরা এবং একটি
বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ দেখানো। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এসব প্রস্তাবের অন্তত কিছু অংশও গুরুত্ব
দিয়ে বিবেচনা করেন, তাহলেই এই আলোচনা সার্থক হবে।

আমার বিশ্বাস, কোনো সমস্যাকে শুধু নিষিদ্ধ করে নয়, সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে, সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকা ও
বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে এবং একই সঙ্গে আইনকে কঠোর ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করেই টেকসই সমাধান সম্ভব।

আপনার মতো সচেতন গুণী পাঠকের মূল্যবান মতামত ও উৎসাহই এ ধরনের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনা চালিয়ে
যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

৫| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: অটো বন্ধ ছাড়া কোন বিকল্প কাজে আসবেনা।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনার মন্তব্যের সঙ্গে আংশিকভাবে একমত। বর্তমান অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেখানে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ
অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধ করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু শুধু একদিনে সব অটো বন্ধ করে দিলেই সমস্যার স্থায়ী
সমাধান হবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও পরিবার-পরিজনের জীবনধারণের প্রশ্ন। হঠাৎ করে
সব অটো বন্ধ করে দিলে একদিকে সড়ক ও বিদ্যুতের কিছু সমস্যা কমতে পারে, কিন্তু অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষ
রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়বেন। ফলে একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট
তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

আমার মতে, ‘অটো বন্ধ’ নয় ‘অনিয়ন্ত্রিত অটো বন্ধ’ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। প্রথমে সব যানবাহনকে নিবন্ধন
ও শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে; নির্দিষ্ট রুট ও এলাকায় চলাচলের অনুমতি দিতে হবে; চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স
নিশ্চিত করতে হবে; ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন বাদ দিতে হবে এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে চার্জিং সম্পূর্ণ
বন্ধ করতে হবে।

এর পাশাপাশি শহরের প্রধান সড়ক থেকে ধাপে ধাপে অপ্রয়োজনীয় তিন-চাকার যান সরিয়ে বিকল্প গণপরিবহন ও
অনুমোদিত রুটভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যাঁরা এই পেশার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য পর্যায়ক্রমে
বিকল্প কর্মসংস্থান, পুনর্বাসন বা বৈধ পরিবহন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখতে হবে।

বিশেষ করে অবৈধ চার্জিং, বিদ্যুৎ চুরি, অনিবন্ধিত যান, নকল/নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর
ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডকে অর্থনৈতিক
বা প্রশাসনিকভাবে সহায়তা করে, তাদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

অতএব, আমি মনে করি সমাধানের সূত্রটি হবেঅবৈধ অটো বন্ধ + বৈধ অটো নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধন + নির্দিষ্ট রুট +
নিরাপদ চার্জিং + চালকের প্রশিক্ষণ + বিকল্প গণপরিবহন + জীবিকা সুরক্ষা + কঠোর ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ।

এভাবে মানুষের জীবিকা রক্ষা করেও সড়ক, বিদ্যুৎ ও পরিবেশের ওপর অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চাপ কমানো সম্ভব।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ‘অটো বন্ধ করা’ নয়; বরং একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, বৈধ ও টেকসই নগর পরিবহন
ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

আপনার সংক্ষিপ্ত মন্তব্যটি তাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে কীভাবে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধ করা
যায়, অথচ অটোচালকের জীবিকার পথটিও সম্পূর্ণ বন্ধ না করে একটি সুশৃঙ্খল বিকল্প তৈরি করা যায়। আমার মনে
হয়, টেকসই সমাধান এভাবে্ই আসতে পারে।

শুভেচ্ছা রইল

৬| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




আপনি সকল সময়েই আমার কাছে একজন শ্রদ্ধেয় গুণী পাঠক, আপনার পোস্টে আপনি যখন নিজস্ব চিন্তা,
বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের চমৎকার প্রকাশ ঘটান, তখন আপনার সেই লেখাগুলো পড়তে আমাদেরও ভালো লাগে
এবং অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়। তাই আমার পোস্টে এসে আপনার সেই মূল্যবান বিচার-বিশ্লেষণের সামান্য
অংশটুকুও যদি রেখে যান, তাহলে সেটি আমার জন্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আনন্দ ও প্রেরণার বিষয় হবে।

