| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি দূরে না থাকা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আজ এত বড় ব্যবধান তৈরি হলো কীভাবে?
লেখাটিতে তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি, উচ্চশিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি, সফটওয়্যার পার্ক, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং সরকারি নীতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। এর সঙ্গে আমি আরেকটি মাত্রা যোগ করতে চাই: একটি দেশ আসলে কতটা নতুন জ্ঞান তৈরি করছে, এবং সেই জ্ঞানকে কতটা মেধাস্বত্ব, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করতে পারছে?
কারণ Google-ই প্রথম নয়।
পাকিস্তানে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির ইতিহাস বেশ পুরোনো। Oracle সেখানে কাজ শুরু করে ১৯৮৯ সালে। পরে পাকিস্তান থেকেই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপসহ এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। Microsoft-ও পাকিস্তানে নিজস্ব কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৯–২০০০ সালের দিকে।
বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না। ২০০৪ সালে ঢাকায় Microsoft-এর নিজস্ব অফিস চালু হয়। তখন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত, দক্ষ জনশক্তি, ই-গভর্নমেন্ট, স্থানীয় সফটওয়্যার শিল্প, এমনকি ভবিষ্যতে offshore software development নিয়েও যথেষ্ট আশার কথা বলা হয়েছিল।
তাই আমার কাছে Google-এর পাকিস্তানে অফিস খোলার চেয়েও আকর্ষণীয় প্রশ্ন হলো: দুই দশক আগে যখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দেশেই Microsoft-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সরাসরি উপস্থিতি ছিল, তখন পরবর্তী ২০ বছরে দুই দেশের technology ecosystem কোন দিকে গেল?
এই প্রশ্নটির একটি উত্তর হয়তো পাওয়া যায় মেধাস্বত্ব ও উদ্ভাবনের গতিপথে।
WIPO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তানের নিজস্ব আবেদনকারীরা ৪৮০টি patent application করেছেন। বাংলাদেশে সংখ্যাটি মাত্র ৮৭। অর্থাৎ পাকিস্তানে resident patent application বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ।
কিন্তু বর্তমান সংখ্যার চেয়েও আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এর গতিপথ।
২০১০ সালে পাকিস্তানে resident patent application ছিল ১১৪টি, বাংলাদেশে ৬৬টি। অর্থাৎ ব্যবধান তখন খুব বড় ছিল না। ২০২৪ সালে পাকিস্তান পৌঁছেছে ৪৮০-তে, বাংলাদেশ ৮৭-তে।
প্রশ্নটা তাই শুধু কে কতগুলো patent করেছে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, একটি দেশ কেন ক্রমাগত তার জ্ঞান ও গবেষণাকে intellectual property-তে রূপান্তর করার সক্ষমতা বাড়াল, আর অন্য দেশটি প্রায় একই জায়গায় পড়ে থাকল?
অবশ্যই patent-এর সংখ্যা দিয়ে একটি দেশের পুরো উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিচার করা যায় না। সব innovation patent হয় না, আবার বেশি patent মানেই সব patent গুরুত্বপূর্ণ, এমনও নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের trend উপেক্ষা করাও কঠিন।
WIPO-এর Global Innovation Index 2025-এ পাকিস্তানের অবস্থান ৯৯তম, বাংলাদেশের ১০৬তম। Innovation output-এ ব্যবধান আরও বড়: পাকিস্তান ৭৫তম, বাংলাদেশ ৯৫তম।
আমার কাছে এখানেই Google, Microsoft বা Oracle-এর উপস্থিতির চেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে।
একটি দেশ কতটা নতুন জ্ঞান তৈরি করছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে কতটা industry-র সঙ্গে যুক্ত করতে পারছে?
সেই গবেষণা থেকে কতটা product, process বা technology তৈরি হচ্ছে?
সেগুলোর কতটা intellectual property হিসেবে সুরক্ষিত হচ্ছে?
এবং শেষ পর্যন্ত সেই ecosystem কি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দেশটিকে শুধু বাজার হিসেবে নয়, কাজ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের জায়গা হিসেবেও দেখতে বাধ্য করছে?
আমরা প্রায়ই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলাকে উন্নতির সূচক হিসেবে দেখি। কিন্তু সম্ভবত অফিসটি কারণ নয়, ফলাফল।
Google কোথায় অফিস খুলল, Microsoft কোথায় ছিল, Oracle কোথা থেকে আঞ্চলিক কার্যক্রম পরিচালনা করল, এগুলো গল্পের দৃশ্যমান অংশ।
এর নিচের গল্পটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সেটি হলো একটি দেশের knowledge creation থেকে innovation, innovation থেকে intellectual property, এবং intellectual property থেকে economic value তৈরির সক্ষমতা।
তাই মুনির হাসানের তোলা ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ প্রশ্নটির সঙ্গে আমি আরেকটি প্রশ্ন যোগ করতে চাই:
একসময় কাছাকাছি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা দুটি দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ecosystem-এর মধ্যে এই ব্যবধান তৈরি হলো কীভাবে?
সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারলেই Google-এর অফিস কোথায় গেল, তার উত্তরও অনেকটা পাওয়া যাবে।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০১
মুনতাসির বলেছেন: যে কোন কিছুর তুলনায় সময় বা স্কেল নিয়ে বসতে হয়। ছটফট করে চেতনাবাগী যুক্তিতে আর যাই হোক - উত্তরণ হয় না।
২|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮
কিরকুট বলেছেন: ফাকিস্থান অনেক কিছু পারতেছে সেই সব আমরা কেউ ই পারতে চাই না । যারা এই না চাওয়াতে অসন্তুষ্ট তারা ফাকিস্থান গিয়া সেই সকল পারার আনন্দ নিতে পারেন ।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৯
মুনতাসির বলেছেন: আপনার মন্তব্যটাই আসলে সমস্যাটার একটা চমৎকার উদাহরণ।
৩|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: আমাদের চেতনা আছে উহাদের কোন চেতনা নেই। আমরা চেতনা দিয়ে ব্যবসা করতে পারি বছরের পর বছর। চেতনা দিয়ে টাকা পাচার করতে পারি অবলীলায়।
৪|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৮
কিরকুট বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটাই আসলে সমস্যাটার একটা চমৎকার উদাহরণ।
ফাকিস্থানের সাথে সব কিছুতেই আমাদের বিশাল সমস্যা ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’
...............................................................................
আপনি কি এই মহুর্তে Google-এর অফিস মব কালচার থেকে
বাচাতে পারতেন ? বুঝে নিন যোগ্যতা অর্জন করলে তাদের
বলতে হয়না । আনুষাঙ্গিক সুবিধা পেলে তাদের আসাটা
সময়ের ব্যাপার মাত্র ।
তবে পাকিস্হানের তুলনা দিবেন না , তাদের চেয়ে আমরা ভালো ছিলাম,
কিন্ত তারা এখন আমাদেরকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করতে চাচ্ছে ।