| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ডঃ এম এ আলী
সাধারণ পাঠক ও লেখক

বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক ও সহায়ক কর্মীর কর্মসংস্থান এবং শহরের অপ্রতুল গণপরিবহন ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল, অতিরিক্ত যানবাহন, রাস্তার ধারণক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য, প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের ঘাটতি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জিং এবং ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ভাঙা/গলানো/ফেলার মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
অতএব, সমস্যাটিকে কেবল রিকশা থাকবে কি থাকবে না এই দ্বিমাত্রিক প্রশ্নে দেখা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে চারটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন:
(১) বিদ্যুৎ শৃঙ্খলা,
(২) সড়ক ও জননিরাপত্তা,
(৩) শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা,
(৪) ব্যাটারি ও সিসা-দূষণ নিয়ন্ত্রণ।
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার, কৃত্রিম উপায়ে বিদ্যুৎ চুরি, মিটার/লাইন কারসাজি এবং এসব অপরাধে সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে শাস্তির বিধান রয়েছে। বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অপরাধে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে এবং অপরাধে সহায়তাকারীর ক্ষেত্রেও শাস্তির ব্যবস্থা আছে।
অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ইতোমধ্যে “ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩” প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ বৈদ্যুতিক যানবাহনকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার নীতিগত ভিত্তি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান।
পরিবেশগত দিক থেকেও নতুন করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপনের তালিকায় লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি প্রস্তুত, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত, আমদানি ও ব্যবহারের বিষয়ে ২০২১ সালের বিধান এবং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসার এমন কোনো মাত্রা জানা নেই যা সম্পূর্ণ নিরাপদ; বিশেষ করে শিশু ও সন্তান ধারণক্ষম বয়সের নারীরা বেশি ঝুঁকিতে। এমনকি তুলনামূলক কম রক্ত-সিসা মাত্রাও শিশুদের বুদ্ধিবিকাশ, আচরণ ও শেখার ওপর বিরূপ প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
সুতরাং প্রস্তাবিত নীতির মূল দর্শন হবে:
অবৈধতা বন্ধ হবে, কিন্তু বৈধ জীবিকা ধ্বংস হবে না;
অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ হবে, কিন্তু প্রয়োজনীয় স্বল্পমূল্যের পরিবহনও বন্ধ হবে না;
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হবে, কিন্তু বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে;
পুরোনো ও অনিরাপদ ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ হবে, কিন্তু বিকল্প জীবিকা ছাড়া শ্রমজীবী মানুষকে হঠাৎ বেকার করা হবে না।
নীতির প্রেক্ষাপট ও সমস্যা
বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ণ, গণপরিবহনের ঘাটতি এবং স্বল্প আয়ের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজনের কারণে ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।
এর সঙ্গে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে—চালক, মালিক, গ্যারেজ, চার্জিং স্টেশন, ব্যাটারি বিক্রেতা, মেরামতকারী, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, ছোট কারখানা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা এর সঙ্গে যুক্ত।
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্যে ঢাকাসহ বড় শহরে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশার কথা বলা হয় ( এখানে ভিজিট করে দেখতে পারেন ব্যাটারি রিকশার দখলে ঢাকা, বিডি নেট টুডে সুত্র https://bdtoday.net/national/55765 )
তবে এসব সংখ্যার অনেকগুলো এখনো একটি সমন্বিত সরকারি নিবন্ধন/জনশুমারির মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি। তাই নীতিনির্ধারণে এগুলোকে প্রাথমিক আনুমানিক হিসাব হিসেবে বিবেচনা করে সরকারিভাবে একটি Vehicle and Livelihood Census পরিচালনা করা প্রয়োজন।