আপনি প্রায়ই এসে শুধু “পড়লাম” লিখে আপনার উপস্থিতির জানান দেনএর মধ্যেও আন্তরিকতা আছে, সময় দিয়ে
পোস্টটি পড়েছেন, সেটিই বা কম কী! :) তবে বিনীতভাবে একটি অনুরোধ রাখি পরবর্তী সময়ে সম্ভব হলে শুধু
“পড়লাম” না লিখে, পোস্টটি পড়ে আপনার কাছে কেমন লাগল, কোন বক্তব্যটি যুক্তিসঙ্গত মনে হলো, কোথায়
দ্বিমত আছে, কোন জায়গাটি আরও তথ্য বা ব্যাখ্যা দাবি করে, কিংবা কোথায় আমার লেখার দুর্বলতা রয়ে গেছে
সেটুকু যদি দু-একটি বাক্যে জানিয়ে যান, তাহলে আপনার মন্তব্যটি আমার জন্য আরও মূল্যবান হয়ে উঠবে।

কারণ একজন লেখকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু প্রশংসা নয়; একজন মনোযোগী পাঠকের সৎ ও গঠনমূলক মূল্যায়ন।
প্রশংসা আমাকে উৎসাহ দেয়, আর গঠনমূলক সমালোচনা আমাকে সংশোধন ও পরিশীলিত হতে সাহায্য করে।
কোথায় আমি ভালো বলেছি এবং কোথায় আরও ভালো বলা সম্ভব ছিল এ দুটোই জানা আমার লেখার মান উন্নয়নের
জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আর একটি বিষয়ও মনে রাখা ভালো একটি পোস্টের নিচে পাঠক-পাঠিকার মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্যগুলো অনেক সময়
মূল লেখার চেয়েও বেশি শিক্ষণীয় হয়ে ওঠে। একজনের মন্তব্যে নতুন তথ্য আসে, অন্যজনের প্রতিমন্তব্যে ভিন্ন
দৃষ্টিভঙ্গি যোগ হয়; কোথাও দ্বিমত তৈরি হয়, আবার যুক্তির মাধ্যমে সেই দ্বিমতেরও সুন্দর সমাধান পাওয়া যায়।
এভাবেই একটি পোস্ট একক লেখার গণ্ডি পেরিয়ে একটি ছোট্ট জ্ঞান-আলোচনায় পরিণত হতে পারে।

তাই আমার বিনীত আহ্বান শুধু ‘পড়লাম’ নয়, ‘পড়ে কী বুঝলাম, কী ভাবলাম এবং কীভাবে মূল্যায়ন করলাম’
তার সামান্য ছাপও রেখে যান। আপনার একটি সৎ মন্তব্য হয়তো শুধু আমাকেই সমৃদ্ধ করবে না; পরবর্তীতে
যাঁরা মন্তব্যগুলো পড়বেন, তাঁরাও সেখান থেকে নতুন কিছু ভাবার, শেখার কিংবা ভিন্নভাবে বিষয়টিকে দেখার
সুযোগ পাবেন।

আপনার মতো গুণী পাঠকের একটি প্রশংসা আমাকে উৎসাহিত করবে, একটি সংশোধন আমাকে শিখাবে, আর
একটি যুক্তিসম্মত দ্বিমত আমাকে আরও ভালোভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।

তাই পরেরবার এসে শুধু “পড়লাম” না লিখে, সম্ভব হলে “পড়ে আমার মনে হলো...” দিয়ে দু-চারটি কথা লিখে
যাবেন এই প্রত্যাশা রইল। :)

