| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে তাঁকে মারও খেতে হয়েছিলো। তিনি মানুষকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে এমন জ্বালাতন করতেন যে, মাঝে মাঝে তাঁকে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো। কিন্তু, লোকের বিদ্রূপ বা লাঞ্ছনার ভয়ে তিনি তাঁর ঈশ্বর প্রদত্ত দায়িত্ব থেকে একটুও পিছপা হোন নাই। তাই, তিনি বলেছিলেন - "আমি বুঝছিলাম ও বিশ্বাস করেছিলাম যে, ঈশ্বর আমাকে জ্ঞান অন্বেষণে এবং নিজের ও ওপরের পরীক্ষায় জীবন যাপন করতে নিয়োগ করেছেন।" (অ্যাপোলজি, ১৭)
জানা যায়, সক্রেটিস সব সময়েই দৈব বাণী শুনতেন। কখন কি করতে হবে, কোন কথা বলতে হবে, কোন কাজটা শুভ আর কোনটা অশুভ তা তিনি দৈব বাণীর ইঙ্গিতে জেনে ফেলতেন। এই দৈব বাণী শোনার ব্যাপারটা তিনি গোপন না করে মানুষকে জানিয়ে দিতেন। এমনকি দৈব বাণী দিয়ে বন্ধুদের সাহায্যও করতেন। সেজন্যেই হয়তো, ফরাসী লেখক লেলু সক্রেটিসকে পাগল বলে অভিহিত করেছেন। যে সে পাগল নয়! সক্রেটিস ছিলেন লুথার, পাস্কাল, রুশোর মতো মানুষদের দলের পাগল!
তবে, সক্রেটিস বলতেন - "মানুষ নিজের বুদ্ধিবৃত্তি পরিচালনা করে নিজেই যে বিষয়ের মীমাংসা করতে পারে, তার জন্য দৈবাদেশের অপেক্ষা করা উচিৎ নয়।" অর্থাৎ, নিজের কাজের দায়ভাগ তিনি নিজেই নিয়েছেন, ঈশ্বরের উপর চাপিয়ে দেন নাই। উচিৎ কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি ঈশ্বরের আদেশের অপেক্ষা করতেন না।
আসলে, সক্রেটিস এমন এক সমাজে বড় হয়েছিলেন, যেখানে বহু দেব-দেবীর প্রচলন ছিলো। এথেন্স এতও বেশি জ্ঞানী মানুষে পরিপূর্ণ ছিলো যে, সক্রেটিস যখন নিজেকে দৈব বাণী দ্বারা পরিচালিত বলে ঘোষণা করে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই জ্ঞান প্রচার করতে লাগলেন, তাঁকে নিয়ে মানুষ উপহাস করা শুরু করলো। আমাদের ভারতবর্ষ বা আরবে দৈব বাণী শোনার বিষয়টি খুব একটা অবাক করা বিষয় নয়। কিন্তু, ইউরোপের সেই সময়কার জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজে একজন নিজেকে দৈব বাণী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন বলে প্রচার করবেন, তা বিশ্বাস করার মতো মানুষ খুব কমই পাওয়ার কথা।
কিন্তু, সক্রেটিস দমে যান নাই। বর্ণিত আছে, সক্রেটিসকে যখন বিচারালয়ে নিয়ে আসা হয়, তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন - "হে আথীনীয়গণ, আমি তোমাদেরকে শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি, কিন্তু, আমি তোমাদের চেয়ে ঈশ্বরের দিকেই বেশি ধাবিত হবো। যতদিন আমার দেহে নিঃশ্বাস বইবে ও দেশে সামর্থ্য থাকবে, ততদিন আমি জ্ঞান অন্বেষণে এবং তোমাদেরকে শিক্ষাদান ও সৎ পথ প্রদর্শন করতে পিছপা হবো না।"
২|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: আপনিও একদিন সক্রেটিস হবেন ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ভাল লিখেছেন ।
সক্রেটিশ ও তাঁর গুরু শিষ্যদের নিয়ে আমার
প্রজ্ঝার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য এর
২য় পর্ব প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে ।
শুভেচ্ছা রইল