জীবিকা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
আমরা সকলেই জানি ব্যাটারিচালিত রিকশা খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধু একটি যানবাহন খাত নয়; এটি একটি বৃহৎ শ্রমনির্ভর নগর অর্থনৈতিক চক্র।এর মধ্যে রয়েছে চালক, মালিক, দৈনিক/শিফটভিত্তিক চালক, গ্যারেজ কর্মী, চার্জিং স্টেশন কর্মী, ব্যাটারি মেরামতকারী, মোটর ও কন্ট্রোলার মেকানিক, যন্ত্রাংশ বিক্রেতা, ছোট উদ্যোক্তা, স্থানীয় পরিবহন-সেবা প্রদানকারী।
অর্থনৈতিক হিসাবের একটি উদাহরণ
ধরা যাক, কেবল বিশ্লেষণাত্মক উদ্দেশ্যে:
চালক = ১০ লাখ;
প্রত্যেক চালকের গড় দৈনিক আয় = ৮০০ টাকা; কর্মদিবস = ২৬ দিন।
তাহলে:
১০,০০,০০০ × ৮০০ × ২৬ দিন = ২০৮০ কোটি টাকা/মাস
অর্থাৎ বছরে প্রায় ২৪,৯৬০ কোটি টাকা?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন উপরের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী ১০ লাখ × ৫০০ × ২৬ = ২০৮০ কোটি টাকা/মাস, এবং বছরে প্রায় ২৪৯৬০ কোটি টাকা।
এটি কোনো সরকারি আয়-পরিসংখ্যান নয়; এটি কেবল সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবাহ বোঝানোর একটি scenario estimate।
যদি প্রকৃত চালকসংখ্যা, গড় আয়, কর্মদিবস, শিফট এবং পরিবার-নির্ভরতার তথ্য সরকারি জরিপে পাওয়া যায়, তাহলে এই খাতের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি নির্ভুলভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
নীতিগত শিক্ষা
সুতরাং কোনো শহরে যানজট বা নিরাপত্তাজনিত কারণে যানসংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলে তা পর্যায়ক্রমে, তথ্যভিত্তিক ও বিকল্প কর্মসংস্থান/পরিবহন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিতভাবে করতে হবে।
হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা দিলে
শ্রমিকের আয় বন্ধ হতে পারে, পরিবারে খাদ্য ও শিক্ষা ব্যয় কমে যেতে পারে, ঋণগ্রস্ত মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন,
যন্ত্রাংশ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অবৈধতা আরও বাড়তে পারে।
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ: অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ, পেশার বিরুদ্ধে নয়
ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ একটি বাস্তব সমস্যা হলে তার সমাধান হওয়া উচিত সংযোগ, চার্জিং স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী শনাক্ত করে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার, কৃত্রিম উপায়ে বিদ্যুৎ নেওয়া, মিটার বা লাইনে কারসাজি এবং অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। Electricity Act-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে; এমনকি অপরাধে সহায়তাকারীর জন্যও বিধান রয়েছে।
অতএব নীতিগত অবস্থান হওয়া উচিত:
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের দায়ে অবৈধ সংযোগকারী, সংযোগদাতা, সুবিধাভোগী এবং প্রমাণিত সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ হবে; কিন্তু পুরো পেশাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
করণীয়
১. সব চার্জিং স্টেশনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা।
২. প্রতিটি চার্জিং স্টেশনে পৃথক মিটার/অনুমোদিত সংযোগ।
৩. অনুমোদিত লোড নির্ধারণ।
৪. স্মার্ট/প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের সুযোগ।
৫. নিয়মিত বিদ্যুৎ পরিদর্শন।
৬. অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণে ডেটা-ভিত্তিক অভিযান।
৭. একই স্থানে বারবার অবৈধ সংযোগ হলে কঠোর ব্যবস্থা।
৮. অবৈধ সংযোগদাতা সিন্ডিকেট শনাক্ত করা।
৯. বিদ্যুৎ কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা।
১০. বৈধ চার্জিং স্টেশনের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ লাইসেন্স ব্যবস্থা।
অবৈধ চার্জিং বন্ধ এবং বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা দুইটি একসঙ্গে। শুধু অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ চার্জিং বন্ধ করা হলে চার্জিংয়ের চাহিদা থেকেই যাবে এবং নতুন অবৈধ কেন্দ্র তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