পাঠকের উপস্থিতি আমাকে আনন্দ দেয়; কিন্তু পাঠকের মূল্যায়ন আমাকে এগিয়ে দেয়। এই দৃষ্টিকোন হতে
আমি চাঁদগাজী ওরফে ওমর খৈয়াম এর মন্তব্যকে বেশ গুরুত্ব দেই ( যদিও উনার সরাসরি কোন পোস্টে মন্তব্য
দেয়ার ক্ষমতা এখন নেই তাই নীজের পোস্টে খু্বই সংক্ষেপে তীর্যক কটাক্ষপুর্ণ ভাষাতে উনার মতামত তুলে
ধরেন, সকলের আব স্বাধিনতায় আমি বিশ্বাসী , আমার গায়ের চামরা এতটাই নরম নয় যে কারো কন্টকাপুর্ণ
মন্তব্যে আমার চামড়া ফোটো হয়ে যাবে , বরং সে রকম মন্তব্য থেকে সুধাটুকু আমি পান করতে জানি ,তাই আমার
লেখা ভাল না লাগলেও যে প্রকরনেই আমার লেখার উপর নির্ধিধায় মন্তব্য করতে পারেন )

আপনার আন্তরিক পাঠ ও মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।

৭| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, টো টো, টমটম এই আপদ যে কোনো মূল্যে বন্ধ করা দরকার, প্রতিদিন কি পরিমাণ এক্সিডেন্ট করছে তা হিসাব ছাড়া। হয়তো, বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বেশি এক্সিডেন্ট হচ্ছে - ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, টো টো, টমটম দ্বারা। আর এই আপদ চার্জ কেরতে যেই বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে তাও হিসাব ছাড়া। - আমাদের দেশে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা এখন একটি অভিশাপের নাম।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সুপ্রিয় ঠাকুর মাহমুদ ভাই ,
আসসালামু আলাইকুম ,
আপনার মন্তব্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি সত্যিই হয়তবা এই অটো এখন দেশের জন্য একটি অভিশাপ ,
তবে এই অভিশাপের সাথে ইতোমধ্যেই পরোক্ষ ও প্রতক্ষ্য ভাবে উপকারভোগী জনসংখা দেশের মোট জন
সংখার প্রায় এক তৃতীয়াংশে পৌঁছে গেছে । দয়া করে এই জনগুরুত্বপুর্ণ পোষ্টটি দয়া করে একটু কষ্ট করে
মনযোগ দিয়ে পুরাটি পাঠ করুন , সাথে এখানে থাকা কয়েকটি মুল্যবান মন্তব্য প্রতি মন্তব্য পাঠ করুন ।
দেখতে পাবেন কোন পরিপ্রেক্ষিতে বেংগে্র ছাতার চেয়েও দ্রুত গতিতে এই ব্যটারী চালিত অটোরিক্সার প্রবৃদ্ধি
ঘটেছে এই দেশে ।

নীচে উল্লেখিত সুত্র মারফত জানা গেল “বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন,
‘বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। রাজধানীতেই রয়েছে ৮ লাখের
ওপরে। চট্টগ্রামে রয়েছে ৩ লাখ। এসব পরিবহন প্রধান সড়কের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এজন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা
প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুব কৌশলে এ ব্যবসার জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসা হয়েছে।“
সুত্র: https://bdtoday.net/national/55765

এই সংবাদ ভাষ্যের তথ্য যদি কিছুটা প্রকৃত অবস্থার কাছাকাছি হয় তাহলে দেখা যাবে দেশে নিম্মোক্ত জনসংখ্যা
সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে এই পরিবহন খাতে:
ব্যটারী চালিত অটো রিক্সা ৬০ লাখ
প্রতি রিক্সায় দিনে রাতে ২/৩ শিফটে প্রায় ২/৩ জন রিক্সা চালক নিয়োজিত খাকার সম্ভাবনা ।
প্রতি রিক্সায় ২ জন নিয়োজিত ধরলে সংখাটি দাঁড়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ X ২ জন = ১২০ লক্ষ তথা ১কোটি ২০ লক্ষ
রিক্সা চালক
আবার রিক্সা প্রতি ৩ জন ধরলে দাঁড়ায় ৬০ লক্ষ X ৩ জন = ১৮০ লক্ষ তথা ১কোটি ৮০ লক্ষ রিক্সা চালক

