নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন: দখলদার আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

অন্তর্জাল থেকে।

এ যাবত প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। এই অবৈধ যুদ্ধে ইতোমধ্যে আমেরিকার ১৩ জন সৈনিক নিহত হয়েছে। পেন্টাগনের নিজস্ব তথ্য অনুসারে এই সংখ্যা নিশ্চিত। ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন বাহিনী যে মূল্য দিচ্ছে, তা আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।

আমেরিকার যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খতিয়ান

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর এবং মার্কিন সূত্র মিলিয়ে যা জানা গেছে, তা নিম্নরূপ:

- ১টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল (বা এফ-৩৫ বলে ইরানের দাবি): ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূপাতিত। পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস।
- ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান: কাতারে মার্কিন বাহিনীর ভুল হামলায় ধ্বংস।
- ১টি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার: ইরাকে বিধ্বস্ত, ৬ জন ক্রু নিহত। এটি মার্কিন মৃত্যুর সংখ্যা ১৩-এ তুলেছে।
- ১০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন: সম্পূর্ণ ধ্বংস।
- ১টি এফ-৩৫: জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে (সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত)।
- অতিরিক্ত: সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫টি কেসি-১৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত।

মোট ১৬টির বেশি মার্কিন বিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা অকেজো হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ও ড্রোন রয়েছে, যার প্রত্যেকটির মূল্য কয়েকশ কোটি ডলার।

আমেরিকার অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ

- মানুষের ক্ষতি: নিহত ১৩ জনের পাশাপাশি আহত ১৪০ থেকে ২৩২ জন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
- অর্থনৈতিক ক্ষতি: মাত্র ৩১ দিনে যুদ্ধে আমেরিকার খরচ অন্তত ২৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, বিমানের মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীতে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত।
- কৌশলগত ক্ষতি: মধ্যপ্রাচ্যের ১৭টির বেশি মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত। রাডার, স্যাটেলাইট টার্মিনাল, থাড ও প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত। ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েত, সৌদি, ইউএই-এর মার্কিন স্থাপনা আক্রান্ত।
- রাজনৈতিক-কূটনৈতিক ক্ষতি: বিশ্বব্যাপী নিন্দা। শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞ খোলাচিঠিতে এটাকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছেন।

ইসরায়েলের খপ্পরে পড়ে ট্রাম্পের পাগলামি: স্পষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কোনো দেশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ শুধু তিনটি ক্ষেত্রে বৈধ: আসন্ন সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন, অথবা অন্য কোনো বৈধ কারণ। এখানে কোনোটিই নেই। ইরান ইসরায়েল বা আমেরিকায় আক্রমণ করেনি। জাতিসংঘ অনুমোদন দেয়নি। তবু ট্রাম্প ইসরায়েলের প্ররোচনায় ইরানকে পাথরযুগে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

ফলাফল? মিনাব শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭৫ জন শিশুসহ নিহত। হাসপাতাল, পানি শোধনাগার, জ্বালানি কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল ধ্বংস। দুই হাজারের বেশি ইরানি নিহত, ২৬ হাজারের বেশি আহত, লাখের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত। এটা যুদ্ধ নয়, গণহত্যা। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। ইসরায়েলের স্বার্থে ট্রাম্প আমেরিকাকে দখলদার বানিয়েছেন। নিজের সৈন্যদের মৃত্যু, বিমান ধ্বংস, অর্থের অপচয় সবকিছুর দায় ট্রাম্পের।

আমেরিকা দখলদার, হামলাকারী, যুদ্ধাপরাধী!

আমেরিকা আর কতদিন বিশ্বকে শেখাবে যে শক্তি মানেই ন্যায়? ইরানের ওপর চাপানো এই আগ্রাসন প্রমাণ করে ওয়াশিংটন এখনো সেই পুরনো সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতায় আটকে আছে। ইসরায়েলের লেজুড় হয়ে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা কোনো প্রতিরক্ষা নয়। এটা নগ্ন দখলদারিত্ব। এটা মানবতার বিরুদ্ধে খোলাখুলি যুদ্ধ।

কোনো উস্কানি ছাড়াই, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা ইরানের শহর, গ্রাম, স্কুলে পড়ছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭৫ শিশু মারা গেছে। হাসপাতাল, পানির কল, ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদ ধ্বংস। এর নাম কি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ? না। এর নাম গণহত্যা। এর নাম যুদ্ধাপরাধ। শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞ নিজেরাই স্বীকার করেছেন এটা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।

ট্রাম্প কী বলছেন? শুধু মজার জন্য হামলা চালাতে পারি। এই মজা এখন আমেরিকার ১৩ সৈনিকের জীবন নিয়েছে। ১৬টির বেশি যুদ্ধবিমান-ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। শত শত সৈন্য আহত। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মজুত শেষ। ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন ঘাঁটি কাঁপছে। এখনও ট্রাম্প বলছেন জয়। এটা জয় নয়, এটা আত্মহত্যা।

আমেরিকা কেন এমন করছে? কারণ ইসরায়েল চেয়েছে। ইসরায়েলের খপ্পরে পড়ে ট্রাম্প আমেরিকাকে দাস বানিয়েছেন। নিজের দেশের সৈন্যদের মৃত্যু, নিজের অর্থের অপচয়, বিশ্বের ঘৃণা সব নিয়ে ট্রাম্প এখন ইতিহাসের কাছে দাঁড়িয়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁকে মনে রাখবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে।

আমরা বাংলাদেশ থেকে বলছি এই আগ্রাসন বন্ধ করো। আমেরিকা, তোমার দখলদারিত্বের দিন শেষ। ইরানের শিশুরা, ইরানের মানুষেরা তোমার বোমার নিচে মরছে। তোমার সৈন্যরাও মরছে। এই যুদ্ধ থামাও। নয়তো ইতিহাস তোমাকে কখনো ক্ষমা করবে না।

দখলদার আমেরিকা, তোমার হাতে রক্ত লেগে আছে। বিশ্ব দেখছে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আসলে ভাবার তেমন কিছু নেই ; গালফ দেশগুলো থেকে খরচ তুলবে । সব দোষ গালফ দেশের শাসক আর জনগণের । এরাই আমেরিকা কে মাথায় তুলেছে ।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১২

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার বক্তব্যে সহমত পোষণ করছি তবে, একথাও ঠিক যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জনমতকে আমেরিকা থোরাই কেয়ার করবে। দখলদার জারজ ইসরায়েলের আগ্রাসী মনোভাবের বাস্তবায়নই আমেরিকার একমাত্র এজেন্ডা। তারপরও মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জণগণ থেকে রাষ্ট্র সরকার - সকলেরই উচিত এই হায়েনা-দুর্বৃত্তদের ঝেটিয়ে বিদায় করতে একযোগে মাঠে নেমে বিশ্বকে সজাগ করে তোলা।

ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.