তাই নীতির দুটি সমান্তরাল স্তম্ভ থাকতে হবে:
ক. Enforcement
অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, জরিমানা ও মামল, পুনরায় সংযোগে কঠোর ব্যবস্থা, অবৈধ তার/লাইন অপসারণ।
খ. Legalization
নির্দিষ্ট এলাকায় অনুমোদিত চার্জিং জোন, নির্ধারিত বিদ্যুৎ ট্যারিফ, পৃথক মিটার, অগ্নিনিরাপত্তা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, ব্যাটারি নিরাপত্তা, ব্যবহৃত ব্যাটারি সংগ্রহের ব্যবস্থা।
এভাবে illegal charging” থেকে regulated charging এ রূপান্তর করা সম্ভব।
যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা
ব্যাটারিচালিত যানকে ঘিরে দ্বিতীয় বড় সমস্যা হলো রাস্তার ধারণক্ষমতা, গতির পার্থক্য এবং যানবাহনের মিশ্রণ।
বিশেষ করে প্রধান সড়কে ধীরগতির যান, বিপরীতমুখী চলাচল, অনিয়ন্ত্রিত ইউটার্ন, ফুটপাত/রাস্তার অংশ দখল, যাত্রী ওঠানামায় বিশৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণহীন চালক, অতিরিক্ত যাত্রী, আলো/ব্রেক/স্টিয়ারিংয়ের ত্রুটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সুতরাং সমাধান হওয়া উচিত Vehicle Management, শুধু Vehicle Eliminationনয়।
প্রস্তাব হল
প্রধান মহাসড়ক ও দ্রুতগতির করিডোরে সীমিত/নিষিদ্ধ চলাচল,নির্ধারিত স্থানীয় রুট,আবাসিক ও বাজারভিত্তিক ফিডার রুট,নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড,নির্দিষ্ট পার্কিং,নির্ধারিত ইউটার্ন,গতি সীমা,রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা,প্রতিফলক/লাইট,বাধ্যতামূলক ব্রেক ও স্টিয়ারিং পরীক্ষা,পর্যায়ক্রমে ফিটনেস সনদ,চালক প্রশিক্ষণ ও পরিচয়ভিত্তিক নিবন্ধন।
সরকার ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক মোটরযানের নিবন্ধন ও চলাচল বিষয়ে ২০২৩ সালের নীতিমালা প্রকাশ করেছে। তাই নতুন ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামোকেই বাস্তবায়নযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা উচিত।
সিসা-দূষণ ও ব্যবহৃত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা
সমস্যাটিকে শুধু রিকশা সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না
সিসা-দূষণের মূল ঝুঁকি হলো ব্যাটারির life-cycle management।
ব্যাটারি তৈরি/আমদানি থেকে শুরু করে
ব্যবহার → মেরামত → সংগ্রহ → ভাঙা → সিসা পুনরুদ্ধার → বর্জ্য নিষ্পত্তি
প্রতিটি পর্যায় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসা মানুষের জন্য বিষাক্ত এবং এমন কোনো নিরাপদ মাত্রা জানা নেই যা ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের ওপর এর বিশেষ ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে।
অপরিকল্পিত বা অনিরাপদ ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সিসার ধুলা ও ধোঁয়ার মাধ্যমে শ্রমিক ও আশপাশের জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সরকারি নীতির বিদ্যমান ভিত্তি
পরিবেশ অধিদপ্তরের সরকারি নথিতে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি প্রস্তুত, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত, আমদানি ও ব্যবহার সংক্রান্ত ২০২১ সালের বিধান;
ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য/ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
অতএব নতুন নীতি প্রণয়নের সময় সম্পূর্ণ নতুন আইন তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান বিধানগুলোর কার্যকর প্রয়োগ, সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
জাতীয় ব্যাটারি লাইফ-সাইকেল ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা
প্রতিটি ব্যাটারির জন্য একটি Battery Identification and Traceability System চালু করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
প্রবাহটি হবে:
উৎপাদক/আমদানিকারক → ব্যাটারি আইডি → যানবাহন → মালিক → প্রতিস্থাপন → সংগ্রহ → পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ
প্রতিটি ব্যাটারিতে QR/ডিজিটাল আইডি থাকতে পারে।
এতে জানা যাবে কে তৈরি/আমদানি করেছে, কখন বাজারে এসেছে, কোন গাড়িতে ব্যবহৃত হয়েছে, কতবার পরিবর্তন হয়েছে
কোথায় ফেরত দেওয়া হয়েছে, কোন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হয়েছে।