যাহোক, কমটাই ধরি তথা ১কোটি ২০ লক্ষ রিক্সা চালকের সাথে এই পেশায় সহযোগী অন্নান্য় পেশা যথা মালিক,
গ্যারেজ কর্মী, চার্জিং স্টেশন কর্মী, ব্যাটারি মেরামতকারী, মোটর ও কন্ট্রোলার মেকানিক, যন্ত্রাংশ বিক্রেতা, ছোট
উদ্যোক্তা, স্থানীয় পরিবহন-সেবা প্রদানকারী প্রভৃতিকে হিসাবে ধরলে এই ব্যটারী চালিত বাহন কর্মটির সাথে
সম্পৃক্ত জনতার সংখা কম করেও ১কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে ।

এখন এই ১কোটি ৩০ লাখের নীজ পরিবারের নির্ভরশীল পরিবার প্রতি ৪/৫ জন ধরা হলে এ কর্ম কান্ডের সরাসরি
উপকারভোগী জনসংখার আকার দাঁদাবে প্রায়
(১কোটি ৩০ লাখ X ৪ জন ধরে ) = ৫কোটি ২০ লাখ যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতিয়াংশ ।
অর্থাত এই ব্যটারী চালিত অটোরিক্সার সাথে বর্তমানে যে কোন উপায়েই হোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের মোট
প্রায় এক তৃতিয়াংশ জনসংখ্যা উপকারভোগী হয়ে গেছে ।
এ পরিসখ্যানটিকে মাথায় রেখে এবার আসি দেশের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান এর আলোচনায় ।
বাংলাদেশের Road Safety Foundation (RSF)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে
দেশে মোট ৭,৫৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৩৫৯ জন নিহত এবং ১৬,৪৭৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটর
সাইকেল দুর্ঘটনা ছিল ৩,০২৯টি, অর্থাৎ মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৯.৯৩%। এসব মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়
২,৬৭১ জন নিহত, যা দেশের মোট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ৩৬.২৯%।
সুত্র : The Bussiness Standard 10 January, 2026 :
Road accidents rise 60% in 5 years, deaths up 36%, injuries 123%: RSF
At: Click This Link

সূচক মোটরসাইকেল
২০২৫ সালে দুর্ঘটনা ৩,০২৯টি
মোট সড়ক দুর্ঘটনার অংশ ৩৯.৯৩%
নিহত ২,৬৭১ জন
মোট সড়ক মৃত্যুর অংশ ৩৬.২৯%
গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু প্রায় ৭.৩ জন
অর্থাৎ, বর্তমান উপলব্ধ পূর্ণ-বছরের জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোটরসাইকেলই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি
প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহন। ২০২৪ সালেও একই চিত্র ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়
২,৬০৯ জন নিহত হয়েছিলেন, যা মোট সড়ক মৃত্যুর ৩৫.৭৬%।

ঢাকা মহানগরীর ২০২৩–২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে JICA-র সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়,
ট্রাক সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, আর বাস ও তিন-চাকার যানবাহনের প্রতি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির
হারও অত্যন্ত বেশি।
আর ঢাকায় ২০২৫ সালের RSF তথ্য অনুযায়ী দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে:
ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান/পিকআপ/ট্যাংকার/ময়লার গাড়ি — ৩৫.১৪%
বাস — ২৪.৮৭%
বাস/ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান/পিকআপ/ট্যাংকার/ময়লারগাড়ি যৌথভাবে( ৩৫.১৪%+২৪.৮%)= ৫৯.৯৪ তথা প্রায় ৬০%
মোটরসাইকেল — ২১.৫৩%
তিন-চাকার যান — ১১.৮২%
আমার মূল্যায়ন
যদি প্রশ্নটি হয় “বাংলাদেশে কোন যানবাহনে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে?”উত্তর হলো মোটরসাইকেল।
আর যদি সবচেয়ে কোন যানবাহণে সবচেয়ে বেশী দুর্ঘটনা হয় তাহলে উত্তর হবে বাস/ ট্রাক /কাভার্ড ভ্যান/
পিকআপ/ট্যাংকার/ময়লার গাড়ি যৌথ ভাবে প্রায় ৬০%