নতুন ব্যাটারি নিলে পুরোনো ব্যাটারি ফেরত বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা
প্রতিটি নতুন লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি বিক্রির সঙ্গে Take-back System চালু করা উচিত।
নীতিটি হবে New Battery = Old Battery Return
অর্থাৎ নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় পুরোনো ব্যাটারি ফেরত নেওয়া হবে।
পুরোনো ব্যাটারি খোলা জায়গায় ফেলা যাবে না, সাধারণ স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীর কাছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দেওয়া যাবে না
বসতবাড়িতে ভাঙা যাবে না, শিশুদের কর্মে ব্যবহার করা যাবে না, খোলা জায়গায় গলানো যাবে না।
অনুমোদিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং কেন্দ্র
সরকার অনুমোদিত ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে:
আবদ্ধ dismantling area, অ্যাসিড সংগ্রহ ব্যবস্থা, ধুলা নিয়ন্ত্রণ,পর্যাপ্ত ventilation,emission control ,wastewater treatment
hazardous waste storage, অগ্নিনিরাপত্তা, কর্মীদের PPE, নিয়মিত পরিবেশগত মনিটরিং, বর্জ্য/অবশিষ্টাংশের নিরাপদ নিষ্পত্তি।
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিত:
খোলা আকাশে সিসা গলানো, বসতবাড়িতে ব্যাটারি ভাঙা, রাস্তার পাশে ব্যাটারি কাটাকাটি, মাটি/ড্রেনে অ্যাসিড ফেলা,
শিশুদের দিয়ে ব্যাটারি ভাঙা, সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া সিসা পুনরুদ্ধার।
Lead Hotspot Mapping
সরকারের উচিত একটি জাতীয় Lead Pollution Hotspot Map তৈরি করা।
প্রাথমিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করা যেতে পারে ব্যাটারি মেরামত এলাকা, পুরোনো ব্যাটারি বাজার, স্ক্র্যাপ মার্কেট, রিসাইক্লিং এলাকা
চার্জিং ক্লাস্টার, ব্যাটারি কারখানা, আশপাশের মাটি, রাস্তার ধুলা, ড্রেন, পানি, নিকটবর্তী স্কুল ও বসতবাড়ি।
বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীর বসবাসের এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শিশু ও শ্রমিক সুরক্ষা
সিসা-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের রিসাইক্লিং কাজে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী Blood Lead Level পরীক্ষা,
স্কুলভিত্তিক স্বাস্থ্য নজরদারি, কর্মস্থলে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, কর্মস্থল ও খাবার/বিশ্রাম এলাকা পৃথক করা, দূষিত পোশাক বাড়িতে নিয়ে না যাওয়ার ব্যবস্থা,
প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও exposure cessation ব্যবস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষভাবে শিশুদের সিসা-দূষণের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং exposure-এর উৎস শনাক্ত ও বন্ধ করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
লেড-অ্যাসিড থেকে লিথিয়াম: বাস্তবসম্মত রূপান্তর
দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ব্যাটারি প্রযুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।
তবে শুধু লিথিয়াম ব্যাটারি বাধ্যতামূলক ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।
প্রথমে মূল্যায়ন করতে হবে ক্রয়মূল্য, আয়ুষ্কাল, চার্জিং অবকাঠামো, অগ্নিনিরাপত্তা, তাপ ব্যবস্থাপনা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, কাঁচামাল, স্থানীয় মেরামত সক্ষমতা,রিদ্র চালকের বহনক্ষমতা,জীবনচক্র পরিবেশগত প্রভাব।
অতএব প্রস্তাব হল Technology-neutral but safety-first policy
অর্থাৎ যে ব্যাটারি প্রযুক্তি নিরাপদ, অর্থনৈতিকভাবে টেকসই, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত সেটিকে ধাপে ধাপে উৎসাহিত করা
পরিবেশ ও পরিবহন নীতিকে একীভূত করা
ব্যাটারি রিকশা ব্যবস্থাপনা আলাদা আলাদা দপ্তরের বিচ্ছিন্ন কাজ হওয়া উচিত নয়।
একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন:
বিষয় প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা
যান নিবন্ধন BRTA
রুট/চলাচল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ
বিদ্যুৎ সংযোগ বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা
বিদ্যুৎ চুরি বিদ্যুৎ বিভাগ/বিতরণ সংস্থা/আইন প্রয়োগকারী সংস্থা
পরিবেশ ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর
ব্যাটারি আমদানি/উৎপাদন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা
রিসাইক্লিং পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
শ্রমিক স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য ও শ্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
দুর্ঘটনা তথ্য BRTA/পুলিশ/স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান
নগর পরিকল্পনা সিটি কর্পোরেশন/স্থানীয় সরকার
তথ্যভিত্তিক জাতীয় জরিপ
সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সমন্বিত National Battery Three-Wheeler Census।
জরিপে অন্তর্ভুক্ত হবে
মোট যানসংখ্যা , কোন শহরে কত, মালিক বনাম ভাড়াচালক, চালকের সংখ্যা, গড় আয়, পরিবারে নির্ভরশীল সদস্য, ব্যাটারির ধরন, গড় ব্যাটারি আয়ুষ্কাল,চার্জিং পদ্ধতি
বৈধ/অবৈধ সংযোগ, দুর্ঘটনার হার, ব্যাটারি বর্জ্যের পরিমাণ, রিসাইক্লিং চ্যানেল, কর্মসংস্থান, নারী/প্রতিবন্ধী/অতি-দরিদ্র পরিবারের ওপর প্রভাব।
এই তথ্য ছাড়া বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদমূলক সিদ্ধান্ত নিলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফল অনুমাননির্ভর হয়ে যাবে।
পাঁচ বছরের বাস্তবায়ন রোডম্যাপ
প্রথম বছর: তথ্য ও নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি
জাতীয় যানবাহন জরিপ,চালক ও মালিক নিবন্ধন,চার্জিং স্টেশন ম্যাপিং,বিদ্যুৎ সংযোগ অডিট,Lead Hotspot Mapping,ব্যাটারি আমদানি/উৎপাদন তালিকা,রিসাইক্লার তালিকা।
দ্বিতীয় বছর: লাইসেন্স ও আনুষ্ঠানিকীকরণ
সব চার্জিং স্টেশন লাইসেন্সের আওতায়,পৃথক বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ,ব্যাটারি বিক্রেতা নিবন্ধন,রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স,Battery ID চালু,চালক প্রশিক্ষণ।
তৃতীয় বছর: নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি মান
নতুন যানবাহনের নিরাপত্তা মান,ব্রেক/লাইট/স্টিয়ারিং বাধ্যতামূলক পরীক্ষা,অননুমোদিত ব্যাটারি নিয়ন্ত্রণ,নির্ধারিত রুট বাস্তবায়ন,দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানভিত্তিক ব্যবস্থা,
ব্যবহৃত ব্যাটারি Take-back বাধ্যতামূলক।
চতুর্থ বছর: উচ্চঝুঁকির পুরোনো যান/ব্যাটারি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার
অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ যান শনাক্ত,পুরোনো ব্যাটারি পরিবর্তনে সহায়তা,নিম্নআয়ের চালকদের জন্য স্বল্পসুদের ঋণ/সহায়তা,নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তর।
পঞ্চম বছর: সমন্বিত পূর্ণ বাস্তবায়ন
বৈধ নিবন্ধিত যানবৈধ চার্জিংপূর্ণ ব্যাটারি ট্রেসিং,আনুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং,নিরাপদ রুট,বার্ষিক পরিবেশ ও সড়ক নিরাপত্তা প্রতিবেদন।
অর্থায়ন ও প্রণোদনা
ব্যবস্থাটি সফল করতে শাস্তি এবং প্রণোদনা দুইটি একসঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে।
প্রস্তাবিত প্রণোদনা
বৈধ চার্জিং স্টেশনে সহজ লাইসেন্স, নিরাপদ ব্যাটারি কিনতে স্বল্পসুদের ঋণ, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটারি ফেরত দিলে incentive
নিরাপদ প্রযুক্তির জন্য কর/শুল্ক সুবিধা বিবেচনা, নিবন্ধিত চালকের জন্য প্রশিক্ষণ, বৈধ যান মালিকের জন্য সহজ ফিটনেস নবায়ন,
নিরাপদ রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
বিদ্যুৎ চুরি,অবৈধ চার্জিং,মিটার কারসাজি,খোলা জায়গায় সিসা গলানো,অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং,শিশু শ্রম,গুরুতর যানবাহন নিরাপত্তা লঙ্ঘন।
নীতির মূল দর্শন
এই নীতির লক্ষ্য ব্যাটারিচালিত রিকশাকে অন্ধভাবে বৈধতা দেওয়া নয়; আবার সব রিকশাকে একসঙ্গে উচ্ছেদ করাও নয়।
লক্ষ্য হবে:
অপরাধীর শাস্তি হোক, পেশার নয়।
অবৈধ সংযোগ বন্ধ হোক, বৈধ জীবিকা নয়।
অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ হোক, প্রয়োজনীয় স্থানীয় পরিবহন নয়।
অনিরাপদ ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা বন্ধ হোক, প্রযুক্তিগত রূপান্তর হোক।
এই নীতির চারটি স্তম্ভ:
১. Electricity Discipline
২. Road Safety
৩. Livelihood Protection
৪. Lead & Battery Safety
সরকারের কাছে ২০টি চূড়ান্ত দাবি
১. জাতীয় ব্যাটারি-রিকশা জরিপ