আর যদি প্রশ্ন করা হয় কোন যানবানে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয় তাহলে উত্তর হবে তিন চাকার যান যার মধ্যে
ব্যটারী চালিত অটো রিক্সাও রয়েছে যা প্রায় ১২% ।

এখানে অবশ্য তথ্যের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, RSF-এর জাতীয় পরিসংখ্যান মূলত সংবাদপত্র, অনলাইন সংবাদ
মাধ্যম, টেলিভিশন ও নিজস্ব উৎস থেকে সংগৃহীত; তাই এগুলোকে সরকারি পুলিশ/BRTA-এর সম্পূর্ণ প্রশাসনিক
ডেটাবেসের সমতুল্য ধরা উচিত নয়। BRTA-ও নিয়মিত দুর্ঘটনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আর আপনি তো এক
সময় পুলিশ বাহিনীর একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিলেন , তাই আপনি সহজেই অনুসন্ধান করে দেখতে
পারেন দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য কে বেশী দায়ী । এটাও স্বীকার্য যে অনেক সময় বড়দের দায় কমানোর জন্য
ছোট এর উপর দায় চাপানে অনেক সহজ বিধায় বলা হয়, হঠাত করে একটি রিক্সা সামনে চলে আসায় গতি
কমাতে না পারায় দ্রুতগতির যানবাহনে দুর্ঘটনা ঘটেছে । ধনী মালিকের বাস ট্রাক দায় মুক্ত হয়ে গেল ।
কেও বলেনা সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন শক্ত হলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রিত হতো । কিন্তু কেওতো ব্যর্থতার জন্য দায়ী
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থাকে শাস্তি দেয়া বা বিলুপ্ত করার জন্য বলছেনা

এখন দেশের সার্বিক কর্মসংস্থানে বেশী অবদানকারী ও দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে কম দায়ী ( মোট দুর্ঘটনার মাত্র
১২% এর জন্য পরিসংখ্যান গত ভাবে দায়ী ) অটোরিক্সাকে বিলুপ্ত করবেন নাকি সবচেয়ে বেশী দুর্ঘটনার জন্য
দায়ী বাস/ ট্রাক /কাভার্ড ভ্যান/পিকআপ/ট্যাংকার/ময়লার গাড়ি যারা যৌথ ভাবে ৬০% দায়ী তাদেরকে
উচ্ছেদের কথা ভাববেন । বাস্তব বিভিন্ন দৃষ্টিকোন হতে দেশের সার্বিক প্রয়োজনে বাস/ ট্রাক /কাভার্ড ভ্যান/পিকআপ
/ট্যাংকার/ময়লার গাড়ীর প্রয়োজন রয়েছে। তাই প্রয়োজন এখন দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রন করে একটি টেকসই ভাররসাম্য
মুলক ব্যবস্থা কায়েমের । এর মধ্যে কারো কোন ক্ষতি না করে সবচেয়ে কম প্রয়াসে কম অর্থব্যয়ে যা করা যায়
তা হল সড়কে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনের জন্য নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার দক্ষতা ও জবাবদিহীতা বাড়ানো । এই সহজ কাজটি
না করে দরিত্র নিরিহ ( এখন আবশ্য তারা আর নিরিহ নয় নীজেরা নিজ বিপদে সৃঘবদ্ধ হয় যায় ) অটো রিক্সা
চালকদেরকে দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবা বিষয়টির প্রতি সময় ক্ষেপনের অযুহাত হয়ে উঠতে পারে ,
এর মাঝে স্বার্থান্বেসী মহলের কুটচালে দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতিয়াংশ বছর না ঘুরতেও হয়তবা দুই
তৃতীযাংশে গিয়ে পৌঁছিবে এই ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা পরিবহন শিল্প খাতে । তাই বিষয়টিকে শুধু এক তরফা
ভাবে না ভেবে দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও ভবিষ্যত ট্রেন্ডের কথা মাথায় রেখে একটি ভারসাম্যমুলক
দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার বিষয় বিবেচনা করে দেখতে পারেন । দয়া করে সময় নিয়ে কষ্ট করে আমার পোস্টটি আবার
একটু পাঠ করুন ।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.