ঢাকা ও সব বড় শহরে ব্যাটারিচালিত তিন-চাকার যান, চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের সরকারি জরিপ করতে হবে।
২. অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান
পুরো রিকশা খাতকে দায়ী না করে অবৈধ সংযোগ, মিটার কারসাজি ও অবৈধ চার্জিং স্টেশনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. বৈধ চার্জিং স্টেশন চালু
নির্ধারিত এলাকায় সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈধ চার্জিং জোন গড়ে তুলতে হবে।
৪. পৃথক মিটার ও লোড ব্যবস্থাপনা
প্রতিটি অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনে পৃথক মিটার ও অনুমোদিত লোড নিশ্চিত করতে হবে।
৫. চার্জিং স্টেশন ডিজিটাল রেজিস্ট্রি
প্রতিটি চার্জিং স্টেশনের অবস্থান, মালিক, মিটার, অনুমোদিত লোড ও লাইসেন্সের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে রাখতে হবে।
৬. রিকশা নিবন্ধন ও পরিচয় ব্যবস্থা
প্রতিটি বৈধ যানকে ইউনিক নম্বর/QR কোডের মাধ্যমে নিবন্ধিত করতে হবে।
৭. চালক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং
নিরাপদ চালনা, ট্রাফিক আইন, যাত্রী নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে।
৮. নির্ধারিত রুট ব্যবস্থা
প্রধান সড়ক, আবাসিক রাস্তা, বাজার ও স্থানীয় ফিডার রুটের জন্য আলাদা চলাচল নীতি করতে হবে।
৯. দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানভিত্তিক ব্যবস্থা
শুধু যানবাহন নিষিদ্ধ না করে দুর্ঘটনার Black Spot চিহ্নিত করে গতি, রুট, সিগন্যাল ও রাস্তার নকশা সংশোধন করতে হবে।
১০. বাধ্যতামূলক ফিটনেস
ব্রেক, লাইট, স্টিয়ারিং, টায়ার, বৈদ্যুতিক সুরক্ষা ও ব্যাটারি নিরাপত্তার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১১. জাতীয় Battery Life-Cycle Management System
উৎপাদন/আমদানি থেকে রিসাইক্লিং পর্যন্ত প্রতিটি ব্যাটারির তথ্য ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করতে হবে।
১২. Battery Passport/QR চালু
প্রতিটি ব্যাটারির প্রস্তুতকারক/আমদানিকারক, উৎপাদনের তারিখ, ধরন, ধারণক্ষমতা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত অবস্থার তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
১৩. New Battery = Old Battery Return
নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় পুরোনো ব্যাটারি ফেরত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১৪. অবৈধ ব্যাটারি ভাঙা ও খোলা জায়গায় সিসা গলানো বন্ধ
বসতবাড়ি, রাস্তা বা অননুমোদিত স্থানে ব্যাটারি ভাঙা, অ্যাসিড ফেলা এবং সিসা গলানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
১৫. অনুমোদিত রিসাইক্লিং কেন্দ্র
আধুনিক পরিবেশ ও শ্রমিক-নিরাপত্তা মানসম্পন্ন অনুমোদিত ব্যাটারি রিসাইক্লিং কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
১৬. Lead Hotspot Mapping
ব্যাটারি কারখানা, রিসাইক্লিং এলাকা, স্ক্র্যাপ বাজার ও সংশ্লিষ্ট বসতিতে মাটি, ধুলা, পানি ও প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের সিসা পরীক্ষা করে জাতীয় মানচিত্র তৈরি করতে হবে।
১৭. শিশু সুরক্ষা
ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও সিসা-ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু শ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের স্বাস্থ্য নজরদারি চালু করতে হবে।
১৮. নিরাপদ প্রযুক্তিতে ধাপে ধাপে রূপান্তর
লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির বিকল্প নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারে গবেষণা, পরীক্ষামূলক প্রকল্প, অর্থায়ন ও প্রণোদনা দিতে হবে; তবে বাস্তবসম্মত প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ছাড়া হঠাৎ কোনো প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা যাবে না।
১৯. শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষা
যানসংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলে পর্যায়ক্রমে করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত চালক/মালিকের জন্য বিকল্প রুট, প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদের ঋণ বা অন্যান্য পুনর্বাসন ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
২০. সমন্বিত জাতীয় ব্যাটারি-রিকশা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ/টাস্কফোর্স
বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, BRTA, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন এবং স্বাস্থ্য/শ্রম সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কাঠামো গঠন করতে হবে এবং প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
উপসংহার
ব্যাটারিচালিত রিকশা বাংলাদেশের নগর বাস্তবতায় একটি উদ্ভূত অর্থনৈতিক ও পরিবহন ব্যবস্থা। এতে যেমন গুরুতর সমস্যা আছে, তেমনি রয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের স্বল্পমূল্যের যাতায়াতের প্রয়োজন।
তাই নীতিগতভাবে দুই ধরনের চরম অবস্থানই পরিহার করা প্রয়োজন
একদিকে: সব রিকশা অবৈধ, তাই সব বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে: জীবিকার জন্য চলছে, তাই কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই।
উভয় অবস্থানই বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য অধিক কার্যকর পথ হলো:
Regulate, Formalize, Safeguard and Gradually Transform.
অর্থাৎ
নিয়ন্ত্রণ করতে হবে → বৈধ করতে হবে → নিরাপদ করতে হবে → পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে হবে → ধাপে ধাপে উন্নত প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ আইন অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
বিদ্যমান পরিবহন নীতিমালায় বৈদ্যুতিক মোটরযানের নিবন্ধন ও চলাচলের কাঠামো রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিধানও রয়েছে।
এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী সিসা-দূষণ প্রতিরোধে উৎস শনাক্ত, exposure পরিমাপ এবং দূষণের উৎস বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব নতুন করে একটি বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি গ্রহণের সময় এসেছে:
ব্যাটারি রিকশা ব্যবস্থাপনা = পরিবহন + বিদ্যুৎ + পরিবেশ + জনস্বাস্থ্য + জীবিকা
সরকারের নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত
অপরাধীর শাস্তি হোক, পেশার নয়;
অবৈধ সংযোগ বন্ধ হোক, বৈধ জীবিকা নয়;
অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ হোক, প্রয়োজনীয় স্থানীয় পরিবহন নয়;
সিসা-দূষণ বন্ধ হোক, নিরাপদ প্রযুক্তির রূপান্তর হোক।
এই সমন্বিত পদ্ধতিই একদিকে বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করতে পারে, শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা রক্ষা করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সিসা ও ব্যাটারি-বর্জ্যজনিত জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে পারে।
—সমাপ্ত—
তথ্যগত সতর্কীকরণ
এই নীতিপত্রে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা, চালকের সংখ্যা, পরিবার-নির্ভরতা, দৈনিক আয় বা সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের যেসব পরিমাণগত উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নীতিগত বিশ্লেষণের জন্য আনুমানিক/Scenario Estimate হিসেবে বিবেচ্য। চূড়ান্ত সরকারি নীতি গ্রহণের আগে BRTA, সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সমন্বিত জরিপের মাধ্যমে এগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।
ধৈর্য ধরে এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল, অতিরিক্ত যানবাহন, রাস্তার ধারণক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য,
প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের ঘাটতি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে চার্জিং এবং ব্যবহৃত
সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ভাঙা/গলানো/ফেলার মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
.............................................................................................................................................
এসব একদিনে তৈরী হয় নাই, বিভিন্ন সরকারের সময় অনৈতিক সুবিধা প্রদান ও ঢাকার রাজনীতিতে বড়
একটি অংশ রিক্সাওয়ালাদের ভোট বাক্স , অনেক অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে ।
এদেশে যতসব অন্যায় কাজ, ধীরে ধীরে বাড়িয়াছে দেনা , শোধিত হইবে ঋণ ।
ষৃন